আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:৪২ এএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, আমরা কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই। আমি আসার পর থেকেই এই চেষ্টাটা করছি, কিন্তু এখনো অগ্রগতি হয়নি। এই প্রজেক্টটা নিতে হবে। 


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি আজ বুধবার এসব কথা বলেন। 


সভায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা কর জরিপের একটা বড় প্রজেক্ট নিতে চাই। আমি আসার পর থেকেই এই চেষ্টাটা করছি, কিন্তু এখনো অগ্রগতি হয়নি। এই প্রজেক্টটা নিতে হবে। সারা বাংলাদেশে আমাদের যদি ১০ বছরও লাগে, ফেজ ওয়াইজ আমরা সারা বাংলাদেশে একদম চিরুনী অভিযান দেবো। তারপরও আমাদের এই জরিপ কার্যক্রম কমপ্লিট করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, হোল্ডিং এর বাইরেও যেমন আমাদের ডেস্কো আছে, ডিপিডিসি আছে, যেখানে ইলেকট্রিক মিটার আছে। আমরা যেটা করবো ট্যাক্স রিটার্নের সঙ্গে এগুলোকে লিঙ্ক করবো। যখন কেউ ট্যাক্স রিটার্ন সাবমিট করতে যাবে তখন দেখা যাবে যে উনাকে জানান দেয়া হবে আপনার নামে এতটা ইলেকট্রিক মিটার আছে। অমুক অমুক জায়গায় এই প্রপার্টিগুলো আছে। এগুলোকে যদি উনি ওনার ওয়েলথ না দেখান অথবা এই প্রপার্টিগুলোর ইনকাম না দেখান। তাহলে উনাকে এটার জন্য এক্সপ্লেইন করতে হবে। নাহলে উনি রিটার্ন সাবমিট করতে পারবে না। 


অনলাইন কর নিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, যেহেতু আমরা অনলাইনে কর রিটার্ন শতভাগ কম্পালসারি করেছি। এটা খুবই সাকসেসফুল হয়েছে। আমাদের অলমোস্ট যারা ট্যাক্স রিটার্ন দেওয়ার সবাই রিটার্ন দিয়ে দিয়েছে। কিছু ট্যাক্স পেয়ার সময় চেয়েছেন। আমি গতকালকে দেখলাম ৫ হাজারের মত করছে প্রতিদিন। ফলে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কিন্তু কমে যাবে।


তিনি আরো বলেন, আমরা ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টিগ্রেট করছি। ট্যাক্স পেয়ার যখন রিটার্ন সাবমিট করবে তখন ওনাকে একটা অপশন দেবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে- আপনার ব্যাংকের যে চারটা ইনফরমেশন লাগে রিটার্ন সাবমিট করার জন্য একটা হচ্ছে ক্লোজিং ব্যালেন্স কত, আরেকটা হচ্ছে মুনাফা কত পেলেন, মুনাফার মধ্যে কত ট্যাক্স কাটলো এবং ব্যাংক আপনাকে কত চার্জ করলো। আপনাকে জিজ্ঞেস করা হবে যে এই তথ্যগুলো কী আপনি অটোমেটিক্যালি ব্যাংক থেকে নিতে চান? আপনি যদি ইয়েস বলেন, তাহলে আপনার ইনফরমেশন সব রিটার্নে চলে আসবে। প্রথমে আমরা ভলেন্টিয়ারি করবো, কারণ আপনার যদি ছয়টা-সাতটা ব্যাংক একাউন্ট থাকে। ছয়-সাত জায়গায় আপনার লোক পাঠানোর দরকার তো নাই। অনেক ব্যাংক আছে স্টেটমেন্টের জন্য আবার আপনাকে চার্জ করে। কোন দরকার নাই, আপনি ক্লিক করবেন আপনার সব তথ্য চলে আসবে। আমরা আবার তখন দেখবো কতজন নিজেরা এটা নিয়ে আসছে, আর কতজন আনে নাই। যারা আনে নাই স্বাভাবিকভাবে তাদের দিকে আমাদের চোখ একটু কিলবিল করবে। আমরা একটু ভালো করে দেখার জন্য ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগাবো। ওনাদেরটা বোঝার জন্য।


আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিত (বিএপিইউএস), বাংলাদেশ পেপার মার্চেন্টস এসোসিয়েশন (বিপিএমএ), বাংলাদেশ পেপার মিলস এসোসিয়েশন (বিপিএমএ), বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি (বিএমএসএস), বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফার্নিচার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিএফইএ)-সহ ১২টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় তারা তাদের ব্যবহারের জন্য আমদানিকৃতি পণ্যের ওপর কর কমানোর আহ্বান জানায়।


