বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

আগামী পাঁচ বছর বিএনপি সরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার। অনেক বড় প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।


খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ছয়টি সার কারখানার মধ্যে অনেকগুলো গ্যাসের অভাবে উৎপাদনে বিঘ্নের মুখে পড়ছে। এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সার কারখানা চালু রাখতে পারে—এমন বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে। উৎপাদিত সার সরকার কিনে নেবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি বন্ধ থাকা পাটকলগুলোতেও চীনা বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ই-লার্নিং সেন্টার স্থাপন ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে চীন বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে। এর মাধ্যমে দু’দেশের রিলেশনশিপ আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।


চীনের রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপিকে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অভিনন্দন জানান।


বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীন ভূমিকা রাখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রথম বিনিয়োগ আনবে চীন। আগামী ৫ বছর বিএনপি সরকারের হাত ধরেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছি। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রদূত।


এসময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৯ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা, অগ্রণী ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নতুন নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২৬ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব আফরোজা আক্তারের সই করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক, নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংক এবং মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. মাহবুব আলম এর আগে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসিতে অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রধান ঝুঁকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


অন্যদিকে মো. নূরুল হুদা বর্তমানে জনতা ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ জনতা ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক একজন কর্মকর্তা নিয়োগ পেলেও বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব পাচ্ছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিরই একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়া নূর মোহাম্মদ যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৯ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ নিয়োগ দেওয়া হলো। এর আগে সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ ও চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বিভিন্ন কার্যক্রম চলে। নতুন নিয়োগের মধ্য দিয়ে জনতা ও বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৮ পিএম

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে বেসরকারি ব্যাংকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক এবং যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে নিয়োগের জন্য সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। 


এ ছাড়া সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলের আগের আদেশ প্রত্যাহার করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ফলে তিনি সোনালী ব্যাংকের এমডি পদে বহাল থাকছেন।


সোমবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক-১ শাখা থেকে এসব নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ-সংক্রান্ত পৃথক চারটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।  


দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বেসরকারি ব্যাংকের এমডি


আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার মো. মাহবুব আলমকে জনতা ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে বেসরকারি ব্যাংকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের এভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তারা।


বেসিক ব্যাংকের এমডিও পরিবর্তন


অন্য একটি চিঠিতে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল হুদাকে বেসিক ব্যাংক পিএলসির এমডি ও সিইও পদে যোগদানের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের নিমিত্ত মনোনয়নে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১’ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. শওকত আলী খানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে ১৯ অক্টোবর দেওয়া আদেশটি প্রত্যাহার করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। 


আজ সোমবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগের ওই আদেশ এতদ্বারা প্রত্যাহার করা হলো। ফলে শওকত আলী খান সোনালী ব্যাংকের এমডি ও সিইও পদে বহাল থাকছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫১ এএম

আপনি আয়কর রিটার্ন জমা দিলেন না। ভাবুন তো, আপনার কী হবে। কর কর্মকর্তারা কঠোর হলে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়া হতে পারে। দেশে সোয়া এক কোটি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএনধারী) আছেন। বছরে রিটার্ন দেন প্রায় ৫০ লাখ করদাতা। বাকি ৭৫ লাখ করদাতা রিটার্ন দেন না।


আইন অনুসারে, টিআইএনধারী সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দিতে হয়। আর ৪৫ ধরনের সরকারি–বেসরকারি সেবা নিতে হলে রিটার্ন দিতে হয়।


এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রিটার্ন দেননি। এবার দেখা যাক, আয়কর রিটার্ন না দিলে কী জরিমানা হয়।


রিটার্ন না দিলে কী হয়


আয়কর আইন অনুসারে, পাঁচ ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা। এগুলো হলো—


১. জরিমানা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা


নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে ব্যবস্থা নিতে পারবেন কর কর্মকর্তারা। এ ধারায় বলা হয়েছে, আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা যাবে। তবে এ জরিমানা কমপক্ষে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করতে পারবেন। কোনো তদন্তের ক্ষেত্রে রিটার্নের তথ্য চাওয়া হলে তা দিতে ব্যর্থ হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।


২. কর ছাড় পাওয়া যাবে না


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে কর অব্যাহতির সুবিধা পাওয়া যাবে না। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।


৩. বাড়তি ২ শতাংশ কর


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।


৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন


সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে আপনার বাড়ির গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। এমনকি শিল্পকারখানার মালিকেরা যদি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের আয়কর রিটার্ন না দেন, তাহলে গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ কেটে দিতে পারবেন তাঁরা।


শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে।


৫. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা


সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নির্ধারিত উচ্চ গ্রেডের (প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা) কর্মকর্তাদের সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়। বেসরকারি খাতের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।


রিটার্ন দেওয়ার সময় শেষ কবে


চলতি অর্থবছর থেকে রিটার্ন দেওয়া যাবে সারা বছর। প্রথম তিন মাস (জুলাই–সেপ্টেম্বর) রিটার্ন কর ছাড় পাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দিলে যা কর বসবে, তা–ই দিতে হবে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রিটার্ন দিলে করের পাশাপাশি জরিমানা বসবে।


তাই অর্থবছর পেরিয়ে গেলেই শুধু রিটার্ন–সংক্রান্ত জরিমানা, বাড়তি করসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের বিপি পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসির কাছ থেকে এক কার্গো কেনা হবে। 


গতকাল শনিবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫১তম এবং অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৫তম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপির কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) বেঞ্চমার্ক মূল্যের চেয়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ০.১৭ ডলার কম।


এ ছাড়া কাতারের সঙ্গে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির অতিরিক্ত আরও এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি এই কার্গো সরবরাহ করবে। এর দাম হবে জেকেএম বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউ ০.১০ ডলার কম। কার্গোটির সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখ আগামী ২০ ডিসেম্বর।


অন্যদিকে, জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটসের সঙ্গে এলএনজি কেনাবেচার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পেট্রোবাংলা ও জেরার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তি (এসপিএ) এবং টার্ম শিটের খসড়া নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।


পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯ (২) বিধির আওতায় প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়। তবে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার আগে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের আইনি যাচাই বা ভেটিং সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে প্রস্তাবটি কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০২ পিএম

বৈশ্বিক সতর্কতার মুখে ঝুঁকি এড়াতে আগে থেকেই বন্ধ রাখার পরও রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। ওয়েবসাইটের অন্তত দুটি স্থানে ‘স্প্যাম’ বা হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর তা ঠিক করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। এ কারণে ছুটির পর ব্যাংকিং লেনদেন শুরু হলেও রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা যায়নি।


জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটে দুটি জায়গায় হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই সাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।


এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন থেকেই দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।


বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে (PHP) দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে। 


সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত সিকিউরিটি প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।


সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়তি সুরক্ষার তাগিদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল যথারীতি চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৪ এএম

এইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে তিন দিন বন্ধ রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হয়।


সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঝুঁকি বিশ্লেষণ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাইটটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, রোববার কর্মদিবস হওয়ায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের সুবিধা বিবেচনায় ওয়েবসাইটটি খুলে দেওয়া হয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। একই কারণে পিএইচপিভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিএইচপির এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা কার্যকর করতে পারে।


এতে সার্ভারের ফাইল, ডেটাবেজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক পরিসরেও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান একই কারণে সতর্কতা অবলম্বন করেছিল।


এদিকে সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতাধীন প্রায় ৩৬ হাজার ৫০০টি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলোর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, বিজিডি ই-গভ সার্ট দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএইচপির সংস্করণ যাচাই, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে সার্ভারে প্রবেশাধিকার সীমিত করার জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট সচল হওয়ায় সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সর্বশেষ সব খবর