মা-বাবা হওয়ার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন খুশির খবর দিলেন বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং। দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের এক মাস পর এবার তার নাম প্রকাশ করেছেন এই তারকা দম্পতি। নবরাত্রির আবহে এবার ছোট মেয়ের প্রথম ঝলকও অনুরাগীদের সাথে ভাগ করে নিলেন তারা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি সুন্দর পারিবারিক ছবি শেয়ার করে দীপিকা ও রণবীর মেয়ের নাম জানিয়েছেন দেবী পাড়ুকোন সিং। ছবিতে এই দম্পতির পাশাপাশি দেখা গেছে তাদের বড় মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংকেও। নাম প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্ত ও অনুরাগীরা।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় কন্যাসন্তানের জন্মের খবর যৌথভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন দীপিকা ও রণবীর। সে সময় নবজাতকের পায়ের পাতার একটি ছবি প্রকাশ করেন তারা। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় লেখা ছিল, ‘স্বাগত ফুটফুটে রাজকন্যা!’ পোস্টের শেষে বড় মেয়ে দুয়া, দীপিকা ও রণবীরের নামও উল্লেখ করা হয়েছিল।সন্তানের জন্মের খবর জানানোর সময়ই ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল নবজাতকের নাম নিয়ে। অবশেষে এক মাস পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন তারকা দম্পতি।
এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কন্যাসন্তান দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের জন্ম হয়। আর গত মাসে দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের আগমনের পর এবার ‘দেবী’ নামের মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারে যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়। দ্বিতীয় সন্তানের আগমন এবং নাম প্রকাশকে ঘিরে আনন্দে ভাসছেন দীপিকা-রণবীরের অনুরাগীরা।
জেলার ২ সিনেমার পোস্টার।
গোটা দেশজুড়ে রজনীকান্তের অগণিত ভক্ত। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে তো তিনি ‘থালাইভা’। আর সেই ভক্তকুলের মধ্যে অন্যতম সাঞ্জু স্যামসন। আর সেটা এমন পর্যায়ে যে রজনীর নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ দেখার জন্য একাই হলের সব টিকিট কিনে নিলেন এই তারকা ক্রিকেটার। আগেই সিনেমাটা দেখার ইচ্ছা ছিল। সেটা হয়নি বলে এবার ঝুঁকি নেননি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার।
সাঞ্জু যে রজনীকান্তের ভক্ত, সেটা আর নতুন করে বলার নয়। এর আগেও তিনি বহুবার সে কথা স্বীকার করেছেন। তবে ভারতে তারকা ক্রিকেটারদের সর্বসমক্ষে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা আছে। তাই বলে কি প্রিয় হিরোর সিনেমা বড় পর্দায় দেখার সুযোগ হাতছাড়া করা যায়?
সাঞ্জু বলেন, ‘রজনী স্যারের সিনেমা দেখতে আমার দারুণ লাগে। আমি সবসময় তার সিনেমা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। তাই সময় পেলেই তার সিনেমা দেখতে চলে যাই। কালই দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দিল্লিতে একটু অনুষ্ঠানে আটকে পড়ায় আর যাওয়া হয়নি।’এবার যাতে আর মিস না হয়, তাই গোটা হলই বুক করে নিয়েছেন সাঞ্জু। তিনি বলেন, ‘কপাল ভালো, আজ সুযোগ পেয়েছি। তাই হলের সব টিকিট কেটে নিয়েছি। আমি আমার বন্ধুদের সিনেমা দেখতে নিমন্ত্রণ করেছি। আমার স্ত্রীও থাকবে। রজনী স্যারকে বড় পর্দায় দেখার জন্য মুখিয়ে আছি।’এখানেই শেষ নয়। এরপর ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ডে উড়ে যাবে। তার আগে টিম ইন্ডিয়ার ম্যানেজমেন্টে যারা তামিল জানেন, তাদেরকেও এই সিনেমা দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাঞ্জু।মেগাস্টার রজনীকান্তের ‘জেলার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, কবে আসবে ছবির সিকুয়েল? গত ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। স্বাভাবিক ভাবেই অন্যান্য বারের মতো এখানেও তাকে দেখানো হয়েছে ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ভাবমূর্তিতেই।
রান্নাবিষয়ক প্রতিযোগিতার মঞ্চে নতুন দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। দীর্ঘদিন ধরে ‘সেরা রাঁধুনী’ অনুষ্ঠানের বিচারকের আসনে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমাকে। তবে এবার নবম আসরে তাঁর জায়গায় দেখা যাবে জয়াকে।
