প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ জনে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়। ফেব্রুয়ারিতেও মারা যান দুজন। এরপর মে মাসে একজন, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৯০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৩৩৫ জনের মৃত্যু হলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১২৫ জন। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ঢাকার বাইরে বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রামে, ২৪২ জন। এ ছাড়া খুলনায় ১৪০, বরিশালে ১২৭, রাজশাহীতে ৯৯, ময়মনসিংহে ৯২ এবং রংপুরে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২১০ জন।
‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বইয়ের প্রচ্ছদ
দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের লাইব্রেরিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা তিনটি বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বইগুলো কিনে লাইব্রেরিতে রাখতে বলা হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব খন্দকার রবিউল ইসলামের সই করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা তিনটি বই হলো ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া রাজনৈতিক জীবনী’, ‘বেগম খালেদা জিয়া: জীবন ও সংগ্রাম’ এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশিত বইগুলোর এক সেট করে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
চিঠির সূত্র হিসেবে জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা, ১১/১ বাংলাবাজার, ইসলামী টাওয়ার, ঢাকার ২৩ আগস্ট তারিখের একটি পত্রের উল্লেখ রয়েছে।
নির্দেশনাটি বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট), স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসিকেও চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বইগুলো কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও এ জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজেট, বরাদ্দ বা ক্রয়প্রক্রিয়ার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
ছবি : সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
দুর্গোৎসব চলাকালে সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা এবং উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই দুই বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুই বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব তথ্য ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
ঢাকায় বিজিবি সদরদপ্তরে বাহিনীটির পরিচালক (অপারেশনস) লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রায় ২ হাজার ৭৮৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদস্যরা কাজ করবে।
এর মধ্যে, প্রায় ১ হাজার ৪২৫টি মণ্ডপ সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদরদপ্তরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরেও বিজিবির উপস্থিতি থাকবে।
লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ জানান, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় যাতায়াত ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছেন। সদরদপ্তরে স্থাপিত বিশেষ মনিটরিং সেল এবং 'শারদীয় সুরক্ষা' অ্যাপের মাধ্যমে বিজিবি সদস্যরা নিজেদের মধ্যে তথ্য শেয়ার ও সমন্বয় রক্ষা করবেন।
এদিকে, দেশের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকার ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছে কোস্টগার্ড।
ঢাকার মিরপুরে মন্দির পরিদর্শনের পর কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মইনুল হাসান ব্রিফিংয়ে জানান, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা, বরিশাল বিভাগের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং ঢাকার নদীবেষ্টিত অঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে কোস্টগার্ডের সদস্যরা কাজ করছেন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে কোস্টগার্ডের বিশেষ ডাইভিং টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৬ জনে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ৫ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২১০ জন রোগী এসেছে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৪৮০ জন, রাজশাহীতে ২৫ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭৭ জন, বরিশালে ১০৮ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন, খুলনায় ১০৭ জন এবং রংপুরে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯৭২ জন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ওয়াশিংটন ডিসির জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ড. উনূসের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস্টন হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও গবেষকসহ প্রায় ৪০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে করতালি দিয়ে তাকে সম্মান জানান।
এ বছর ড. ইউনূসসহ মোট চারজনকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। অপর তিন বিজয়ী হলেন- ভারতের ‘সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন’ (সেবা)-এর পরিচালক রিমা নানাবতী, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ‘টোরি বার্চ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা টোরি বার্চ এবং জর্দানের ‘মাইক্রোফান্ড ফর উইমেন’-এর বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ানকে বিশেষ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের ভূয়সী প্রশংসা করে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমি নিজে গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম দেখেছি। নারীরা কীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে, নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে। এটা অভূতপূর্ব। শুধু বাংলাদেশের নারীরা নয়, ড. ইউনূস তার কাজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
