টিসিবির ট্রাকে পণ্য পেতে ধাক্কাধাক্কি-গন্ডগোল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

ঘড়ির কাঁটায় তখনও ১১টা বাজেনি। দক্ষিণ ঢাকার কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার প্রধান সড়কের ওপর টিসিবির ট্রাক পৌঁছাতেই লাইনে জায়গা ধরতে পড়িমরি ছুটছে আশপাশের লোকজন। সময় যত গড়াচ্ছে, ভিড়ও তত বাড়ছে। 


এর মধ্যে হুটহাট হট্টগোল বাধছে। লাইনে কে আগে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চলছে লড়াই। গতকাল কাজলার ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেল পয়েন্টে এমন চিত্রই দেখা গেছে।


বাজারে বাড়তে থাকা নিত্যপণ্যের দামে হাঁসফাঁস দশা নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের। তাদের কাছে বাজার যেন এখন এক জ্বলন্ত উনুন। তেল, ডাল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ডিম, এমনকি সবজির বাজারেও খরচের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। 


প্রতিদিন অন্যান্য জেলার পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনি বিক্রি করছে সংস্থাটি। বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে পাওয়ায় টিসিবির এসব ট্রাক ঘিরে প্রতিদিন পণ্যপ্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।


একটি ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা প্যাকেজ আকারে দুই লিটার ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা লিটার, চিনি ৮০ টাকা কেজি ও মসুর ডাল ৭০ টাকা কেজি হিসেবে প্যাকেজের দাম পড়ছে ৪৮০ টাকা। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই পরিমাণ পণ্য কিনতে খরচ পড়বে অন্তত ৬৬৫ টাকা। অর্থাৎ টিসিবির প্যাকেজে সাশ্রয় হচ্ছে ১৮৫ টাকা। 


তবে লাইনে দাঁড়ানো নারী-পুরুষ মিলিয়ে শুধু প্রথম ৪০০ জনের কপালেই জুটছে টিসিবির পণ্য। তাই লাইনে আগে জায়গা পেতে মরিয়া অপেক্ষমাণ ক্রেতারা। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে জায়গা ধরে রাখতে লড়াই করতে হচ্ছে তাদের।


সরেজমিন দেখা গেছে, বিক্রয়কর্মীরা সবাইকে সিরিয়াল নম্বর দিলেও লাইনে তর্কাতর্কি থেমে নেই। দুটি লাইনে মধ্যবয়সী নারী-পুরুষের পাশাপাশি রয়েছেন প্রবীণরা। ধাক্কাধাক্কির মাঝে খেই হারিয়ে ফেললেও নিজের জায়গা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বৃদ্ধ মো. নবী হোসেন।


কথা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল আইসা পাই নাই। তাই আইজ বৃষ্টি হইলেও আগেভাগে আইসা লাইন ধরছি। কিন্তু জুয়ান ব্যাডাগো লগে ধাক্কাধাক্কিতে পারন যায় না। যাতাযাতিতে দম বাইর হইয়া যায়। তারপরও কষ্ট কইরা দাঁড়াইছি। বাজারের চাইতে দাম কম। বাইচা যাওয়া টাকা সংসারের অন্য কাজে লাগানো যাইবো।’


আরেকজন ক্রেতা মো. দেলোয়ার মিঞা বলেন, ‘বাজারে তো মেলা দাম। এইখানে কষ্ট হইলেও যে টাকা বাঁচে, তা দিয়া এক-দুই দিনের বাজার হইয়া যায়। তাই লাইনে জায়গা ধরতে এই লড়াই করতাছি।’


কাজলার লাইনে দাঁড়ানো রিজিয়া পারভিন নামে এক নারী বলেন, ‘প্রতিবেশীগো লগে সেই রায়েরবাগ থেইকা আইছি। এখন আর ওইদিকে ট্রাক দেহি না। খবর পাইয়া এইখানে আইছি। কিন্তু সিরিয়াল পাইলাম না। ভাবলাম বৃষ্টির মধ্যে লোক কম হইবো। কিন্তু ভিড় তো মেলা। টিসিবির ট্রাক কবে, কোনহানে, কয়টায় আইবো, এইটা যদি জানা যাইত, তাইলে আমগোর কষ্ট কমত।’


রিজিয়ার প্রতিবেশী ফাতেমা খাতুনেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘আগে থেইকা জানা থাকলে এমনে এইহানে-ওইহানে টাক খাইয়া বেড়ানো লাগত না। বেশি দূরে তো যাইতে পারি না। যাইতে-আইতে ভাড়ায় টাকা খরচ হয়।’


গত সোমবার থেকে চালু হওয়া এ ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন ট্রাকপ্রতি গড়ে ৪০০ মানুষের জন্য পণ্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য পৌঁছাবে টিসিবি। 


কিন্তু উপকারভোগীদের আক্ষেপ, ট্রাকপ্রতি যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা অল্প সময়ে ফুরিয়ে যায়। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে পণ্যের প্রত্যাশায় ছুটে এসেও অনেককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।


গতকাল দুপুরে মানিকনগর বিশ্বরোডে বাসস্ট্যান্ডের ধারে টিসিবির ট্রাকের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য পাননি মো. রহমত উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সকালের দিকে বৃষ্টি, এখন আবার রোদ। এর মধ্যেও চেষ্টা করছি। কিন্তু পণ্য পাই নাই।’ তিনি অভিযোগ করেন, অনেকে পরিবার একাধিক সদস্যকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত পণ্য নিচ্ছে। এতে অনেকে পণ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


জানতে চাইলে এখানকার টিসিবির ডিলার নজরুল স্টোরের মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন ঘণ্টার মধ্যে পণ্য বিক্রি শেষ। হালকা বৃষ্টি থাকলেও পণ্য বিক্রি থেমে থাকেনি। পণ্যের চেয়ে ক্রেতা অনেক বেশি। যারা পণ্য পান না, তাদের অনেক অভিযোগ। কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।’


কাজলায় পণ্য বিক্রয়কারী টিসিবির ডিলার রাশেদ ট্রেডার্সের রাশেদুল করিমও বলেন, ‘আমাদের সীমিত পণ্য। যে পরিমাণ পণ্য পাই, তা তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পণ্য কিনতে মানুষ আসে দ্বিগুণ। তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়। অনেক সময় গন্ডগোলও বাধে। এগুলো সামাল দিতেও বেগ পেতে হয়।’


টিসিবি জানিয়েছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১১ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন ধরে চলবে এ বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম। গত সোমবার থেকে চালু হওয়া এ ট্রাকসেল কার্যক্রম চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। কিন্তু বছরজুড়েই ট্রাকসেল অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।


মানিকনগর ও কাজলার পণ্যপ্রত্যাশীরা বলছেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে ট্রাকসেলে কিছুটা স্বস্তি মেলে তাদের। তাই সারা বছর এমন কার্যক্রম চললে তাদের টিকে থাকা কিছুটা সহজ হবে বলে জানান তারা। সেই সঙ্গে পণ্যের চেয়ে চাহিদা বেশি হওয়ায় বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশি জায়গায় বিক্রির দাবি জানান তারা।


বাজারে স্বস্তি ফেরানোর তাগিদ দিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে; মূল্যস্ফীতিও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে স্বস্তি দিতে ট্রাকসেল চালু অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে এটা কোনো সমাধান নয়। আমাদের বাজারে স্বস্তি ফেরাতে বেশি জোর দিতে হবে। সরবরাহ বাড়িয়ে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনতে হবে। যেসব কারণে দাম বেড়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে। চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, প্রতিযোগিতায় ঘাটতি, কারসাজি-এগুলো বন্ধ করতে হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে অনেক কষ্টে আছে নিম্ন আয়ের মানুষ। সে তুলনায় টিসিবির পণ্যের মাধ্যমে অল্প সংখ্যক মানুষ কিছুটা উপকৃত হচ্ছেন। এর বরাদ্দ ও পরিধি বাড়াতে পারলে ভালো। তবে বাজারে পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে আনতেই হবে। বাজারে নিবিড় মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই।’




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩২ পিএম

ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী পাঁচ দিন সারাদেশে হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 


সংস্থাটি জানায়, এ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। 


বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া এক পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।


আগামী শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।


আগামী রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আগামী সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা আবারো আগামী ডিসেম্বরে আসার কথা জানিয়েছেন একটি ইন্টারভিউতে, এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রথম কথা হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা করছে কি করছে না, সেটা আপনি কীভাবে জানেন? অবশ্যই চেষ্টা করছে, আমি বলছি। দ্বিতীয়ত হলো- একজন ফাঁসির আসামি হলেও সে যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়, বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বাংলাদেশে এসে সারেন্ডার করতে চায়, সেখানে হয়তো তার সারেন্ডারের আগেই অ্যারেস্ট হবে। কিন্তু তার সেই তো অধিকার তো আছে।


‘এলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সেখানে তো আমাদের... আইনের ব্যত্যয় করে আমরা কিছু করবো না। আইন যেভাবে আমাদের অথরিটি দিয়েছে, আমরা সে অথরিটি এক্সারসাইজ করব।’ বলেন আইনমন্ত্রী।


ওনার কাছে পাসপোর্ট নেই, উনি এলে কীভাবে আসবেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উনি কীভাবে আসবেন এটা ওনার সমস্যা। এটা আমার সমস্যা না। আমাদের... এটা হলো আমার চৌহদ্দির মধ্যে যখন ঢুকবেন, সেই চৌহদ্দিতে ঢুকলে আইন যেটা আমাকে ক্ষমতা দিয়েছে, আমি আইনের প্রয়োগটা করবো। দ্যাটস সিম্পল এজ ইট ইজ।


আপনি বলেছিলেন যে, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তো এখন কি সে পর্যায়ে আছে? নাকি স্পেশাল অধিবেশন ডাকতে হবে? এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এটা এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো আলোচনায় আসেনি। আমি বলেছি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা। আমার সংবিধানে আছে, ১২৩-এর ২ অনুচ্ছেদে, রাষ্ট্রপতি যেদিন পদত্যাগ করবেন, তার থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রশ্ন এসেছিল যে, আমরা বিশেষ অধিবেশন ডাকবো কি না। তো ৯০ দিন যেহেতু সময় আছে, আর আমার নেক্সট অধিবেশন ৬০ দিনের মধ্যে ডাকতে হবে, গত অধিবেশন শেষ হওয়া থেকে আগামী অধিবেশন পর্যন্ত ৬০ দিনের মধ্যে আমার ডাকতে হবে। সুতরাং এই দুইটা টাইম যেহেতু ম্যাচ করছে, আমি সে কারণে বলছি বিশেষ অধিবেশনের আপাতত প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। যদি সরকার মনে করে, নিশ্চয়ই ডাকতে পারেন।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

দেশে গত এক দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে আরো একজন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বুধবার জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। আর হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।


হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩২০ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই আছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১০৭ জন। এছাড়া রাজশাহীতে ৯১, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৪, ময়মনসিংহে ৬৯, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১১ জন মারা গেছে।


মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ৯২৫ জন।


আর যাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাদের ৭৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এই সময়ে। তবে হাসপাতালে যাওয়া সবার নমুনা পরীক্ষা হয় না বলে এই সংখ্যা দিয়ে এ রোগের বিস্তারের প্রকৃতি চিত্র পাওয়া যায় না।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হামের তথ্য প্রকাশ করে আসছে। ওই সময় থেকে এক লাখ ২৬ হাজার ৫৪০ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে।


তাদের মধ্যে এক লাখ ৯ হাজার ৩৬৬ জন হাসপাতালে ভার্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। আর নমুন পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনের ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম
  • আপডেট : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ এএম


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৫০ জন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী।


আর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৪ জনে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল বিভাগ ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছে।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৫১ পিএম

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ককে ফের কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল ও ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি। বুধবার জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেছেন যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সার্ককে আবার কার্যকর করে সেই লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।


এক্ষেত্রে তিনি নেপালকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালে রাষ্ট্রদূত তাতে একমত হন।


নেপালের ফেডারেল পার্লামেন্টে ‘বাংলাদেশ-নেপাল সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠিত হওয়ায় দেশটির স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান কায়সার কামাল।


বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও শিগগির এই মৈত্রী গ্রুপ গঠন করে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি।


ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, উভয় দেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ কার্যকর হলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব হবে।


এছাড়া পারস্পরিক সংসদীয় সফর আয়োজন, আইন প্রণয়ন ও সুশাসনের অভিজ্ঞতা বিনিময়, আন্তর্জাতিক ফোরামে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, পানি, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্র বাড়ানোর সুযোগ দুই দেশ কাজে লাগাতে পারে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ‘নতুন অভিযাত্রার’ প্রশংসা করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন তিনি।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতিসংঘের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জন করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন নেপালের রাষ্ট্রদূত।


সাক্ষাতকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন প্রতিক কার্কি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:২৬ পিএম

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব আষাঢ়ী পূর্ণিমা আজ বুধবার। আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দিন। কেননা এই দিনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন, ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন এবং ভারতের সারানাথে পাঁচজন শিষ্যের কাছে প্রথম ধর্মপ্রচার করেন, যাকে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র বলা হয়। 


এ উপলক্ষে আজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে। বৌদ্ধ সম্প্রদায় নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার দিনটি উদযাপন করবে। 


বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হবে। অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে- ভোরে জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, বৌদ্ধ পূজা ও ভিক্ষু সংঘের শীল গ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, অতিথি আপ্যায়ন, বিকেলে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, আলোকসজ্জা ও প্রদীপ প্রজ্জালন এবং দেশের সমৃদ্ধি ও বিশ্বশান্তি কামনায় সমবেত উপাসনা। 


বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের উদ্যোগে রাজধানীর সবুজবাগের ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে দিনব্যাপী অনুরূপ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে। 

বিষয় : দিবস