জাল নোটে শাস্তি বাড়ছে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ এএম

হাতে থাকা টাকার নোটটি আসল নাকি জাল-এ নিয়ে প্রতিদিনই বিপাকে পড়েন দোকানি, ব্যাংক কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ মানুষ। অনেক সময় না জেনেই কেউ জাল নোটের লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। 


প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে জাল নোট তৈরির কৌশলও বদলে যাওয়ায় এবার পুরো অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনছে সরকার। নিজের কাছে জাল নোট রাখলে শাস্তি হবে সর্বোচ্চ ৭ বছর।


অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘জাল মুদ্রা প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর ৮ পৃষ্ঠার একটি খসড়া তৈরি করেছে। খসড়াটি ইতিমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে দিয়ে খসড়ার ওপর উন্মুক্ত মতামত চেয়েছে এ বিভাগ।


খসড়ায় জাল নোট তৈরি, বাজারজাতকরণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও লেনদেনের মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধানের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত, জব্দ ও বিচারের পৃথক আইনি কাঠামোর প্রস্তাব করা হয়েছে। 


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বলছে, বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি মোকাবিলাই নতুন আইন করতে যাওয়ার মূল লক্ষ্য।


খসড়া অনুযায়ী, জাল নোট তৈরি করা, তৈরির চেষ্টা করা, বিশেষ কাগজ, কালি বা নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ করা, জাল নোট আমদানি-রপ্তানি, পরিবহন, বিক্রি কিংবা বাজারজাত- সবই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এমনকি কেউ জেনেশুনে জাল নোট নিজের কাছে রাখলে বা লেনদেনে ব্যবহার করলেও শাস্তির আওতায় আসবেন। এ জন্য জেল হবে সর্বোচ্চ ৭ বছর।


কেন এই আইন


বর্তমানে দণ্ডবিধিসহ কয়েকটি আইনে জাল মুদ্রাসংক্রান্ত অপরাধের বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব বিধান বিভিন্ন আইনে ছড়িয়ে থাকায় তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। নতুন আইনে সব ধরনের অপরাধকে একটি আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টিং যন্ত্র, বিশেষ কাগজ, কালি ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। 


আদালতের নির্দেশে এসব আলামত ও জব্দ করা জাল নোট ধ্বংস করার ব্যবস্থাও থাকবে। ফলে শুধু জাল নোট উদ্ধার করাই নয়, এর উৎপাদনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, ‘মতামত গ্রহণ শেষে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’


জাল নোট নিয়ে খসড়ায় যা আছে


প্রস্তাবিত আইনের খসড়ার অন্যতম নতুন দিক হলো, জাল মুদ্রার ধরনগুলো স্পষ্টভাবে আলাদা করা হয়েছে। খসড়ায় টেম্পার্ড (কারসাজি করা নোট), ব্লিচড (রাসায়নিকে ছাপ মুছে পুনর্মুদ্রিত নোট) এবং মিসম্যাচড (অমিল অংশ বা সিরিয়ালযুক্ত নোট) মুদ্রার সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু সম্পূর্ণ নকল নোট নয়, আসল নোটের মূল্যমান বা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা, রাসায়নিক ব্যবহার করে নোটের ছাপ মুছে নতুনভাবে ছাপানো অথবা বিভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে নতুন নোট তৈরির মতো কাজও জাল মুদ্রা হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এত দিন যেসব কৌশলে প্রতারণা করা হলেও আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ ছিল, নতুন আইনে তা অনেকটাই দূর হবে।


খসড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত কারেন্সি অফিসারের দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো নোট পরীক্ষা করে সেটি জাল কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দেবেন তিনি। আদালতে এই প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এতে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য হবে।


খসড়া আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অধিকাংশ অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে পুলিশ সরাসরি মামলা নিতে ও তদন্ত করতে পারবে। একই সঙ্গে আপস বা সহজে জামিনের সুযোগও সীমিত থাকবে। তদন্ত, আলামত সংরক্ষণ, আদালতের এখতিয়ার এবং বিচারপ্রক্রিয়াও আইনে বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


১০ বছর ধরে যা হয়েছে


২০১৫ সালের পর থেকে দেশে জাল নোট তৈরির কৌশল যেমন পাল্টেছে, তেমনি বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানও। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রায় প্রতিবছরই রাজধানী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় জাল নোট তৈরির কারখানা এবং সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার আগে নগদ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় এ সময় জাল নোট উদ্ধারের ঘটনাও বেশি সামনে আসে।


২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জাল নোট শনাক্তে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিতে শুরু করে। ব্যাংক শাখায় নোট যাচাই যন্ত্র ব্যবহার, সন্দেহজনক নোট দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো এবং গ্রাহকদের সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হয়। 


২০১৮ সালের পর তদন্তে দেখা যায়, আধুনিক কম্পিউটার, উচ্চ ক্ষমতার রঙিন প্রিন্টার ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে জাল নোট তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৩ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও জাল নোটের লেনদেনের চেষ্টা হচ্ছে।


বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাল নোট নিয়ে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এবং আসল নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে লেনদেনের পরামর্শ দেয়। 


চলতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোয় জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে টঙ্গী ও গুলিস্তানে অভিযানে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ পিএম

পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আাজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।


পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে দ্রুত ওয়েবসাইটটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে। এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবাও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।


তবে পিএইচপি ব্যবহার করা সব ওয়েবসাইটই ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন নয়। ব্যবহৃত সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সার্ভারের সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।


সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো এই নির্দিষ্ট ত্রুটির কারণে সরাসরি ঝুঁকিতে পড়ার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যাচাই করা হচ্ছে।


সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্ভারে পিএইচপির ব্যবহার ও সংস্করণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। 


তাৎক্ষণিক হালনাগাদ সম্ভব না হলে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং অননুমোদিত সংযোগ পর্যবেক্ষণের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৫ পিএম

ইন্টারনেটের বড় একটি অংশ পরিচালনায় ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে ভয়াবহ নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উদ্বেগ। ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।


নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট স্লো করে রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।


তিনি বলেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেতে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি ডিপার্টমেন্ট কাজ করছে।এদিকে, বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিএইচপির এই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা দুর্বলতাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ধারণা করা হচ্ছে, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়েবসাইট কোনো না কোনোভাবে এই ঝুঁকির আওতায় থাকতে পারে।


ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পিএইচপির ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংস্করণ ও নিরাপত্তা প্যাচ প্রকাশ করা হয়েছে।


বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স ও ফিনল্যান্ডের সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কিছু ওয়েবসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নিজেদের অনলাইন সেবা নিরাপদ রাখতে কিছু ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির সরকারি ও প্রকাশ্য ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপিতে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা পিএইচপির এসব ত্রুটি শনাক্ত করেন। ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ওয়েব উন্নয়নে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষার দুর্বলতা খুঁজে বের করার কাজ করছিলেন তারা। এ কাজে ওপেনএআইয়ের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।


ওপেনএআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। গবেষকদের ধারণা, পিএইচপির এসব ত্রুটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অজানা অবস্থায় ছিল। ফলে এত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবাগুলো নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।


পিএইচপির ত্রুটির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার ঘটনাটিও ছিল আকস্মিক। পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য এবং সমাধানের পদ্ধতি প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিষয়টি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় পিএইচপি ফাউন্ডেশন।


সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশ করতে পারে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি, ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা অন্যান্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


এ কারণে পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবার মালিকদের দ্রুত নিজেদের প্রযুক্তিগত কাঠামো পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্যাচ দ্রুত সংযোজন এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হওয়ায় এই ত্রুটির প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে। ফলে শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সেবাই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত করে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ এএম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমেছে। ফলে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকায়। 


বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। 


বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) এক দফা স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। 


নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। 


স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ থাকছে দেশের ব্যাংক ও শেয়ারবাজার। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজার ছুটি এবং এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম। একই সময়ে বন্ধ থাকবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনও।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা পাঁচদিন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা চালু থাকবে।


ছুটির আগে গত শনিবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছিল। সেদিন সাধারণ কর্মদিবসের মতোই ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


এদিকে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় একই সময়ে দেশের দুই পুঁজিবাজার—ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) লেনদেনও বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং কার্যক্রমের সঙ্গে শেয়ারবাজারের লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তবে পূজার ছুটিতেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায়, এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে।


এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে ব্যাংকগুলোকে।


এর আগে গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটির দিন গত ১৭ অক্টোবর সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো করা হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা আপাতত আগের হারেই তাঁদের ভাতা পাবেন। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন তাঁরা যে হারে ভাতা পেতেন, পরের আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সে হারেই ভাতা পেতে থাকবেন। 


অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।


সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রজ্ঞাপনটি প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ দিকে এ মাসেই বাড়তি বেতন পেতে শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।


সরকারি চাকরিজীবীদের ২০২৬ সালের বেতন ও ভাতাদি আদেশে নির্ধারিত মূল বেতন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারে ভাতা দেওয়ার বিধান করেছে সরকার। বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছিল ঠিক এক মাস আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। অবশ্য নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী ভাতা যে পরে দেওয়া হবে, সে ঘোষণা আগেই দিয়েছে সরকার।


নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের পুরো বর্ধিত বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮-এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন–ভাতা দেওয়া হবে।


গত ১ জুলাই থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর প্রথম ধাপ, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপ এবং ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় ধাপে দেওয়া হবে মূল বেতন। ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।


নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। এ জন্য ৫ অক্টোবর থেকে সরকারের আইবাস প্লাস প্লাসের ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করছেন সরকারি কর্মচারীরা।


অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাস শেষে সরকারি কর্মচারীরা বাড়তি হারে বেতন পাবেন। এ জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা আছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ এএম


আইএমএফ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। তবে দেশে তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।


শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এশিয়ার শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলে ধরে সংস্থাটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না।


আবার যারা কাজ করছেন, তাদের অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।


আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধানকে এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এদিকে, দেশের শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিপত্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত অনেক শ্রমিকের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয় ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ সীমিত। ফলে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকলেও অনেকের কর্মপরিবেশ ও জীবিকা অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।


প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়বে।


এই জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প ও সেবা খাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি বলে প্রতিবেদনের তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।


এ ছাড়া এশিয়ার শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবও বিশ্লেষণ করেছে আইএমএফ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশাগুলোতে নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশাগুলোর চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, এআই-সংক্রান্ত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে।


বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে। ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছে। 

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর