বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৬-২৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ চারটি পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আসাদুর রহমান।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পরে ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এই চারটি পদে ভোটগ্রহণ হয়।সমিতির মোট ৫১৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫০১ জন উপস্থিত ছিলেন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। সভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন, সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০৫ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আসাদুর রহমান ১৭৬ ভোট, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল হালিম ২০৪ ভোট এবং সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হেলাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা পদে শরিফা খাতুন, সাংগঠনিক ও প্রচার সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোবারক হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির বাকি পদগুলো পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনয়নের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠনের ২৫তম দিনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন মো. সিরাজ উদ্দিন, মো. আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা ও মো. কামরুজ্জামান।
নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন পরিচালক মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন খুব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে। ভোটারদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ সক্রিয়। প্রশাসনও আমাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে নির্বাচনটি সম্পন্ন হয়েছে।’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের বদলির সুযোগ নেই। ফলে ঢাকা, রাজশাহী বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান না। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পদে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন অনুযায়ী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার এ ধরনের একটি ‘ইকোসিস্টেম’ বা ‘ইকো-লার্নিং সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) লেকচারার অ্যান্ড অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। সংগঠনটি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংগঠনটির এক আলোচনা সভায় এ কমিটি ঘোষণা করা হয় বলে জানান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এনিমেল ব্রিডিং এ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম। সদস্য হিসেবে আছেন ইন্টারডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির সহকারী অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ সরকার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব জুলি আক্তার এবং ভাষা বিভাগের প্রভাষক জনাব জাওয়াদ রামী।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো.শরিফুল ইসলাম জানান, আহ্বায়ক কমিটির কাজ হলো ফোরাম পুনর্গঠন এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা। যতো দিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী গঠিত হবে না ততো দিন এই কমিটি সংগঠনটি পরিচালনা করবে এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) লেকচারার ও সহকারী অধ্যাপকদের পেশাগত উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠনের লক্ষ্য। বিশেষ করে তরুণ ও প্রারম্ভিক পর্যায়ের গবেষকদের কৃষির অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণার নতুন প্রযুক্তি, পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আমরা কাজ করতে করবো। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন,গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চমানের গবেষণার জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিটি তরুণ শিক্ষকদের পেশাগত বিকাশের পাশাপাশি বাকৃবির গবেষণা ও শিক্ষার মান আরও এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।
টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবেশবান্ধব দুটি ইলেকট্রনিক কার (ই-কার) উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ই-কার দুটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কার চালু করা একটি সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ই-কার চক্রাকারে পরিচালিত হবে। এটি সবার যাতায়াতকে যেমন সহজ ও নিরাপদ করবে, তেমনি ক্যাম্পাসে কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
এ সময় উপাচার্য নোবিপ্রবিকে পরিবেশ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, পরিবেশবান্ধব ই-কার থেকে সম্পূর্ণ জিরো কার্বন নিঃসরণ হয় এবং এটি বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চললেও পরবর্তীতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ই-কারগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচল করবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
গত ২২ আগস্ট (শনিবার) ২০২৬ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণের আয়োজন করেন নোবিপ্রবি ছাত্রশিবির শাখা। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সাবেক উপাচার্য, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। এছাড়া, একই অধিবেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর শুধুমাত্র কিছু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, কিছু নাম পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পুরোনো বন্দোবস্ত একই রকম রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে। এখন ক্ষমতায় আসার পর বলছে, তারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে তেল-গ্যাসের সংকট ছিল না, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা আগামী পাঁচ বছরেও ঠিক হওয়ার নয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগুলো পরিবর্তন করে ফেলছে। ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি তাদের পোস্টেড নেতাদের বসিয়েছে, যাদের কোয়ালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেস কোয়ালিটি সম্পন্ন। যাদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা নেই, তারা ভিসি পদে আসীন হয়েছে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখনও প্রতিবেদন জমা হয়নি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেনি কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ ও নির্ভুল একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। অনলাইন মিডিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। এগুলোর ফাইলের আকার অনেক বড় হওয়ায় তা বিশ্লেষণ করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে সংঘর্ষের সময় বহিরাগত কারা উপস্থিত ছিল, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য এসব ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব, আহত শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছি। কমিটির সদস্যদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সবার সঙ্গে কথা বলতেও কিছুটা সময় লাগছে।”
অধ্যাপক হাছান উদ্দীন আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আরও তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।