রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করবেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে- এ রকম একটা গুঞ্জন বুধবার সন্ধ্যা থেকেই আলোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব জায়গায়। একটি ফেসবুক পোস্টের সুত্র ধরে অনেকে মেনেই নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন। তাহলে প্রশ্ন— আসলে কী কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন? আবার অনেকের মনেই প্রশ্ন— তিনি কি আসলেই পদত্যাগ করছেন নাকি এটি শুধুই গুঞ্জন? কারণ আগেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন।  


প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি। তবে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ একজন বলেছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকারকে শিগগির চিঠি লিখবেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে ‘পদত্যাগের বিষয়টি’ তিনি তুলে ধরতে পারেন।


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার কেউ বক্তব্য দিতে চাননি। এ নিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। 


বুধবার ফেসবুকে জুলকারনাইন সায়ের লেখেন, ‘আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।’


আসলে কী ঘটছে তা জানতে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এসএমএসে তিনি বলেন, ‘আপনার মতো আমিও (খবরটা) দেখছি।’


বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলেন, ‘শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।”


এদিকে প্রবাসী এক সাংবাদিক ফেসবুকে লিখেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তাকে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার কথা। বলা হয়েছে ২৫ জুলাইয়ের আগেই তিনি যেন এই পদত্যাগপত্রে সই করেন। অর্থাৎ এবারের ৫ আগস্টের আগেই দেশ একজন নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে।


সম্ভাব্য অনেকের নাম নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বলা হয়েছে শেষ মুহূর্তে যদি "সরকার" কাউকে তার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকেই হয়তো ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হতে পারে। পরবর্তীতে হয়তো সুবিধাজনক সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অথবা অন্য কাউকে এই পদের জন্য সরকার বিবেচনা করবেন।


গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো: সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো। পাঁচ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করলে, জামায়াত বা সমমনা দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে, এ রকম তথ্য সরকারের কাছে আছে। মূলত এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে ঘুরে আসেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন।২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেই অস্ত্রোপচারের ফলোআপ পরীক্ষা করাতেই তিনি যুক্তরাজ্যে যান।

১২ মে কেমব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম করা হয়। সে সময় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনিতে গুরুতর ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। এরপর তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।


৯ দিন পর দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। তখন বঙ্গভবনের প্রেস বিভাগ ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে তার শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক’ বলে জানিয়েছিল।যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সারসংক্ষেপ ও নথিতে ডিজিটালি অনুমোদন দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। লন্ডনে সুদানের প্রধানমন্ত্রী কামিল ইদ্রিসের সঙ্গে তার অনানুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাতও হয়।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। দেশে ফিরে ২৭ জুন তিনি জাতীয় সংসদে সফরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তার সফরের বিষয়ে অবহিত করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে তারেক রহমান বুধবার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বা অন্য কোনোভাবে সফরের ফল তাকে অবহিত করেছেন, এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি। এ কারণে অনেকেই বলছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে।


পদত্যাগের কথা আগেও বলেছিলেন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, “আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই।” সেদিন রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ‘নতুন সরকার আসলে… নতুন সরকার বললে, অনুরোধ করলে।’ কেন পদত্যাগের কথা ভাবছেন, সেই প্রশ্নে তার উত্তর ছিল, “আমার ভালো লাগে না।”


অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে কোণঠাসা করে রাখা, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং সংকুচিত করায় ‘অপমানবোধ’ করার কথাও পরে বলেছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি তখন পদত্যাগ করেননি। ১৭ ফেব্রুয়ারি তার কাছেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেন। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।”


বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার পাশে ছিল বলেও দাবি করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ওই বছরের ১৯ অক্টোবর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো ‘দালিলিক প্রমাণ’ তার কাছে নেই। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি করে। বঙ্গভবনের সামনেও বিক্ষোভ হয়। তখন বিএনপি সাংবিধানিক সংকট তৈরির আশঙ্কা তুলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বিরোধিতা করেছিল।


ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর পর জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় তার অবস্থান এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।


পদত্যাগ করলে কী হবে

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে পছন্দের তালিকায় নাম থাকলেই কাউকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ নেই। তাকে প্রার্থী হতে হবে এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলটির সিদ্ধান্তই নির্ধারক হবে।


মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি শপথ নেন। পদত্যাগ না করলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।



সর্বশেষ সব খবর

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আগামীকাল শুক্রবারই (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের কথা জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।


বঙ্গভবনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা।


নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দেরি হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরে কোনো সংশয় নেই বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।


বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্র বলেছে, পদত্যাগ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।


এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বপালনরত অবস্থায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।


এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।

সর্বশেষ সব খবর

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ এএম

দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়ায় এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়া দিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হবে। ১১ সদস্য দেশের এই সম্মেলনে বাইরের বিভিন্ন দেশকে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারে আয়োজক দেশ।


এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা।


জবাবে তিনি বলেন, “আমন্ত্রণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসেছে, আমরা সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছি।”

সর্বশেষ সব খবর

সালমান শাহ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ এএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিন ধার্য ছিল। তবে আজ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. জিয়াউল মোর্শেদ।


এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা নতুন তারিখ দেন। এ নিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আটবার পেছাল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা–জল্পনা আছে। দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৮ এএম

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ও বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান তাঁকে র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।


আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ র‍্যাঙ্ক ব্যাজ পরানো হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান। 


বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।


ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৮৯ সালে এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। দেশ-বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।


প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশিক্ষণমূলক দায়িত্ব পালন করেন। কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক নৌ অপারেশনস ও পরিচালক নৌ পরিকল্পনা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও নৌঘাঁটির অধিনায়কত্ব করেন।


ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। 


সর্বশেষ তিনি ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ ও ওমানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে ভূমিকা রাখেন।


প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি), জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কারসহ বিভিন্ন পদক ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


  স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্ত বাহিনীর আত্মপ্রকাশ করেছে: প্রধানমন্ত্রী


সর্বশেষ সব খবর

নির্বাচন ভবন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৩ এএম

স্থানীয় সরকারের প্রথম ধাপের নির্বাচন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠানের লক্ষে এবং আগস্টে এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘ইসি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশাকরি, আগামী অক্টোবরে প্রথম ধাপের নির্বাচন করতে পারবো।’ 


আগস্টের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।


আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কয়টি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কম সময়ে বেশি নির্বাচন যাতে করা যায় সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো বা বিলম্বিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নাকি পৌরসভা বা উপজেলা কোনটা আগে আসতে পারে  সেটা সুনির্দিষ্টভাবে এখনই বলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক বিষয়াবলী বিবেচনায় নিয়েই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনসমূহ অনুষ্ঠিত হবে।

 

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে হয়তো স্থানীয় সরকারের যে প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন শুরু করা হবে সেটা শেষ করা হবে। যেমন-ইউনিয়ন পরিষদ যদি ধরি তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা যদি ধরি পৌরসভা, সিটি করপোরেশন যদি ধরি সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করা হবে। এর মধ্যে আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে যদি আদালতের কোন রায় বা কোনো নির্দেশনা থাকে- সেই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে।’

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো চিন্তাভাবনা আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।’

 

‘প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না’- এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার  বলেন, এ বিষয়ে এখনো কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।

 

তিনি বলেন, যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুব ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অর্থাৎ সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। এটা জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অতএব সেই নির্বাচন সফলতার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছিল, সেগুলো এই নির্বাচনেও নেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা কমিয়ে আনতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি থাকবে কমিশনের। নির্বাচন কমিশন মনে করে, রাজনৈতিক যে সংস্কৃতি গত নির্বাচন থেকে শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত থাকবে।  এটা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আচরণবিধি নিয়ে অনেক কাজ হয়েছে এবং এটা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

 

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে স্থানীয় সরকারের যে আইন রয়েছে, এই আইনটা একবারে দুর্বল নয়। এ আইন দিয়েই নির্বাচন করা সম্ভব। তবে অবজারভেশনের পরিপ্রেক্ষিতে যদি আইন সংশোধন হয়, তাহলে সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি আইন সংশোধন না হয় তাহলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে করে নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’


সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে ২০১৬ সালে চালু করা হয়েছিল জনপ্রশাসন পদক। ২০২২ সালে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জনপ্রশাসন পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক’ রাখা হয়েছিল। 


কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পদকপ্রাপ্তরা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এ অবস্থায় আমলাদের নতুন করে পদক প্রদান নিয়ে বিপাকে পড়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে রয়েছে অস্বস্তি।   


বর্তমান বাস্তবতায় এই নাম বহাল রেখে পদক দিলে অথবা পদক বাতিল করলে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে- এমন আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ জন্য গত দুই বছর ধরে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে না। 


এখন এই পদকের নাম পরিবর্তন করে আবার চালু, পদকপ্রাপ্তদের পদক বাতিল কিংবা নীতিমালা সংশোধন হলে নতুন কী যুক্ত হবে- এসব নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন জনপ্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 


এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি অনুবিভাগ) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ নীতিমালা বাতিল বা পরিবর্তন হচ্ছে না, সে পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। তবে দিবসটি কীভাবে পালন করা হবে, এ বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। 


দিবস আছে, অনুষ্ঠান নেই


প্রতিবছর ২৩ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষিত জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কোনো অনুষ্ঠান করছে না। 


এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পদকের নাম নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা। নাম পরিবর্তন না করে পদক দিলে সমালোচনা হতে পারে, আবার নাম পরিবর্তন করলেও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হবে। তাই আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


২০১৭ সালে জনপ্রশাসন পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন,  প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা, মননশীলতা এবং উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করতে এমন পদক প্রদান ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নতর জনসেবা দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তাই নীতিমালাকে যুগোপযোগী করা দরকার।  


২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২০৪ জন ব্যক্তি ও ১৫টি প্রতিষ্ঠান জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পেয়েছেন ৫৬ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত অবদানের জন্য পেয়েছেন দুই লাখ টাকা এবং দলগত অবদানে পাঁচ লাখ টাকা। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট। 


বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক পাওয়া এক কর্মকর্তা বলেন, নামের কারণে এ পদক আমার চাকরিজীবনে একটি কলঙ্কের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। অথচ আগের নাম থাকলে এই পদকের জন্য আজ সম্মানের স্থানে থাকতাম।  


বিপিএএ ব্যবহার করছেন অনেকে 


নীতিমালা বদল না হওয়ায় পদকের উপাধি বিপিএএ (বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক) ব্যবহার করছেন অনেক কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গোলাম রাব্বী নামের সঙ্গে লিখেছেন বিপিএএ। 


একইভাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পারভেজ হাসান এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল হাফিজ বিপিএএ লিখেছেন। এভাবে অনেক কর্মকর্তা উপাধি ব্যবহার করছেন। 


গোলাম রাব্বী বলেন, সরকার নীতিমালা সংশোধন করেনি। নীতিমালা যতক্ষণ বাতিল না হচ্ছে, ততক্ষণ উপাধি থাকবে।    


জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল ইসলাম বলেন, নামের সঙ্গে কেউ কেউ বিপিএএ ব্যবহার করছেন- এটা আমি লক্ষ্য করিনি। শিগগিরই আমরা এই বিষয়টা দেখব।

সর্বশেষ সব খবর