মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ছাত্র সংগঠনগুলো ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী কল্যাণ, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়েছে।
গুচ্ছ পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের হটলাইন ও বিনামূল্যে যাতায়াত সেবা প্রদান
গত ২৫ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, টার্মিনাল ও স্টেশনগুলোতে সাধারণত চাপ ও ভিড় বেড়ে যায়। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা ভর্তিচ্ছুদের অনেকেই ছিল ক্যাম্পাস সম্পর্কে অজানা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রদল বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করে, যাতে পরীক্ষার্থীরা শহর থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর রুট, থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন নির্দেশনা ও জরুরি সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া বিনামূল্যে যানবাহন সার্ভিস চালু করে সংগঠনটি — যেখানে নির্দিষ্ট স্পটে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আনা-নেওয়া করা হয়।
চারটি আবাসিক হলে সাইকেল পাম্প স্থাপন ছাত্রদলের
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে সাধারণ বাহন হলো সাইকেল। কিন্তু হঠাৎ চাকা ফেঁসে গেলে ছাত্রদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে ছাত্রদল চারটি ছাত্র আবাসিক হলে স্থায়ী সাইকেল পাম্প স্থাপন করে, যাতে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে।
৪৭তম বিসিএসে পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস ব্যবস্থায় ছাত্রদল
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের এই উদ্যোগটি ক্যাম্পাসে অধিক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাস্তাপথে সময় ও খরচ দুটিই পরীক্ষার্থীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রদল দুটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী বাস বিনামূল্যে চালায়, যেখানে শতাধিক পরীক্ষার্থী ঢাকাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। পরীক্ষার দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরীক্ষা শেষে একই বাসে নিরাপদে ফেরত আনা হয়।
যানজট নিরসনে সেকেন্ড গেটে ফুলের টব স্থাপন ছাত্রদলের
গত ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের প্রবেশ-বাহিরে বিশৃঙ্খলা ছিল। যানবাহন এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো ও রিকশা-অটোরিকশার চাপ স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করত। সমাধানে ছাত্রদল ফুলের টব দিয়ে পথ বিভাজন সৃষ্টি করে একটি নান্দনিক লেন-সিস্টেম তৈরি করে, যার ফলে চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরে এবং জায়গাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়।
ঈদে ক্যাম্পাসে অবস্থানরতদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ
গত ৮ জুন ঈদে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে পারেন না — বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের বা সংকটাপন্ন অবস্থার শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফাঁকা থাকলেও তাদের জন্য দিনটি একাকীত্ব নিয়ে আসে। এই চিত্র বদলাতে ছাত্রদল হল ও ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়া শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করে। মেন্যু হিসেবে ছিল পোলাও, মাংস ও বিশেষ আইটেম। নেতাকর্মীরা নিজ হাতে রুমে রুমে খাবার পৌঁছে দেন। এটি ক্যাম্পাসে উৎসবের উষ্ণতা ছড়ায়।
কাগমারি সড়ক সংস্কারে ছাত্রদল
গত ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাগমারি সড়কের ভাঙ্গাচোরা অংশ বর্ষায় আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ছিল। শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও যানবাহন চলাচলে এতে ঘনঘন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রদল নেতা শামীম ও অয়ন নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেন, যাতে চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শহিদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল
গত ৭ অক্টোবর আবরারের স্মরণে ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বড় পর্দায় বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট ম্যাচ সম্প্রচারে ছাত্রদল
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মান্নান হলের সামনে বড় স্ক্রিনে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেন ছাত্রদল। সেখানে শতশত শিক্ষার্থী একত্র হয় এবং খেলা দেখার উৎসব পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিজয় দিবস ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন
গত ১৪–১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার মাসে তিনদিনব্যাপী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ছাত্রদল। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেন। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানান ইসলামী ছাত্র শিবির
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ছাত্র শিবির। রমাদানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এদিন ব্যানার প্রদর্শনী, ভ্রাতৃত্বের প্রতীক চিরকুট বিনিময় এবং বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গত ২ মার্চ থেকে পুরো রমজানজুড়ে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে সহীহ কুরআন শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করে সংগঠনটি। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি
সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ২৬ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ২০টি অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের মাঝে পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিতরণ করেন। একইভাবে ঈদুল আজহায় ৭ ই জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মাঝে কুরবানির গোস্ত বিতরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্র শিবির।
ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ইসলামী ছাত্র শিবির
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় গুচ্ছভুক্ত তিনটি ইউনিটের (এ, বি ও সি) ভর্তি পরীক্ষার সময় ২৫ এপ্রিল, ২ মে ও ৯ মে হেল্প ডেস্ক চালু করে ইসলামী ছাত্র শিবির। এ সময় হটলাইন নম্বর, আবাসন ও তথ্যসেবা, পানি, হাতপাখা, অভিভাবকদের জন্য ছাউনি, কলম ও বই উপহারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগস্ট মাসে চূড়ান্ত ভর্তির সময় চার দিনব্যাপী ভর্তি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ধর্মীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ মে ও ১৭ সেপ্টেম্বর দুটি ধাপে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অর্থসহ পাঁচ শতাধিক পবিত্র কুরআন বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সংগঠনটি।
বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ছাত্র শিবির
ছাত্র অধিকার ও ক্যাম্পাস উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে ৫২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির অগ্রগতি ও পরিবহন সংকট নিরসনের বিষয়ে ১৫ অক্টোবর এবং ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিনিধিদল। এ সময় পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, হলের খাবারের মানোন্নয়ন এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেন সুবিধাসহ বিভিন্ন বাস্তবায়নযোগ্য দাবি তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ নভেম্বর জাঁকজমকপূর্ণ নবীন বরণ উৎসব ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের আয়োজন করে সংগঠনটি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ভিক্টরি রান ইউথ শিবির এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজনের মাধ্যমে বছরজুড়ে তাদের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ও মেস ফি সহায়তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৮জন শিক্ষার্থীর পূর্ণ ভর্তি ফি এবং ৫ জন শিক্ষার্থীর অর্ধেক ভর্তি ও মেস ফি প্রদান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাভাবিপ্রবি শাখা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের পথে কোনো বাধা তৈরি করবে না। এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ গ্রহণে সহায়ক হয়েছে।
দুই ঈদে ভিন্ন ৫টি অস্বচ্ছল পরিবারকে ঈদসামগ্রী বিতরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
২৫ মার্চ ও ৪ জুন দুইটি ঈদে ভিন্ন ৫টি অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা এবং জুতা প্রদান করেছি এবং সকলকে ঈদ সালামি দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি। সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ১৭ই মার্চ এবং ১২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকবার সুস্বাদু ভালো খাবার আয়োজন ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
অস্বচ্ছল পরিবারের পুনর্বাসন ও সচ্ছলতাকরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৬ জুলাই ৮ সদস্যের একটি অস্বচ্ছল পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরিবারের আয়ক্ষম সদস্যকে ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা, প্রক্রিয়া এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যার ফলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়, শিক্ষার্থীরা যাতে সঠিক সময়ে পরীক্ষার হলে অবস্থান করতে পারে এজন্য শতাধিক ভলান্টিয়ার দিয়ে শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত অটো চলাচল সুশৃঙ্খল করেছি। পরীক্ষার দিনে এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য বসার ব্যবস্থা এবং ঠান্ডা মিনারেল পানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার ভর্তিচ্ছুদের পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গুচ্ছের তিনটি ইউনিটের (এ, বি ও সি) ভর্তি পরীক্ষার (২৫ এপ্রিল, ২ মে ও ৯ মে) গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার সময়ে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদে রাতে থাকার ব্যাবস্থা এবং মানসম্মত খাবার প্রদান করা হয়েছে। এতে তারা পরীক্ষার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
ভার্সিটির ২য় গেট পর্যন্ত রাস্তার সম্পূর্ণ মেরামতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৮ নভেম্বর আমরা কাগমারী মোর থেকে ভার্সিটির ২য় গেট পর্যন্ত রাস্তার সম্পূর্ণ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি,এবং এক ভাসানী মেলা শুরু হওয়ার আগেই রাস্তার ঢালাই সম্পন্ন করার ব্যাবস্থা করেছি। যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আলোচনা সভা ও “বিপ্লব থেকে বিজয়” কুইজ প্রতিযোগিতা
আগামী ৮ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিহাসবিষয়ক শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে দুটি বিশেষ অনুষ্ঠান।
২০২৫ সালে উদ্যোগ নেওয়া “বিপ্লব থেকে বিজয়” শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতায় থাকবে ২৫,০০০ টাকা পুরষ্কার। কুইজের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতার ইতিহাস।
সেই সঙ্গে, আধিপত্যবাদের বিরোধী আলোচনা সভায় অংশ নেবেন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের নেতা এবং ডাকসু, রাকসু ও জাকসুর নেতৃবৃন্দ। উভয় অনুষ্ঠান ৮ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে ২০২৫ সালে নেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সহযোগিতা
গত ২৫ এপ্রিল ও ৯ মে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় ইসলামি ছাত্র আন্দোলন পরীক্ষার্থী কল্যাণ বুথ স্থাপন করে। বুথগুলোতে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ব্যাগ, বাইক, হেলমেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, হাতপাখা ও কলম বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার দিনে প্রায় পাঁচশত অভিভাবকের বসার সুব্যবস্থা ও ছায়ার ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে তারা স্বস্তিতে অপেক্ষা করতে পারেন। এছাড়া কামগামী রোডে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করে যানজট নিরসনে সহায়তা করেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ক্যাম্পাস সবুজায়ন
ক্যাম্পাস সবুজায়নের লক্ষ্যে এবং তীব্র দাবদাহ থেকে শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসবাসীকে স্বস্তি দিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটির উদ্যোগে ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে প্রকাশ্য ও ধারাবাহিক আন্দোলনে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন
গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু)-সহ বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন, মিছিল ও সভা-সমাবেশে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন দলীয়ভাবে সামনের সারিতে থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে।
গত ১৫ অক্টোবর ভাসানী ছাত্র সমাবেশে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে নিয়মিতভাবে সমর্থন ও বিবৃতি প্রদান করেছে সংগঠনটি।
The Idea of Great Santosh এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাকসু বাস্তবায়ন বিভিন্ন কর্মসূচি।
গত ৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে। গত ২১ জুলাই ছাত্র সমাবেশ, গত ১১ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মাকসু বাস্তবায়নে দাবিতে মো. আক্তারুজ্জামান সাজু অনশন কর্মসূচি পালন করেন, ১৩- ২৭ আগস্ট অবস্থান ও পাটি মিছিল, ১৬ সেপ্টেম্বর ফের মানববন্ধন কর্মসূচি, ১৫ অক্টোবর ভাসানীর দরবার হলে ছাত্র সম্মেলন, ২২ অক্টোবর জুলাই বন্ধন, ১১ ডিসেম্বর মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক আন্দোলন, এছাড়া টিএসসি আন্দোলন ও ভাসানী স্মৃতি সংরক্ষণ আন্দোলন চলমান। যার নেতৃত্ব ছিল The Idea of Great Santosh-এর একদল চিন্তক যাদের মধ্যে অন্যতম মো. আক্তারুজ্জামান সাজু, কাশিফ আহমাদ, নাইম ইসলাম, ইয়ামিন, অনিক ইসলাম অপু প্রমূখ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কারো একার ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক সবাই মিলে আন্দোলন করেছিল। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রাজনৈতিক দল মিলে ভূমিকা রাখতে হবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “নতুন ছাত্র রাজনীতি তৈরির জন্যই আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পুরো রাজনৈতিক কালচারের অনেক কিছুই ছাত্রশক্তিতে রয়েছে। আমরা এক রাতে সেটা চেঞ্জ করতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ করছি।”
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার, নাহিদসহ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলোকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরাও ইতিবাচকভাবে দেখেন। কিন্তু আমরা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এই ভয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ে গুম, খুন এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের বলব—গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা এমপি হওয়ার লক্ষ্যও রাখুন। এখানে উপস্থিত অনেকেরই সেই যোগ্যতা রয়েছে।”
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্স্বাধীনতা হরণ বা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক।”
তিনি বলেন, “যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠনই যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি তৈরি না করে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে।”
সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।”
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে নানা ধরনের কথা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এসব থাকবেই, তবে পাওয়া সুযোগকে হেলায় হারানো যাবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে অনেক ধরনের কথা শুরু হয়ে গেছে। এসব থাকবেই। আমরা যেন সুযোগকে হেলায় না হারাই। যে সুযোগ পাওয়া গেছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে একেবারে ধ্বংস করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সেগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবক রয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তবে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে, এতে সময় লাগবে। এখন কর্মমুখী শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গ্যাস নেই, তেল নেই। জ্বালানির এই সংকট এখন উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অনেক বড় সমস্যা। এদিকে ইরানে যুদ্ধ চলছে। তাই বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার করতে হবে এবং গ্রিন এনার্জির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যে যেখানে আছেন, সবাই কাজ করে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের পরিবর্তনে নিজেকে আগে পরিবর্তন করতে হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
গত ৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ট্রেজারারের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই পদটি পূরণে নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবির আগের দুইজন ট্রেজারারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক ছিলেন। ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রত্যাশায় ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ট্রেজারার পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।
বর্তমানে অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি ও গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।
এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিসারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স(ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস(এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রাকিব-উল ইসলাম।
অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও আলোচনায় ছিলেন।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, দুই দশক পূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বারবার বাইরে থেকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
তাদের দাবি, নিজস্ব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতারও ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যাররা, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।"
তিনি আরও লেখেন, "বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ হোক—এটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি।"
ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট(টিএইচএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, "নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হবে।"
তিনি আরও লেখেন, "নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কিংবা উটাব (UTAB)-এর মতো সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।"
নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "নোবিপ্রবির ট্রেজারার হওয়ার মতো এখনো দু'জন শিক্ষক আছেন যারা যোগ্য এবং ফ্যাসিস্ট নয় বরং বঞ্চিত এবং বিএনপির জন্য নিবেদিত। তাহলে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে কেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও লীগ নেতাদেরকে নিয়োগের চক্রান্ত চলছে? ছোট-বড় যারা অর্থ ও স্বার্থের কারণে এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের সব অপকর্ম রেকর্ড হচ্ছে। সব ফাঁস হবে। সাবধান হয়ে যান।"
তিনি আরও লেখেন, "আমাদের জোর দাবি হচ্ছে নোবিপ্রবি থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক।"
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আজ দল সরকারে, কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন কারা? যদি সত্যি দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হন এবং তাঁদের জায়গা দখল করেন অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা—তবে তা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের।"
তিনি আরও লেখেন, "যোগ্যতা, সততা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।"
সব মিলিয়ে, ট্রেজারার নিয়োগকে ঘিরে নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের প্রত্যাশা, এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ৪০ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টায় বাকৃবির কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন। প্রশিক্ষণের প্রথম দিনের সেশন পরিচালনা করেন প্রশিক্ষক জি. এম. মোস্তাফিজুল আলম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করায় তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রশিক্ষণের নির্ধারিত বিষয়গুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট চেকিং ও এআই এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে গুজবের উর্ধ্বে উঠে সংবাদের পেছনের সত্য উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিকতায় নৈতিকতা বজায় না রাখলে তা সমাজের ক্ষতির কারণ হতে পারে সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।
দীর্ঘ ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার পর বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জৈব ছত্রাকনাশক উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। দেশীয় উৎসের ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম থেকে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এ বায়োফরমুলেশন একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে। এতে প্রতি গ্রাম পণ্যে ন্যূনতম ২০ লাখ জীবন্ত ট্রাইকোডার্মা স্পোর রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এটি বিভিন্ন ফসলের রোগ দমন, ফলন বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মৎস্য খাতে পানির গুণগত মান উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব (প্ল্যান্ট প্যাথোলজি) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক ও বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। এ সময় কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা, গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, 'বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত মোট বালাইনাশকের প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশই রাসায়নিক ছত্রাকনাশক। এসব ছত্রাকনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু ক্ষতিকর ছত্রাকই নয়, মাটিতে থাকা উপকারী অণুজীব ও ছত্রাকও ধ্বংস করে। ফলে পরিবেশ, মাটির স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ বাস্তবতায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা', যা একই সঙ্গে জৈব ছত্রাকনাশক ও জৈব সার হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, গবেষণার শুরুতে দেশের বিভিন্ন কৃষি-পরিবেশ অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাটি ও রাইজোস্ফিয়ার (ছত্রাকের স্পোর) নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেখান থেকে শতাধিক ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক পৃথক করে তাদের কার্যকারিতা দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে সর্বাধিক কার্যকর, স্থিতিশীল ও বাংলাদেশের জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজিত ট্রাইকোডার্মা অ্যাসপেরেলাম নির্বাচন করে এর ভিত্তিতে বায়োফরমুলেশন তৈরি করা হয়। যেহেতু এটি দেশীয় উৎসের অণুজীব, তাই আমদানিনির্ভর বায়োপণ্যের তুলনায় এটি অধিক কার্যকর, টেকসই এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, এ জৈব ছত্রাকনাশক সব ধরনের ফসলেই কার্যকর। বিশেষ করে টমেটো, আলু, বেগুন, ঢেঁড়স, মরিচ, শশা, লাউ, কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি, ডালজাতীয় ফসল, চা ও পান চাষে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফসলে ফিউজারিয়াম উইল্ট, রুট রট, স্ক্লেরোটিয়াম ব্লাইট এবং পাতার দাগ রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় টমেটোতে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ, আলুতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ, ধানে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, গমে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এবং চা গাছে ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মরিচ ও ডালজাতীয় ফসলে বীজবাহিত ছত্রাকজনিত রোগ ৫০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত দমন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