করদাতাদের বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ টাকা করার সুপারিশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে থাকা করসীমার মধ্যে থাকা সীমিত আয়ের করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।


আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্‌-বাজেট আলোচনায় এমন প্রস্তাব দেন ডিসিসিআই নেতারা। এ সময় ঢাকা ও সিলেট জেলার বিভিন্ন চেম্বার তাদের প্রস্তাব তুলে ধরে। তাদের বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।


ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন এ বি এম লুৎফুল হাদি। তিনি নন–লিস্টেড কোম্পানির জন্য করহার ২৫ শতাংশ করার দাবি জানান। বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম করহার সাড়ে ৭ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।


বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) প্রস্তাব তুলে ধরেন চেম্বার সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমছে। তাই শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কর্মসংস্থান বাড়ানো যাবে না। অন্য খাতে গুরুত্ব দিতে হবে।


ছোটদের শুল্কের চাপ নিয়ে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বড় কোম্পানির প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানিতে ১ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অগ্রিম কর, আগাম আয়কর, মূসকসহ ৩০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।


এ সময় বিসিআই সভাপতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য করের আলাদা স্তর করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১ কোটি টাকার ব্যবসায় বছরে ৫ হাজার বা ১০ হাজার টাকা কর দিতে হবে—এমন স্তর করা যায়।


সভায় সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার থেকেও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৩১ পিএম

তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করেছে সরকার। সচিবালয়ে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। দাবি পূরণ হওয়ায় সড়ক ছেড়ে কাজে ফিরে যেতে শ্রমকিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


এর আগে, গত শুক্রবার শ্রমিক নেতা এবং গতকাল শনিবার তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। দুই পক্ষের আলোচনার পর গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে আজ রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। 


ঘোষিত মজুরি বোর্ডে চেয়ারম্যানের শেখ আশফাকুর রহমানের নেতৃত্বে বাকি সদস্যরা হলেন, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন, শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারন সম্পাদক বাবুল আখতার, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ন মহাসচিব আসিফ আইয়ুব ও নিরপেক্ষ দুই সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও আনোয়ার হোসাইন। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের নূন্যতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার। 


সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়। সেই হিসাবে নভেম্বর মাসে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণার কথা। 


তৈরি পোশাক খাতে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা।


টিসিবির ট্রাকসেল ও এর লোগো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

ভোক্তাদের জন্য পণ্যের পরিসর বাড়ানো, বাণিজ্যিক আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমাতে আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ গুঁড়া, মরিচ গুঁড়া ও চা বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।


টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ বলেন, ‘সাশ্রয়ী মূল্যে ভোক্তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বাণিজ্যিক পণ্যের পরিসর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। আমরা ইতোমধ্যে সাবান ও ডিটারজেন্ট বিক্রি শুরু করেছি। আগামী নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত হলুদ ও মরিচের গুঁড়া বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। চা বিক্রিরও অনুমোদন পেয়েছি। আশা করছি, নভেম্বরেই এটি বাজারে আনতে পারব।’


টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, সংস্থাটি আটা বিক্রির পরিকল্পনাও করছে। এ ছাড়া বাজারের চাহিদা যাচাই করে আরও কয়েকটি পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে বাজার জরিপ চলছে। জরিপের ফল ইতিবাচক হলে নতুন পণ্য বাজারে আনা হবে।


আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয় বাড়িয়ে এবং সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পণ্যের পরিসর বাড়াচ্ছে টিসিবি। এরই মধ্যে সংস্থাটি কাপড় কাচার সাবান, গোসলের সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু করেছে। এসব পণ্য প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হলেও সংগ্রহমূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন, পাশাপাশি এসব পণ্য থেকে টিসিবি সামান্য মুনাফাও করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে টিসিবি ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।


ফয়সল আজাদ বলেন, ‘পণ্যের পরিসর বাড়ানো এবং আরও বেশি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারলে সংস্থার আয় বাড়বে। আমাদের লক্ষ্য হলো পণ্যের পরিসর বাড়িয়ে অতিরিক্ত আয় করা।’


বর্তমানে টিসিবি নতুন বাণিজ্যিক পণ্যের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ গ্রাহকের কাছে পৌঁছাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে এর সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। আগামী অর্থবছরে গ্রাহকসংখ্যা এক কোটিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।


টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাত্র ৪ মাস আগে নতুন পণ্যগুলো বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে সাড়া মোটামুটি ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তবে গ্রাহকসংখ্যা আরও বাড়াতে চাই।’


নতুন পণ্য বিক্রির কারণে বিদ্যমান ভর্তুকির পণ্যের দাম বাড়বে না বলে জানান তিনি। এসব নতুন পণ্য কেনা বা না কেনার সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপরই থাকবে।


এদিকে স্মার্ট কার্ডভিত্তিক বিতরণ কর্মসূচির বাইরে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির সুযোগও খতিয়ে দেখছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ভোজ্যতেল বিক্রির একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ চলছে। প্রস্তাবিত এ কর্মসূচির আওতায় পণ্য বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ডিলারদের কাছ থেকে আবেদনও আহ্বান করেছে সংস্থাটি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ পিএম

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় আরও তিন বছর পিছিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। নেপালের উত্তরণের সময়ও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতিসংঘে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেনি কোনো দেশ। ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে বক্তব্য দেন। তবে তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের তাগিদও ছিল।


এর আগে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সুপারিশ পাঠায় জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। তার আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদন পর্যালোচনা করে জানায়, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠায় ইকোসক।


বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট


এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অগ্রগতি প্রতি তিন বছর পরপর মূল্যায়ন করে সিডিপি। এ ক্ষেত্রে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়। কোনো দেশ অন্তত দুটি সূচকে নির্ধারিত মান অর্জন করলে অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ তিনটি মানদণ্ডেই উত্তীর্ণ হয়েছে।


১৯৭৫ সালে এলডিসির তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ। এরপর থেকে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ বিভিন্ন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছে দেশটি। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়। এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করা হয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির অভিঘাত মোকাবিলা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য উত্তরণের সময় দুই বছর বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরণের সর্বশেষ নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের নভেম্বর।


জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ জানায়, উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেও ধারাবাহিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে প্রস্তুতি গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। কভিড-১৯-এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি ও খাদ্যের বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়।


দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক খাতের অনিয়ম, গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের জন্য জাতীয় বাজেট থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।


বাংলাদেশের আবেদনে বলা হয়, এসব কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর-জিডিপি অনুপাতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাংক ও পুঁজিবাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে দারিদ্র্য হ্রাসের অগ্রগতিও ব্যাহত হয়েছে। ফলে উত্তরণের প্রস্তুতির পরিবর্তে সরকারকে সংকট মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।


এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বিবেচনায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং উত্তরণ-পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়েছিল।


দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে এলডিসি উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, এলডিসি-সুবিধা হারালে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে রপ্তানি খাতে।


তাঁদের মতে, উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আওতায় পাওয়া শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। ওষুধশিল্পে মেধাস্বত্ব-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরও কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে। উৎপাদিত পণ্য ও সেবায় নগদ সহায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দেওয়ার সুযোগও সীমিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যে সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাঁচামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উৎসবিধি আরও কঠোর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে তৈরি পোশাকশিল্পে।


বাড়তি সময়ে সরকারের পরিকল্পনা


অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়তি প্রস্তুতিকালে অন্তত ২৫টি সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সরকার। বাণিজ্য, আর্থিক খাত, রাজস্বব্যবস্থা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্ত বাণিজ্য বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এ ছাড়া ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ক্ষমতা বাড়ানো, সংকটাপন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়ন এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:১০ পিএম

দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


সোনার পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২৭৪ টাকা।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরী প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার বিক্রয় মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের নিকট থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। মজুরী ও পাথর বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ এর ক্ষেত্রে ১২% ও পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮% বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।







রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৫ পিএম

পাওয়ার স্টার্টআপ বা বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পেয়েছে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ- বায়েরা এর অনুমোদন দিয়েছে।


এই ধাপে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। আগের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।


আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ ‘বি টু’। এই ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপরই শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি।


এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। এখানে ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত এলে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।


এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের প্রারম্ভিক লোডিংয়ের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়া। আাজ বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা-রোসাটম।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৯ পিএম

এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম মিলনায়তনে এ শুনানি শুরু হয়েছে।


শুনানিতে এলপিজি আমদানিকারকেরা বর্তমান কমিশন দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।


বিইআরসিতে জমা দেয়া আবেদনে দেখা গেছে, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। 


অন্যদিকে, পরিবেশকেরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন করেছেন।


এলপিজি আমদানির ব্যবসায় নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করে। এ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছ থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে সিলিন্ডারজাত করার কাজে যুক্ত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান।