স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
হামের প্রকোপ মোকাবিলায় দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর কড়াইলের টিএনটি খেলার মাঠে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ কর্মসূচির আওতায় বাদ পড়া ২৪ লাখসহ মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, “আমরা নতুনভাবে আজকে ৩৪ লাখ বাচ্চাকে টার্গেট করেছি। এর মধ্যে ১০ লাখ নতুন করে ছয় মাস বয়সে পৌঁছানো শিশু, বাকি ২৪ লাখ আমাদের আগে বাদ পড়া শিশু।
“৩৪ লাখ বাচ্চাকে আমরা এই ক্যাচ-আপ প্রোগ্রামে আওতাভুক্ত করেছি দেশব্যাপী।”
হামে মৃত্যু ঠেকাতে এর আগে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও প্রকোপ কমেনি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৩ জনের। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ গেছে ১০১ জনের।
অপরদিকে হাম নিয়ে হাসপাতালে রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৪৮ জনে। এর প্রেক্ষিতে সরকার আবার হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
শনিবার ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি জোরদার করা হয়।
এর আওতায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে একই বয়সসীমায় ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে পাওয়া যায়। দুই কর্মসূচির ৪০ লাখের ব্যবধান ঘোচাতে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘মপ-আপ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়।
“ঈদুল আজহার পরের দিন থেকে আমরা আরও ১৪ লাখ বাচ্চাকে খুঁজে খুঁজে এনে নতুনভাবে টিকাদান করেছি,” বলেন তিনি।
এরপরও হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আবার কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলেছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফের কাছ থেকে ৪০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় টিকা উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ১০ লাখ টিকা সংরক্ষিত রাখা হবে এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এসব টিকা দেওয়া অব্যাহত থাকবে।
কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার জন্য ছুটির দিনেও এবং সন্ধ্যার পর টিকাদানের ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা জনগণকে একটু সচেতন করবেন, যাতে নিকটস্থ ক্যাম্পে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচিটা সফল করেন এবং বাচ্চাদেরকে টিকা দেওয়ান।”
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি গিলিয়ান মেলসপ বলেন, “প্রায় ১ হাজার জীবন হারিয়ে গেছে। প্রতিটি শিশুকে টিকাদানের আওতায় রাখার গুরুত্বের এটি একটি মর্মান্তিক স্মারক।”
হামের টিকাদানের বিশেষ এই কর্মসূচিতে সহায়তা করতে ইউনিসেফের অগ্রিম তহবিলের মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪৩ লাখ ডোজ হাম-রুবেলা টিকা দেশে এসেছে বলেও জানান সংস্থার প্রতিনিধি মেলসপ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচওর ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাজেশ নরওয়াল বলেন, বাংলাদেশে হাম-রুবেলার সংক্রমণ এখনও চলছে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি এবং টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
‘র্যাপিড কনভেনিয়েন্স মনিটরিংয়েও (আরসিএম)’ টিকাদানের ‘কাভারেজে’ অসমতা দেখা গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাদ পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতেই নতুন করে ‘ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হয়েছে।
টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি রাজেশ।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আ ন ম বজলুর রশিদ দাবি করেন, আগের দুই দফার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার ১০০ শতাংশের বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো হয়েছে।
তবে টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সময় লাগে তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অবস্থায় তৃতীয় পর্যায়ে বিশেষ ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
“আমরা আশা করছি, ৩৪ লাখ শিশুর কাছেই আমরা যাব,” বলেন বজলুর রশিদ।
আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশকে হাম ও রুবেলামুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রথম ধাপে ডিএনসিসি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়েছে। একটি শিশুও যাতে টিকার বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ইনটেনসিফাইড এমআর ক্যাচ-আপ ভ্যাকসিনেশন’ নামের এই বিশেষ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
সেদিন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এপ্রিলে দেশব্যাপী হামের টিকাদান কর্মসূচিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি (১০৯ দশমিক ৪ শতাংশ) শিশুকে টিকার আওতায় আনা হলেও প্রকোপ কমেনি। কারণ, এখন যারা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের প্রায় সবাই টিকাবিহীন।
এদিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ইপিআই ও প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারি কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে যাচ্ছে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে আগামী ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর মাঠপর্যায়ে এ নজরদারি কার্যক্রম চলবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দল আটটি বিভাগের নির্বাচিত জেলা, উপজেলা ও টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) ফোয়ারা তাসনিম।
জাইমা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করবেন। এই পদে তার প্রধান দায়িত্ব হবে সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন আইনি বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া।
সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগের কর্মকর্তা নন। তিনি মূলত সভাপতির আইনি বিষয়ে ব্যক্তিগত উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ পরিষদে কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন কীভাবে উত্থাপন করা হবে, কোনো দেশ ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সভাপতি কী ধরনের সিদ্ধান্ত দেবেন কিংবা কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না-এসব বিষয়ে সভাপতিকে আইনি পরামর্শ দেয়াও এ পদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সভাপতির সিদ্ধান্ত যেন জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত নজিরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে, সে বিষয়ে আইনি সহায়তা দেন লিগ্যাল অফিসার।
কোনো রেজুলেশন বা প্রস্তাব আগের নিয়ম কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, অথবা বাজেটসংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবে অন্য কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন কি না-এসব বিষয়ও যাচাই করা হয় এই দপ্তরের মাধ্যমে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমান যেসব দায়িত্ব পালন করবেন, সেসবের আইনি দিক দেখভালে জাইমা রহমান সহযোগিতা করবেন। তাঁর ভাষ্য, সভাপতির আইনি কাজের ক্ষেত্রে লিগ্যাল অফিসার সহায়তা করেন এবং প্রয়োজনে তাঁর সঙ্গে একটি টিমও কাজ করতে পারে।
