শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে (এমডিআইসি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘MDIC STEM FEST 2026-27’। যেখানে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উৎসবের প্রথম দিনে সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত অলিম্পিয়াড দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম থেকে এ-২ শ্রেণির জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াডের আয়োজন রাখা হয়। এছাড়াও সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, বেলা আড়াইটা থেকে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয়।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ এস লেভেলের শিক্ষার্থী ফাইরুজ মাছনুন আশরাফ বলেন, "এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ, বিশ্লেষণী চিন্তা, সমস্যা সমাধান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করছে।"
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, "শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। STEM Fest-এর প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।"
অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে। বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। তাই শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, নতুন উদ্ভাবনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।"
বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যক্ষ বলেন, "শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে পারে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, "বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিজ্ঞান কেবল নতুন কিছু আবিষ্কারের মাধ্যম নয়, বরং এটি নিয়মতান্ত্রিক চিন্তাভাবনা ও অনুসন্ধানের একটি প্রক্রিয়া। মানবসভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই বিজ্ঞান মানুষের জীবনকে সহজ করেছে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। মহাকাশ গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের অগ্রগতি মানুষের সামনে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য জানার সুযোগ তৈরি করেছে।"
বিজ্ঞানের প্রতি মানুষের অনুসন্ধিৎসা ও অজানাকে জানার আকাঙ্ক্ষার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সংকল্প’ কবিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রায় এক শতাব্দী আগে নজরুল তাঁর কবিতায় মহাকাশ অনুসন্ধান এবং মঙ্গল গ্রহ থেকে সংকেত পাওয়ার যে কল্পনা করেছিলেন, তা মানুষের বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও অনুসন্ধিৎসার অসাধারণ প্রকাশ। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও জরুরি। বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে সেই অর্জন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।"
এ সময় তিনি পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ুবিদ্যা, আবহাওয়াবিদ্যাসহ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল উত্তরা এর প্রিন্সিপাল ড. মো. মোশারফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ গুলশানের ভাইস প্রিন্সিপাল মোঃ আনোয়ারুল করীম ও অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার কো অর্ডিনেটর মহসিন কোরায়শী, স্টেম ফেস্ট এর বালিকা শাখার আহব্বায়ক রোকসানা খানম প্রমুখ সহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকাল ৯টা থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অলিম্পিয়াড, মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনীর আয়োজন রয়েছে। দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে ট্রেজার হান্ট। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হবে।
মানারাত ক্লাবস ফর কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের (এমসিসিএ) অধীনে আয়োজিত রাজধানীর প্রায় ৮৭ টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'MDIC STEM FEST 2026-27'। যেখানে খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত রোবটের ফুটবল খেলা থেকে শুরু করে স্বয়ংক্রিয় রোবটিক্স গাড়ির মতো সব প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী প্রকল্পে মুখর হয়ে উঠেছে রাজধানীর মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (এমডিআইসি) ক্যাম্পাস।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীল চিন্তা, উদ্ভাবনী দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবট ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প। নিজেদের উদ্ভাবন অতিথিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের প্রকল্প ঘুরে দেখেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব ও মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা ও প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে তারা প্রশংসা করেন এবং বৃহত্তর পরিসরে অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তাহিয়াদ ইসলাম তৈরি করেছে ‘রোবো সকার’ নামের একটি রোবট। ফুটবল খেলার উপযোগী করে তৈরি এ রোবটের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় দুটি রোবটকে একে অপরের বিপক্ষে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। প্রযুক্তির সঙ্গে খেলাধুলার সমন্বয় ঘটিয়ে নিজের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে এই শিক্ষার্থী।
নিজের উদ্ভাবন সম্পর্কে তাহিয়াদ ইসলাম বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি। রোবট বানাতে আমার ভালো লাগে। এই রোবটটি তৈরি করতে আমার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও সুন্দর ও উন্নত করতে চাই।’
তাহিয়াদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে আগ্রহী এ-লেভেল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহদী হাসান। সে তৈরি করেছে ‘লাইন ফলোয়িং রোবট’। ছোট গাড়ির মতো দেখতে রোবটটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে সক্ষম। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় চলাচল ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার একটি বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরেছে সে।
নিজের প্রকল্প সম্পর্কে মাহদী হাসান বলে, ‘আমি মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ-লেভেল ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। এই রোবট তৈরি করতে প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে হয়েছে।’
