রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা
ঈদের আগে গতকাল (১৬ মার্চ) শেষ কর্মদিবসে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা। একই সঙ্গে বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল যাত্রীদের আনাগোনা।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। এতে লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কজুড়ে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। রাজধানীর পরিবহন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ, তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঈদের আগে গতকাল (১৬ মার্চ) ছিল শেষ কর্মদিবস। ফলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতে দেখা গেছে পুরোনো সেই ব্যস্ততা। একই সঙ্গে বাস টার্মিনালগুলোতেও ছিল যাত্রীদের আনাগোনা। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ।
গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সদরঘাটে লঞ্চ শ্রমিক, কুলি ও মজুরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ (১৭ মার্চ) থেকে ঘাটে চাপ আরও বাড়বে।
সদরঘাট ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ভিড় করছেন। কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি। ঈদের ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করেছেন।
সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও এখন যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি করে লঞ্চ ছাড়ছে। আজ থেকে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেক ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২ হাজার ৪০০ টাকা। ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ঢাকা থেকে মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেক ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা। চাঁদপুর রুটে ডেক ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাঁদপুরগামী আল বোরাক লঞ্চের টিকিট বিক্রেতা জমির উদ্দিন জানান, এখনো ডেকে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও কেবিনে কিছু যাত্রী রয়েছে। তিনি বলেন, "আজ থেকে যাত্রীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।"
চরফ্যাশনগামী একটি লঞ্চের স্টাফ আবদুল বলেন, "ঈদের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময় লঞ্চগুলো প্রায় ফাঁকাই থাকে। তাই ঈদকে ঘিরেই কিছুটা ব্যস্ততা ফিরে আসে।"
পরিবার নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিলেন যাত্রী সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, "ভিড় এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। ভাড়া আগের মতোই রয়েছে।"
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় সদরঘাটের ব্যস্ততা আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে ঈদসহ বড় উৎসবের সময় আবারও সেই পুরোনো কর্মব্যস্ততা ফিরে আসে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন টিবিএসকে বলেন, "ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নতুন ট্রলি সরবরাহ করা হয়েছে। শেষ কর্মদিবসে ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তবে সেতু চালুর পর সাধারণ সময়ে আগের মতো চাপ আর থাকে না।"
এদিকে গাবতলী বাস টার্মিনালে সোমবার দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর ভিড় তেমন দেখা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চাপ বাড়বে। টার্মিনালের বিভিন্ন কাউন্টারের কর্মকর্তারা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সমন্বয়ে একটি ভিজিল্যান্স টিম অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহা বলেন, "যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।"
সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার ফারুক হোসেন জানান, "১৭ থেকে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট শেষ। তবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে।"
মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি হচ্ছে।
গাইবান্ধাগামী যাত্রী আব্দুল আলীম বলেন, "পাঁচ দিন আগে টিকিট কেটেছি। এখন টিকিট পাওয়া যায় না। ভাগ্য ভালো থাকলে স্ট্যান্ডিং বাসে ওঠার সুযোগ মেলে। ভাড়া ৭৫০ টাকা নিচ্ছে, আগে ৬০০ টাকায় যাওয়া যেত।" তবে কাউন্টারে প্রদর্শিত ভাড়ার তালিকায় গাইবান্ধার ভাড়া ৭৫০ টাকাই নির্ধারিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বাসচালক শফিকুল বলেন, "ভাড়া আগেও একই ছিল। তবে যাত্রী কম থাকলে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতো। ঈদের সময় গাড়ি খালি ফেরে, তাই ভাড়া কমানো সম্ভব হয় না।"
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সোমবার দুপুরের পর থেকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকেল ৪টার পর থেকে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যা ও আজ ভোরে চাপ আরও বাড়তে পারে।
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহামুদুল হক জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ ছয়টি দল কাজ করছে।
তিনি বলেন, "নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন। সরকার ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসহ রোগীদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধও বিতরণ করা হচ্ছে এই হাসপাতাল থেকে।
এছাড়া ‘স্বাস্থ্যসেবা সবার অধিকার’– এই নীতির আওতায় হাসপাতালের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিটের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাসপাতালটিতে বস্তিবাসীদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টার, আট তলায় দুটি পৃথক ওয়ার্ড (পুরুষ ও মহিলা) চালু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, উদ্বোধনের পর গত আড়াই মাসে বহির্বিভাগে ৬১০ জন সেবা নিয়েছেন। ২৩ জন বিভিন্ন জটিল রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সাত জনের অপারেশন করা হয়েছে। আরও তিন জনকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অপারেশন করা হবে।
৫ মে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৫০ শয্যার আইসিইউ বেড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। একই দিনে তিনি আইসিইউ ইউনিটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন ও গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে ডা. জুবাইদা রহমান রাজধানীর তিন বস্তির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বস্তির নিম্নআয়ের মানুষ এই সুবিধা ভোগ করছেন।
এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় বস্তিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রান্তিক ও বস্তির সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তারা বলেছেন, এতদিন অর্থের অভাবে তারা বড় হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন না, তারা এখন বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং ওষুধ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা আমেনা বেগম বাসসকে বলেন, প্রায় তিন মাস আগে ছানির সমস্যার কারণে এক চোখের অপারেশন করাতে তার ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি অপর চোখের অপারেশনের জন্য আবারও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এবার এই চিকিৎসার জন্য তার কোনও টাকা লাগছে না।
বিনামূল্যে এমন উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে আবেগাপ্লুত আমেনা বেগম আরও বলেন, ভাগ্য ভালো বলেই আমরা এই বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছি। সরকারের এই উদ্যোগ তাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক বড় উপকার বয়ে এনেছে।
রাজধানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারের সময় বস্তিবাসীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার এখন বিনামূল্যে সকল চিকিৎসা পাচ্ছি কুর্মিটোলা হাসপাতালে।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে আমাদের অনেক বেশি সম্মান দেওয়া হচ্ছে। আমাদের যে খাবারটা দেওয়া হচ্ছে, তা বেশ উন্নত।
হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই তিন বস্তির মানুষ ক্যানাসর ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও এখানে বিনামূল্যে পাচ্ছেন। সেবা নেওয়ার জন্য তাদের কেবল ১০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট কাটতে হয়, এরপর বাকি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বস্তির প্রকৃত রোগীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য বস্তিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। একটি সমিতির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবকেরাই রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এছাড়া হাসপাতালে আসার পর তাদের জন্য আলাদা টিকিট কাউন্টারসহ তাৎক্ষণিক সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক– এই তিন বস্তির নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এই তিন বস্তির মানুষকে হাসপাতালে এসে শুধু ১০ টাকা দিয়ে একটা টিকিট কাটতে হয়। বাকি সব দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, হাসপাতালটিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও বিনামূল্যে পাচ্ছেন এসব বস্তির মানুষ। এখানে সবারই সমান এক্সেস রয়েছে। বস্তিতেই ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করা আছে। একটা সমিতির মাধ্যমে ওনারাই রোগীদের আমাদের কাছে নিয়ে আসেন। বস্তি থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে নিজস্ব কোনও লোক না থাকলেও হাসপাতালের কর্মীরাই দায়িত্ব নিয়ে তাদের সম্পূর্ণ সেবা দেন।
ছবি : সংগৃহীত
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই। যা ভবনের ভেতরে ঢুকে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ মারা যান ৩৫ জন। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন।
বছর শেষ হলেও এখনো মুছে যায়নি সেই ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় স্মৃতি। কালো এ দিনটির কথা ভুলতে পারেননি স্বজনহারা পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দেশের জনগণ।
ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহপাঠীদের ভালোবাসা ও আবেগে দিনটি পালন করেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহতদের স্মরণে আমরা দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম দিনে স্কুলের ১৬টি শাখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাস ছাড়া মাইলস্টোনের অন্যান্য শাখায় সাধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে থাকছে দুটি প্রধান আয়োজন।
বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিপিজেএফ ঢাকা মহানগর শাখার প্রধান সমন্বয়ক মো. হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।
প্রধান বক্তা ছিলেন বিপিজেএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল)। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের কেন্দ্রীয় নেতা মাজহারুল হক, দৈনিক প্রতিদিন খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।
এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাহাবুব আলম বাবু দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, দৈনিক আজকের দুর্নীতি পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ জেলা ব্যুরো প্রধান মাহাবুব আলম বাবু মামলার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ) পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ডুবেছে একটি ট্রলার। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও দুই যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরিশাল থেকে আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১০ যাত্রীর মধ্যে ৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লা জেলার কোনো স্থানে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।
রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত-এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক হুংকার-এর নির্বাহী সম্পাদক এম. হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকাল-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আল-আমিন শাওন এক যৌথ শোকবার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন।
শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, "সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু ও সাকিবুল হাসানের অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁদের এই অকাল প্রয়াণে সাংবাদিক সমাজ হারাল দুই নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই গভীর শোক সইবার শক্তি দান করুন।"
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা পেশায় মরহুম দুই সাংবাদিকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁদের আদর্শ, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে) মরহুম দুই সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সংগঠনটি একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় ভুক্তভুগীর বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রকৃত দাবিদারদের বঞ্চিত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে আমিনা খাতুনসহ ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল সুমন বলেন, অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দাবিদারদের পরিবর্তে হারুন ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ ঘটনায় আদালতে রিট ও দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এ কারণেই বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।।