সিনেমায় রণবীর সিং

  • প্রকাশ : শনিবার ৩০ মে, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

বলিউডে বড় আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন অভিনেতা রণবীর সিং। হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের উল্লেখযোগ্য সংগঠন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেকটিভ’ বা অসহযোগিতা নির্দেশ জারি করেছে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের রণবীরের সঙ্গে কাজ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ঘটনার সূচনা হয় ‘ডন ৩’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা বলিউডে ক্ষমতা, চুক্তি, তারকাখ্যাতি এবং শ্রমিকসংগঠনের প্রভাবের জটিল দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বলিউডে একজন সুপারস্টার কতটা স্বাধীন? আবার শিল্পের শ্রমিকসংগঠনগুলো কোথায় তাদের ক্ষমতা শেষ করবে?


বিতর্কের শুরু যেখানে

সবকিছু শুরু হয় ফারহান আখতার পরিচালিত ও প্রযোজিত ‘ডন ৩’ সিনেমা দিয়ে। শাহরুখ খানের পর নতুন ‘ডন’ হিসেবে রণবীর সিংয়ের নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে প্রচুর আগ্রহ ছিল। কিন্তু হঠাৎই খবর আসে, রণবীর এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্মাতাদের থেকে অনুরূপ তথ্য আসে, তাঁর এ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুটিংয়ের পরিকল্পনা, সেট নির্মাণ, আন্তর্জাতিক সূচি—সবকিছুই নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। এরপরই বিষয়টি এফডব্লিউআইসিইয়ের কাছে পৌঁছে যায়। সংগঠনটির সভাপতি অশোক পণ্ডিত দাবি করেন, নির্মাতাদের অভিযোগের পর তাঁরা রণবীরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু রণবীর প্রথমে নীরব ছিলেন। পরে তাঁর পক্ষ থেকে ই-মেইলে জানানো হয়, এটি একটি চুক্তিভিত্তিক বিরোধ, তাই এফডব্লিউআইসিইয়ের এখতিয়ারে পড়ে না। এ জবাবে ক্ষুব্ধ হয় সংগঠনটি।


কতটা শক্তিশালী এফডব্লিউআইসিই 

বলিউডের বাইরের দর্শকদের কাছে এটি খুব পরিচিত না হলেও এফডব্লিউআইসিই ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে অত্যন্ত শক্তিশালী। মেকআপ আর্টিস্ট, লাইটম্যান, স্পটবয়, ক্যামেরা ইউনিট, জুনিয়র আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান—চলচ্চিত্রের প্রায় সব ধরনের কর্মীদের ৩৮টি ইউনিয়ন দিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন। অর্থাৎ একটি সিনেমা বানাতে যে বিশাল কর্মী বাহিনী লাগে, তাদের বড় অংশই এফডব্লিউআইসিইয়ের আওতায়। ফলে তারা যদি কোনো শিল্পীর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার নির্দেশ দেয়, তাহলে সেই শিল্পীর জন্য নতুন সিনেমার কাজ করা কঠিন হয়ে যায়।


‘নিষেধাজ্ঞা’ না ‘চাপ প্রয়োগ’?

এফডব্লিউআইসিই আনুষ্ঠানিকভাবে রণবীরের বিরুদ্ধে ‘নন-কো-অপারেশন ডিরেক্টিভ’ জারি করার পর মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, রণবীর সিং ‘নিষিদ্ধ’ হয়েছেন। তবে আইনি দিক থেকে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, এফডব্লিউআইসিই কোনো আদালত নয়। তারা কাউকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে না; বরং ট্রেড ইউনিয়নের চাপ প্রয়োগের মতো। সংগঠনটি তাদের সদস্যদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু কোনো অভিনেতাকে অভিনয় থেকে আইনিভাবে আটকাতে পারে না। এ কারণেই রণবীরের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, চুক্তিভঙ্গ বা আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আদালত বা সালিসি ব্যবস্থার বিষয়—এফডব্লিউআইসিইয়ের নয়। তবু বাস্তবতা হলো, বলিউডে শ্রমিকসংগঠনগুলোর প্রভাব বিশাল। তাই আইনি ক্ষমতা সীমিত হলেও শিল্পে তাদের সামাজিক ও পেশাগত চাপ কার্যকর হয়ে ওঠে। রণবীরের নীরবতা ও পরে প্রতিক্রিয়া পুরো বিতর্কে দীর্ঘ সময় নীরব ছিলেন রণবীর সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।


