‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত-বোরো-পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল হতে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হাওর অঞ্চলে পরিচালিত হচ্ছে
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অঞ্চল প্রতিবছরই কৃষি ঝুঁকির মুখে পড়ে। বর্ষাকালে সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখানকার প্রধান ফসল বোরো ধান আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও ঠান্ডাজনিত চাপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এই পরিস্থিতিতে হাওর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ও বোরো রোপণের আগের পতিত সময়ে সরিষা আবাদ করলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসলের পাশাপাশি আর্থিক ঝুঁকি কমাতে পারবেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কুড়ারকান্দি এলাকায় প্রকল্পের মাঠ দিবসে গবেষণার ফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মমিনুল ইসলাম। ‘কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বিদ্যমান পতিত–বোরো–পতিত ফসল ক্রমে সরিষা প্রবর্তন’ প্রকল্পটি ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) তত্ত্বাবধানে এবং সিটি ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসানের সভাপতিত্বে মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, বাউরেসের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. পরেশ কুমার সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম খান অপু এবং অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলমসহ স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।
গবেষকবৃন্দ জানান, এই অঞ্চলে উচ্চফলনশীল বোরো ধান উৎপাদনের প্রধান বাধা হলো আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি ও খরা। বোরো ধান চাষে আরেকটি বড় সমস্যা হলো ঠান্ডাজনিত চাপ। যদি ডিসেম্বরের আগে বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রজনন পর্যায়ে (ফুল আসার সময়) ঠান্ডার কারণে শীষে দানা বন্ধ্যা হয়ে যায়। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পরে রোপণ করলে বেশিরভাগ সময় ধান পাকতে পাকতেই আগাম আকস্মিক বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে হাওর অঞ্চলে বোরো ধান উৎপাদন এক ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে থাকে। এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ও নিরাপদ শস্যক্রম খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে উঠেছে। হাওর অঞ্চলে সবচেয়ে প্রচলিত শস্যক্রম হলো পতিত–বোরো–পতিত, যা মোট আবাদি জমির প্রায় ৪০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে। ফলে রবি মৌসুমে বিপুল জমি পতিত পড়ে থাকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবং বোরো ধান রোপণের আগের সময়টুকুতে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষের মাধ্যমে একটি অতিরিক্ত ফসল অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে কৃষকরা অন্তত একটি ফসল নিশ্চিতভাবে ঘরে তুলতে পারবেন, এমনকি বোরো ধান যদি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তও হয়।
তারা আরও জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা—ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী—সম্পূর্ণভাবে হাওরবেষ্টিত এবং আরও পাঁচটি উপজেলা আংশিকভাবে হাওর অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এসব এলাকার মানুষ প্রধানত কৃষিনির্ভর এবং জীবিকার জন্য পুরোপুরি কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। হাওর এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ফসলকে অনেক সময়ই “ভাগ্যের ফসল” হিসেবে বিবেচনা করেন, কারণ প্রায় কয়েক বছর পরপর ধান পাকতে শুরু করার সময় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় এবং সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যার আক্রমণ আরও অনিয়মিত ও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ফলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে এবং এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুতরভাবে পড়ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪, ২০১০ এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যা হাওর অঞ্চলে অপূরণীয় ক্ষতির সৃষ্টি করেছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে প্রকল্পটি বিগত প্রায় তিন বছর যাবৎ পরিচালিত হচ্ছে।
গবেষণার বিষয়ে তারা বলেন, গবেষণার প্রথম বছর (২০২৩–২০২৪) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভাবিত ছয়টি স্বল্পমেয়াদি সরিষার জাত তিনটি বপন সময়ে (১০, ২০ ও ৩০ নভেম্বর) পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ২০ নভেম্বর বপনে বিনা সরিষা–৯ সর্বোচ্চ ফলন দেয়, যার কাছাকাছি ফলন দেয় বারি সরিষা–১৭। সরিষার পরবর্তী ধান (ব্রি ধান–১০০) গড়ে ৬.২ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয়, যা শস্যক্রমকে লাভজনক হিসেবে তুলে ধরে। দ্বিতীয় বছর (২০২৪–২০২৫) গবেষণায় নির্বাচিত দুটি জাত—বিনা সরিষা–৯ ও বারি সরিষা–১৭—কে বিভিন্ন সার ও বীজহার ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা করা হয়। প্রস্তাবিত বীজহার (৮ কেজি প্রতি হেক্টর) ও সারমাত্রা (১০০ শতাংশ) প্রয়োগে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া গেছে বিনা সরিষা–৯ থেকে। সরিষার পর হাইব্রিড বোরো ধান (সবুজ সাথী) গড়ে ৬.৪ টন প্রতি হেক্টরে ফলন দেয় এবং পুরো শস্যক্রমে ধান সমতুল্য ফলন দাঁড়ায় ১০.১ টন প্রতি হেক্টর। গবেষণার তৃতীয় বছর (২০২৫–২০২৬) বর্তমানে চলমান। আমরা আশা করি, এটি বাস্তবায়িত হলে হাওর অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় দুটোই বাড়বে এবং জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