পুরস্কার গ্রহণের পর বক্তৃতায় ড. ইউনূস তার কাজের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের কাজের ৫০ বছরের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এখানে আপনারা যে আয়োজন করেছেন, তা বাংলাদেশে একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারকে অনুপ্রাণিত করবে।
দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থাকা মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছি। আমরা নারীদের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। তারা যেন নিজেদের শক্তি কাজে লাগাতে, নিজের দায়িত্ব নিজেই নিতে পারেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আজ সেই পরিবারগুলো অনেক বদলে গেছে। এখন আর লাজুক, চুপ করে বসে থাকা দরিদ্র নারী দেখা যায় না, বরং দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী নারী, যারা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। এসব নারী নিজেদের ব্যাংক নিজেরাই পরিচালনা করেন, আর তারাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক।
ঋণগ্রহীতাদের সন্তানরাও এখন চাকরি খুঁজছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, আমরা তাদের বলেছি, এ কথাটি বারবার বলো- ‘আমরা চাকরিপ্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।’ কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে নিজের ব্যবসা গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় সামাজিক ব্যবসার ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত মুনাফা নয়, বরং সমস্যার সমাধান করা। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামাজিক ব্যবসার তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে তুলতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত অর্থ পুনরায় স্বাস্থ্যসেবাতেই বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ভুলভাবে সাজানো হয়েছে। কারণ, এটি তরুণদের চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোগী করে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থার কাজ হওয়া উচিত উদ্যোক্তা তৈরি করা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’ চালুর আশা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ গড়ার পথে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করবে, শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে না ছুটে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠো। ব্যবসা শুরুর জন্য অর্থায়নসহ যা যা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় তা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এটি তাদের প্রচেষ্টার একটি নতুন সূচনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সূত্র: বাসস
ছবি : সংগৃহীত
মোটরসাইকেলের সামনেও থাকতে হবে নম্বর প্লেট। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেল মালিকদের এই ব্যবস্থা নিতে বলেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ বলছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতুর প্লেটে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের বিধান রয়েছে।
সরকার মোটরসাইকেলের পেছনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্মুখভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট মাপ অনুসরণ করে নম্বর প্লেট প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। স্কুটারের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার।
স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে যথাক্রমে ২৮৫ ও ৫০ মিলিমিটার। অক্ষর ও সংখ্যার ফন্টের উচ্চতা হবে কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার।
নম্বর প্লেটের উপাদান স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের হতে হবে। নম্বর প্লেটটি সাদা পটভূমির ওপর কালো রঙের বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা লিখতে হবে। ম্যানুয়াল নম্বর প্লেটের ওপর অন্য কোনো শোভবর্ধন ও নকশা করা যাবে না।
স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন মার্ক একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে (যেমন: ঢাকা মেট্রো-ল-১১-১২১২)।
আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায়, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতীকী ছবি
আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর এদিনে দিবসটি পালন করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং টেকসই খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন বৈশ্বিক মূল্যায়নে প্রায় ২৬ কোটি মানুষের তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভোগার চিত্র উঠে এসেছে।
বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষি উৎপাদন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে এসব এলাকার দরিদ্র পরিবার ও শিশুরা অপুষ্টির বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে।
যেভাবে শুরু বিশ্ব খাদ্য দিবসের
১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা দূর করা, পুষ্টির মান উন্নয়ন এবং কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। ওই বছর এফএওর সম্মেলনে ১৬ অক্টোবর দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এর মধ্য দিয়ে খাদ্যকে কেবল ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে নয়; বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনার বার্তা দেওয়া হয়।
কেন পালন করা হয় দিবসটি
বিশ্ব খাদ্য দিবস পালনের অন্যতম প্রধান কারণ ক্ষুধা ও অপুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদা হলেও পৃথিবীর সব মানুষ সমানভাবে খাবার পান না। দারিদ্র্য, সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক মানুষের জন্য নিয়মিত খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এফএওর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৬৪৫ মিলিয়ন মানুষ এখনো ক্ষুধার মুখে রয়েছেন এবং ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য রাখেন না। অর্থাৎ, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও সবার জন্য পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিতে খাদ্যের সহজলভ্যতা ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিবসটি। পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।