অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, জাতীয় সংসদ ক্রমে প্রভাবশালী ধনী গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। তারাই রাষ্ট্রের নীতি ঠিক করেছে। এ কারণেই ভঙ্গুর গণতন্ত্র দেখা গেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক করতে না পারলে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আশা করা কঠিন।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মত দিয়েছেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন কথা বলি, তখন কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর বলি না। এর কারণ, আমরা কখনোই কার্যকর গণতন্ত্র পাইনি, যেখানে উন্নয়ন কেমন হবে এবং কোন ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন– তা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে চিন্তাশীল বিতর্ক হয়। গত ৫০ বছরে এসব আলোচনা কখনোই টেবিলে আসেনি। আর যতক্ষণ পর্যন্ত না এগুলো আলোচনায় আসে, ততক্ষণ সমস্যার সমাধানও সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের মাঝে গণতন্ত্র নেই। কেন্দ্রীয়ভাবে ওহি নাজিলের মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন এখনও হয়নি।
আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরিয়াল ফেলো সুলতান হাফেজ রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না। একটি বড় ধরনের সংস্কার প্যাকেজ এখন দেশের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর কিছু হয়তো বর্তমান সরকার করে যেতে পারে, যদিও তাদের হাতে বাস্তবে খুব বেশি সময় নেই। শেষ পর্যন্ত এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে একটি নির্বাচিত সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো তেমন কেউ নেই। তারা যেসব সংস্কার প্রস্তাব করছে, তা কতটা গ্রহণ করবে আগামীর নির্বাচিত সরকার– সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। আলোচনার এ পর্যায়ে মঞ্চে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান মনসুরকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, তিনি এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করছেন এক ধরনের স্বাধীনতা নিয়েই। সেখানে একজন নির্বাচিত অর্থমন্ত্রী থাকলে এবং একটি পূর্ণ নির্বাচিত সরকার থাকলে একই স্বাধীনতা পাওয়া যেত?
অধ্যাপক রেহমান সোবহান আরও বলেন, ধারণা দেওয়া হয়েছে, সংস্কারগুলো নির্বাচিত সরকারকে আলোকিত করবে। তারা ভালো শাসন ব্যবস্থার পথে এগোবে এবং আমরা একই সঙ্গে ভালো গণতন্ত্র ও ইতিবাচক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করব। ধারণাটি আজকাল এক ধরনের রোমান্টিক চিন্তার অংশ হয়ে গেছে, যা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ছবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে তারা আসলে কী করবে? তাদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য কী? রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই হবে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নয়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি বড় সমস্যা ছিল সংসদের অকার্যকারিতা। আসলে কখনোই এমন সংসদ পাইনি, যেখানে শক্তিশালী বিরোধী দল পাঁচ বছর ধরে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখবে এবং নীতিনির্ধারণী সব প্রশ্নে বিতর্ক হবে। এগুলো গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। আমাদের অভিজ্ঞতা মূলত ‘নির্বাচনী গণতন্ত্র’। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে সরকার পরিবর্তন করেছি। সেখানেও নানা সমস্যা ছিল। ব্যতিক্রম হলো– ২০০১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিনা বাধায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপির কাছে। ৫২ বছরের ইতিহাসে এটুকুই আমাদের সাফল্য।
বর্তমান সংস্কার এজেন্ডার ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা কীভাবে গণতান্ত্রিক করা যায় এবং কীভাবে এমন অবস্থা তৈরি করা যায় যাতে বিপুল ধন-সম্পদ ছাড়া সাধারণ মানুষও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে–এসব বিষয়ে নির্বাচন সংস্কার কমিশন কিছুই বলেনি। মনে রাখতে হবে, ১৯৭০ সালে যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের অনেকেই বাস ও রিকশায় চড়ে এলাকায় যেতেন। তাদের সম্পদ সীমিত ছিল। এখন নিজের ‘পাজেরো’ ছাড়া কেউ নির্বাচন করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।
তাঁর মতে, ‘যতক্ষণ না নির্বাচন এমন হবে যে, সমাজের সব স্তরের মানুষ সীমিত সামর্থ্য নিয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, ততক্ষণ নির্বাচিত সংসদে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিই আধিপত্য বিস্তার করবে। নীতি প্রণয়ন হবে তাদের স্বার্থকে কেন্দ্র করে। অতএব, বাস্তবতা হলো সংস্কার টেবিলে আসবে, কিছু পাস হবে এবং কিছু বাস্তবায়ন করবে একটি নির্বাচিত সংসদ, যার সদস্যদের পছন্দ-অপছন্দই নির্ধারণ করবে সংস্কারের পরিণতি। আমরা আশা করতে পারি, কিছু সংস্কার অন্তত কার্যকর হবে। কিন্তু দিনের শেষে সংসদের চরিত্র না বদলালে এবং সমাজের বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব না থাকলে, আমরা আবার একটি এলিট-নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মুখোমুখি হবো। যে গণতন্ত্র আমাদের বহু সমস্যার জন্ম দিয়েছে।
