ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনা চলছে। এরই মধ্যে কিছু আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ৫টি আসনে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
যেসব আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো-
ঝিনাইদহ-১ আসনে এগিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ভোট। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুর রহমান বলেন, সমস্ত কেন্দ্রের ফলাফল না আসলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
ভোলা-৩ আসন জয়ের পথে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের সবগুলো ফলাফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ১১৯ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট।
লালমোহন উপজেলার মোট ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৯ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭৮ ভোট। তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৫ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮২ ভোট। উপজেলা সককারী রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আজীজ জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বাজতে পারে।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে এগিয়ে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল। এ আসনের ১৮৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে সৈয়দ ফয়সল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৫টি কেন্দ্রে সৈয়দ মো. ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৪ ভোট। সমপরিমাণ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৯৪৮ ভোট।
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল এগিয়ে
ঠাকুরগাঁও -১ (সদর) আসনের ৯৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ৬৭ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানকে ২০ হাজর ৯৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোট পান ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে এগিয়ে বিএনপি
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। তারঁ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এগিয়ে আছেন। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানিয়েছেন, রাত আটটা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পেয়েছেন তাঁরা। ৮৮টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট। ৮৮ কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এরই মধ্যে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
রাজবাড়ীর ২ আসনেই এগিয়ে বিএনপি
রাজবাড়ীর দুটি আসনেই এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৭৮ ভোট।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ১৯৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপির হারুন অর-রশিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫১ ভোট।
পাবনার ৫টি আসনের ৩টিতে জামায়াত, ২টিতে বিএনপি
পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত তিনটিতে এবং দুটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড.ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জামায়াতের মাওলানা আছগার আলী, পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা ৫ (সদর) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন।
বগুড়ায় তারেক রহমান বিজয়ী হচ্ছেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩২ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৫৬ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট।
ফরিদপুর–২ আসনে এগিয়ে বিএনপি
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (১,২১,০৮১) ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি জয়ী
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীকে ১,৬৯,৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১,২০,৪১৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩,৯১১, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে ৪,৮৭৫, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান মই প্রতীকে ৯৬৯ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোাহাম্মদ জরিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৯১০ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি জয়ী
১৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
মাগুরা ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী
মাগুরা -১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ১৮৪১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের অবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৩৭৮৩। এ আসনে ৫২টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৫৫৩৬৬। না ভোট পড়েছে ৩১৬২২। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ১৫০১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের মুশতারশেদ বিল্লা পেয়েছেন ১১৭৮০৭। এ আসনে ২৭টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১১৬০৫টি। না ভোট ১০০৪২টি।
চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। ৪৬ হাজার ৮১২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৭৪টি।
চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট। দলীয় অফিস সূত্রে মাসুদ পারভেজ রাসেল ৫৯ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জয়ী
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি জয়ী
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। নিকটতম জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আহছান খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট, এবি পার্টির কর্নেল হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট ও জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
চার দশক পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে আরেকবার বসল বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন অধিবেশন শুরু হয়। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৮১তম অধিবেশন নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এরপর তিনি কাজ শুরু করেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এ অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাবেক পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর রহমান কর্মজীবনের বড় অংশজুড়ে জেনেভা ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বিভিন্ন সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে জেনেভায় জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন খলিলুর রহমান।
এরপর ২৫ বছর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি; ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশনার প্রধান লেখক।
বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করে। তবে এই পদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দেশের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকে পূর্ণমাত্রার কূটনৈতিক প্রচার শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না।
তবে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক ফোরামে অত্যন্ত সক্রিয় ও কৌশলগত প্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনে সফল হন। অপর দিকে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাস ২০১৬ সালে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে। এক দশক ধরে ধারাবাহিক প্রচার চালায় দেশটি।
১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হন হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কর্মস্থল কাছাকাছি, একই জায়গা, শহর কিংবা একই উপজেলায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি আজ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মারদিয়া মমতাজের বিধি-৭১ এর আওতায় জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ কথা জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে ৪৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার ইতোমধ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার। এছাড়াও আরও ২০টি ডে-কেয়ার অর্থাৎ মোট ৬৪টি ডে-কেয়ার সেন্টার এই মুহূর্তে ঢাকা শহর এবং ঢাকার বাইরে আমরা পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে আরও ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই সমস্ত ডে-কেয়ার সেন্টারগুলোতে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৫০টি ১৫ দিন থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের অফিস চলাকালীন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫৩টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে কর্মরত মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টারও আমাদের আছে। আরও ১১টি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া আরও ১২টি কিছুদিনের মধ্যে করতে পারবো। অর্থাৎ ৬৪টিতেই ব্রেস্টফিডিংয়ের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছে আজ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব এবং ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথ গ্রহণের আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন ড. খলিলুর রহমান। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ফিরছে বাংলাদেশ।
শপথ গ্রহণের পর বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভায় সভাপতিত্ব করবেন ড. খলিলুর রহমান।
ছবি : সংগৃহীত
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, উনি (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন) আইনজীবীদের কল্যাণে ও স্বার্থে কিছু কথা প্রধান বিচারপতির কাছে বলেছেন বলে দাবি করেছেন। আসলে এমন কোনো কথা আজকের মামলার প্রসিডিংয়ে (কার্যধারা) হয়নি।
এক মামলায় আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা খরচা আরোপের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনের উপস্থাপনের এক পর্যায়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে ব্রিফিং করেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
পরে নিজ কার্যালয়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে ব্রিফিং করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচারিক শৃঙ্খলা, সততা প্রাধান্য দেন। কোনো প্রতারণা যদি দেখেন, তা সিরিয়াসলি ডিল (গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন) করেন।
যে কারণে খরচা আরোপ
২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা উল্লেখ করে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘যেখানে মামলার বাদী পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন একই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে। পাঁচটি রিট দায়ের করেছেন অথচ পূর্বে রিজেক্ট হওয়ার আদেশটি পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। যে কারণে নারী আইনজীবীকে আজ আপিল বিভাগ ফাইন করেছেন পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা, যে টাকা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারী আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ হয়, তখন নারী আইনজীবী আমার পাশে বসে আদেশটি শুনেছেন; মাহবুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।’
ওই মামলায় সকাল সোয়া নয়টার দিকে আদেশ হয় বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, ‘আর এ ঘটনার (এজলাস ত্যাগ) অবতারণা হচ্ছে ১২টা ৩৫ সময়। অন্য একটি মামলার সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই প্রসঙ্গে (খরচা আরোপ) বললেন যে “একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।”
এর পরিপ্রেক্ষিতে তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, “দেখেন, আমরা সবকিছুতে দেখে–শুনে একটা আদেশ দিয়েছি, আমাদের আদেশ আমরা পরিবর্তন করব না। কারণ, ওনাদের (আদালত) বক্তব্য অনুযায়ী সিরিয়াস ফ্রড করা হয়েছে। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা এমনকি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ইতিপূর্বের আদেশও ফ্রড করা হয়েছে।”
এ পরিস্থিতিতে বললেন, “আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) এটা বলবেন না।”
কথোপকথন ও এজলাস ত্যাগ
অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস বলেন, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলে ফেললেন যে ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’ বিষয়টি প্রধান বিচারপতি একটু লাইটলি নিলেন।
তারপরে বললেন, ‘আপনি (মাহবুব উদ্দিন খোকন) কি এটা মিন করেন? মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা সেই একই কথা বলার যখন চেষ্টা করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে ‘আপনি (খোকন) যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল। যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না।’
এ কথা বলে উনি (প্রধান বিচারপতি) উঠে (এজলাস থেকে) গেছেন।’
জাহেদ-উর-রহমান ও বাঁধন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেছেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঁধনের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা ভিডিও করে সেটা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেবো না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ একটা রাজনৈতিক দল কি না, এই আলাপটা আমরা কেউ কেউ করেছি। খুব করেছি। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ আ মাফিয়া গ্যাং।
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি না, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি (আওয়ামী লীগ) যা যা ঘটিয়েছেন, যদি আপনার ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকতো, আপনার যদি রাজনীতিতে ফিরে আসার উদ্দেশ্য থাকতো, এই সহিংসতাগুলো করা হতো না। কোনোভাবেই হতো না।
বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে তার জন্য এক ধরনের সম্মান ও অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আজমেরী হক বাঁধনের উদ্দেশ্যে বলব, এটা তার এক ধরনের অর্জন, সম্মানপ্রাপ্তি যে, আওয়ামী লীগের হেনস্তার শিকার হওয়া, একটা মাফিয়া গ্যাংয়ের শিকার হওয়া প্রমাণ করে আপনি আসলে সঠিক পথে ছিলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একইভাবে আমরা অনেকেই হামলার শিকার হতে পারি। বাট উই ডোন্ট কেয়ার। একেবারেই না।
দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এর আগেও করেছে, এটা অব্যাহত আছে। আমরা প্রস্তুত আছি, আপনারা একই কাজ করতে পারেন এবং এটা কারো ওপরে যদি হয়, আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকেই কেয়ার করিনি, আমরা ওই সময় শেখ হাসিনার ১৪ পুরুষকে পালাতে বাধ্য করেছি। আর সেখানে কিছু মাস্তান একটু পার্ক-টার্কে মাস্তানি করবে, উই ডোন্ট কেয়ার। তবে আমরা ছাড়বো না, নিশ্চিত ছাড়বো না।
শেখ হাসিনা ও জাহেদ-উর-রহমান
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট ও অনড় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা নিজে আসুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ভারতের গণমাধ্যমে হাসিনাকে এখনও কথা বলতে দেওয়া অপ্রত্যাশিত: তথ্য উপদেষ্টা
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, আপনি (শেখ হাসিনা) আসবেন না, আপনাকে ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে তিনি দেশে ফিরে বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ
সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার, এ ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতে কী ধরনের মর্যাদা বা অধিকার ভোগ করছেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত সরকারের এ অবস্থান ‘সঠিক হচ্ছে না’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই।
ভারত চাইলে সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান সরকার সম্পর্কটা উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ ইমিডিয়েটলি নিতে পারতো, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না, সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইবো।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি গণমাধ্যমবান্ধব এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলেন। একই সঙ্গে পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোকে বাংলাদেশ ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেছে বলেও জানান তিনি।
তবে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশিরা হামলার শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা ‘ইরিটেটিং’ (বিরক্তিকর) ও ক্ষোভের তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
আস্থার পরিবেশ তৈরির তাগিদ
শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবাদলিপির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির জন্য একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বাস করানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায়।
তিনি আরও বলেন, একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।
সার্বিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে বাংলাদেশের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই। তিনি নিজে দেশে ফিরুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনা হোক- সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়।