সালমান খান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর অভিনেতা সালমান খানের নিরাপত্তা জোরদার করেছে মুম্বাই পুলিশ।



জানা গেছে, মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকায় চলাচলকারী গাড়িতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।



সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড-ডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।



রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তার গাড়িচালকসহ দুজন আহত হয়েছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে মুম্বাই পুলিশ। সোমবার রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুম্বাই পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজস্থান পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনকারী দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হরিয়ানার দুজন এবং মুম্বাইয়ে বসবাসকারী বিহারের একজন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে টাইগারের চলাফেরার ওপর নজর রাখা হয়ে থাকতে পারে। নিয়মিত ফুটবল খেলতে যাওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে হামলাকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। হামলার পর অভিযুক্তরা কীভাবে পালিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে।



এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়েস বার্তা ও পোস্ট ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বার্তায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি করে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সেখানে সালমান খানের সঙ্গে টাইগারের সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।



অনিল পণ্ডিত ও হরমন সন্ধু নামের দুই ব্যক্তির নামও এসব দাবির সঙ্গে সামনে এসেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বার্তা ও দায় স্বীকারের দাবির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত ভূমিকা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।



টাইগারের ওপর হামলার পর সালমানের নিরাপত্তা জোরদারের ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এনেছে ২০২৪ সালের এপ্রিলের গুলির ঘটনাও। ওই বছরের ১৪ এপ্রিল ভোরে বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই অভিনেতার নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।



টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, এর উদ্দেশ্য কী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুমকির সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র কতটা, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও তদন্তসাপেক্ষ।





টাইগার শ্রফ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

ভারতের বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে রোববার মুম্বাইয়ে গুলি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।


পুলিশ কর্মকর্তা মোহিত গর্গের বরাতে মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বের হওয়ার সময় ৩৬ বছর বয়সী এ অভিনেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা।


ভারতের আর্থিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাই দেশটির হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প বলিউডেরও কেন্দ্র।


 বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি


গর্গ সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাইগার শ্রফ নিরাপদে আছেন। ঘটনার আরও তদন্তে মুম্বাই পুলিশ বিভিন্ন দল মোতায়েন করেছে।’


পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অভিনেতার গাড়িচালকও রয়েছেন। তবে টাইগার শ্রফ গুলিবিদ্ধ হননি।


ভারতের আরেক রাজ্য রাজস্থান থেকে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।


পুলিশ কর্মকর্তা তেজস্বনী গৌতম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরির মামলা এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে করা মামলা।’


গুলি চালানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।


‘বাঘি’ চলচ্চিত্র সিরিজ ও ‘ওয়ার’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত টাইগার শ্রফ।


  গুলিবিদ্ধ চালককে নিজেই হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার


বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ পিএম

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের ধরতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি দল। তাঁদের পালানোর কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। তবে হামলার সঙ্গে এই চক্রের যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার সময় হামলার মুখে পড়েন টাইগার। পুলিশের সূত্রে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, তাঁর গাড়িতে পাঁচটি গুলি ছোড়া হয়। অভিনেতার শরীরে গুলি লাগেনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ফেরদৌস ও ঘটনাস্থলে থাকা উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুজনই শঙ্কামুক্ত।


চালক গুলিবিদ্ধ, নিজেই স্টিয়ারিং ধরেন টাইগার


ফুটবল খেলে বেরিয়ে গাড়িতে বসেছিলেন টাইগার। আশপাশে ভক্তদের ভিড়। গাড়ি থেকে তাঁদের উদ্দেশে হাতও নাড়ছিলেন অভিনেতা। এর মধ্যেই শুরু হয় গুলি। এনডিটিভির প্রকাশিত ভিডিওর বিবরণ অনুযায়ী, গাড়ির কাছে এসে গুলি চালান হামলাকারীরা। গুলিবিদ্ধ হন চালক ফেরদৌস। মুহূর্তেই ভক্তদের উচ্ছ্বাস আতঙ্কে পরিণত হয়।


এনডিটিভি জানিয়েছে, দুই হামলাকারী গাড়িতে গুলি চালাচ্ছিলেন। তাঁদের তৃতীয় সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর জন্য প্রস্তুত ছিলেন। ভিডিওতে গুলি চালানোর একপর্যায়ে একজনের অস্ত্র আটকে যেতে দেখা যায় বলেও সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে। এরপর হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।

হামলার পরের আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টাইগার চালকের আসনে গিয়ে বসছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার।’ আহত চালককে নিয়ে অভিনেতা নিজেই তাঁর বিএমডব্লিউ চালিয়ে নানাবতী হাসপাতালে যান। গাড়িটি সরে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের দাগও দেখা যায়।



মোটরসাইকেল ফেলে পালান হামলাকারীরা


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, হামলার পর আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে যান হামলাকারীরা। সেটি জব্দ করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনার তদন্ত করছে। আহত গাড়িচালক ফেরদৌসের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লেগেছে। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে।


এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নম্বরপ্লেট ও চেসিস নম্বর ধরে উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির মালিকানার তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে হামলাকারীদের পালানোর পথ শনাক্তের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।


বিষ্ণোই চক্রের নামে দায় স্বীকার


হামলার পর অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের একটি পোস্ট ছড়ায়। লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নামে দেওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। তা উপেক্ষা করায় তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হামলার হুমকি দেওয়া হয়।


টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়ানো একটি অডিও বার্তায় সালমানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়েছে। তবে পোস্ট ও অডিও বার্তার সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।


সালমানের প্রতি বিষ্ণোইয়ের এই বৈরিতার পেছনে রয়েছে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বন্য প্রাণী রক্ষায় পরিচিত বিষ্ণোই সম্প্রদায় এই প্রাণীকে পবিত্র মনে করে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সালমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছেন লরেন্স বিষ্ণোই। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে অভিনেতাকে হত্যার হুমকিও দেন তিনি।


২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালান মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই হামলার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্র পাওয়া যায়। একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে মুম্বাইয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যারও দায় দাবি করেন বিষ্ণোই চক্রের সদস্য পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি।


টাইগারের গাড়িতে হামলার পর নতুন করে এই চক্রের নাম সামনে এলেও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, পুলিশ দায় স্বীকারের পোস্টটি পরীক্ষা করছে।



পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস সরকারের


হামলার পর টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের টিম ইন্ডিয়া টুডেকে জানিয়েছে, অভিনেতা ভালো আছেন। ছেলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর মা আয়েশা শ্রফও স্বস্তি প্রকাশ করেন।


মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ ফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলেছেন। হামলাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে রোববার রাতে টাইগারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সে সময় অভিনেতার মা আয়েশাও উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতের ছবিতে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ এবং শরীরের কয়েকটি স্থানে ড্রেসিং দেখা গেছে। শিন্ডে সাংবাদিকদের জানান, গুলি না লাগলেও বারুদ ও ভাঙা কাচের টুকরায় সামান্য আঘাত পেয়েছেন অভিনেতা। ঘটনায় টাইগার ও তাঁর মা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।


পরিবারকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে হুমকি বা সহিংসতার মাধ্যমে কাউকে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। কোনো ধরনের হুমকিই সরকার সহ্য করবে না।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।


টাইগার শ্রফ

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি ফুটবল মাঠ থেকে বিএমডব্লিউ সেডানে করে বের হওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অক্ষত রয়েছেন অভিনেতা, তবে তার গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে মুম্বাই পুলিশ।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে করে আসা তিন ব্যক্তি এ হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে দুজন টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান। হামলার পর তৃতীয় ব্যক্তির প্রস্তুত রাখা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তারা।


ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালা লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন। একপর্যায়ে একজন হামলাকারী গাড়ির জানালার কাছে গিয়ে শেষ গুলিটি চালানোর চেষ্টা করেন। তবে অস্ত্র জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তিনি আর গুলি চালাতে পারেননি বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।


