গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল
কুমিল্লায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেছেন, “কুমিল্লায় অপরাধচক্র অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার, স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক সোহেল বলেন, “আমাদের সন্তান অপ্রতিম নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। কুমিল্লায় একের পর এক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে কুমিল্লায় ৭৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নতুন কিছু নয়, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে এবং অপরাধচক্র অনেক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”
নিজের অপহরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কুমিল্লায় যোগদানের পর প্রকাশ্য দিবালোকে আমাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। ছয় মাস পার হলেও পুলিশ মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল চার আসামি এখনো অধরা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যারা কুমিল্লায় বসবাস করছি, সবাই চরম আতঙ্কে আছি। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তানকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।”
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবর্তনের নির্ধারিত তারিখ ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে সমাবর্তন আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতে উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তনের সার্বিক আয়োজন, প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সমাবর্তন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরই মধ্যে দ্বিতীয় সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি ও দপ্তরগুলো পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এর আগে গত ২৩ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন জানিয়েছিলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। এরপর দ্বিতীয় সমাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ৩০ জানুয়ারি দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ ও শিক্ষাজীবনের অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাই দ্বিতীয় সমাবর্তনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় তাকে এই নোটিশ দেয়া হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয় তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকে বিএনপির যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, তার অধিকাংশই ছিল তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে। আজ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবাদ জানালাম।’
পরে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসাইন হৃদয়কে পাঠানো শোকজ নোটিশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে আপনার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হলো।’
নোটিশে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
শোকজের বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি সংগঠনের প্রতি অনুগত। যেহেতু আমাকে শোকজ করা হয়েছে, আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওই পোস্টের কমেন্টেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি এবং দেশে ২২ হাজার কোটি টাকা লোকসানের বিষয়টিও উল্লেখ করেছিলাম।’
এর আগে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
নতুন দাম অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। যা দেশের ইতিহাসে প্রতি লিটার জ্বালানির সর্বোচ্চ দর।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে সুনীল অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় থাকা বিপুল সম্পদ কাজে লাগাতে শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে।
সুনীল অর্থনীতি ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বল রুমে আয়োজিত দ্বিতীয় চীন-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় সম্পদ বিশাল জনগোষ্ঠী। এই জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পাশাপাশি সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে হবে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এই বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলের সম্পদ ও সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণা আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সুনীল অর্থনীতি নিয়ে চীনের গবেষক ও অধ্যাপকেরাও কাজ করছেন। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও গবেষণা বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। সম্প্রতি চীন সফরে দেশটির শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তৈরি হওয়া সংযোগ দেখেছেন বলেও জানান তিনি। এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। সুনীল অর্থনীতি, শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলো আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ চীনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির আট নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার এবং এক যুগ্ম-আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির কর্তৃক অনুমোদিত এবং দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) স্বাক্ষরিত দুই পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ শাহরিয়ার, সদস্য মো. ইসরাফিল ইসলাম রাফিল, মাসুম রেজা, ইয়াসিন সাইফ, ইমরান হোসেন ইমন, মনিরুজ্জামান মনির ও মো. সৌরভুর রহমান সুজনকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সিদ্ধান্তে ছাত্রনেতা কাব্য সাহাকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নোটিশে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে রবিবার দুপুরে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পাসসংলগ্ন ভিক্টোরিয়া পার্কের একটি চায়ের দোকানের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। পরে তা ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুই পক্ষের লোকজনকে রড ও পাইপ নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান।
এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। তারা হলেন অর্থনীতি বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাদুদ, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমন এবং বাংলা বিভাগের ১৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন ইমন।
সংঘর্ষের পেছনে সম্প্রতি সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে ঘিরে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনে ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ শীর্ষক পাঠচক্র আয়োজন করেন শামছুল আরেফিন। এ আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক পোস্ট দেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিক। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে নাহিয়ান বিন হক অনিকের দাবি, শামছুল আরেফিনের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত তাদের ওপর হামলা চালায়। আগের রাতেও তাদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে শামছুল আরেফিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও গত ১৬ সেপ্টেম্বর জবি ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পৃক্ত কয়েকজনও এই বহিষ্কারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ওই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে জবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ দুই সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনা ঘটলো।
মো. কামরুল হাসান ও তাসমিয়া তাহমিদ আপন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে প্রথমবারের মতো ডিবেটিং ক্লাবের পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উক্ত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিয়া তাহমিদ আপন।
আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ নিসতার জাহান কবীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১২ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বিভাগীয় প্রধানকে ক্লাবটির উপদেষ্টা এবং প্রভাষক সামির আহমেদকে মডারেটর করে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। যা আগামী এক বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ঘোষিত এই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন ২০তম আবর্তনের ফারদ্বীন খান, দপ্তর সম্পাদক ১৯তম আবর্তনের মাহমুদুল হাসান, অর্থ সম্পাদক ইফফাত রওনাক প্রমি এবং প্রচার সম্পাদক ২০তম আবর্তনের আলভী আবিব।
এ ছাড়া কর্মশালা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক হয়েছেন ২১তম আবর্তনের ওমর ফাহমিদ খান এবং আলোকচিত্র সম্পাদক হয়েছেন ২০তম আবর্তনের তৈয়ব ইসলাম শুভ।
কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ২১তম আবর্তনের মো. রেহান আবরার মল্লিক, ফাইরোজ ইতু, স্নেহা দত্ত ও কাজী ইবতিসাম ইনান।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তাসমিয়া তাহমিদ আপন বলেন, "আমি অনেক আনন্দিত, প্রথমবারের মতো হওয়া কমিটিতে যুক্ত হতে পেরে। আমাদের বিভাগ নিয়ে অনেকের মনে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত, যা আসলে সত্য নয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোন সৃষ্টিশীল কাজে আমাদের বিভাগ ভাল করছে। বিতর্ক একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শৈলী, এর মাধ্যকে ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধিত হয়। আমি বিশ্বাস করি, এ বিতর্ক ক্লাবের মধ্যে দিয়ে আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীল মননের আরও উৎকর্ষ সাধিত হবে।"
সভাপতি মো. কামরুল হাসান বলেন, "প্রথমবারের মতো ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগ ডিবেটিং ক্লাবের প্রারম্ভ হলো ভেবেই পুলকিত আমরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের বিভাগ ইতোমধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সৃজনশীল নানা অনুষঙ্গে প্রশংসিত। বিতর্কে আমাদের অংশগ্রহণ ঈর্ষণীয় সাফল্য বয়ে আনছে বিভাগের জন্য। আমি আশাবাদী এবং দৃঢ়প্রত্যয়ী, চলচ্চিত্র শিক্ষার পাশাপাশি এই কার্যক্রম আমাদের শৈল্পিক দৃষ্টিকোণকে আরও বিস্তৃত করবে এবং বৃহত্তর অর্থে চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কার্যনির্বাহী কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানাই।"
বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ ক্লাবের কার্যক্রমের মাধ্যমে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের শিক্ষার্থীদের যুক্তি, বিশ্লেষণ, উপস্থাপন ও সৃজনশীল চিন্তার চর্চা আরও বিস্তৃত হবে। পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিক্ষার সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের সমন্বয় শিক্ষার্থীদের নির্মাণ ও শিল্পচর্চার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সদস্য সচিব শামছুল আরেফিন ও তার অনুসারীরা ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়েছেন বলে দাবি নাহিয়ান বিন হক অনিকের।
আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জানা যায়, ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় নাহিয়ান বিন অনিক গ্রুপের উপর শামছুল আরেফিনের অনুসারীরা রড নিয়ে হামলা চালান। পরে আত্মরক্ষার্থে তারা পাল্টা ধাওয়া দিলে শামছুল আরেফিনসহ তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসের দিকে চলে যান।
সংঘর্ষের পেছনে সম্প্রতি সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের আয়োজিত একটি পাঠচক্রকে ঘিরে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক ভবনে ‘শিক্ষা ভাবনা, ওরিয়েন্টালিজম এবং চিন্তার মৌলিকত্ব’ শীর্ষক পাঠচক্র আয়োজন করেন শামছুল আরেফিন। এ আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাহিয়ান বিন হক অনিক একটি সমালোচনামূলক পোস্ট দেন। পরে পোস্টটি মুছে ফেলা হয়। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
নাহিয়ান বিন হক অনিক বলেন, “আমাদের উপর ভেক্টরিয়া পার্কে তারা হামলার পর আমরা প্রথমে হামলার শিকার হই। এরপর তাদের রড নিয়ে তাদেরকেও আত্মরক্ষার্থে আমরাও ধাওয়া দেই। এরপর ধাওয়া খেয়ে ক্যাম্পাস থেকে সদস্য সচিব সামছুল আরেফিনসহ তার কর্মীরা পালিয়ে যায়।”
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা কোনো ধরনের সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন না। ভিক্টোরিয়া পার্কের গেটসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর হামলা করা হয়।
নাহিয়ান আরও বলেন, “ওরা রড নিয়ে আমাদের উপর হামলা করছে এবং আমাদের একুশতম আবর্তনের একজনের হাত ভাঙছে।” আহত ওই শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিয়ানের অভিযোগ, সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হলেও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন, এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতিকেও দায়ী করেন নাহিয়ান। তার ভাষ্য, আগেই হুমকির বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। এরপরও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন। ফলে এ ঘটনায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক মোঃ গোলাম আজম বলেন, “নাহিয়ান বিন হক অনিক এসে অভিযোগ দিয়ে গেছেন। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণে রাখছি। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”