মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনি বা যে কোনো সভা, সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনের নির্দেশনা রয়েছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কোনো কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সেমিনার, সংবর্ধনা, যুবসমাবেশ ইত্যাদির নামে ভোটারদের জমায়েত করে নির্বাচনি প্রচারণার চেষ্টা করছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে ভেন্যু হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ বা হলরুম ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমাবেশের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা স্থানীয়ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছেন, যা নির্বাচনি আচরণের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে উত্থাপিত ৩৭ দফার অধিকাংশই দুই বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালুর মতো কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও আবাসন, জমি অধিগ্রহণ, লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের মতো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দাবিগুলো এখনো অপূর্ণ।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চ’ আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শহিদ মীর মুগ্ধের নামে প্রধান ফটকের নামকরণ, সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ, শতভাগ আবাসন, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
দাবি উত্থাপনের দুই বছর পর দেখা যায়, প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ করা হলেও সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া জমি পুনরায় অধিগ্রহণের দাবিও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ ও আশ্বাসের কথা বলা হলেও কার্যকর অধিগ্রহণ হয়নি।
শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার দাবিরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও আবাসিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি। একইভাবে চারুকলা স্কুলের জন্য স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিও পূরণ হয়নি।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবিরও বাস্তবায়ন হয়নি; বর্তমানে এটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। আবাসিক হলগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ‘সংগঠন ফোরাম’ গঠনের দাবিও বাস্তবায়িত হয়নি।
রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিও পূরণ হয়নি। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি ছিল অ্যাটেনডেন্সে ৫ এবং কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টে ৩৫ নম্বর নির্ধারণের। বর্তমানে এ দুই ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ নম্বর রয়েছে।
মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়নেও শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখছেন না। পৃথক অভিযোগ সেল, কেন্দ্রীয় ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেন্টার, শিক্ষার্থীদের অর্জন তুলে ধরতে ‘অ্যাচিভমেন্ট কর্নার’ এবং বিনাসুদে শিক্ষাঋণের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
সব মিলিয়ে দুই বছর পর ৩৭ দফা দাবির বাস্তবায়ন পরিস্থিতিতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, অবকাঠামো, চিকিৎসা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অধিকাংশ দাবি এখনো অপেক্ষমাণ। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোন দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি প্রক্রিয়াধীন এবং কোনটির ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে তা স্পষ্ট করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সময়সীমাভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে যেসব দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর যেসব দাবি অবকাঠামো, অর্থায়ন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।”
গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬-এর সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের একটি দল। একই আয়োজনে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছেন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মঞ্জুর এলাহী অডিটোরিয়ামে বিশ্ব গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি দল অংশ নেয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির শিরোনাম ছিল ‘Enhancing Media Literacy Among Homemakers in Khulna: Addressing Misinformation and Promoting Responsible Digital Media Use’। খুলনার গৃহিণীদের মধ্যে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা বাড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা এবং অনলাইনে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্প দলের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম। তিনি অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন দলনেতা এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
মাজিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সবার জন্য গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা জরুরি। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া এবং তা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে শেখার সুযোগ পায়।
মিফতাহুল ইসলাম মাহিন বলেন, “এই অর্জন আমাদের পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল। প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহিণীদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা তৈরি এবং দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।”
প্রকল্প দলের অন্য সদস্যরা হলেন সানজিদা আক্তার, মো. নাঈম শেখ, তানিয়া তাবাসসুম, জাহিদা সুলতানা রিমা, আশরাফুল আলম, রুকাইয়া আফিয়া নেহা, আহমেদ মোস্তফা, সাবিনা ইয়াসমিন তিথি ও শেখ এশানুল হক।
‘Media and Information Literacy Skills for 21st-Century Youth’ শীর্ষক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির তথ্য অধ্যয়ন বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয় ও মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (MILNetBD)। সহায়তা দেয় জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’-এর প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা আন্দ্রেস দেল কাস্তিয়ো সানচেস।
