• প্রকাশ : রবিবার ০২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন-আকাঙ্ক্ষা, অর্জন ও পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ‘চব্বিশের জুলাই: জন-আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ রোববার (২ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের গণন হরকরা গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

 

সেমিনার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্ব প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।


প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান তুলে ধরেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না; বরং বৈষম্য, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন-আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ছিল। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।


অনুষ্ঠানে গ্রীণ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "জুলাইকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই জুলাইকে বিপন্ন হতে দেওয়া যাবে না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়েই আগামী দিনে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে"


ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন এ দেশের স্বাধীনতার আন্দোলনসহ অতীতে সংঘটিত অন্যান্য আন্দোলন থেকে ভিন্ন। এ আন্দোলনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের কারণেই এর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাগুলো কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’


তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিফলন আমরা দেশের বাইরেও দেখতে পাচ্ছি। এ আন্দোলন উপমহাদেশের অন্যান্য দেশেও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হলেও পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ফলে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন সম্ভব হয়েছে। সমাজের স্তরে স্তরে জুলাইয়ের যোদ্ধারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন এককভাবে জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব বা দাবিদার হতে পারে না।


আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে না ব্যর্থ হয়েছে-এটি একটি অবান্তর প্রশ্ন। গণঅভ্যুত্থান শতভাগ সফল হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বৈরশাসনের অবসান, আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কোনো ব্যর্থতা নেই।’


তিনি বলেন, ‘প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে নতুন আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নের জন্ম দেয়। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে হোঁচট খাওয়ার ইতিহাসও চিরন্তন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিও ৫৫ বছর পর পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে কোনো ঘাটতি ছিল। বরং ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও কোনো ঘাটতি ছিল না। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন এবং সংস্কারের সুযোগ করে দিয়েছে। আমরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্নের উত্তর জুলাই-আগস্ট দেবে না; এর উত্তর আমাদেরই দিতে হবে।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:০৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক মিরাজকে মারধর করেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্র, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের সুজিত রায় ও ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবিদ হাসান শিশিরসহ কয়েকজন এতে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তাঁরা। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে পর্ব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বর্ষণ বণিক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন পর্ব।

ঘটনার বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গতকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য করি। সেখানে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। আমার ধারণা, ওই মন্তব্যের জেরেই আজ আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফএসডি ল্যাব থেকে বের হলে পকেট গেটের সামনে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। প্রান্ত আমাকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় আমার কলার ধরে টান দিলে টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে আমাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।”

আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “মিরাজকে মারধরের সময় তাঁকে রক্ষা করতে আমরা এগিয়ে যাই। এ সময় প্রান্ত একটি বাঁশ নিয়ে মিরাজকে মারতে এগিয়ে আসেন। তখন আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করি। ভিডিও করার সময় বর্ষণ বণিক আমার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন।”

অভিযোগের বিষয়ে মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের উসকানিমূলক কথা বলা ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উসকানিমূলক আচরণ করায় পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে যায়। আমরা মারামারি এড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ফাঁসাতে ও নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।”


এ ছাড়া অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, “আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন কর্তৃক হতো, এখন সেই ট্যাগিংয়ের অপরাজনীতি গুপ্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”

বুটেক্সের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দাও তোমরা। অভিযুক্তদের নামের তালিকাসহ আবেদন করো। আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করব। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোন আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও শহীদদের স্মরণ ও স্মৃতিচারণ আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী কিংবা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে।


অন্যদিকে বুটেক্সে ৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিতি কম থাকার কারণ দেখিয়ে ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরবর্তী অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। কেবল আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন এমন কোনো কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক, স্মরণমূলক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়নি। 


দিনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার। তিনি বলেন,"আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে, যা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকের দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।"


জুলাইয়ের চেতনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন,"জুলাই মানে সাম্যতা ও ন্যায্যতা। মুখে আমরা জুলাইয়ের সাম্যতার কথা বলছি, অথচ আজকের দিনে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন নেই। যারা জুলাইয়ের সুবিধা নেবে, তাদের জুলাইয়ের দায়টাও নিতে হবে। আমরা যারা ৩৬ জুলাই রাস্তায় ছিলাম, আজ তারা কেউ কোনো কিছুতেই নেই। বর্তমান প্রশাসনেরও এই দিনটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।"



এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন,

"৫ আগস্টে বুটেক্সের হলগুলোতে ফিস্ট ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন নেই। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে অংশ নেওয়া বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। 


পাশাপাশি আন্দোলনের পর এসব শিক্ষার্থীর ‘পোস্ট-জুলাই ট্রমা’ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সেলিং হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।


আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,"৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। অথচ সেই দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করা যেত। আন্দোলনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের সম্মাননাও দেওয়া যেত।"


টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন,"সীমিত পরিসরে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এর বাইরে থেকে গেছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।"


এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ এএম

'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. তামজীদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।


অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত 'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক সম্পৃক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।


 হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে কুবির ১১ শিক্ষকের সম্পৃক্ততা, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি


কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান।


অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাখিল করতে হবে।


এদিকে, কমিটির প্রথম সভা বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আহ্বায়কের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫৭ পিএম

জুলাই শহীদদের স্মরণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার ( ৫ আগস্ট)  বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে সিনিয়র একাদশ বনাম জুনিয়র একাদশের মধ্যে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।


 খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করে উভয় দলের খেলোয়াড়েরা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ গোল শূন্য ড্র হয়। পরে ট্রাইবেকারে জুনিয়র একাদশ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে।


শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজের তত্ত্বাবধানে এ ম্যাচে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, ইবিসাস সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিমসহ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আয়োজক কমিটির পক্ষে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র-যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা জাগ্রত এবং ভ্রাতৃত্ব বন্ধন আরও দৃঢ় করতে আমাদের এ আয়োজন। এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের কাছে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজনের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন ফুটবল ম্যাচ আয়োজন না করায় আমরা এটি আয়োজন করি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ পিএম


ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁকে ঘিরে মিছিল, স্লোগান এবং বড় পরিসরে খাবারের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মো. রুবেল মিয়া প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে হলে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানিয়ে ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’ এবং ‘রুবেল ভাইয়ের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’—এ ধরনের স্লোগান দেওয়া হয়। পরে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও অন্যান্যদের নিয়ে হলের ডাইনিং রুমে প্রায় ৩০০ জনের খাবারের আয়োজন করা হয়। যদিও তখন আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিং চালু ছিল না।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রুবেল বর্তমানে হলের ৩০১ নম্বর কক্ষে একাই অবস্থান করছেন। কক্ষে দুটি বেডের পাশাপাশি কর্মীদের বসার জন্য কয়েকটি চেয়ারও রাখা হয়েছে। অথচ গত ২১ জুলাই প্রকাশিত হল প্রশাসনের রুম বরাদ্দ তালিকা অনুযায়ী, কক্ষটি ৪৭তম ব্যাচের চারজন রি-এড শিক্ষার্থীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে ৩০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এখনো হলে ওঠেননি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের হল নীতিমালা অনুযায়ী, সমাপনী বর্ষের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে কৃতকার্য ও অকৃতকার্য—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীকেই হলের সিট ছাড়তে হয়। এছাড়া প্রভোস্টের পূর্বানুমতি ছাড়া হলে কোনো ভোজ বা আমোদ-প্রমোদের আয়োজন করা যায় না।


রুবেল ৪৬তম ব্যাচের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ৪৭তম ব্যাচের সঙ্গে রি-এড করলেও গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ইতোমধ্যে ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করেছেন।


৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৮তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তারেখ শেখ বলেন, “আমি হলে নিয়মিত থাকব না। মূলত পরীক্ষা বা বিশেষ প্রয়োজনে হলে আসব। ৩০২ নম্বর কক্ষে অতিরিক্ত বেড রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেই থাকব।”


একই কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান মুন্না প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে বলেন, “হলে উঠব ভেবেছিলাম, কিন্তু উঠিনি। আর আমি অ্যালটমেন্টও নিইনি।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নজরুল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, “জুলাই আন্দোলনের পর বুটেক্সে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বরাদ্দ ছাড়া রাজনৈতিক নেতার হলে অবস্থান এবং প্রকাশ্যে রাজনৈতিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর করা উচিত। আর নীতিতে পরিবর্তন এলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন।”


বুটেক্স ছাত্রদলের এক পদধারী নেতা বলেন, “সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রুবেল ভাই হলে উঠেছেন। খুব শিগগিরই হল কমিটি ঘোষণা করা হবে।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. রুবেল মিয়া বলেন, “নজরুল হলে রুম দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং অসত্য। আমি বারবার আবেদন করার পরেও হল প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।

ক্যাম্পাসের রানিং স্টুডেন্ট হিসেবে আমি হলগুলোতে অবস্থান করার পুরোপুরি অধিকার রাখি। আশা করি অতিদ্রুত হল প্রশাসন আমার আবেদনটি আমলে নিবেন।”


খাবারের আয়োজনের জন্য হল প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টরা জানান, এ বিষয়ে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ডাইনিং কর্তৃপক্ষও জানায়, এটি রাজনৈতিক আয়োজন—এমন কোনো তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।


ঘটনার পরদিন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মোতাকাব্বির হাসান তমাল বলেন, “আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। খোঁজ নিয়ে হল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”


তবে চার দিন পরও রুবেল হলে অবস্থান করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের ডাইনিং বা অন্য কোনো সুবিধা ব্যবহার করতে হলে প্রভোস্টের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু এই আয়োজন আমার অনুমতি ছাড়াই হয়েছে। রুবেল হলে সিটের জন্য আবেদন করেছিল, তবে তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ৩০১ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে তারা ৩০২ নম্বর কক্ষে থাকবে এবং ৩০২ নম্বর কক্ষে বরাদ্দপ্রাপ্তরা ৩০১ নম্বর কক্ষে উঠবে। কিন্তু তারা এখনো হলে ওঠেনি। তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এক-দুই দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে।”


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বুটেক্সের সিন্ডিকেটের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

কুবি শিবির সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুবি শাখার সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির।


৫ আগস্ট (বুধবার) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন।


মোজাম্মেল হোসাইন আবির বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে তফাৎ অনেক। আওয়ামী লীগের যেসব দোসর আমাদের ওপর হামলা করেছিল, তারা এখনো ক্যাম্পাসে মাথা উচু করে চলাফেরা করছে। যেসব শিক্ষক ওই হামলায় মদদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যেও ন্যূনতম লজ্জাবোধ আমরা দেখতে পাই না।"


তিনি বলেন, "বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের সনদ বাতিল করা হয়েছে এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়নি, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি আমাদের জন্য যেমন লজ্জাজনক, তেমনি দুঃখজনক।"


তিনি আরও বলেন, "সময় থাকতে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করুন। অন্যথায় তারা যদি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন তারা কে বিএনপি, কে জামায়াত তা দেখবে না। তাদের প্রথম ছোবল প্রশাসনের ওপরই আসবে।"

সর্বশেষ সব খবর