নিজেই একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে খবরটি জানিয়েছেন জয়া আহসান। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকলেও রান্নাবিষয়ক কোনো আয়োজনের বিচারক হিসেবে এবারই প্রথম দেখা যাবে তাঁকে।ভিডিও বার্তায় জয়া জানান, ‘সেরা রাঁধুনী’র নবম আসরে বিচারক হিসেবে যুক্ত হচ্ছেন তিনি। যারা রান্না করতে ভালোবাসেন কিংবা রান্নাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এই আয়োজন বিশেষ সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই অনুষ্ঠান বহু রাঁধুনির জীবনে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি করেছে।এবারের আসরে জয়া আহসানের সঙ্গে বিচারকের দায়িত্ব পালন করবেন দুই পেশাদার শেফ শুভব্রত মৈত্র ও শাহিদ শাহিন। ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগ্রহীরা আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর জন্য থাকছে ১৫ লাখ টাকার পুরস্কার।
মাছরাঙা টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ‘সেরা রাঁধুনী’র নবম আসর। নতুন বিচারক হিসেবে জয়াকে পাওয়ার খবরে অনুষ্ঠানটির দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে পূর্ণিমাকে ঘিরে সম্প্রতি মা হতে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে। গত শুক্রবার একটি রিয়েলিটি শোতে অংশ নেওয়ার পর তাঁর একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী।
বলিউড তারকাদের ঘিরে হামলা ও হুমকির ঘটনায় আবারও আলোচনায় কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। মুম্বাইয়ে অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে বার্তাটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
কারাগারে বন্দী থাকা সত্ত্বেও অপরাধজগতের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রভাব ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যা, সালমান খানের বাসভবনের বাইরে গুলি এবং মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তার নাম উঠে এসেছে।১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাবে জন্ম লরেন্স বিষ্ণোইয়ের। শৈশব কাটে আবোহার এলাকায়। পরে পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। সেখানে ডিএভি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময়ই গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সংঘাতের পর ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন তিনি বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হামলা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পরও অপরাধজগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। তাদের দাবি, কারাগারের বাইরে থাকা সহযোগীদের মাধ্যমে চক্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বর্তমানে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রয়েছেন লরেন্স বিষ্ণোই। তাকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে বলিউড অভিনেতা সালমান খানের বিরোধের সূত্র ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়। ২০১৮ সালে এ মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
একই বছর সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পরবর্তী সময়েও অভিনেতার কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি গুলি চালান। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্রের কথা উঠে আসে। এরপর থেকে সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের পর বড় পরিসরে আলোচনায় আসে বিষ্ণোই চক্রের নাম। বিদেশে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রার ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলোও এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে।
এরপর ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে খুন হন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি। সালমান খানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় সালমানকে সহায়তাকারীদের হুমকি দেওয়া হয়। এতে অভিনেতাকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়।
২০২৫ সালে কানাডার সারেতে কৌতুকাভিনেতা কপিল শর্মার ক্যাফেতে একাধিকবার গুলি চালানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে। একটি হামলার দায় স্বীকার করে ছড়ানো বার্তায় সালমানের সঙ্গে কপিলের সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের জুহুর বাড়িতে গুলির ঘটনার পরও বিষ্ণোইয়ের সহযোগী পরিচয়ে দায় স্বীকারের বার্তা সামনে আসে। এসব ঘটনার সঙ্গে চক্রটির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিটি ক্ষেত্রেই তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করা জরুরি।
কারাগারে বন্দী থেকেও অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অভিযোগ লরেন্স বিষ্ণোইকে নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয়। তদন্তকারীদের দাবি, তার সহযোগীরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং দেশের বাইরে অবস্থান করেও চক্রের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
সিএনএনের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কারাগার থেকে যোগাযোগ, বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে বিষ্ণোই চক্রের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যদের মধ্যে তথ্য সীমিত রাখার কৌশল অনুসরণ করা হয়। এতে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে অপরাধের পরিকল্পনা, নির্দেশদাতা এবং মাঠপর্যায়ে হামলাকারীদের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির প্রতিটি অপরাধে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি নির্দেশ বা অংশগ্রহণ ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তারকাদের লক্ষ্য করে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্লেষকদের নজরে রয়েছে। এ ধরনের বার্তা হামলার শিকার ব্যক্তি ও তার ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধী চক্রের পরিচিতি, প্রভাব এবং ভীতিকর ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।
তবে কোনো গোষ্ঠীর নামে বার্তা ছড়িয়ে পড়লেই সেই গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। বার্তার উৎস, সত্যতা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা জরুরি।
টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে বিষ্ণোই চক্রের নামে ছড়িয়ে পড়া বার্তার সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি যোগসূত্র তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকেন। তবে এবার কোনো সিনেমা বা অভিনয় নয়, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি একটি বিকৃত ও ভুয়া ভিডিওর কারণে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন তিনি।
সাইবার অপরাধীদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় এই অভিনেত্রীকে।কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করে পরীমনির ওই ভুয়া এআই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও ক্ষোভ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় একটি শো-রুম উদ্বোধনে গিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন পরীমনি। জীবনে একের পর এক বিতর্কের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে হাসিমুখেই তিনি বলেন, ‘আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারাজীবন ঝামেলা হবে আর ঝামেলা নিয়েই যাব। এটা আমি মেনে নিয়েছি। এখন বিষয়গুলো আমার ভালোই লাগে, এনজয় করি।’এর আগে একটি ফেসবুক লাইভে এসে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে কথা বলেন পরীমনি। নেটিজেনরা তার এই সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সবাই যখন আমার সাহসকে সম্মান জানায়, তখন আরও বেশি সাহস পাই। তখন মনে হয়, আমি সঠিক পথেই আছি।’
এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারীদের ডিজিটাল হয়রানি ইদানীং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরীমনি। সাধারণ নারীদের সুরক্ষায় এ বিষয়ে সবাইকে এক হয়ে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা অনেক বেশি সেনসিটিভ। আমার মতো মানুষের এটা গায়েই লাগানোর কথা না। প্রথম তিন-চার দিন তো আমি বিষয়টি পাত্তাই দিইনি। কিন্তু যখন দেখলাম এটা আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন কথা বলতে বাধ্য হয়েছি। এটি যদি কোনো সাধারণ মেয়ের ক্ষেত্রে হতো, তবে হয়তো অনেকে মানসিক চাপে আত্মহত্যাও করে ফেলত—এমন খবর আমরা প্রায়ই দেখি। তাই এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অত্যন্ত জরুরি।"
রাখি সাওয়ান্ত। ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেত্রী রাখি সাওয়ান্ত আর বিতর্ক যেন একে-অপরের সমার্থক! বেফাঁস মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি।
২০১০ সালের একটি পুরোনো মৃত্যুর মামলায় বলিউডের ড্রামা কুইন খ্যাত রাখি সাওয়ান্তের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (NBW) জারি করেছে উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি আদালত। দীর্ঘ ১৬ বছর আগের এক বিতর্কিত ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ঝাঁসির প্রেমনগর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ নামের এক যুবক তার স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিবাদের জেরে রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ওই শো-এর মঞ্চেই রাখি লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পর ভয়ংকর মানসিক অবসাদ ও সামাজিক হেনস্তার শিকার হন ওই যুবক। মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে সে বছরই তিনি মারা যান লক্ষ্মণ।