কার্যকারিতার বিষয়ে অধ্যাপক মঞ্জিল বলেন, পিজি-ট্রাইকোডার্মা উদ্ভিদের শিকড়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, পুষ্টি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ায় এবং মাটির জৈবিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ ও পোকামাকড় দমনে সহায়তা করে। সহজে প্রয়োগযোগ্য হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য সাশ্রয়ী ও ব্যবহারবান্ধব প্রযুক্তি।
প্রযুক্তিটি শুধু কৃষিতেই নয়, ছাদকৃষি ও মৎস্যখাতেও সম্ভাবনাময়। মৎস্যখাতে ট্রাইকোডার্মার কার্যকারিতা সম্পর্কে অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা বলেন, 'মাছচাষের একটি বড় অংশ হলো মাছের খাদ্য। চাষের সময় অব্যবহৃত খাদ্য এবং মাছের মল পানির গুণাগুণ নিম্ন করে তুলে। ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক এ পণ্যটি ব্যবহারে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) বৃদ্ধি পায় এবং অ্যামোনিয়ার পরিমাণ হ্রাস পায়। ফলে মাছ উৎপাদন লাভজনক হয়। তবে এটি শুধুমাত্র ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা বড় পরিসরে প্রয়োগের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করতে পারবো।'
কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে. এম. মহিউদ্দিন বলেন, 'পিজি-ট্রাইকোডার্মা জৈব ছত্রাকনাশকের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এটি শতভাগ নিরাপদ। অন্যান্য ছত্রাকনাশক বা যে কোন কীটনাশক প্রয়োগে ফসল কমপক্ষে সাতদিন পর থেকে সংগ্রহ করতে হয় এবং রাসায়নিক প্রয়োগ করার পর কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা ওই জমিতে কৃষক প্রবেশ করতে পারে না। তবে আমাদের এই পণ্যটির ক্ষেত্রে এরকম বাধ্যবাধকতা নেই। এতে ক্ষতিকর কোনো উপাদান নেই। টেলকম পাউডারের সাথে ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক ব্যবহার করে এটি বাজারজাত করা হয়েছে। ফলে এটি সম্পূর্ণভাবে জৈব, এতে ক্ষতিকর কোন উপাদান নেই।
তিনি আরও জানান, 'এই পণ্যটি দূষণ সমৃদ্ধ জমিতে প্রয়োগ করলে সেখানে উদ্ভিদের ভারী ধাতু গ্রহণ করা কমায় এবং পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বৃদ্ধি করে ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। বাংলাদেশে ৪০ হাজার মেট্রিক টন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে দুই থেকে পাঁচ শতাংশ মাত্র বায়োফার্টিলাইজার। তাই আমাদের পণ্যটি দেশের রাসায়নিক ছত্রাকনাশকের বিকল্প জৈব ছত্রাকনাশক হিসেবে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এটি নার্সারি বেড শোধন ও মাটি শোধন আকারে মাটির সাথে মিশিয়ে এবং বীজের সাথে মিশিয়ে ও সরাসরি গাছে স্প্রে করা যায়।'
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রস্তাবিত পণ্যটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এই পরিবেশবান্ধব বায়ো-পণ্যগুলো কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হবে এবং দেশের টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় এসেছে কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়টি। শিক্ষার্থীদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কোডিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিসংখ্যান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি বিভাগে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও করণীয় নির্ধারণই ছিল কমিটির দায়িত্ব।
তবে কমিটি গঠনের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে কোডিং পদ্ধতি চালু হয়নি। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবেই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।
এদিকে, কোডিং সিস্টেম বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ গত ৭ জুন লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বর্তমানে নোবিপ্রবিতে ওই কমিটির আহ্বায়কের পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে। তবে কমিটির কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা, নতুন আহ্বায়ক নিয়োগ বা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বর্তমানে পরীক্ষার খাতায় পরীক্ষার্থীর পরিচয় দৃশ্যমান থাকায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিরোধ বা পক্ষপাতের প্রভাব মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কোডিং পদ্ধতি চালু হলে পরীক্ষার্থীর পরিচয় গোপন রেখে খাতা মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত মতবিরোধ বা বিরূপ সম্পর্কের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপে থাকেন। তাদের আশঙ্কা, এর নেতিবাচক প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়তে পারে। তাই দ্রুত কোডিং পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও উপাচার্যের (রুটিন দায়িত্ব) দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই কোডিং সিস্টেম চালু করা হবে। আমরা আশাবাদী, এটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরপেক্ষ ও ন্যায্য মূল্যায়ন পাবে।”
তবে কোডিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। একই সঙ্গে বাস্তবায়ন কমিটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।