গবেষকরা জানান, হাওর অঞ্চলে সরিষা চাষের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো প্রতি বছর একই সময়ে পানি না নামায় বপনের সময় নির্ধারণে জটিলতা। এছাড়া হাওরের সব জমি সরিষা চাষের উপযোগী নয়—উঁচু ও মাঝারি উঁচু বা কান্দা এলাকার জমিই তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিও সরিষার বপন ও প্রাথমিক বৃদ্ধিতে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষকরা আরও স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত পরিপক্ব সরিষার জাত উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জমি থেকে সেচের পানি ঢুকে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জমির ধরন ও ঝুঁকি বিবেচনায় কৃষকদের একত্রিত করে কমিউনিটি ফার্মিং চালুর পরামর্শ দেন তারা।
এবার গবেষণার অংশ হিসেবে দেওয়া বিনা সরিষা–৯ চাষ করেছেন হাসন রাজা। তিনি জানান, হাওরের কিছু উঁচু জায়গা রয়েছে। এসব জায়গায় পানি আসে না। আগে ভুট্টা চাষ করতাম, কিন্তু ক্ষতি হওয়ায় এখন সরিষা করছি। লাভের আশা করছি। এখন আমাদের দেখাদেখি অনেকেই সরিষা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। হাওরে এখন সরিষা নতুন ফসল হিসেবে প্রচলিত হচ্ছে।
নজরুল ইসলাম নামের আরেকজন কৃষক বলেন, আমি তিন বছর যাবৎ সরিষা চাষ করি এবং সরিষার তেল ব্যবহার করছি। আমার নিজেরই গ্যাসের সমস্যা ছিল, সরিষার তেল ব্যবহার করে এখন সমাধান হয়েছে। নিজে সরিষা ভাঙিয়ে স্বাস্থ্যকর তেল ব্যবহার করতে পারছি—এটাই বড় লাভ বলে আমি মনে করি।
অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুব আলম বলেন, আমরা হাওরের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা ঘোষণা করেছি যে এখানে কোনো কৃষক যদি ধানের পরিবর্তে সরিষা চাষ করতে চান, তাহলে আমরা বিনামূল্যে বীজ ও সার দেব। সরিষা স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপযোগী, অন্যদিকে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। সরিষা মাটির উর্বরতাও বৃদ্ধি করে। এজন্য যত্ন সহকারে সরিষা চাষে গুরুত্ব দিতে হবে।
বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, ১৫ বছরে হাওরের অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আগে শুধু ধান চাষ হতো, এখন ভুট্টা ও সরিষাও হচ্ছে। জমিকে যত বেশি ব্যবহার করা যাবে, ততই বেশি পাওয়া যাবে। শুধু ধান চাষ করে বসে থাকলে হবে না; বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিও সঙ্গে চাষ করতে হবে। সরিষার চাষ এখন হাওরে লাভের মুখ দেখছে। এ গবেষণার মাধ্যমে হাওরের সরিষা সারা দেশে বিস্তার লাভ করবে বলে আশা করছি।
বামে মোস্তাফিজুর রহমান রুমি ও ডানে সুমন সরদার
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সংঘর্ষের ঘটনায় এবার শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে।
এর আগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের সামনের কাঁঠালতলা এলাকায় এ ঘটনায় তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় আঘাত লাগে বলে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানিয়েছিলেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বিভাগে নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নবনিযুক্ত সভাপতিদের মধ্যে কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়, ফাইন আর্টস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক রায়হান উদ্দিন ফকির, ফার্মেসি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব (শাহীন) দায়িত্ব পেয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, ফাইন আর্টস বিভাগের সভাপতি আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং ফার্মেসি বিভাগের সভাপতি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধির সংশোধিত ১০(১) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপকদের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিলাসী সাহা গত ২৫ আগস্ট সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন সভাপতি নিয়োগ দেওয়া হয় আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাবকে (শাহীন)।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অর্জিত স্বাধীনতা ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে এখনই লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা বিকাশের পাশাপাশি আগামীর বাংলাদেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার জন্য নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা তোমাদের নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদেরকে আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সামনে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে কোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।"
নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব অন্যের ওপর ছেড়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের এখনই।"
আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে নবীন শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "তোমরা যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।"
শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী দক্ষতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আহসানুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন তিনি। দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং কে উদ্ভাবক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে, সেসব বিষয় শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নিজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ছাত্রদলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি সন্ধ্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিগত ১৭-১৮ বছর ফ্যাসিবাদের করাল থাবার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তাই এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
জবি উপাচার্য বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বিগত ১৭-১৮ বছর ফ্যাসিবাদের করাল থাবার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ নিঃস্ব অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি যেসব ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছে, সেসব সমস্যার সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।"