ঘটনাটি ২০১০ সালের। সে সময় টেলিভিশনের পর্দায় প্রচারিত হতো রাখি সাওয়ান্তের সঞ্চালনায় ‘রাখি কা ইনসাফ’ নামের একটি অনুষ্ঠান। দাম্পত্য কলহের সমাধান খুঁজতে লক্ষ্মণ আহিরওয়ার নামে এক যুবক স্ত্রীকে নিয়ে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেই তাকে ‘নপুংসক’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগ ওঠে রাখির বিরুদ্ধে।
লক্ষ্মণের পরিবারের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের ওই পর্বের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মদ্যপান শুরু করেন লক্ষ্মণ। পরে তার আত্মহত্যার ঘটনায় রাখির মন্তব্যকে দায়ী করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তার মা সাবিত্রী প্রেম।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালের অক্টোবরে প্রচারিত ‘রাখি কা ইনসাফ’-এর একটি পর্বে রাখি তার ছেলের উদ্দেশে অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁসির আদালতে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
লক্ষ্মণের মৃত্যুর পর রাখিসহ চারজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেন ওই যুবকের মা। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনার পাশাপাশি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার ধারাও যুক্ত করে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট দাখিলের পর অবশেষে আদালত এই পরোয়ানা জারি করেছেন।
ঝাঁসির জেলা সরকারি আইনজীবী মৃদুলকান্ত শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব দ্রুত রাখি সাওয়ান্তকে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করতে হবে। ১৬ বছর আগের এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে এখন এই অভিনেত্রীর মাথার ওপর গ্রেপ্তারির খাঁড়া ঝুলছে।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ায় রাখির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে অভিনেত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বলিউডে অভিনয়ের পাশাপাশি নানা বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন রাখি সাওয়ান্ত। অতীতের সেই মন্তব্যের জেরেই এবার নতুন করে আইনি জটিলতায় পড়লেন এই অভিনেত্রী।
টাইগার শ্রফ
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ভাড়াটে হামলাকারী এবং অপরজন তাদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হরিয়ানার সোনিপাতের ১৭ বছর বয়সী ফুল সিং, বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং সোনিপাতের ১৮ বছর বয়সী রেহান। হৃতিক মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্ট এলাকায় বসবাস করেন এবং র্যাপিডো চালক হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজস্থান অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্কফোর্স (এজিটিএফ) ও কোটা সিটি পুলিশের যৌথ দল তাদের গ্রেপ্তার করে। মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলার পর অভিযুক্তরা মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে গুজরাটে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। পরে পুলিশের নজর এড়াতে ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করেন তারা।
তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার আগে থেকেই টাইগার শ্রফের চলাফেরার ওপর নজর রাখছিলেন অভিযুক্তরা। অভিনেতার নিয়মিত যাতায়াতের স্থান ও সময় সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর হামলার পরিকল্পনা করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল মাঠে যেতেন টাইগার শ্রফ। সেখান থেকে গাড়িতে করে ফেরার সময় তাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও অন্য একজন আহত হন।
হামলার পর অভিযুক্তরা এসভি রোড ধরে ভিলে পার্লে ও আন্ধেরির দিকে পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পরে আন্ধেরি ওয়েস্ট রেলস্টেশনের কাছে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে ট্রেনে ওঠেন তারা।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় টাইগার শ্রফের বাসায় গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। অভিনেতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি।
শিন্ডে বলেন, মুম্বাইয়ে গ্যাং-সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অপরাধী চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ১৯৯০-এর দশকে গ্যাং-সংঘাতের সময় যেভাবে এসব চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, আবারও তেমন পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিন্ডে বলেন, এর জবাব দেওয়া হবে পাল্টা জবাবে গুলির জবাব গুলিতে।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি
গুলিবিদ্ধ চালককে নিজেই হাসপাতালে নিলেন আহত টাইগার