শেষ পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, ‘রণবীর সিং চলচ্চিত্র অঙ্গন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব থেকেছেন। কারণ, তিনি বিশ্বাস করেন, পেশাগত আলোচনা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মর্যাদা, পরিপক্বতা ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে সামলানো উচিত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নানা গুঞ্জন ও জল্পনা তৈরি হলেও রণবীর কখনোই প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেওয়াকে প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর মনোযোগ এখন শুধু কাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শেষের বার্তা—‘তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রাখেন এবং “ডন” ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। এমন পরিস্থিতিতে সংযম ও সৌজন্য বজায় রাখা সব সময়ই তাঁর সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল।’ এ বক্তব্য অনেকের কাছে ‘সমঝোতার ইঙ্গিত’ হিসেবেও দেখা হয়েছে।


বলিউডে নতুন বিতর্ক: তারকা বনাম সংগঠন

এ ঘটনা নতুন করে একটি পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—বলিউডে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে? একদিকে তারকারা কোটি কোটি রুপির প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু; অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ পুরোপুরি নির্ভর করে বিশাল কর্মী বাহিনীর ওপর। তাই একজন সুপারস্টারও বাস্তবে একা নন। বলিউড বিশ্লেষকদের মতে, এফডব্লিউআইসিইয়ের এ পদক্ষেপ শুধু রণবীরকে ঘিরে নয়; বরং এটি পুরো শিল্পের জন্য একটি বার্তা—বড় তারকারাও সংগঠনকে এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আবার অনেকে বলছেন, এটি তারকাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, যেকোনো চুক্তিগত বিরোধকে যদি শ্রমিকসংগঠন ‘নৈতিক ইস্যু’ হিসেবে তুলে ধরে, তাহলে তা শিল্পের স্বাধীনতার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করে।


বড় অনিশ্চয়তায় ‘ডন ৩’

সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখন ‘ডন ৩’–কে ঘিরে। নির্মাতা ফারহান আখতার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন অভিনেতার নাম ঘোষণা করেননি। তবে বলিউডে গুঞ্জন চলছে, নতুন করে কাস্টিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় বিতর্কের পর ছবিটির শুটিং ও মুক্তির সময়সূচি কতটা প্রভাবিত হবে। কারণ, বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক লোকেশনভিত্তিক সিনেমায় সময় নষ্ট মানেই বিপুল আর্থিক ক্ষতি। এ বিতর্কের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে রণবীরের আসন্ন সিনেমায়। পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক ঘরানার নতুন সিনেমায় দেখা যাবে অভিনেতাকে। জয় মেহতা পরিচালিত সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন হংসল মেহতা। আগামী আগস্টে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু যদি এফডব্লিউআইসিইয়ের নির্দেশ কার্যকর থাকে, তাহলে ইউনিট গঠন, টেকনিশিয়ান নিয়োগ কিংবা শুটিং ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। যদিও বলিউডে এর আগেও এমন অসহযোগিতা নির্দেশ দেখা গেছে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে।


নতুন বিতর্ক

রণবীরকে ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার প্রোডাকশন ডিজাইনার সাইনি এস জোহরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়। এক নারী অভিযোগ করেছেন, চণ্ডীগড়ের একটি হোটেলে তাঁকে ডেকে নিয়ে মদে নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে যৌন হয়রানি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় সরাসরি রণবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকলেও তাঁর নতুন সিনেমাকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনার পরিমাণ আরও বেড়েছে।


ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রণবীর

রণবীর সিংয়ের ক্যারিয়ার সব সময়ই উত্থান-পতনে ভরা। ‘ব্যান্ড বাজা ভারত’ দিয়ে অভিষেকের পর তিনি দ্রুত বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা হয়ে ওঠেন। ‘বাজিরাও মাস্তানি’, ‘পদ্মাবৎ’, ‘গলি বয়’–এর মতো সিনেমা রণবীরকে সমকালীন বলিউডের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে রণবীর সিংয়ের কিছু সিনেমা প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে ‘ডন ৩’ ছিল তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ। এ প্রকল্পকে ঘিরেই এখন সবচেয়ে বড় বিতর্ক।


শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে

বলিউডের অভিজ্ঞরা বলছেন, এই বিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, একদিকে রণবীর সিংয়ের মতো তারকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা সহজ নয়, অন্যদিকে বড় বাজেটের সিনেমাগুলোও দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সহ্য করতে পারে না। সম্ভাবনা বেশি—দুই পক্ষ আলোচনায় বসবে। হয়তো আইনি সমঝোতা হবে, নয়তো প্রকাশ্যে না এলেও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান বের হবে।


বিরোধ মেটাতে মাঠে সালমান খান

এদিকে ‘ডন ৩’ বিতর্কে এবার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছেন সালমান খান। পরিচালক ফারহান আখতার ও অভিনেতা রণবীর সিংয়ের মধ্যে চলমান বিরোধ মেটাতে দুজনকে একসঙ্গে বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সালমান আলাদাভাবে ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। পরে নিজের উপস্থিতিতে দুজনের মধ্যে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। উভয় পক্ষই এতে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেছে।


‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে রণবীর সিংয়ের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। শুটিং শুরুর প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে রণবীরের সরে যাওয়ায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাতারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফারহান আখতারের জন্য ভবিষ্যতে আরেকটি সিনেমায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন রণবীর। সেই প্রস্তাব ফারহান আখতার ও তার প্রযোজনা অংশীদার রিতেশ সিধওয়ানি গ্রহণ করেননি।


এ অবস্থায় সালমান খান নাকি ফারহানকে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘ডন ৩’-এর পরিবর্তে অন্য কোনো সিনেমায় রণবীরকে নিয়ে কাজ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে। বলিউডে ফারহান আখতার ও তার পরিবারের সঙ্গে সালমানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে রণবীর সিংয়ের সঙ্গেও তার সুসম্পর্ক আছে। সে কারণেই দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের ফল কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।






ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব গত বছরই কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এ খবর অবশ্য এখন পুরোনো। কিন্তু মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। 


কিন্তু ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর অভিনেতার মেয়ে আনায়ার জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয়।


এবার প্রায় এক বছর পর সেই ভুল ভাঙালেন অভিনেতা অপূর্ব। জানালেন, আজ (১৫ অক্টোবর) তার মেয়ের বিশেষ দিন, অর্থাৎতার মেয়ের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত বছরের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল।


এ অভিনেতা মেয়ের বিশেষ দিনে বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, ‘তোমাকে ভালোবাসার ৩৬৫ দিন। আমাদের ছোট্ট রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সত্যিই বুঝতে পারিনি, দেখতে দেখতে কীভাবে সময়টা পেরিয়ে গেল। ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, আর মুহূর্তেই অপার সৌন্দর্যে বদলে দিয়েছিলে সবকিছু।’


রাজকন্যার বেড়ে ওঠা দেখতে পারাই যেন অভিনেতা এবং তার স্ত্রী শাম্মা দেয়ানের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। এ ব্যাপারে অপূর্ব লিখেছেন, ‘তোমার বেড়ে ওঠা, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, আর তোমার মিষ্টি হাসি ও আনন্দে আমার ঘর ভরিয়ে তোলা, এসব দেখা এই জীবনের বড় প্রাপ্তি। আজ তোমার মাথায় হয়তো ছোট্ট একটি মুকুট শোভা পাচ্ছে, কিন্তু জন্মের সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাদের হৃদয়ের রানির মুকুট পরে আছো তুমি।’


সবশেষ মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবন যেন সবসময় তোমার মতোই উজ্জ্বল, মায়াময় ও অমূল্য হয়ে থাকে।’


প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা অপূর্ব। এর আগে ২০১১ সালে অদিতিকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে ছেলে আয়াশ রয়েছে। এরও আগে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। যদিও সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি।


করণ জোহর ও সালমান খান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।


মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।


 আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!


সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’


বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!


শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’


এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’


টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে


শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ পিএম

শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন। 


২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।


বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।


সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। 


সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।  


নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর। 


সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।


অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’


এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।


এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।


শাহরুখ খান ও সোহানা খান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।


প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।


‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।


একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।


শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।


নাসিমা খানম

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ এএম

বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম। 


জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে। 


নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।' 


অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা। 


রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'


নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি। 


শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য। 


উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা। 


বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি। 


স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন। 


সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৬ পিএম

নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।


সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।


গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।


ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’


পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’


বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’


শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।


সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।