শুধু রোবোটিকস নয়, উৎসবে গণিত, সাধারণ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম, উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনী ও ট্রেজার হান্ট। এসব আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, দলগত কাজ এবং নতুন ধারণা উদ্ভাবনের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উৎসবের প্রথম দিন সকাল ৯টায় তৃতীয় শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের গণিত অলিম্পিয়াডের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাধারণ বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং সপ্তম থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞান ও রসায়ন অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় রোবোটিকস ও মাইনক্রাফটভিত্তিক কার্যক্রম। বেলা আড়াইটা থেকে ট্রেজার হান্ট এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সপ্তম শ্রেণি থেকে এ-২ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের আয়োজন রাখা হয়।
স্টেম ফেস্টের আহ্বায়ক ও মানারাত সায়েন্স ক্লাবের ইনচার্জ ড. মো. মাকসুদুল আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম। STEM Fest-এর প্রতিটি আয়োজন শিক্ষার্থীদের শেখার আনন্দ, সৃজনশীলতা, সহযোগিতা ও বাস্তবমুখী চিন্তার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনই নয়, বরং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করার মানসিকতা অর্জন করুক।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপর মানবসভ্যতার সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, আবিষ্কার ও গবেষণার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আজ যারা নিজেদের প্রকল্প ও উদ্ভাবন প্রদর্শন করছে, তারাই আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, বৈজ্ঞানিক সাফল্য মানুষের জীবনকে সহজ ও সমৃদ্ধ করলেও নৈতিক মূল্যবোধের অভাবে সেই অর্জন মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে না। তাই জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবকল্যাণে সেই জ্ঞান প্রয়োগের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব উল আলম বলেন, এবারের স্টেম ফেস্টে রাজধানীর প্রায় ৮৭ থেকে ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষণা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে একদিন মানারাত থেকে একজন বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার পাবেন। আসুন আমরা তার জন্য প্রার্থনা করি এবং তার জন্য স্বপ্ন দেখি। আর এর জন্য আমাদের এখন থেকেই শুরু করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত সংযুক্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীল। তাই শুধু বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অর্জন করলেই চলবে না, নতুন উদ্ভাবনকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দক্ষতাও থাকতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ বিপণন, শৃঙ্খলা এবং নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, উত্তরার অধ্যক্ষ ড. মো. মোশারফ হোসেন, মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, গুলশানের উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল করীম ও অধ্যাপক তাহমীনা ইয়াসমীন, বালক শাখার সমন্বয়ক মহসিন কোরায়শী এবং স্টেম ফেস্টের বালিকা শাখার আহ্বায়ক রোকসানা খানমসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যেকোনো অনুষ্ঠান উদযাপনের অধিকার সবার রয়েছে জানিয়ে আগের বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক স্বাক্ষরিত ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পশু জবাই প্রসঙ্গে প্রশাসনের বক্তব্য’ শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১২ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টরের উদ্যোগে ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধান করা হয়। পরদিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পারস্পরিক আলোচনা ও বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি আরও সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি হয়।
এ ছাড়া বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার যে অভিযোগ ওঠে, সেটিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি প্রক্টরের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি কিংবা ধর্মীয় সম্প্রীতির অবনতি এড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দিন আগে ক্যাম্পাসে যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই প্রক্টর এ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ওই আহ্বানকে কেন্দ্র করে নতুন করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্পষ্ট অবস্থান হচ্ছে ক্যাম্পাসে পশু জবাইসহ যে কোন অনুষ্ঠানাদি উদযাপনের এখতিয়ার সকলেরই রয়েছে। তবে একটি উদযাপন যেন অন্য কোন উদযাপনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে সকলেরই সচেষ্ট থাকা একান্ত প্রয়োজন।’
এতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আজম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের পশু জবাই থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা অমান্য করলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনের ওই বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ জানিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ।
পোস্টে তিনি প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নাকি শুধু গরু জবাইকে কেন্দ্র করে এটি জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিকে লক্ষ্য করে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্যাম্পাসে ‘জবিয়ানদের গরু ভোজ কর্মসূচি’ আয়োজনের ঘোষণা দেন জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৭০ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়।
অন্যদিকে প্রশাসনের পশু জবাইসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে প্রায় একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেয় জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নোবিপ্রবি উপাচার্যের
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ও বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়ে নোবিপ্রবিকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, ১০০ একর আয়তনের বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ব্যয় কমাতে সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক ‘গ্রিন ডায়ালগে’ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি এআই ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০০ বর্গফুটের একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থা থেকে বছরে প্রায় ২৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। দৈনিক গড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে প্রায় ৬৩ ইউনিট। এ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে তিন টাকা। অন্যদিকে, প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ টাকা।