কনসার্টে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করল জবি প্রশাসন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিবসটির র্যালি, কনসার্টসহ সব আয়োজন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহ্মাদসহ সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেঞ্জার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যসচিবরা অংশ নেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পার্শ্ববর্তী কোতোয়ালি, বংশাল ও সূত্রাপুর থানার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের র্যালি, কনসার্ট ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সর্বোচ্চ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সফলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জকসু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস এবং ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে কনসার্টে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সার্বিক আয়োজন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন করা হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
টেক্সভার্স ২.০ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে বুটেক্সে
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’। আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন, মহাসচিব প্রকৌশলী এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং বুটেক্সের শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ফিয়াট ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বাদশা, এমএমটেক্স সলিউশন বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ময়দুল ইসলাম, হিউ টেক বিডির পরিচালক প্রকৌশলী এ. এস. এম. আশিক ইশতিয়াক লিখন ও প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামান রনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক চন্ডিমা পুন্যাওয়ার্দানা এবং সুইসক্রোমা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজহার হোসেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং টেক্সটাইল খাতের বাস্তব সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, গবেষণাভিত্তিক পোস্টার উপস্থাপনা, কুইজ, টেক্সটাইল কেস প্রতিযোগিতা ও ট্রেজার হান্ট। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হবে গণিত অলিম্পিয়াড। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব বুটেক্স ক্যাম্পাসের নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টায় কলেজ সেগমেন্ট ও কুইজার্ডের প্রাথমিক পর্বের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে কুইজার্ডের চূড়ান্ত পর্ব। এরপর সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মাঠে ট্রেজার হান্ট এবং বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে গণিত অলিম্পিয়াড। বিকেল ৩টায় কেস কম্পিটিশন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রজেক্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার পর সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।
এবারের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল কলেজের ২৫টিরও বেশি ক্লাব ও সংগঠন। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে কুয়েট টেক্সটাইল ক্লাব, বিইউপি ক্যারিয়ার ক্লাব, ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাব, ডিআইইউ গ্রিন আর্থ ক্লাব, নিটার সায়েন্স সোসাইটি, বিইউএফটি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, ড্যাফোডিল এআই ক্লাব ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল ক্লাব।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে টেক্সভার্স ২.০-এর কেস কম্পিটিশনের চূড়ান্ত পর্বের জন্য সাতটি দল, পোস্টার প্রেজেন্টেশনের জন্য আটটি দল এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনীর জন্য আটটি দল নির্বাচিত হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জোবায়েদের সহপাঠী ও ছাত্রদল নেতারা।
গত বুধবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আছরের নামাজ এর পর দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
মো. জোবায়েদ হোসেন ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেনের একটি ভবনে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়।
জোবায়েদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।
জাফর আহমেদ বলেন, “জোবায়েদকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা চাই না বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকুক। জোবায়েদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সেই লক্ষ্যে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই, মামলাটির বিচার দ্রুত এগিয়ে নিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। জোবায়েদ আমাদের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং তার হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে যাব।”
ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে রুমি বলেন, “আমরা জোবায়েদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
রুমি বলেন, “জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা তার হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করছি। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে না থাকে। আমরা চাই, জোবায়েদের পরিবার ন্যায়বিচার পাক এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হোক। জোবায়েদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি অব্যাহত থাকবে।”
জোবায়েদ হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ৩০ জুন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি একাধিকবার পিছিয়েছে।
সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত শুনানির পরবর্তী তারিখ ৮ নভেম্বর নির্ধারণ করেন। মামলার তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
জোবায়েদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের দাবি, বিচারিক কার্যক্রমে আর দীর্ঘসূত্রতা না করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় মামলাটির নিষ্পত্তি করতে হবে।
জোবায়েদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ৩১ অক্টোবর। তবে এই ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে এক সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে শুধু অনুষ্ঠানস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফল প্রকাশের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও ফল সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইনে ‘eduboardresults.gov.bd’ এবং ‘educationboardresults.gov.bd’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল দেখতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘HSC’ লিখে একটি স্পেস দিতে হবে। এরপর বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখে বার্তাটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
এদিকে, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সময়সূচিও জানানো হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়।