• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ছবি: সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩০ পিএম

শান্তিনগরের মুদি দোকানি জাহিদ হাসানের দোকানে সব পণ্য পাওয়া গেলেও তিনি নিজের তিন বছরের কন্যাশিশুর জন্য খাদ্যদ্রব্য কেনেন ‘একটু উন্নত’ ডিপার্টমেন্ট-স্টোর থেকে। তার বিশ্বাস, ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্য শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর। দাম একটু বেশি হলেও তিনি সেখান থেকেই সন্তানের জন্য গুঁড়া দুধ, চকলেট, চিপস ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য কেনেন। 


পরীবাগের বাসিন্দা সালেহা চৌধুরী জানান, বাচ্চারা চকলেট, চিপস প্রভৃতি পছন্দ করে।


একটু বেশি দাম হলে ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে থাকেন তিনি। শুধু তারাই নন, প্রত্যেক বাবা-মা সন্তানের জন্য একটু নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাবার খোঁজেন। ভালো ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যকে নিরাপদ মনে করেন তারা। কিন্তু ‘ভালো ব্র্যান্ডের’ খাবারেও এখন ক্ষতিকর উপাদান মিলছে।


যেসব পণ্য মানুষ চোখ বন্ধ করে বাচ্চাদের জন্য কিনছেন তাতেও ভেজাল উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের প্রিয় গুঁড়া দুধ তৈরি হচ্ছে ভেজাল ‘হয়ে পাউডার’ দিয়ে (এক ধরনের সাদা পাউডার)। সেসবে ‘দুগ্ধ উপাদান’ খুবই সামান্য। সম্প্রতি ল্যাব টেস্টে গোয়ালিনী নামের গুঁড়া দুধে মাত্র ১৭ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি অন্তত ৬৭ শতাংশ ভেজাল উপাদান।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, সস্তার ‘হয়ে পাউডার’ মিশিয়ে চকচকে মোড়কে বাজারে বিক্রি হচ্ছে বাহারি মিল্ক পাউডার। আদালতে প্রমাণ হওয়ার পরও আইনের ফোকর গলে সামান্য শাস্তিতেই পার পেয়ে যাচ্ছে জড়িতরা। ক্রেতাদের বোঝার উপায় নেই যে, গুঁড়া দুধের নামে তারা বাচ্চাদের ‘হয়ে পাউডার’ খাওয়াচ্ছেন। এরকম অনেক মানহীন শিশুখাদ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। ভেজাল খাদ্যের ব্যাপারে সরকারের তৎপরতা খুবই সামান্য।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্য সরকার নির্ধারিত মান নিশ্চিত না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় আইন থাকলেও কার্যকরী হচ্ছে না। যারা এসব করে তারা সহজেই ফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক, বিক্রেতা কাউকে উল্লেখযোগ্য শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে ভেজাল খাদ্য তুলে দিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মুখে। এমনকি আমদানি করা ‘উন্নত’ মানের পণ্যেও ভেজাল ধরা পড়ছে।


সম্প্রতি বেশ কিছু শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হয়। বিদেশি পণ্যের আমদানিকারকদের শাস্তি দেওয়া হলেও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণহীন। ভেজাল প্রমাণিত হওয়ার পরও পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের জন্য যে ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল দরকার, তা এ খাতে নেই। বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।


গুঁড়া দুধে দুগ্ধ উপাদান ১৭ শতাংশ


কয়েক মাস আগে ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ গুঁড়া দুধের নমুনা সংগ্রহ করেছিল ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শকরা। গোয়ালিনীর পণ্য রাসায়নিক ও ভৌত দুই পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হয়নি।


পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, তাতে দুগ্ধ উপাদান আছে মাত্র ১৭ দশমিক ০৮ শতাংশ। বাকি ৫৮.৯২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। অন্যন্য উপাদানেও ভেজালের পরিমাণ ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৬৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভেজাল উপাদানে তৈরি হচ্ছে গোয়ালিনীর গুঁড়া দুধ।


গোয়ালিনী গুঁড়া দুধে দুগ্ধ চর্বির পরিমাণ থাকার কথা ছিল ৪২ শতাংশ বা তার কমবেশি। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষায় এর পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৪২ শতাংশ ভেজাল উপাদান। দুগ্ধ প্রোটিন কমপক্ষে ৩৪ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখানে ভেজালের পরিমাণ ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।


