চলমান মধ্যপ্রাচ্যের রক্তাক্ত সংঘাত এবং সেখানে বৈশ্বিক গণমাধ্যমের ভূমিকা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এ বিশেষ আন্তর্জাতিক সেমিনার।
‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও বিশ্ব গণমাধ্যম: নৈতিক জবাবদিহি ও আত্মসমালোচনা’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গ্রেগরি জে. সিমনস।
আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী।
অনুষ্ঠানে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। একাডেমিক আলোচনায় অংশ নেবেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং আইন বিভাগের শিক্ষক আহমদ ইহসানুল কবীর।
আয়োজনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে জবির ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "আমি আসলে এই প্রোগ্রামটা নিয়ে খুবই আশাবাদী এবং আনন্দিত। পৃথিবীতে চলমান সবচেয়ে ক্রুশিয়াল একটি বিষয় নিয়ে আমরা এই প্রোগ্রামটি করছি। মিডল ইস্টের যুদ্ধ এবং সেখানে বৈশ্বিক মিডিয়ার দায়-দায়িত্ব, তাদের নীতি-নৈতিকতা এবং তাদের যে কার্যকলাপ সেটির ওপরে এই প্রোগ্রামটি অনুষ্ঠিত হবে।"
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এই অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এই প্রোগ্রামটিতে উপাচার্য থেকে শুরু করে শিক্ষক, ছাত্র সবার মধ্যে একটা অন্যরকম উৎসব উৎসব আমেজ তৈরি হয়েছে, যা আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছে। আমি মনে করি এটি এমন একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম যা অনেকেই অনুসরণ করবেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাইরের আগ্রহী গবেষক ও শিক্ষার্থীদেরও বিশেষ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করি সবার সার্বিক সহযোগিতায় উৎসবমুখর পরিবেশে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে।"
জবি ছাত্রলীগের কর্মসূচি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে নিষিদ্ধ ঘোষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বৃক্ষরোপণ, লেকে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপহার বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছেন।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ব্যানারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ছবি দেখা যায়। এতে নিষিদ্ধ জবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের ছবি দেখা যায়।
জবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ‘তোমার অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জন্মদিনকে মানুষের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রান্তিক কৃষকেরা সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের সংকটে রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশনায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ‘কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে’ এই বিশ্বাস থেকেই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় তিনি আরও জানান, বিভিন্ন বাধা ও মামলার মধ্যেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং জবি ছাত্রলীগের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিও ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচিতে শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে প্রকৃতি, কৃষক ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এ আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষকের মর্যাদা ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।
তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী নিশ্চিত করা, মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষি উপহার বিতরণের মাধ্যমে কৃষকের শ্রম ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী সাজবুল ইসলাম সহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত হলাম। আমরা তাদেরকে কোথাও কোনো কর্মসূচি করতে দিব না। আমি প্রক্টর অফিসে জানাচ্ছি। তাদের বিষয়ে অবগত করার জন্য।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলীকে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ জানার জন্য বারবার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ছবি: আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস র্যালি, নোবিপ্রবি
শুধু তথ্য পাওয়াই যথেষ্ট নয়; তথ্যের সত্যতা, উৎস এবং কী উদ্দেশ্যে তা প্রচার করা হচ্ছে সেটি যাচাই করে দায়িত্বশীল তথ্যচর্চা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে আমরা খুব অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারছি। একই সঙ্গে ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ : অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যে নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে ওই র্যালির আয়োজন করে। র্যালিতে অংশ নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জনগণের তথ্য জানার অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে যার কাছে তথ্য রয়েছে, তিনিই সবচেয়ে জ্ঞানী। এ সময় প্রতিষ্ঠানে কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতে তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এছাড়াও তিনি নোবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রত্যেককে তথ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে দায়িত্বশীল তথ্যচর্চার আহ্বান জানান।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক (তথ্য ও জনসংযোগ) ইফতেখার হোসাইনের সঞ্চালনায় এবং পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে আয়োজিত র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রারম্ভস্থলে এসে শেষ হয়।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এতে দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন শিক্ষকরা।
সরেজমিনে ক্যাম্পসে গিয়ে দেখা যায়, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। প্রশাসনিক ভবনের ফটক তালা থাকায় কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক ভেতরে আটকা পড়েন। এ ছাড়া প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ আছেন আরও ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করে নানা ধরনের স্লোগান দেন। প্রশাসনিক ভবনের ফটক তালা থাকায় শিক্ষকরা ভেতরে আটকা পড়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর থেকে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে বৈঠকে বসেছেন। এতে সিলেট সিটি করপোরেনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নিয়েছেন। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্নাতক পর্যায়ের এ প্রকৌশল কলেজের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ, পুরকৌশল বিভাগ এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পাঁচটি ব্যাচে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী আছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্রমাগত দাবি ও আন্দোলন সত্ত্বেও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কলেজটিকে মুক্ত করার বিষয়ে কোনো আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়নি। প্রশাসনিক কালক্ষেপণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো উচ্চতর ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হচ্ছে, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভূক্ত হতে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।
এদিকে,কর্মসূচি চলাকালে রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কর্তব্যরত সহযোগী অধাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে পদায়ন করা হয়। সোমবারের মধ্যে তাঁদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বদানকারী এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষার্থীরা এ বদলির আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিন জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেবেন না। এমনকি নতুন বদলি হয়ে আসা অধ্যক্ষকেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায়ের আগপর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।
প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের যে দাবি তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমধান সম্ভব নয়। তবু তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।
আন্দোলনের মুখে সিকৃবির উপাচার্য পরিবর্তন
বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফি উল্লাহ মজুমদার। তিনি শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার এক্সটেনশন ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের অধ্যাপক।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মো: সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬ এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার এক্সটেনশন ও ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শফি উল্লাহ মজুমদারকে চার বছর মেয়াদে সিকৃবির ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: আলিমুল ইসলাম। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিশ্ববিালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের আন্দোলনের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় উপাচার্য পদে পরিবর্তন আনা হলো।
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ, নির্বাচন নিশ্চায়ন, মাইগ্রেশন এবং চূড়ান্ত ভর্তির সময়সূচিও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে নিশ্চায়ন বাতিল না করা এবং ভর্তি সম্পন্ন না করায় যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীদের কলেজের বিদ্যমান আসনসংখ্যা বিবেচনায় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে হবে। ভর্তি-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন যেসব শিক্ষার্থী আগে আবেদন করেননি বা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হননি, যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও কোনো কারণে নিশ্চায়ন করতে পারেননি বা কলেজের নির্ধারিত সময়ে ভর্তি হতে পারেননি এবং যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভুল কোটা নির্ধারণের কারণে কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং চলবে ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ অক্টোবর সোমবার রাত ৮টায়।
ফল প্রকাশের পর থেকে ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দক্রম অনুযায়ী যাদের মাইগ্রেশন হবে, তাদের ফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৮টায়। এরপর ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে ২২০ টাকা অনলাইন আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম নির্বাচন বা এডিট করতে হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করার সময় কোটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে নিজের কোটার যোগ্যতা যাচাই করে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ফি জমা দিয়ে নির্বাচিত কলেজে ভর্তির সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আবারও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল, জুলাই ৩৬ হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ও খালেদা জিয়া হলে আগামী ১ বছরের জন্য নতুন চার প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চার প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. হামিদা খাতুন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলে ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দকে নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শহীদ আনাস হলের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই হলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন হল। বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দ বলেন, “আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।”
এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের, খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে .এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।