উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা।

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:২১ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১২ জন শিক্ষার্থী জাপানভিত্তিক সংস্থা ‘নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন’ থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ মেয়াদের জন্য বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।


এসময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক, ডিন কাউন্সিলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, শিক্ষা বিষয়ক শাখার এডিশনাল রেজিস্ট্রার ড. ফারুক আহম্মদ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীবৃন্দ।


বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মোছা. জান্নাতি আকতার বন্যা ও মো. আল আমিন, কৃষি অনুষদের মোছা মারিয়া খান আঁচল, জুবায়ের আমিন, শাহানা ইসলাম হৃদি, নিহারিকা মোহান্ত ও মোছা. আয়েশা খাতুন, পশুপালন অনুষদের মো. ইশতিয়াক উদ্দীন খান, ফাওজিয়া ফারিহা ও মো. শরীফ হোসেন, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের উম্মে হানি মৌলি এবং সাদিয়া আফরোজ ইমা।


এসময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, যারা আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি যারা আজকে বৃত্তিপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের সবাইকে শুভকামনা জানাই। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে, উচ্চশিক্ষায় তাদের অগ্রযাত্রাকে সহজ করবে। আমি আশা করবো, তোমরা তোমাদের এই অর্জন ধরে রাখবে এবং সামনে আরও ভালো ফলাফল করবে।


উল্লেখ্য, নাগাও ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) জাপানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটি ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে এনইএফ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছে, যার মাধ্যমে তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।


শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কারো একার ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক সবাই মিলে আন্দোলন করেছিল। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রাজনৈতিক দল মিলে ভূমিকা রাখতে হবে।”


জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “নতুন ছাত্র রাজনীতি তৈরির জন্যই আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পুরো রাজনৈতিক কালচারের অনেক কিছুই ছাত্রশক্তিতে রয়েছে। আমরা এক রাতে সেটা চেঞ্জ করতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ করছি।”


সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার, নাহিদসহ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলোকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরাও ইতিবাচকভাবে দেখেন। কিন্তু আমরা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এই ভয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”


তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ে গুম, খুন এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের বলব—গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা এমপি হওয়ার লক্ষ্যও রাখুন। এখানে উপস্থিত অনেকেরই সেই যোগ্যতা রয়েছে।”


এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্‌স্বাধীনতা হরণ বা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক।”


তিনি বলেন, “যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠনই যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি তৈরি না করে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে।”


সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।”


বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪০ পিএম

সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে নানা ধরনের কথা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 


তিনি বলেন, এসব থাকবেই, তবে পাওয়া সুযোগকে হেলায় হারানো যাবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে অনেক ধরনের কথা শুরু হয়ে গেছে। এসব থাকবেই। আমরা যেন সুযোগকে হেলায় না হারাই। যে সুযোগ পাওয়া গেছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।


মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে একেবারে ধ্বংস করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সেগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবক রয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তবে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে, এতে সময় লাগবে। এখন কর্মমুখী শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।


জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গ্যাস নেই, তেল নেই। জ্বালানির এই সংকট এখন উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অনেক বড় সমস্যা। এদিকে ইরানে যুদ্ধ চলছে। তাই বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার করতে হবে এবং গ্রিন এনার্জির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।


বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যে যেখানে আছেন, সবাই কাজ করে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের পরিবর্তনে নিজেকে আগে পরিবর্তন করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম
  • আপডেট : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

‎গত ৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ট্রেজারারের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই পদটি পূরণে নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎উল্লেখ্য, নোবিপ্রবির আগের দুইজন ট্রেজারারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক ছিলেন। ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রত্যাশায় ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ট্রেজারার পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।

‎বর্তমানে অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি ও গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।

‎এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিসারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স(ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস(এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রাকিব-উল ইসলাম।

‎অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও আলোচনায় ছিলেন।

‎এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, দুই দশক পূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বারবার বাইরে থেকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।

‎তাদের দাবি, নিজস্ব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‎এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতারও ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যাররা, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।"

‎তিনি আরও লেখেন, "বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ হোক—এটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি।"

‎ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট(টিএইচএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, "নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হবে।"

‎তিনি আরও লেখেন, "নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কিংবা উটাব (UTAB)-এর মতো সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।"

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "নোবিপ্রবির ট্রেজারার হওয়ার মতো এখনো দু'জন শিক্ষক আছেন যারা যোগ্য এবং ফ্যাসিস্ট নয় বরং বঞ্চিত এবং বিএনপির জন্য নিবেদিত। তাহলে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে কেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও লীগ নেতাদেরকে নিয়োগের চক্রান্ত চলছে? ছোট-বড় যারা অর্থ ও স্বার্থের কারণে এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের সব অপকর্ম রেকর্ড হচ্ছে। সব ফাঁস হবে। সাবধান হয়ে যান।"

‎তিনি আরও লেখেন, "আমাদের জোর দাবি হচ্ছে নোবিপ্রবি থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক।"

‎অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আজ দল সরকারে, কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন কারা? যদি সত্যি দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হন এবং তাঁদের জায়গা দখল করেন অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা—তবে তা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের।"

‎তিনি আরও লেখেন, "যোগ্যতা, সততা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।"

