ছবি : সংগৃহীত
শুরু থেকে আলোচনায় থাকা বিনোদনের মেজাজে বানানো গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক ঘরানার সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ঝড় তুলল অস্কার মঞ্চে। চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে বিবেচিত ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের জিতল পল টমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানদার’ সিনেমাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে রোববার সন্ধ্যায় অস্কারের জমকালো আসরে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। অস্কারের আসর সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কমেডিয়ান কোনান ও’ব্রায়েন।
শুরুতেই তিনি বলেন, ‘এবারের অস্কার হতে যাচ্ছে রাজনৈতিক’।
সেরা সিনেমা, সেরা নির্মাতাসহ ৬ শাখায় অস্কার জিতে নিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেওয়া অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত এই সিনেমাটি।
তবে সেরা অভিনেতার অস্কার ছিটকে যাওয়ায় বড় সম্ভাবনা থাকলেও দ্বিতীয়বার আর অস্কার জয় হল না ক্যাপ্রিওর। অস্কার পেতে ১৩ শাখায় মনোনয়ন পেয়েছিল এই সিনেমাটি।
‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন পল টমাস অ্যান্ডারসন।
সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতে অ্যান্ডারসন বলেন, “এই প্রাপ্তির জন্যআমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আপনাদের ধন্যবাদ।”
অ্যান্ডারসন বলের তার দলের সদস্যরা সম্মানিত, এই সম্মানের ভাগীদার হওয়ার জন্য।
রসিকতা করে অস্কারজয়ী এই নির্মাতা বলেন, “কোনো কিছু পাওয়ার আগে আপনার মনে সন্দেহ থাকতে পারে যে আপনি এটার যোগ্য কী না। কিন্তু কোনো সন্দেহ নেই আমি অস্কার পেয়ে আনন্দিত।”
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি মানুষের আস্থা-ভরসা ও বিশ্বাস আমার উপরে আছে।”
১৯৯০ সালে প্রকাশিত টমাস পিনচনের উপন্যাস ‘ভাইনল্যান্ড’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি বানিয়েছেন পল টমাস অ্যান্ডারসন। যার সঙ্গে এ সময়ের যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়। বিপ্লব, অভিবাসন, দুর্নীতি, সংঘর্ষ, শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য-কী নেই এই সিনেমায়।
বলা হয়, ‘এই সিনেমা অসন্তোষ, প্রতিবাদ আর সমাজের বাইরে থাকা একাকী নায়কের গল্প, যা আজকের আমেরিকায় দেখা যায় না।’
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিনেমাটিকে ‘সমাজের আয়না’ বলে অভিহিত করেছিলেন মূল চরিত্রাভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তার ভাষ্যে, “আমাদের সংস্কৃতির বিভাজন আর চরম মেরুকরণকে দেখায় এই সিনেমা। যদিও সিনেমার নির্দিষ্ট কোনো বার্তা নেই, তবে চরমপন্থার একধরনের প্রভাব এখানে কাজ করেছে।”
এই সিনেমায় রাজনৈতিক ব্যঙ্গ, ব্ল্যাক কমেডি ও অ্যাকশন আছে, যার প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা।
দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, এই সিনেমা অসন্তোষ, প্রতিবাদ আর সমাজের বাইরে থাকা একাকী নায়কের গল্প, যা আজকের আমেরিকায় দেখা যায় না।
সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী
ডিক্যাপ্রিও বা টিমোথি শ্যালামে নন, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অস্কারে সেরা অভিনেতা হলেন ‘সিনার্স’ অভিনেতা মাইকেল বি জর্ডান।
রায়ান কুগলার পরিচালিত হরর ছবি ‘সিনার্স’–এ দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এ পুরস্কার পেলেন তিনি।
সিনার্স’ একদিকে এটি যেমন হরর সিনেমা, অন্যদিকে ব্লুজ সংগীতনির্ভর মিউজিক্যাল, আবার একই সঙ্গে গ্যাংস্টার থ্রিলার। অর্থাৎ ত্রিশের দশকের মিসিসিপিকে কেন্দ্র করে নির্মিত গভীর গবেষণাভিত্তিক ঐতিহাসিক ড্রামা হল ‘সিনার্স’।
সিনেমায় যমজ ভাইয়ের চরিত্রাভিনেতা মাইকেল বি. জর্ডান যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন।
তবু এই ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে, স্মোকস্ট্যাক যমজ ভাই হয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন মাইকেল। শরীরী ভাষা ও কণ্ঠের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে দুই ভাইকে আলাদা করে তুলেছেন নিজের দক্ষতায়।
পুরস্কার পেয়ে ছোট্ট কথায় মাইকেল বি. জর্ডান বলেন, ‘তিনি হতবাক’।
পুরস্কার হাতে কৃষ্ণাঙ্গ অভিনয়শিল্পীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাইকেল বি. জর্ডান বলেন, “তারা আমার আগে শুরু করেছিলেন বলেই আমি আজ এখানে আসতে পেরেছি।”
সহশিল্পীদের প্রতি তার ভাষ্য, ‘তোমরা সবাই মিলে এই সিনেমাটি তৈরি করেছ’।
আরও বলেন, “আজ এখানে আমার বাবা এসেছেন. পরিবারের সদস্যরা এসেছেন, তারাও অভিভূত।”
সেরা অভিনেত্রী জেসি বাকলি। গোল্ডেন গ্লোব, ক্রিটিকস চয়েজ, বাফটা, অ্যাক্টার অ্যাওয়ার্ডসের পর সমালোচকরা ধারণা করেছিলেন, এই শাখায় অস্কারটি যাচ্ছে বাকলির হাতে। অস্কার মঞ্চেও চমক দেখালেন তিনি।
চার প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে ক্লোয়ি ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ সিনেমার জন্য এ পুরস্কার পেলেন এই আইরিশ তারকা।
বাকলি অস্কার জিতে গড়লেন ইতিহাসও। কারণ তাহলে প্রথম কোনো আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয় করলেন এই অভিনেত্রী।
বাকলি অভিনীত ‘হ্যামনেট’ ম্যাগি ও ফ্যারেলের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত, যা উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ও তার স্ত্রী অ্যাগনেস হ্যাথাওয়ের জীবনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
এতে ১১ বছর বয়সী পুত্র হ্যামনেটের মৃত্যুতে পারিবারিক শোক, সংকট এবং শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক ‘হ্যামলেট’ সৃষ্টির পেছনের আবেগঘন পারিবারিক কাহিনী দেখানো হয়েছে। সিনেমাতে আরও আছেন পল মেসক্যাল।
এই সিনেমা সন্তান হারানোর শোক নিয়ে। সমালোচকদের ভাষ্য, এই সিনেমায় বাকলি নিজেকে শেক্সপিয়ারের স্ত্রী অ্যাগনেস হ্যাথাওয়ের চরিত্রে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন।
নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাকলি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তার স্বামীর প্রতি।
অশ্রুস্বজল চোখে বাকলি বলেন, “আমার বাবা-মা সব সময় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
"আজ যুক্তরাজ্যে মা দিবস, তাই আমি এটি একজন মায়ের হৃদয়ের প্রতি এই অস্কার উৎসর্গ করতে চাই। এই ভূমিকায় আমাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।”
পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী
পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন অ্যামি মুলিগান; আলোচিত হরর সিনেমা 'ওয়েপনস'-এর জন্য পুরস্কার পেলেন তিনি। সেরা পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শন পেন। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এর অভিনেতা শন পেন এই শাখায় পুরস্কার পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়েই ছিলেন।
জয়ের হাসি হাসল যারা
• সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার
• সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি (হ্যামনেট)
• সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)
• সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)
• সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি মুলিগান (ওয়েপনস)
• সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)
ছবি : সংগৃহীত
নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। বাংলাদেশের ফেরদৌস ও কলকাতার প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদি জুটি আজও সেই ছবি দিয়ে কালজয়ী হয়ে আছেন। এবার নতুন প্রজন্মের জন্য ফিরছে নতুন আঙ্গিকে।
মুক্তির ২৮ বছর পর নির্মিত হয়েছে এর আধুনিক সংস্করণ ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’। তরুণ নির্মাতা কামরুজ্জামান মূল গল্পের আবেগ অক্ষুণ্ন রেখে সমসাময়িক সময়ের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন।
১৯৯৮ সালে বাসুদেব চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘হঠাৎ বৃষ্টি’-তে নতুন জুটি হিসেবে দর্শকের মন জয় করেছিলেন ফেরদৌস আহমেদ ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবীন শিল্পী আরিয়ান ও রাদিফা।
আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্মের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টিয়ানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান এবং ঝুনা চৌধুরী।
মূল সিনেমার জনপ্রিয়তার বড় একটি কারণ ছিল নচিকেতা চক্রবর্তীর সুরে তৈরি কালজয়ী গানগুলো। সেই আবহ ধরে রাখতে পুরোনো ছয়টি গানের মধ্যে তিনটির নতুন সংস্করণ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে যুক্ত হয়েছে দুটি নতুন গান।
নির্মাতার প্রত্যাশা, পুরোনো স্মৃতি ও নতুন উপস্থাপনার সমন্বয়ে ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’ দর্শকদের হৃদয়ে নতুন করে জায়গা করে নেবে।
সিনেমাটি আগামী ২ অক্টোবর সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
গুজরাটের জুনাগড়ের বাসিন্দা ইব্রাহিম কাদরি। একসময় জীবিকা নির্বাহ করতেন সাইনবোর্ড আঁকার কাজ করে। ১০ বছর আগেও অনিয়মিত আয়ের কারণে সংসার চালানো ছিল কঠিন। আর এখন? শুধু শাহরুখ খানের সঙ্গে চেহারার মিলকে পুঁজি করে তিনি প্রতি অনুষ্ঠানে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সর্বোচ্চ ৫ লাখ রুপি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৪০ বছর বয়সী ইব্রাহিম জানান, ছোটবেলা থেকেই পরিবার ও বন্ধুরা তাকে শাহরুখ খানের মতো দেখতে বলতেন। তবে সে সময় বিষয়টি তাকে বিরক্তই করত। এমনকি তুলনা এড়াতে একপর্যায়ে নিজের লুকও বদলে ফেলেছিলেন তিনি।
আইপিএলের এক ম্যাচেই বদলে যায় জীবন। ২০১৭ সালে রাজকোটে আইপিএলের একটি ম্যাচ দেখতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন ইব্রাহিম। দর্শকদের অনেকেই তাকে সত্যিকারের শাহরুখ ভেবে সেলফি তুলতে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এগিয়ে এলেও সেই পুলিশ সদস্যও শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে ছবি তোলেন।
সেখান থেকেই নতুন পথের শুরু। ইব্রাহিম সিদ্ধান্ত নেন, শুধু চেহারার মিল নয় শাহরুখের হাঁটা, কথা বলা, নাচ, সংলাপ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজও আয়ত্ত করবেন।
ইব্রাহিম বলেন, প্রথমদিকে তিনি ভাবতেন শুধু দেখতে শাহরুখের মতো হলেই যথেষ্ট। কিন্তু এক অনুষ্ঠানে এক নারী দর্শক তাকে বলেন, 'ডায়লগ আর নাচ না থাকলে শাহরুখের অনুভূতি আসে না।' এরপর টানা এক বছর ধরে তিনি শাহরুখের অভিনয়, সংলাপ ও পারফরম্যান্স নিয়ে অনুশীলন করেন।
বর্তমানে ইব্রাহিম প্রতি অনুষ্ঠানে দেড় লাখ থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। ভারত ছাড়াও বিদেশের বিভিন্ন স্টেজ শো ও করপোরেট অনুষ্ঠানে নিয়মিত আমন্ত্রণ পান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় ৩২ লাখ সাবস্ক্রাইবার এবং ইনস্টাগ্রামে প্রায় ২৬ লাখ অনুসারী রয়েছে।
ইব্রাহিমের দাবি, তিনি ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি মানুষকে শাহরুখ খানের স্টাইল, অঙ্গভঙ্গি ও পারফরম্যান্স অনুকরণে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
মজার বিষয় হলো, এত পরিচিতি পেলেও ব্যক্তিগতভাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে দেখা করার তেমন আগ্রহ নেই ইব্রাহিমের। তার ভাষায়, 'দেখা হলে হয়তো তাকে অনুকরণ করার সেই অনুভূতিটাই বদলে যেতে পারে। তবে শাহরুখ নিজে ডাকলে অবশ্যই যাব।'
আর যদি একদিনের জন্য সত্যিই শাহরুখের জীবন পাওয়ার সুযোগ মেলে? ইব্রাহিমের স্বপ্ন একটাই, মান্নাতের ছাদে দাঁড়িয়ে শাহরুখ খানের সঙ্গে এক কাপ কফি পান করা।
সালমান শাহ ও শাবনূর
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ। দিনটিকে ঘিরে প্রয়াত নায়ককে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে প্রয়াত নায়কের সঙ্গে কাটানো সোনালী দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।
একইসঙ্গে সালমান শাহকে নিয়ে কোনো ধরনের অসম্মানজনক বা মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর জন্য সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন এই নায়িকা।
পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় সালমান শাহ! কত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ ৯০-এর দশকের সেই সোনালী দিনগুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। শুটিং সেটে তুমি শুধু একজন জনপ্রিয় নায়কই ছিলে না, ছিলে একজন অসাধারণ হৃদয়ের মানুষ। তোমার আশেপাশের প্রতিটি মানুষকে তুমি সম্মান করতে।
শুটিং ইউনিটের কর্মী হোক কিংবা সাধারণ অভিনয়শিল্পী কাউকেই কখনো ছোট করে দেখতে না। সবার খোঁজ নিতে, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়াতে এবং আপন করে যত্ন নিতে। তোমার এই সুন্দর মন আর মানবিকতাই তোমাকে মানুষের হৃদয়ে এতটা আপন করে রেখেছে।’
শাবনূর উল্লেখ করেন, পুরোনো কোনো গান শুনলে কিংবা কোনো সিনেমার দৃশ্য চোখে পড়লে মনে হয় যেন সালমান শাহ আবার সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরে এসেছেন। পাশাপাশি, মহান আল্লাহর কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করার প্রার্থনা করেন শাবনূর।
পোস্টের শেষাংশে একটি বিশেষ বার্তাও জুড়ে দেন একসময়ের তুমুল দর্শকপ্রিয় এ চিত্রনায়িকা। সবার প্রতি শাবনূরের অনুরোধ, সালমান শাহকে নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করেন।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘সবার প্রতি সবিনয় অনুরোধ, প্রিয় সালমান শাহকে নিয়ে আমরা কেউ যেন কোনো ধরনের মিথ্যা অপবাদ, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অসম্মানজনক মন্তব্য না করি। একজন প্রয়াত মহান শিল্পীর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান সবসময় অটুট থাকুক। তার অমর স্মৃতিকে ভালোবাসা ও মর্যাদার সঙ্গেই হৃদয়ে ধরে রাখি।’
সাইদুর রহমান পাভেল
অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলকে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি পাভেলের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির দেওয়া একটি তালিকাকে ঘিরে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পরিচালক কাজল আরেফিন অমি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র শিল্পীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে ধারাবাহিকটির নিয়মিত ও পরিচিত শিল্পীদের নাম দেখা গেলেও সাইদুর রহমান পাভেলের নাম ছিল না। এ বিষয়টিই পাভেলকে ধারাবাহিক থেকে বাদ দেওয়ার গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই তালিকা ও পাভেলের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নানা আলোচনা করছেন দর্শকরা। অনেকেই ধারণা করছেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই ধারাবাহিকটিতে পাভেলের উপস্থিতি নিয়ে পরিবর্তন এসেছে।
তবে তাকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি কিংবা পাভেলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি নাট্যধারাবাহিক। এতে নিয়মিত অভিনয় করা শিল্পীদের চরিত্র ও সংলাপ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও প্রায়ই আলোচনা হয়ে থাকে।
সাইদুর রহমান পাভেল
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছেন ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেল। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের ‘জাকির’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতাকে নিয়ে ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে।
প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় পাভেলকে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন পাভেল। তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে থাকা ওই নারী আমার বান্ধবী, এর বাইরে আমাদের অন্য কোনো সম্পর্ক নেই।’
পাভেল ক্যারিয়ারের শুরুতে ভারতের রিয়্যালিটি শো ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার সিজন ৯’-এ অংশ নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় রানারআপ হন। এর মাধ্যমে দুই বাংলায় পরিচিতি পান তিনি।
পরে নির্মাতা তপু খানের ‘কট বিহাইন্ড’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেন পাভেল। তবে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের ‘বজরা বাজারের জাকির’ বা ‘জাকির হোসেন নেইমার’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি।
তানিশা মুখোপাধ্যায়
বলিউড তারকা কাজলের বোন অভিনেত্রী তানিশা মুখোপাধ্যায় মাঝেমধ্যে সমাজ ও নানা বিষয় নিয়ে নিজের মতামত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। এবার বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তানিশার দাবি, এমন নারীরা নারীবাদী হতে পারেন না। বরং তারা অন্য নারীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। এমনকি জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের ‘অশুভ’ ও ‘ক্ষতিকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানিশা লেখেন, ‘বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে যে নারীরা সম্পর্কে জড়ান, তারা নারীবাদী নন। বরং তারা নারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। কারণ, অন্য এক নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো মানে একজন মহিলাকেই অসম্মান করা।’
তবে এমন সম্পর্কে বিবাহিত পুরুষটির দায় কতটা—সেটিও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তানিশা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেই পুরুষও সমানভাবে দায়ী। তার চরিত্রও ভালো নয়। আর যে নারীরা জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের পেছনে ছুটে বেড়ান, তাঁরা অশুভ ও ক্ষতিকর। আমাদের সন্তানদের কাছে তাঁদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।’
তানিশার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। একজন লিখেছেন, এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ—দুজনেই সমানভাবে দায়ী। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সংসার ভাঙেন যাঁরা, তাঁরা লিঙ্গনির্বিশেষে দায়ী হয়ে থাকেন।’
গত বছরও নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তানিশাকে। তখন দেশের সংস্কৃতিতে নারীদের সম্মানের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার মূল্যবোধ বরাবরই ছিল। তবে নানা কারণে সমাজে সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে।
তানিশা মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবনের শুরু ২০০৩ সালে ‘শশশ…’ সিনেমার মাধ্যমে। ভৌতিক ঘরানার ওই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কর্ণ নাথ ও ডিনো মোরিয়া। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। পরে ‘সরকার’, ‘নীল অ্যান্ড নিকি’সহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস্’-এ অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তানিশা। ২০১৩ সালে ‘বিগ বস্’-এর সপ্তম মৌসুমে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। ওই মৌসুমের বিজয়ী হন গওহর খান। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন