• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:০৪ পিএম

গত বছর ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘যুদ্ধপরীক্ষিত’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এরপর দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প এখন তুমুল ব্যস্ত সময় পার করছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ পাকিস্তানি অস্ত্র কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিলো বাংলাদেশও। পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে, এটি এখন পুরোনো খবর। নতুন খবর হলো, দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যেসব অস্ত্রের ব্যাপারে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, তা তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। 


পাকিস্তানের তিনটি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বিস্তৃত অস্ত্র সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। 


সূত্রের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি (জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি) মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান, এমএফআই-১৭ মুশাক বিমান, মনুষ্যবিহীন পর্যবেক্ষণ ও আক্রমণে সক্ষম শাহপার ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং মাইন-প্রতিরোধী সাঁজোয়া যান মুহাফিজ-এর ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য প্রকাশ করেনি। প্রতিবেদনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ-এই তথ্যটিও দিয়েছে রয়টার্স। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ‘পরীক্ষিত’ তকমা পেয়েছে। এরপর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পে নতুন করে গতি পেয়েছে। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন তিনটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) যুদ্ধ বিমানসহ প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন এবং অস্ত্র ব্যবস্থার চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে ৬ থেকে ৮টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 


দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বেশ কয়েকটি দেশ যুদ্ধবিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। 


বিশ্লেষকরা মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো এখন নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) তৈরির চেষ্টা করছে। গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশ যুদ্ধে পাকিস্তানের অস্ত্রগুলো কার্যকর বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী উন্নত চীনা প্রযুক্তিতে নির্মিত জে-১০ (জে-১০)-এর পাশাপাশি জেএফ-১৭ (জেএফ-১৭) ব্যবহার করেছিল। 



এসব প্রতিরক্ষা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি সূত্র, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত তিন কর্মকর্তা এবং এক ডজন বিশ্লেষকের সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তারা পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান অস্ত্র শিল্প এবং অস্ত্র বিক্রি আলোচনার অপ্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। 


ভূ-রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে পাকিস্তান উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে কোনো কোনো বিশ্লেষক সংশয় প্রকাশ করলেও পাকিস্তানি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি যে আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে সে বিষয়ে সবাই একমত। তবে, অধিকাংশ বিশ্লেষক এও সতর্ক করেছেন, অস্ত্র বিক্রির আলোচনা মানেই তা চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে এমন নয়। 


এদিকে, অস্ত্র বিক্রির আলোচনাগুলোকে ‘সুরক্ষিত গোপন বিষয়’ অভিহিত করে প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ রয়টার্সকে বলেছেন, এই আলোচনাগুলো চলছে, (তবে) আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এগুলো ভেস্তে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘অনেক শর্ত আসছে এবং আমরা আলোচনা করছি। এসময় তিনি জানান, বিমান বাহিনীর সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে ক্রেতারা আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’ 


ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান তালিকা 

সূত্রগুলো জানায়ে, অস্ত্র কিনতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুদান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়া। এ ছাড়া, পূর্ব লিবিয়ার সরকারও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার জেএফ-১৭ এবং অন্যান্য অস্ত্রের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইরাকের সঙ্গে আলোচনার কথা পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তবে, এই ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। 


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখেন বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসিম সুলেমান। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা হিসেবে আফ্রিকার তিনটি দেশও আছে। এই সংক্রান্ত রয়টার্সের পূর্বের প্রতিবেদনে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি এবং সুদানের চুক্তিগুলোর কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই তিনটি দেশ ওই তালিকায় নেই।’ 


ক্রমবর্ধমান সরবরাহ ব্যবস্থা 

একটি বড় বাধা হবে পাকিস্তান জেএফ-১৭-এর উৎপাদন। এটি দেশটির অস্ত্র উৎপাদন কর্মসূচির মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের প্রশিক্ষণ বিমান এবং ড্রোনের চাহিদাও রয়েছে। 


বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসিম সুলেমান বলেন, ‘প্রধান কারখানার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের ফলে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান উৎপাদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এমনকি বর্তমানে বার্ষিক প্রায় ২০টি বিমান তৈরির সক্ষমতা থেকে তা দ্বিগুণ হতে পারে।’ 


বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যত বাধা খুব কম। তা ছাড়া, বেইজিংয়ের সমর্থনে পাকিস্তান বেশিরভাগ বাধা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। 


এ প্রসঙ্গে কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ক্ষেত্রে একটি সহজলভ্য ও মধ্যম স্তরের সরবরাহকারী হিসেবে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।’ 


তিনি বলেন, ‘তারা প্রশিক্ষণ দিতে পারে, পরামর্শক পাঠাতে পারে, যৌথ মহড়া চালাতে পারে, সামুদ্রিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং সাশ্রয়ী মূল্যের বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রস্তাব করতে পারে। নাজুক আফ্রিকান অংশীদারদের জন্য এই প্যাকেজ আকর্ষণীয় হতে পারে। আর এটি পশ্চিমা অস্ত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির চেয়ে দ্রুতও হয়। তা ছাড়া, রাজনৈতিকভাবে কম জটিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সস্তা। প্রতিরক্ষা খাতে, বিশেষ করে ড্রোন নির্মাণে পারদর্শী বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বও এই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।’ 


রাওয়ালপিন্ডি শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর অবস্থিত। এখানেই বেসরকারি কোম্পানি সিসভার্ভ অ্যারোস্পেস অবস্থিত। এই কারখানার কর্মীরা বছরে শত শত কামিকাজ এবং পর্যবেক্ষণকারী ড্রোন তৈরি করেন এবং সেগুলো সামরিক বাহিনীকে সরবরাহ করে। 


চীনের অবস্থান 

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র অস্ত্র স্থানান্তর গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেন, ‘জেএফ-১৭ বিক্রির বিষয়ে চলার আলোচনার কতগুলো বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ নেবে তা স্পষ্ট নয়। নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের কাছে বিক্রির বিষয়ে বেইজিং আপত্তি জানাতে পারে। যদিও মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাজুড়ে এই বিমানের বাজারজাতকরণে পাকিস্তান চীনের স্বাভাবিক অংশীদার। তবে সুদান এবং লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনাগুলো সত্যিই সমস্যাজনক।’ 


লিবিয়া এবং সুদানের দারফুর অঞ্চল জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান মিত্র দেশ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার উত্তেজনাও সামাল দিচ্ছে। 


ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সৌদি আরব ও তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে আরেকটি প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে আলোচনাও করছে দেশটি। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। 



সর্বশেষ সব খবর

আসিফ মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১০ পিএম

দুদকের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করতেই নিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। 


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের বিরুদ্ধে দুদকে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন তিনি।


আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া বিভিন্ন পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো অনিয়মের সম্পর্ক নেই।


মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার পরিবারকে হেয় এবং চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দুদককে দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


এর আগে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল দুদক। 


তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সেগুলোর জবাব দিতে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আসিফ মাহমুদ।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৫ পিএম

ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।


ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।


জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।


ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। 


এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রুপালি সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 


ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 


মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে? 


উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’


সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’


তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’


জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। 


তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে। 


আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন। 


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।


নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। 


নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল। 


তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। 


পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।


তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।


বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে। 


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন,  নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে। 


অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।


গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪২ পিএম

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।


চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা। 


রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। 


সর্বশেষ সব খবর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।


আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ অনুরোধ জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।


পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।


এতে বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির পূর্বে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সর্বশেষ সব খবর