‎সব মিলিয়ে, ট্রেজারার নিয়োগকে ঘিরে নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের প্রত্যাশা, এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ৪০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের সেশন পরিচালনা করেন প্রশিক্ষক জি. এম. মোস্তাফিজুল আলম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রশিক্ষণের নির্ধারিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও এআই এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গুজবের উর্ধ্বে উঠে সংবাদের পেছনের সত্য উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় না রাখলে তা সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দেশীয় উৎসের ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এ বায়োফরমুলেশন একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এতে প্রতি গ্রাম পণ্যে ন্যূনতম ২০ লাখ জীবন্ত ট্রাইকোডার্মা স্পোর রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি বিভিন্ন ফসলের রোগ দমন, ফলন বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মৎস্য খাতে পানির গুণগত মান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব (প্ল্যান্ট প্যাথোলজি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। এ সময় কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, 'বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোট বালাইনাশকের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশই রাসায়নিক ছত্রাকনাশক। এসব ছত্রাকনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু ক্ষতিকর ছত্রাকই নয়, মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও ছত্রাকও ধ্বংস করে। ফলে পরিবেশ, মাটির স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা', যা একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার শুরুতে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাটি ও রাইজোস্ফিয়ার (ছত্রাকের স্পোর) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে শতাধিক ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক পৃথক করে তাদের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে সর্বাধিক কার্যকর, স্থিতিশীল ও বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজিত ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম নির্বাচন করে এর ভিত্তিতে বায়োফরমুলেশন তৈরি করা হয়। যেহেতু এটি দেশীয় উৎসের অণুজীব, তাই আমদানিনির্ভর বায়োপণ্যের তুলনায় এটি অধিক কার্যকর, টেকসই এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, এ জৈব ছত্রাকনাশক সব ধরনের ফসলেই কার্যকর। বিশেষ করে টমেটো, আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, মরিচ, শশা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি, ডালজাতীয় ফসল, চা ও পান চাষে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফসলে ফিউজারিয়াম উইল্ট, রুট রট, স্ক্লেরোটিয়াম ব্লাইট এবং পাতার দাগ রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় টমেটোতে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ, আলুতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, ধানে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, গমে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং চা গাছে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মরিচ ও ডালজাতীয় ফসলে বীজবাহিত ছত্রাকজনিত রোগ ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দমন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

কার্যকারিতার বিষয়ে অধ্যাপক মঞ্জিল বলেন, পিজি-ট্রাইকোডার্মা উদ্ভিদের শিকড়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির জৈবিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ ও পোকামাকড় দমনে সহায়তা করে। সহজে প্রয়োগযোগ্য হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি।

প্রযুক্তিটি শুধু কৃষিতেই নয়, ছাদকৃষি ও মৎস্যখাতেও সম্ভাবনাময়। মৎস্যখাতে ট্রাইকোডার্মার কার্যকারিতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা বলেন, 'মাছচাষের একটি বড় অংশ হলো মাছের খাদ্য। চাষের সময় অব্যবহৃত খাদ্য এবং মাছের মল পানির গুণাগুণ নিম্ন করে তুলে। ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক এ পণ্যটি ব্যবহারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) বৃদ্ধি পায় এবং অ্যামোনিয়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে মাছ উৎপাদন লাভজনক হয়। তবে এটি শুধুমাত্র ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা বড় পরিসরে প্রয়োগের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে পারবো।'

কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন বলেন, 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা জৈব ছত্রাকনাশকের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এটি শতভাগ নিরাপদ। অন্যান্য ছত্রাকনাশক বা যে কোন কীটনাশক প্রয়োগে ফসল কমপক্ষে সাতদিন পর থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং রাসায়নিক প্রয়োগ করার পর কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ওই জমিতে কৃষক প্রবেশ করতে পারে না। তবে আমাদের এই পণ্যটির ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা নেই। এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। টেলকম পাউডারের সাথে ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক ব্যবহার করে এটি বাজারজাত করা হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে জৈব, এতে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই। 

তিনি আরও জানান, 'এই পণ্যটি দূষণ সমৃদ্ধ জমিতে প্রয়োগ করলে সেখানে উদ্ভিদের ভারী ধাতু গ্রহণ করা কমায় এবং পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি করে ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। বাংলাদেশে ৪০ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে দুই থেকে পাঁচ শতাংশ মাত্র বায়োফার্টিলাইজার। তাই আমাদের পণ্যটি দেশের রাসায়নিক ছত্রাকনাশকের বিকল্প জৈব ছত্রাকনাশক হিসেবে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি নার্সারি বেড শোধন ও মাটি শোধন আকারে মাটির সাথে মিশিয়ে এবং বীজের সাথে মিশিয়ে ও সরাসরি গাছে স্প্রে করা যায়।'

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রস্তাবিত পণ্যটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই পরিবেশবান্ধব বায়ো-পণ্যগুলো কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হবে এবং দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৪ পিএম

মার্ক টেম্পারিং বিতর্কে ফের আলোচনায় কোডিং সিস্টেম, এক বছরেও চালু হয়নি খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি

সিদ্ধান্ত আছে, বাস্তবায়ন নেই—কোডিং সিস্টেম নিয়ে প্রশ্নের মুখে নোবিপ্রবি প্রশাসন


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি। শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।


সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও করণীয় নির্ধারণই ছিল কমিটির দায়িত্ব।

তবে কমিটি গঠনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।


এদিকে, কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ গত ৭ জুন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বর্তমানে নোবিপ্রবিতে ওই কমিটির আহ্বায়কের পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে। তবে কমিটির কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ বা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর পরিচয় দৃশ্যমান থাকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিরোধ বা পক্ষপাতের প্রভাব মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে খাতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা বিরূপ সম্পর্কের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে থাকেন। তাদের আশঙ্কা, এর নেতিবাচক প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত কোডিং পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই কোডিং সিস্টেম চালু করা হবে। আমরা আশাবাদী, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরপেক্ষ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে।”

তবে কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর