ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীতে প্রতিনিয়ত সড়কে বের হয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে স্থবির হয়ে পড়ে নানা সড়ক। তাই সকালে বের হওয়ার আগে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি তা জেনে নিন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনের শুরুতেই দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচির তালিকা।
রেলমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচি
সকাল ১০টায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) এবং কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপো পরিদর্শন করবেন।
বিএনপির কর্মসূচি
সকাল সাড়ে ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
ডেপুটি স্পিকারের কর্মসূচি
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবন থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি
বিকেল ৪টায় ভাটারার গ্রিনমাইন্ড কনভেনশন সেন্টারে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
বিকেল সাড়ে ৪টায় হোটেল ফারস অ্যান্ড রিসোর্টে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের’ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রাজধানীর রোজ গার্ডেন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন
ঢাকা শহরকে মাদক, ময়লা, মশা ও যানজটমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘পদে থাকা না থাকা বড় বিষয় নয়; জনগণের সন্তান, ভাই ও সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করতে চাই। ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
বুধবার রাজধানীর কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও গাছ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ওয়ারী থানা বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের সেবা করাই তাঁদের প্রধান কাজ। মাদক, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল করে চাঁদা আদায় কিংবা অন্যের জমি দখলের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
নিজের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তাঁর আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। সংসদ ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি এলাকার বিষয়গুলোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে তাঁর কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো করার জন্য তিনি সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান।
ইশরাক হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চের নামে কয়েক শ গাড়ি নিয়ে রোডশো করা হয়েছে। এতে জনগণের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করা জ্বালানির অপচয় হয়েছে। লং মার্চ করতে হলে একটা পরিস্থিতির প্রয়োজন হয়। দেশে একটা সেই ধরনের সংকটের প্রয়োজন হয় এবং সেখানে গণমানুষের পার্টিসিপেশনের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে হাজার হাজার, শত শত কিলোমিটার গিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে যে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করা হয়, সেটিকে বলে লং মার্চ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম তারা বেশ কিছু ভাড়া গাড়ি নিয়ে দামি দামি গাড়ি নিয়ে এসি গাড়িতে করে একটা পিকনিকে গেল, একটা রোডশো করল। এই রোডশো করার মাধ্যমে তারা আসলে কী অর্জন করতে চেয়েছে, সেটি তো আমি জানি না। তবে অবশ্যই তারা জনগণের কষ্টে অর্জিত যে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা আমদানি করে থাকি, সেই আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় করেছে, অপব্যয় করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ তারা নষ্ট করেছে এটাই বাস্তব, প্রকৃত সত্য।’
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন বড় গ্রুপকে সিলিন্ডার গ্যাসের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যবসার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচার করা হয়েছে।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, তারা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জ্বালানি সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে পারত। কিন্তু তারা নানা ধরনের অভিযোগের তীর ছুড়ে চলেছে। গুম ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপি আন্দোলন করতে গিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করে চলে গেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুবাইয়ের একটি ল ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে। বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।
ইশরাক আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতারাতি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ দল হলেও তাদের সমর্থকদের বাংলাদেশের জনগণের বাইরে বের করে দেওয়া হয়নি। নিরীহ আওয়ামী লীগ সমর্থক বা ভোটার পরিবারের ওপর জোর-জবরদস্তি, অর্থ আদায় কিংবা ভয়ভীতি দেখানো হলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য থাকে না। তিনি বলেন, যারা গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল, বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্যাতন করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য লুটপাট ও দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নিরীহ সমর্থকদের হয়রানি করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন, ওয়ারী থানা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক মুক্তা, গোলাম মোস্তফা সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু, ওয়ারী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মাসুদ রেজা সুমন ও তবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ারী থানার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বুলবুল।
প্রতীকী ছবি
শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর ও সংযোগের (টাই-ইন) কাজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আজ বুধবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাসাবো, খিলগাঁও, মাদারটেক, শাহজাহানপুর, সিপাহীবাগ, তিলপাপাড়া, মালিবাগ, শান্তিবাগ ও তালতলা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং অংশে রেললাইনের দুই পাশে ভালভ স্থাপন এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিতরণ লাইন স্থানান্তরের কাজের টাই-ইনের জন্য এ সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।
এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
ঢাকা সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা ভোট করবে এনসিপি
এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়ায় দোকানে ঢুকে মো. আসলাম খান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে শনির আখড়া রয়্যাল হাসপাতালের সামনে ‘লাকীজ কুকারিজ’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহত আসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তাঁর বন্ধু মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা দোকানের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত যুবক দোকানে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসলামকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। এতে আসলাম রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
মনোয়ার হোসেন আরও জানান, গুলিতে আসলামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধাওয়া করে আটক করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, তা তিনি জানেন না।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, গুলিবিদ্ধ আসলামের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, শনির আখড়ায় গুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম মনজুরুল ইসলাম বলে জানা গেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
নিহত পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেন
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁদের কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে আলতাবের পরিবারের ভাষ্য।
আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকেরা ওই গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপরও তাঁকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
আলতাবের কাছে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এ সময় তাঁর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। এরপর আরিফুল ও তাঁর বাবা কারখানার বাইরে বের হন। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের ভাষ্য, গাড়িটিতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল শনিবার ছুটি থাকায় তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটা তাঁদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। তাঁদের কারখানার বাম পাশে একটা জায়গায় বালু ফেলায় একটা মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তাঁরা নেশা করেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজার বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে পাওয়া ৮০টি স্বর্ণের বার যার ওজন ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।
বুধবার রাতে উড়োজাহাজটির একটি সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশি বা রামেজিংয়ের জন্য উপস্থিত হন। এ সময় উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৯এ নম্বর সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কতিপয় বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে কাস্টমস হলে এনে সকলের উপস্থিতিতে ইনভেন্ট্রি করে ওই মোড়ক থেকে ৮০ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকা।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। শুল্ক-করাদি ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে এগুলো দেশে আনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটককৃত স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক পণ্যের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব স্বর্ণের বার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, ঢাকা সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগামীতেও এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।