গুঁড়া দুধ বলে বিক্রি হওয়া পণ্যটিতে দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ থাকার কথা ছিল অন্তত ৭৬ শতাংশ। অম্লতা থাকার কথা ছিল অনূর্ধ্ব ১৮ শতাংশ, গোয়ালিনীতে পাওয়া গেছে ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। লেডের নির্ধারিত মান শূন্য দশমিক ০২ থাকলেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ৫ শতাংশ আর্দ্রতার জায়গায় পাওয়া গেছে ৪ দশমিক ১১ শতাংশ।


প্যাকেটের গায়ে পুষ্টিগুণের তালিকা দেওয়া আছে। এসব পণ্য ল্যাবে পরীক্ষা করে তালিকার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি স্ট্যান্ডার্ড মানের সঙ্গেও উপাদানের অনেক ফারাক পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’ নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার ও ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। গত ১০ ডিসেম্বর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি ওই আদেশ দেন। নিম্নমানের গুঁড়া দুধ সরবরাহের দায়ে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল একই আদালত। পরে আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি এবং তাদের ভেজাল পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। গত ডিসেম্বর মাসে গোয়ালিনী গুঁড়া দুধের কিছু প্যাকেট ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


মামলার বাদী এবং প্রসিকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করায় আদালত পণ্য ধ্বংসের আদেশ দেয়।’


এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোম্পানির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে গেছেন। তবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কর্মকর্তারা।


তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু গোয়ালিনীই নয়, আসলাম টি কোম্পানির ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, একই কোম্পানির পূর্ণ ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ, ডানো ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ড্যানিশ ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার, ইনস্ট্যান্ট ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার (নেসলে) ও স্টারশিপ গুঁড়া দুধ ল্যাব টেস্টে উত্তীর্ণ হয়নি। এসব গুঁড়া দুধের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে।


ভেজাল পণ্যের বিএসটিআই লোগো : বাজারজাত করা বেশ কয়েকটি গুঁড়া দুধের প্যাকেটে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লোগো এবং কিউআর কোড দেখা গেছে। অন্যান্য পণ্যেও এই লোগো পেয়েছেন খাদ্য পরিদর্শকরা। তারা বলছেন, পণ্যের নমুনা নির্ধারিত মান পূর্ণ করলেই বিএসটিআই লোগো ব্যবহারের অনুমোদন দেয়। ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী গুঁড়া দুধ, চকলেট, বিস্কুট বা শিশুখাদ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।


বিএসটিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় ভেজাল অনেক পণ্যের প্যাকেটের গায়ে নকল লোগো এবং কিউআর কোড দেওয়া থাকে।


বিএসটিআইয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মানহীন অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের নকল লোগো দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে লোগোর সঙ্গে এখন কিউআর কোড দিয়ে দেওয়া হয়। গ্রাহকরা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই পণ্য নিবন্ধিত কি না, নিশ্চিত হতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিএসটিআই নিবন্ধিত কোনো পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করা হয়।’


মানহীন কিটক্যাট চকলেট : পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আমদানি করা কিটক্যাট চকলেট অনেক শিশু-কিশোর, এমনকি বড়দেরও প্রিয়। কিন্তু এ চকলেটেই মান রক্ষা করা হচ্ছে না। ক্ষতিকর উপাদানসহ এ চকলেট ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এ পণ্য শিশু-কিশোরদের না দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরো জোরালো করার তাগিদ দিয়েছেন।


সম্প্রতি, শিশু খাদ্যে ভেজাল সন্দেহে রাজধানীর ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারি অ্যান্ড সুইটস থেকে এক বক্স কিটক্যাট সংগ্রহ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-২-এর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহা. কামরুল হাসান। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নমুনা জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পরীক্ষার করে কিটক্যাট চকলেট মানসম্মত নয় বলে সনদ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারদের নোটিস দেয় ডিএসসিসি। এরপর নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৬, ৩৭, ৩৯ ও ৪০ ধারা লঙ্ঘনের জন্য ওই আইনের ৫৮ ধারায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে অভিযোগ করা হয়। গত বছর ৩ নভেম্বর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার চকবাজারের সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাছাড়া কোকোলা ওয়েফার নামক একটি শিশুখাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় পণ্যটি তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিল আদালত।


শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি : এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ কার্যালয়ের উপপরিচালক (পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও গবেষণা) ডা. মো. আকতার ইমামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভেজাল পণ্যে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এজন্য সরকারের আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’


বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, ‘শিশু খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর। এটার মান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের ল্যাবে প্রতি বছর দেড় থেকে দুই হাজার নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা আছে। ল্যাবের সক্ষমতা আরো বাড়াতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘যেসব পণ্যে সন্দেহ হয় বা অভিযোগ পাওয়া যায় সেসব পণ্যের ব্যাপারে আমরা অভিযান পরিচালনা করি। অনেক সময় ভালো ব্র্যান্ডের মোড়কেও ভেজাল পণ্য পাওয়া যায়।’ কারও গোপন কারখানা থাকলে, কোনো পণ্যে সন্দেহ হলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিষয় : গুঁড়া দুধ




  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম

গণতান্ত্রিক চর্চা ও সুশাসনের অভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এখন অর্থ ও পেশীশক্তির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার চরম অভাবের কারণে রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র, ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব এবং পুরুষতান্ত্রিকতার গভীরতা ক্রমাগত বাড়ছে। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় ৩২টি নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।


আকাশচুম্বী ব্যয়


টিআইবির গবেষণা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর আয়ের আনুষ্ঠানিক উৎসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম ও কার্যালয় পরিচালনার খরচের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। দলগুলোর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় ও ন্যূনতম সাংগঠনিক কাজ চালাতে বাৎসরিক যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপ্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর উৎস থেকে আসে।


হিসাব তুলে ধরে টিআইবি জানায়, ন্যূনতম নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে একটি দলের যদি ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে হয়, তবে বাৎসরিক প্রায় ১৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ দলগুলোর ঘোষিত আয়ের উৎস বা সদস্যদের চাঁদা বাবদ সর্বোচ্চ আয় মাত্র ২৬ লাখ টাকা। একইভাবে দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত কাজের পরিধি বিস্তৃত থাকলে বাৎসরিক খরচ দাঁড়ায় ৩৩২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা, যার বিপরীতে চাঁদা বাবদ সর্বোচ্চ আয় আসে ৩৮ কোটি টাকা। আর যেসব বড় দলের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক ব্যাপ্তি রয়েছে, তাদের বাৎসরিক খরচ ১,৫৩২ থেকে ২,১৮৮ কোটি টাকা। অথচ তাদের চাঁদা বাবদ বার্ষিক আয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১১৬ কোটি টাকা।


সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। এই বিপুল অর্থের অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কারণে রাজনীতিতে বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি হচ্ছে, যা সুশাসনের পথে প্রধান অন্তরায়। রাজনীতিতে অর্থ ও পেশীশক্তির এমন ব্যবহার এক ধরনের স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে।’


নামমাত্র উপস্থিতি নারীদের 


গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ১০টি প্রধান রাজনৈতিক দল পারিবারিক পর্যায় থেকে নেতৃত্বে আসছে, যার ফলে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী ও যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দলগুলোতে পরিবারতন্ত্র, অভিজাততন্ত্র এবং কর্তৃত্বপরায়ণতা জাঁকিয়ে বসেছে। ক্ষেত্রবিশেষে দল পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে অ্যাডহক বা বিশেষ ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও দলগুলোতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। অধিকাংশ দলেই নারীদের অবস্থান নামমাত্র বা প্রতীকী হিসেবে রয়ে গেছে।


সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা


রাজনীতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে দলগুলোর মধ্যে তীব্র কোন্দল ও সহিংসতা বাড়ছে। গত ৯ মাসের ডেটা উল্লেখ করে টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কলহের কারণে বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। ক্ষমতার এই সহিংস চর্চা শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, বরং তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়েও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।


চরম ঘাটতি আইনি কাঠামোতে


টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর অভাব রয়েছে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগুলো অনেক ক্ষেত্রে অতি-নিয়ন্ত্রণমূলক এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন।


সুপারিশ


গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য বলে মনে করে টিআইবি। এ লক্ষ্যে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, এই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মূল দায়িত্ব দলগুলোকেই নিতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে দলগুলোকে নিজেদের আয়নার সামনে দাঁড় করাতে হবে এবং সংস্কারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।


খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৮ পিএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের চাকরিচ্যুতির ঘটনা শুধু পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং সামগ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত করে বলে মনে করে সংগঠনটি।


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. পূর্বা ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়েছে। 


এতে বলা হয়, কুয়েটে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, আইইএম বিভাগের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র, ইএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মণ্ডল, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান। এ ছাড়া চাকরিচ্যুত হয়েছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি এবং অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্ত। 


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ জানিয়েছে, আমরা মনে করি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই এ ধরনের চাকরিচ্যুতি ও বহিষ্কারের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সর্বস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি, সাময়িক বরখাস্ত, একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বয়কট, হুমকি-হয়রানি এবং মব সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শত শত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। 