তিনি আরও বলেন, "আগামী দিনের বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে। তাই তোমাদের শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করতে হবে। সত্যিকারের দেশপ্রেম যদি কেউ শিখিয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তা শিখিয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা, রণাঙ্গনে নিজে নেতৃত্ব প্রদান এবং তাঁর শাহাদাতের মধ্য দিয়েও দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়েছেন।"
এছাড়াও তিনি বলেন, "বর্তমানে বিভিন্ন দলের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান আমরা দেখতে পাই কারও মঞ্জিল ভারত, কারও মঞ্জিল পাকিস্তান, আবার কারও মঞ্জিল চীন। কিন্তু আমাদের মঞ্জিল একটাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, 'আমার ঠিকানা এই দেশ, এই মাটি।' আমরা এই দেশকে ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।"
অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, "শহিদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে কাজ করেছেন। এজন্য আমাদের স্লোগান হবে দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ।"
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠনের পর দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস ধরে তিনি প্রতিনিয়ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। এ নিয়ে কেউ যেন ‘ক্রেডিট রাজনীতি’ না করেন, সে বিষয়েও সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিবহন সেবায় শিক্ষার্থীদের সিট দখল, নবীনদের আসন পেতে বাধা দেওয়া ও হেনস্তা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ড. তারিক বিন আতিক সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একতলা, দ্বিতল ও বিআরটিসি থেকে ভাড়াকৃত বাসে শিক্ষার্থীদের বসার সিটে আগে থেকেই খাতা, কলম, পানির বোতল, ব্যাগ, মানিব্যাগ কিংবা শিট রেখে ‘সিট দখল’ করার চর্চা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বাস কমিটির প্রভাব খাটানো এবং নবীন শিক্ষার্থীদের আসন পেতে বাধা দেওয়া বা হেনস্তার বিষয়টিও প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, সাধারণ শিষ্টাচার ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের পরিপন্থী। কোনো শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা সিট দখলের নামে অসম আচরণকে র্যাগিংয়ের শামিল হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাসের সিটে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র রেখে আগে থেকে সিট দখল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জুনিয়র বা নবীন শিক্ষার্থীদের সিটে বসতে বাধা দেওয়া, বাস কমিটির প্রভাব খাটানো কিংবা কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক হেনস্তা করা যাবে না। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবায় চলাচলকারী যেকোনো যানবাহনের ভেতরে ধূমপান এবং যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বহন বা সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের ঠিক ১৫ মিনিট আগে শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের দরজা খুলে দেওয়া হবে। চালক ও হেলপারদের নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে দরজা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি বাসে অবৈধ সিট দখল বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থী, চালক ও পরিবহন কর্মচারীদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন।
সভায় ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রভোস্ট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভাটি তিনটি পৃথক পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এরপর দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পরিচালকদের সঙ্গে এবং সর্বশেষ বেলা ১টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন উপাচার্য।
পৃথকভাবে তিন সভাতে উপাচার্য সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এসময় উপস্থিত শিক্ষকেরা জানান, উপাচার্যের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা উদঘাটন, পরিকল্পনা নিরূপণ ও সমস্যার সমাধানে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কাজ করে যাবে বলে জানান তারা।
শিক্ষকদের সাথে সভায় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সৌন্দর্যের মধ্যে নয়। এর মূল শক্তি হলো শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিটি মানুষের মেধা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সততার সমবেত প্রচেষ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তার শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। তাই বাকৃবিকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপত্তায় বাকৃবির ভূমিকা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় একটু দূরে ময়মনসিংহে থাকাতে আমরা সুযোগ একটু কম পাই। যারা ঢাকায় আশেপাশে থাকে, তারা সুযোগ বেশি পায়। সেজন্য আমাদের এদিকে একটু খেয়াল রেখে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের শিক্ষকরা বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করছেন। এত গবেষণা বাংলাদেশের কোথাও হয় না। এত মাস্টার্স, পিএইচডি বাংলাদেশের কোনো ভার্সিটিতে হয় না। এটা আমাদের একটা বড় একটা অর্জন এবং সুযোগ। এই সুয়োগ কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে যাব।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশৃঙ্খল, সৎ ও দক্ষ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাব নেই। আমি তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করতে চাই। তবে কেউ যদি মনের অজান্তে নিজেকে কোনো ভুল পথে পরিচালিত করে থাকেন, তাঁরা নিজের দুর্বলতাগুলো দূর করে নিজেদের খাঁটি মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করবেন। সময়মতো অফিসে আসা, ক্লাস নেওয়া, গবেষণা পরিচালনা করা, এটাই আমাদের আসলে মূল উদ্দেশ্য। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা প্রতিজ্ঞা করি, আজ থেকে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে ন্যায়নীতির ওপর প্রস্তুত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করে যেন আমাদের প্রতিটি ঐতিহ্য আরও গৌরবময় ইতিহাসে রূপান্তর করতে পারি।