ছবি: সংগৃহীত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনা চলছে। এরই মধ্যে কিছু আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে।
বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ৫টি আসনে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক সামগ্রিক ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
যেসব আসনে ফলাফলের তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো হলো-
ঝিনাইদহ-১ আসনে এগিয়ে বিএনপির আসাদুজ্জামান
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষিত না হলেও বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফলাফলের হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এএসএম মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ভোট। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও মাহফুজুর রহমান বলেন, সমস্ত কেন্দ্রের ফলাফল না আসলেও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান অনেক ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
ভোলা-৩ আসন জয়ের পথে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে সপ্তম বারের মতো সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১১৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের সবগুলো ফলাফল পাওয়া গেছে। কেন্দ্র থেকে দলীয় এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে ১১৯ কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট।
লালমোহন উপজেলার মোট ৮৩ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৯ ভোট। ১১ দলীয় জোটের মুহা. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি) পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭৮ ভোট। তজুমদ্দিন উপজেলার ৩৬ কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৫ ভোট। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৮২ ভোট। উপজেলা সককারী রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আজীজ জানান, পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে রাত ১১টা থেকে ১২টা বাজতে পারে।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে এগিয়ে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সল। এ আসনের ১৮৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি আসনের প্রাথমিক ফলাফল অনুসারে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে সৈয়দ ফয়সল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ১২৫টি কেন্দ্রে সৈয়দ মো. ফয়সল পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ২৮৪ ভোট। সমপরিমাণ আসনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ৯৪৮ ভোট।
ঠাকুরগাঁও -১ আসনে বিএনপির মির্জা ফখরুল এগিয়ে
ঠাকুরগাঁও -১ (সদর) আসনের ৯৩টি কেন্দ্রে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ধানের শীষ)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ৬৭ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী এগিয়ে
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও আপন বড় ভাই বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমানকে ২০ হাজর ৯৯৮ ভোটে পরাজিত করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মোট ভোট পান ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।
সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে এগিয়ে বিএনপি
সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির কামরুজ্জামান কামরুল বিজয়ী হয়েছেন। তারঁ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের তোফায়েল আহমদ খান।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই ও শাল্লা) বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী এগিয়ে আছেন। বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানিয়েছেন, রাত আটটা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পেয়েছেন তাঁরা। ৮৮টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট। ৮৮ কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এরই মধ্যে নাছির চৌধুরীকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।’
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন জামায়াতের আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
রাজবাড়ীর ২ আসনেই এগিয়ে বিএনপি
রাজবাড়ীর দুটি আসনেই এগিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থীরা। রাজবাড়ী-১ (রাজবাড়ী সদর-গোয়ালন্দ) আসনে ১৫৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪৪ কেন্দ্রে বিএনপির আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯২ হাজার ২৭৮ ভোট।
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ১৯৮ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বিএনপির হারুন অর-রশিদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৭৪৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) পেয়েছেন ২২ হাজার ১৫১ ভোট।
পাবনার ৫টি আসনের ৩টিতে জামায়াত, ২টিতে বিএনপি
পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াত তিনটিতে এবং দুটি আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড.ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫৮ ভোট। পাবনা ২ (সুজানগর-বেড়া) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে জামায়াতের মাওলানা আছগার আলী, পাবনা ৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা ৫ (সদর) আসনের বিএনপির অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বিজয়ী হয়েছেন।
বগুড়ায় তারেক রহমান বিজয়ী হচ্ছেন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হতে যাচ্ছেন। তিনি ১৫০টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল জানান, ৬৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে তারেক রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৩২ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৩৫৬ ভোট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
১৮০টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট।
ফরিদপুর–২ আসনে এগিয়ে বিএনপি
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম (১,২১,০৮১) ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আকরাম আলী ৮৭ হাজার ২৫০ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপি জয়ী
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) ধানের শীষ প্রতীকে ১,৬৯,৬০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯,১৮৯ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ১,২০,৪১৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীকে ৩৩,৯১১, এনসিপি মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ শাপলা কলি প্রতীকে ৪,৮৭৫, বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. আবুল হাসান মই প্রতীকে ৯৬৯ এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোাহাম্মদ জরিপ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৯১০ ভোট পেয়েছেন। কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপি জয়ী
১৭৬ কেন্দ্রে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়েছেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
মাগুরা ২টি আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী
মাগুরা -১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মনোয়ার হোসেন খান ১৮৪১৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের অবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৩৭৮৩। এ আসনে ৫২টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৫৫৩৬৬। না ভোট পড়েছে ৩১৬২২। মাগুরা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী ১৫০১৮০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের মুশতারশেদ বিল্লা পেয়েছেন ১১৭৮০৭। এ আসনে ২৭টি কেন্দ্রে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ১১৬০৫টি। না ভোট ১০০৪২টি।
চুয়াডাঙ্গার ২ আসনে জামায়াত প্রার্থী জয়ী
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মো রুহুল আমিন ভোট পেয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়েছেন। ৪৬ হাজার ৮১২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত প্রার্থী। এ আসনে ভোট কেন্দ্র ১৭৪টি।
চুয়াডাঙ্গা -১ আসনে ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১১ দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল পেয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জান শরীফ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট। দলীয় অফিস সূত্রে মাসুদ পারভেজ রাসেল ৫৯ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা আহমেদ জয়ী
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বিএনপি জয়ী
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী তমিজ উদ্দিন (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। ১৪৭টি কেন্দ্রে তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮। নিকটতম জামায়াত সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ (শাপলা কলি) ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি আশরাফ আলী (দেয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আহছান খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৬ ভোট, এবি পার্টির কর্নেল হেলাল উদ্দিন (ঈগল) পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট ও জাসদের প্রার্থী আরজু মিয়া (মোটরগাড়ি) পেয়েছেন ১৯৮ ভোট।
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে আপাতত এই লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বর্তমানে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তাই, এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পে-স্কেল বাস্তবায়ন
পে স্কেল কার্যকরে এখন শুধু অপেক্ষা গেজেটের। তবে গেজেট যখনই হোক না কেন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিবে। এরপর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক কার্যকারিতা গণনা করা হবে ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ গেজেট পরে প্রকাশ পেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন।
সূত্রের তথ্য বলছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন যথা সময়েই হবে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেজেট জারিসহ অন্যান্য বিষয় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে।’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন পে স্কেল দেওয়ার তো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটার বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটের কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। এটাকে মাথায় নিয়ে পে স্কেল ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন জমা দেয় ২১ সদস্যের কমিটি। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগস্টে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিত্যক্ত হয়ে থাকা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার এসআই ওয়াদুজ্জামান।
মো. শাকিল নামে ২০ বছরের ওই যুবকের বাসা মোহাম্মদপুরে হলেও তিনি থাকতেন ধানমন্ডির জিগাতলার শিবপুর টালি অফিস এলাকায়।
এসআই ওয়াদুজ্জামান বলেন, “আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অজ্ঞাত এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে৷ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।”
আঙুলের ছাপ শনাক্তের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা বলছে পুলিশ।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রমনা বিভাগের উপ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রিকশাচালক এই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী চলে গেছে। বাবা-মায়ের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক নেই। এসব নানা কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকেই সে গত রাতে বাসাটি ফাঁকা পেয়ে আত্মহত্যা করে বলে আমরা ধারণা করছি।”
শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম সুধা মিয়া। সেই হিসেবে বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল সুধা সদন। বাড়িটি একসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কার্যালয় হয়ে উঠেছিল। সেখানে নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত। সেখানে এখন ভবঘুরেদের যাতায়াত।
প্রতীকী ছবি
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ৬৯১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭২১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৬১৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সব বাধা অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নভো থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ভেরিফিকেশন ট্রেনিং এমবেডেড সিস্টেম পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং অ্যাডভান্স প্যাকেজিং— এসব ক্ষেত্রে কাজ শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করেছেন। সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে আমরা বিবেচনা করছি। এই খাতের উন্নয়নে খুব সম্ভবত একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, এটা একটা সম্মিলিত জাতীয় মিশন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি এই সেক্টরকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেয়া যায়, তার জন্য আমরা কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি; বিশেষ করে এই বাজেটে সেমিকন্ডাক্ট শিল্প তৈরির সব কাঁচামালের ওপরে সব ধরনের ট্যাক্স বা শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপরে নগদ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন উদ্যোক্তা উদ্ভাবন বাস্তবায়নের জন্য সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদানও রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতি কর সুবিধা, বন্ডের সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সামিটে নীতিনির্ধারক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন। দুদিনে ১১টি প্লেনারি সেশন, সাতটি কৌশলগত প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
সামিটে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের চিফ টেকনোলজি অফিসার ড. আহমেদ বাহাই, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দিমিত্রিওস পেরুলিসসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, এনএক্সপি, অ্যাপলাইড ম্যাটেরিয়ালস, স্যান্ডিস্ক, ক্রেডো এবং ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টর অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সামিটের পাশাপাশি ‘বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে শিক্ষার্থী ও স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টর, এআই, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও অন্যান্য ডিপ-টেক খাতের উদ্ভাবন ৩৫টি স্টলে প্রদর্শন করা হবে।