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাক্‌স্বাধীনতা, শিক্ষকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশের পরিবর্তে ভীতি, অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা ও জবরদস্তিমূলক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ভিন্নমত দমনের ক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের কথা বলা, চর্চা করা কিংবা এসবের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো অপরাধ নয়। অথচ এসব আদর্শের পক্ষে কথা বলার কারণে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অসংখ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীকে নানাভাবে হয়রানি, বঞ্চনা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।


পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বলছে, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, রাজনৈতিক মতাদর্শ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা ভিন্নমতের কারণে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হয়রানি, বঞ্চিত কিংবা চাকরিচ্যুত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ধরনের মব সন্ত্রাস, সামাজিক বয়কট কিংবা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কারও পেশাগত ও শিক্ষাগত অধিকার হরণ করা চলতে পারে না।


বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ অবিলম্বে কুয়েটে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অদ্যাবধি দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতি, বয়কট, সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথাযথ মর্যাদায় স্ব স্ব পদে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহাল করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছে।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মিজানুর রহমানকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তিনি সিআইডির দিনাজপুর জেলায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও ট্রাফিক জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।


শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন থেকে তাকে অবসরে পাঠানোর বিষয়টি জানা যায়।


বিভাগীয় মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কনস্টেবলের স্ত্রীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে তার পরিচয় হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার আদালতের পর্যবেক্ষণেও তাদের স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে বলে বিভাগীয় নথির সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে।


একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিভাগীয় তদন্তে উল্লেখ করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। 


বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ ও রাষ্ট্রপতির ২৫ অক্টোবরের অনুমোদনের পর এ আদেশ জারি করা হয়।

বিষয় :


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৯ পিএম

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুর ও সাভারের আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। শনিবার সকাল থেকে দুই এলাকার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। 


শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়ার কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। 


সকাল থেকে আশপাশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।


আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অসন্তোষের কারণে কাঠগড়া ও আশপাশের অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


অন্যদিকে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শ্রমিকেরা সরে যান। এরপর প্রায় চার ঘণ্টা পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে বিকেল ৩টার দিকেও মিরপুর সাড়ে ১১ ও কালশী সড়কে শ্রমিকদের অবরোধ চলছিল।


মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আশুলিয়া থেকে তিনটি ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে শ্রমিকদের উসকে দিতে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


পুলিশ সুপার বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন তেমন ভালো নয়। শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তাঁরা অন্য কারখানার শ্রমিকদের কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। আমরা শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।’


সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদ

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

অবশেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও বিতর্কিত সাবেক ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 


আদেশে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেননি।


এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয় পুলিশ সদর দপ্তর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগীয় মামলা দায়ের করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি কিংবা সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি। 


পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ২২ জুন অভিযোগ তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে ৬ আগস্ট দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। 


তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, সে বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় ২০ আগস্ট। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি। 


পরে প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। ১ অক্টোবর কমিশন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের পক্ষে মতামত দেয়।সবশেষে গত ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের বিষয়ে অনুমোদন দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের তারিখ অর্থাৎ ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


শেখ হাসিনা

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার বানোয়াট দাবি এবং ভুয়া চিকিৎসাপত্র দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত তদন্তে মামলার বাদী নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা, ঘটনার দিন তিনি কোনোভাবেই আহত হননি বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।


এ প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার মোট ৮৪ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।


গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট নথি পর্যালোচনা করে বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন এবং আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্র জানায়, এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি নির্বিচার হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটিসহ মোট নয়টি গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।


পরবর্তীতে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন তিনি।


জাল চিকিৎসাপত্রে সাজানো নাটক ফাঁস


পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাদী নূর হোসেন এজাহারের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসার যে ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, উল্লিখিত তারিখে নূর হোসেন নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি।


প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দুটি গুরুতর অসংগতি তুলে ধরেন। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সব সময় হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন, কিন্তু নূর হোসেনের দাখিলকৃত নথিটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত ক্যাশ মেমো নম্বরটি যাচাই করে দেখা যায় সেটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক ভিন্ন রোগীর নামে বরাদ্দ। এছাড়া যে পেশেন্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল, তা ছিল জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী অন্য এক ব্যক্তির।


এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গেজেটেও নূর হোসেনের নামের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদী বাস্তবে আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে আহত হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এ মামলা করেছেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সময়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আট আসামিকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নতুন করে কাউকে এ মামলার এজাহারের ভিত্তিতে সরাসরি আটক করা হয়নি।


তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।


মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উক্যমং রাখাইন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।