হামলার সময় গাড়িচালক ফিরদৌস গুলিবিদ্ধ হন। পরে টাইগার শ্রফ যাত্রীর আসন থেকে চালকের আসনে চলে যান। এ সময় আশপাশের লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়।


এদিকে, এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। হামলার পর ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে অনিল পণ্ডিত নামে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি নিজেকে গ্যাংটির সদস্য বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, টাইগার শ্রফ তাদের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছেন। তার অভিযোগ, টাইগার তাদের নির্দেশ মানছেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করছেন।


উল্লেখ্য, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এর আগেও বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। ১৯৯৮ সালে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।


২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সাবেক মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাং স্বীকার করেছিল।


টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। মহারাষ্ট্র সরকার বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


‘বাঘি’ চলচ্চিত্র সিরিজ ও ‘ওয়ার’-এর মতো অ্যাকশনধর্মী সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পরিচিত টাইগার শ্রফ।


বিদ্যা সিনহা মিম

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ পিএম

শৈশবের পূজা মানেই নতুন জামা, পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর পছন্দের সব খাবার খাওয়া। সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবনের ব্যস্ততা, বদলেছে উৎসব উদ্‌যাপনের ধরনও। তবু পুরোনো দিনের সেই আনন্দ যেন আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন। 


মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের কাছেও দুর্গাপূজা ফিরে ফিরে আসে শৈশবের সেই মধুর স্মৃতি নিয়ে।


মিম বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া সময়ের স্মৃতিই যেন সবচেয়ে বেশি মধুর। ছোটবেলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নতুন পোশাক পরে এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, দেবী দুর্গার কাছে সবার মঙ্গল কামনা, পছন্দের খাবার খাওয়া আর বন্ধুদের সঙ্গে নাচ-গানে মেতে ওঠা-সব মিলিয়ে পূজা ছিল আনন্দের এক অন্য রকম উপলক্ষ।’


সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মিম বলেন, ‘শৈশব ও কৈশোরের পূজার আনন্দ এখন শুধুই স্মৃতি। যদিও এখনো পূজার প্রতিটি দিন নতুন সাজে বের হন তিনি, তবু আগের মতো সেই আনন্দ আর ফিরে পাওয়া হয় না। তাই ষষ্ঠী থেকে দশমী-প্রতিটি দিনেই পুরোনো দিনের আনন্দের কিছুটা খুঁজে নিতে চান এই অভিনেত্রী। দেবীর কাছে তাঁর প্রার্থনা, সবার মঙ্গল হোক, আগামীর দিনগুলো হয়ে উঠুক আরও সুন্দর।’


এবারও পূজার শুরুতে তার সাজপোশাক ও পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো নজর কেড়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘোরাঘুরি, উৎসবের আমেজ আর হাসিমুখের ছবিতে ধরা পড়েছে তার ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দঘন সময়। কর্মব্যস্ততার বাইরে পরিবারের সঙ্গে এমন সময় কাটানোর মুহূর্তগুলোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।


বাংলাদেশের মডেল ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখ বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। ২০০৭সালে 'লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার' প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে বিনোদন জগতে তার যাত্রা শুরু হয়। কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ব্যক্তিগত জীবনে ২০২২ সালের শুরুতে ব্যবসায়ী সনি পোদ্দারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মিম।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৬ পিএম

পূজার আনন্দে মাজে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগণ ও কাজল। তারই মাঝে দুঃসংবাদ। সপ্তমীর সকালে হাতুড়ির আঘাতে ভাঙলো তারকা দম্পতির মুম্বাইয়ের জুহুর বাংলোর একাংশ।


অজয় দেবগণের ওই বাংলোটি জুহুর কাপোল কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত।


আয়তন প্রায় ৭ হাজার ৮০২ বর্গ ফুট। বাড়ির ভিতরে নানা কাজ করা হয়েছে বলেই খবর। মুম্বাইয়ের বৃহন্মুম্বই পুরসভার দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ওই বাংলোয় একাধিক নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ করেছেন অজয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই মর্মে তাকে ৩৫৪ এ ধারায় নোটিশও দেওয়া হয়।


নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রয়োজনীয় নথিপত্র পৌরসভায় জমা দেওয়ার কথাও বলা ছিল। তবে পৌরসভা সূত্রে খবর, অভিনেতা সেই নির্দেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। পরিবর্তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আর সে কারণেই শনিবার পুরকর্মীরা অভিনেতার বাড়িতে যান। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়।


রকস্টার সিনেমার ডিওপি আবদুল মামুন ও সাবিলা নুর।

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১২ পিএম

ঢাকাই শোবিজে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে ঘিরে দাম্পত্য টানাপড়েনের গুঞ্জনের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রগ্রাহক (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি বা ডিওপি) আবদুল মামুন। সাবিলার সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং এ কারণেই তার সঙ্গে দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম ও বিয়ে ভেঙে গেছে বলে দাবি করেছেন মামুনের কথিত প্রেমিকা তিশা।


তার অভিযোগ, দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান মামুন। যদিও এ বিষয়ে সাবিলা নূর, তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের কিংবা আবদুল মামুনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


তিশার ভাষ্য, সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই তার সঙ্গে মামুনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। গত ১৫ মে বিয়ের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে মামুন তাকে জানান, তিনি আর বিয়ে করতে চান না। এর কারণ জানতে চেয়েও স্পষ্ট কোনো উত্তর পাননি তিশা। পরে সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।


গণমাধ্যমকে তিশা বলেন, ‘যা শুনেছেন সব সত্য। সাবিলা নূরের কারণেই আমার দীর্ঘ সাত বছরের প্রেম এবং বিয়ে ভেঙে গেছে। ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পর আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। দুই পরিবার থেকে বিয়ের সব আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু আবদুল মামুন হঠাৎ করে জানায়, সে বিয়ে করতে চায় না। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবিলা নূরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে আবদুল মামুন।’


তিশার অভিযোগ, বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে মামুনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করানো যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও মামুনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে কোনো কিছুতেই কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।


তিশা আরও দাবি করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে মামুনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই জানেন। এ ঘটনা জানার পর থেকে মামুনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এমন পরিণতি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।


আক্ষেপ প্রকাশ করে তিশা বলেন, ‘ওরা দুজন আমার সঙ্গে কাজটি ভালো করেনি। সাবিলা নূর আমাদের বিষয় সব জানতেন। কিন্তু সে মেয়ে হয়েও একটিবার আরেকটি মেয়ের কথা ভাবেনি। আমার বড় ক্ষতি করল। আবদুল মামুন একজন তারকা পেয়ে আমাকে ভুলে গেছে।’


তিশা জানান, তাদের বিয়ে আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শাকিব খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজের সুযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করেই তিনি বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে দাবি করেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনে বড় আঘাত হয়ে এসেছে বলে মনে করেন তিনি।


তিশার ভাষ্য, তার পরিবার এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও তিনি তাতে সম্মতি দেননি। তবে কেন শেষ মুহূর্তে বিয়ে ভেঙে গেল, সে বিষয়ে মামুনের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ তার।


এদিকে সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের দাম্পত্য জীবন নিয়েও সম্প্রতি নানা আলোচনা চলছে। দীর্ঘ সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৯ সালে বিয়ে করেন তারা। তবে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তারা আলাদা থাকছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তাদের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে দুজনের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাননি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবিলা নূর ও শাকিব খানকে ঘিরেও নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। ‘তাণ্ডব’ ও ‘রকস্টার’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। তবে শাকিব খানের সঙ্গে সাবিলার ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা তার দাম্পত্য জীবনে এর কোনো প্রভাব রয়েছে, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে ছড়ানো বক্তব্যকে গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।


‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিংকে কেন্দ্র করেই সাবিলা নূর ও আবদুল মামুনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিশা। এ বিষয়ে সিনেমাটির পরিচালক আজমান রুশোর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। পরে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।