নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধ, প্রকাশ্য বাগ্‌বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম ও প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন।


গত রোববার (২ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।


তবে বিজ্ঞপ্তিতে দুই নেতার বিরুদ্ধে কী ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। বহিষ্কৃত দুই নেতা দাবি করেছেন, তাঁদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটিও জানানো হয়নি।


দুই নেতা নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে বিরোধের একাধিক ঘটনা এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের তৎকালীন প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হলের একটি আবাসিক আসনকে কেন্দ্র করে ওই বিরোধের সূত্রপাত। পরে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হলের প্রভোস্ট।


এর আগে গত ২৭ এপ্রিল আবদুল মালেক উকিল হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিনিকেতন এলাকায় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের সঙ্গে সংগঠনের এক নম্বর সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের হাতাহাতি হয়। পরে হলের সামনে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সাব্বির হোসেনকে চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


ওই ঘটনার পর সাব্বির হোসেনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।


তবে সাব্বির হোসেনের দাবি, তিনি সাবেক উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমানে ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাচের ১ যুগের ও বেশি সিনিয়র ও সাধারণ সম্পাদক শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী। তারপরও কেন্দ্রের সিদ্বান্ত  অনুযায়ী আমরা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলো আয়োজন করে যাচ্ছিলাম।কিন্তু কমিটি দেওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের সভাপতি ও শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবকিছুকে স্বৈরাচারীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেছিলো।


তিনি আরোও বলেন, আমরা সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত সায়েম, প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন ও আমাদের অনুসারীদের নিয়ে আমাদের প্লাটফর্মটা দ্বার করাচ্ছিলাম।


শাওন আরোও বলেন, "নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতিকে ‘বুইড়া খাটাশ’ বলায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়"।

তিনি আরোও বলেন, "তবে এটুকু সত্য যে, আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে একাত্ম হইনি, যা আমাদের দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। চাঁদাবাজি, প্রকৌশলীকে হুমকি-ধমকি প্রদান, শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অবৈধভাবে হলের সিট দখল, বৈধভাবে বরাদ্দকৃত সিট বাতিলের জন্য হল প্রভোস্টের ওপর চাপ প্রয়োগ, জনসম্মুখে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা কখনো তাদের সঙ্গে ছিলাম না। তাদের সঙ্গে এসকল কর্মকান্ডে এক হতে না পারাই বহিষ্কারের কারণ হতে পারে"।


সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম বলেন, তাঁদের বহিষ্কারের আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটাও আমরা জানি না। আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। হুট করেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’


সায়েমের দাবি, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটিকে ‘ভুজুংভাজুং কমিটি’ বলায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম তাদের দফায় দফায় সতর্ক করেছে। কমিটি দেওয়ার আট মাস হয়ে গেলেও এক দিনের জন্যও তারা কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি।’


জাহিদ হাসানের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠন ও কমিটিকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি তাঁরা সংগঠনের নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের নজরে ছিল।


শোকজ না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে নোটিশের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম অনলাইনে এবং বিভিন্ন মিটিংয়েও তাদের সতর্ক করেছে।’


তিনি আরও বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দায়িত্ব নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শাখা ছাত্রদলে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান। তাঁর ভাষ্য, ‘গ্রুপিং বা অন্তর্কোন্দল এগুলো আমাদের কোনো বিষয় নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অমূলক। এখানে ছাত্রদলের যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে।’


তাঁর দাবি, বহিষ্কৃত দুই নেতা কার অনুসারী, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


এর আগে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক মাসের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান বাধনকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের তিন মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শুধু ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় এবং বহিষ্কৃত নেতাদের শোকজ করা হয়েছিল কি না, তা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০০ পিএম

আগামী ২৪ জানুয়ারি আয়োজিত হতে যাওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৩য় সমাবর্তনে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ সেশন পর্যন্ত যে সকল শিক্ষার্থী মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকে বিশেষ মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

উপাচার্য বলেন, ‘সমাবর্তন শুধু সনদ বিতরণের অনুষ্ঠান নয়, এটি পুরো নোবিপ্রবি পরিবারের মিলনমেলা। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা আমাদের যে সকল প্রিয় শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অমলিন। সমাবর্তনের মূল আয়োজনে ১০ম থেকে ১৬তম ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে তাঁদের পরিবারের হাতে মরণোত্তর সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।’


তিনি আরও জানান, সমাবর্তন উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। নিবন্ধনের সার্বিক অগ্রগতি এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়েও প্রশাসন ইতিবাচক দৃষ্টি রাখছে।


জবিতে খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতিকারীকে আটক ও পুলিশে সোপর্দ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের দেয়ালে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে বিকৃতিকারী এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।


গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, আটককৃত ব্যক্তি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন। 


প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে রিকশা থেকে নামার সময় দেয়ালে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিতে এক ব্যক্তিকে কিছু লাগাতে দেখা যায়। এ সময়ে জবি ছাত্রদল নেতা পরাগের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তাকে আটক করেন এবং নিরাপত্তা বক্সে নিয়ে যান।


জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসেছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম চৌধুরীর সঙ্গে বিশেষ প্রয়োজনে দেখা করতে এসেছেন বলেও দাবি করেন। তার সঙ্গে কোনো মোবাইল ফোন বা মানিব্যাগ ছিল না বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে পরাগ থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।


এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের রেডলাইন। বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতি করায় অজ্ঞাতনামা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী এই ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।


তিনি আরও বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বিকৃতির বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমরা চাই, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"


এদিকে আটককৃত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয়, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ঘটনায় পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি কে এম রবিউল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নোবিপ্রবিতে বিটিসি ও এমআইএস ডে’র উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৬ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বিটিসি ও এমআইএস ডে ২০২৬' এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।




অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এমআইএসের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে শুধু তথ্য সংগ্রহ করাই যথেষ্ট নয়, বরং তথ্যকে বিশ্লেষণ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।


উপাচার্য আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল অটোমেশনের এই সময়ে এমআইএসের জ্ঞান নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নোবিপ্রবির এমআইএস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছি।


বক্তব্যে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস্ (এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক। এ সময় এমআইএস সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, আয়োজনের প্রথম দিন থাকছে, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ই-গেমিং ও বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল কলোকোইয়াম অব বিজনেস এন্ড টেকনোলজি’ প্রতিপাদ্যে কি-নোট স্পিকারদের প্রেজেন্টেশন ও টেকনিক্যাল সেশন। এতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে রয়েছেন হালিমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কালাম হাসান, কুমিল্লা বার্ডের উপ-পরিচালক অসীম কুমার সরকার ও থ্রাইভিং স্কিলস লিমিটেডের ফাউন্ডার এন্ড সিইও মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। বিশ^বিদ্যালয়ের এমআইএস নেট এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে হালিমা গ্রুপ।


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।


পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।


সভা শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।




আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।




পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং সেখানে কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যলয়ের কাছে দেওয়া হোক। মাঠটি সচিবালয়ের জন্য ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।


এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।


গত রোববার (১ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে অ্যাসোসিয়েশনের কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় সভায় উপস্থিত সদস্যরা একটি এডহক কমিটি গঠনে সম্মত হন। কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য কৃষিবিদ শেখ কামরুল হাসানকে মনোনীত করা হয়।


কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদারের (বাবলা) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রবীণ ও নবীন কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে ১৮ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটির সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ রাশিদুল হাসান হারুন, কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সার, কৃষিবিদ ড. সারোয়ার হোসেন, কৃষিবিদ ড. নাজমুল আমিন মজুমদার, কৃষিবিদ ড. খন্দকার মাহফুজুল হক (বাচ্চু), কৃষিবিদ খন্দকার আসাদুজ্জামান কিটন, কৃষিবিদ ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিদ ড. নাহিদ জেবা, কৃষিবিদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল ফারুক, কৃষিবিদ ড. মাসুদুল হক ঝন্টু, কৃষিবিদ ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান, কৃষিবিদ মোহাম্মদ আবুল বাশার, কৃষিবিদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না, কৃষিবিদ সাইফুল্লা আজাদ, কৃষিবিদ ড. মোহা. আশাবুল হক আশা এবং কৃষিবিদ মোকাদ্দিছুল মোমিন মিঠুন।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এডহক কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকর কমিটি গঠন করবেন।


সভায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে স্বাগত জানান। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের সার্বিক পরিস্থিতি সভায় উপস্থিত সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন। পরে কৃষিবিদ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের বৃত্তিমূলক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে মোট ২৫ জন বাংলাদেশি এ সুযোগ পাবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ১৬ নভেম্বর ২০২৬–এর মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম সেশনের (২০২৬-২৭) অধীনে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমবিবিএস ২০টি ও বিডিএস ৫টি কোর্সে ভর্তির ঘোষণা দিয়েছে। 


এই প্রোগ্রামের আবেদনপত্র এবং বিস্তারিত তথ্য মিনিস্ট্রি অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।