উপাচার্য আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা যাবে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথও সুগম হবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং টেকসই অর্থনীতির রূপরেখায় নতুন নতুন গবেষণা ও উদ্ভাবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে গবেষণা পরিচালনারও আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে দেশের জলবায়ু, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা ও দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ছবি : সংগৃহীত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি গঠন কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা, ২০২৬’ চূড়ান্ত হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের ‘গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি’ গঠন কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।
চিঠির অনুলিপি অবগতি ও কার্যার্থে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাউশি মহাপরিচালক, সব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ৩০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স শেষ হয়েছে। ২৫ দিনব্যাপী এ আয়োজনে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (জিটিআই) শ্রেণিকক্ষে কোর্সটির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং জিটিআইয়ের ব্যবস্থাপনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল। এতে দেশের ২৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৫ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
জিটিআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. বেনতুল মাওয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে সমাপনী অনুষ্ঠানে দলগত ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার দেওয়া হয়। দলগত পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের পাঁচজন করে সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। ব্যক্তিগত পর্যায়ে তৃতীয় ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন দুজন করে এবং প্রথম স্থান অর্জন করেন একজন। অনুষ্ঠানে সব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, দেশে অনুমোদিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৯টি থাকলেও আপাতত আমরা সবাইকে ট্রেনিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে পারছি না । দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের এই গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়ে আসছেন এবং তারা তাদের কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করছেন চেষ্টা করবেন এখানে থেকে যা শিখতে পেরেছেন সেটার যথাযথ ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে করার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব বলেন, গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ১৯৮১ সালে স্বর্ণপদক পেয়েছে তার অসাধারণ কাজের জন্য এবং তারা প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে কাজগুলো করে যাচ্ছে শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনোনয়নে। ২০০৭ সালে আমরা যখন প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ফাউন্ডেশন ট্রেনিং শুরু করেছিলাম তৎকালীন ইউজিসির চেয়ারম্যান যিনি ছিলেন উনি খুব প্রশংসা করেছিলেন এবং কথা দিয়েছিলেন যতদিন গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ক্লান্ত না হবে, এতদিন পর্যন্ত উনারা ফান্ডিং করে যাবেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম কোনো সরকার শিক্ষায় ৫% পর্যন্ত জিডিপি বরাদ্দ করতে চেয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা ২% বরাদ্দ করেছেন। আমরা এখান থেকে অনেক ভালো কিছু আশা করছি এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা এবং মানব সম্পদকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার নিয়ে কথা বলেছি, ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আট অনুষদের অধীনে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ৩৬ শিক্ষার্থী। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের কৃতী শিক্ষার্থীদের মেডেল ও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন-থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত আল হাদিস বিভাগের আলী আহসান মুহাম্মদ জুবাইর, মোহাম্মদ আল ফায়েদ, দেলোয়ার হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও নাইমুর রহমান, আল কুরআন বিভাগের আব্দুল্লাহ ইহসান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং দাওয়াহ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নোমান আল হাদী।
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যয় সানা, সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমী খাতুন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মেহেদী হাসান শিকদার।
এছাড়া প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ফলিত রসায়ন বিভাগের মহুয়া রহমান, জান্নাতুন নায়িম ও নাফিজ রহমান সায়েম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহাসান হাবিব এবং আইসিটি বিভাগের মাহফুজুর রহমান।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত লোক প্রশাসন বিভাগের মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের টগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সিরাজাম মনিরা।
জীববিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আব্দুল বাশার এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের মেহেদী হাসান। বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত পরিসংখ্যান বিভাগের মেহেদী হাসান লিমন ও মাহামুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম, কলা অনুষদভুক্ত আরবি বিভাগের তানজিলা খাতুন, হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান। আইন অনুষদভুক্ত ল অ্যান্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রাফিয়া খাতুন ও আমজাদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি ও কৃতী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান বলেন, এটি নিঃসন্দেহে তোমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য দিন। তোমাদের যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের ফল হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হলো। তোমাদের ওপর নতুন একটি দায়িত্ব অর্পিত হলো। কর্মক্ষেত্রে দেশ ও মানুষের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানের জায়গায় পৌঁছে দিতে অ্যাম্বাসাডর হিসেবে তোমরা ভূমিকা রাখবে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই অ্যাওয়ার্ড সহযোগিতা করবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে দেশ ও বিদেশে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিদেশেও একই সুনাম ধরে রাখবে।