জাইমা রহমানের দায়িত্বের মধ্যে দাপ্তরিক সমন্বয়ের বিষয়ও রয়েছে। জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি সংস্থার সঙ্গে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় করা এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতে সহায়তা করাও তার কাজের অংশ।
যেভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৪০ সদস্যের একটি দল কাজ করছে। এই দলে বাংলাদেশের ছয়জনসহ ২৯টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। তারা সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত। জাইমা রহমান ছাড়াও সভাপতির কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, জাতিসংঘে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজের এখতিয়ার থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েকজনকে কার্যালয়ে নিয়োগ দিতে পারেন।
তবে এ ধরনের পদে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকে। সাধারণত আন্তর্জাতিক আইনে অভিজ্ঞ এবং বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা জাতিসংঘে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা আইনজীবীদের এ ধরনের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
আইন ও নীতিতে জাইমার অভিজ্ঞতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
জাইমা রহমান কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ‘দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পল’ থেকে তিনি সনদ পেয়েছেন, যা দেশটিতে ব্যারিস্টারি করার যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবেও কাজ করছেন জাইমা রহমান। যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ ও জনসংযোগে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনেও তিনি বিনামূল্যে আইনি সেবা বা ‘প্রো বোনো’ কাজ করেছেন।
এ ছাড়া সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, বিচার পাওয়ার অধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা বিষয়ে কাজের আগ্রহও তার প্রোফাইলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জাইমা রহমানের রয়েছে। তাঁর মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির আইনি কার্যক্রমে সহযোগিতা করার মধ্য দিয়ে জাইমা রহমানের আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসনের সঙ্গে সাংবাদিকেরা। এরপর আরেকটি ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শেখ হাসিনা ইস্যুতে কথা বলেন
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কোনো মতামত নেই। খবর বিডিনিউজের।
গত বুধবার নিউইয়র্কে ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন। ‘অন ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিং এমন একটি বৈঠক, যেখানে সাংবাদিকেরা তথ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে তথ্যের নির্দিষ্ট উৎসের নাম প্রকাশ করা যায় না।
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং হয়।
এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকেরা ছিলেন। সেখানে বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোরের প্রতিনিধিও ছিলেন।
২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবারের ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কাছে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি যে বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনো নির্দিষ্ট করে জানাইনি।’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপরে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার যে কাজ চলছে, আমরা তার পাশে রয়েছি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই। তাই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলাটা সমীচীন মনে করছি না।’
এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সম্পর্কিত উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
সরকারি চাকরি
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে টানা সাত দিনের ছুটি থাকছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সংশোধিত ছুটির তালিকায় দুর্গাপূজার ছুটির সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখে পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ছুটি নির্ধারিত থাকলেও সংশোধিত তালিকায় তা এক দিন এগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর (রবিবার) থেকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ছুটি থাকবে। এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১৮ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে স্কুলগুলো।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকাতেও ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিনের ছুটি রাখা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সমান সাত দিনের ছুটি উপভোগ করবে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটির পাশাপাশি ঐচ্ছিক ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ছুটির নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেখানে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হলেও পূজার ছুটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, এসব বৈঠক ও কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত একটি প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, এরপর প্রধানমন্ত্রী ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেখানে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এই তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে চায় সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আমরা নতুন পর্যায়ে নিতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের কর্মসূচির বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
মাহদী বলেন, বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এর চারটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। মাহদী আমিন বলেন, এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদার বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন বলে তিনি জানান।
চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলেও জানান মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাহদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে আরও সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যান প্রধানমন্ত্রী। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ।
সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত।’
রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’
তিনি বলেন ‘ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তাঁর সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাঁদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব। বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব। বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।