উন্নয়নের সংকট প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এর প্রধান কারণগুলোর একটি হলো দুর্বল শাসন ব্যবস্থা। দুর্বল শাসন ব্যবস্থা ও অপশাসন নিয়ে কোনো দিন সংসদে কার্যকর আলোচনা হয়নি। বাজেট পর্যন্ত সংসদে ঠিকভাবে আলোচিত হয়নি। সরকারি অর্থনীতি, উন্নয়ন নীতি এবং দুর্নীতি কোনোটিই সংসদে আলোচিত হয়নি। জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে বাংলাদেশে যে খেলাপি ঋণের সংকট শুরু হয়েছে এবং এত বছর ধরে চলে আসছে, তা নিয়ে সংসদে কখনও যথাযথ আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে কোনো অর্থবহ বা জোরালো বিতর্কও অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নকে সমন্বয় করা কত বড় সমস্যা।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘৩৫ বছর আগে যখন শাহাবুদ্দিন সরকারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টার দায়িত্ব ছিলাম। তখন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আমন্ত্রণে একই বিষয়ে অর্থাৎ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। গত ৩৫ বছরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কী মূল্য সংযোজন হলো, তা বুঝতে মূলত এই অধিবেশনে এসেছেন তিনি। যদিও গণতন্ত্র ও উন্নয়নের বিতর্ক বহু পুরোনো। বহু বছর ধরে গণন্ত্র ও উন্নয়নের বিতর্ক চলে আসছে। ভালো উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র প্রয়োজন। গত ১০ থেকে ১৫ বছর বাংলাদেশের উন্নয়নে নিজস্ব একটি বয়ান তৈরি করা হয়েছে। যেখানে উন্নয়নের নামে ভালো অবকাঠামো, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সূচকের উন্নয়ন প্রাপ্তি হিসেবে বলা হয়েছে। কিন্তু সুশাসন পাওয়া যায়নি। মন্দ সরকার দিয়ে কীভাবে ভালো উন্নয়ন হতে পারে?
প্রধানমন্ত্রী সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন
সেনাবাহিনী সদর দফতরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (১ম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (২৬ জুলাই) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই পর্ষদের উদ্বোধন করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হওয়া এবং আহত সেনা সদস্যদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও উপযুক্ততার ওপর জোর দেয়ার নির্দেশ দেন।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তিনি সেনাবাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদস্যদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বঙ্গভবন ছেড়ে যাচ্ছে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের গাড়িবহর
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়েছেন। শুক্রবার পদত্যাগের পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হতে দেখা যায়। রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে নিজ বাসায় উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন।
গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি দেখা গেছে। টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরে যাচ্ছেন। বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ফোনে সমকালকে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্গির সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদ্যন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝে-মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত মামলাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সর্বোচ্চ ওই বাসভবনটিতে আজ শনিবারই তার শেষদিন। গত ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।
হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু
আগামী বছরের জন্য হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়।
নিবন্ধন কীভাবে করবেন
সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।
নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।
সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে।
তবে বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
পাসপোর্টের মেয়াদ
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।
১৫ বছরের কম বয়সীরা হজে যেতে পারবে না
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এ ছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধি- যেমন- হৃদ্যন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়বিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন- এমন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবেন না।
জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো নারী হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না।
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের তথ্য, জেলা, হজের ধরন ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
ছবি : সংগৃহীত
সারাদেশে গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ লাগতে পারে। এ সময়ের মধ্যে আবাসিক, শিল্প, যানবাহন ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবারও গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন আবাসিক গ্রাহকরা। দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে ঘরে জ্বলেনি চুলা। রান্নার কাজ প্রায় বন্ধ ছিল।
মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গত মঙ্গলবার আগুন লাগে। এতে টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনার পাঁচ দিন পার হলো গতকাল। কিন্তু জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে ৩০ শতাংশ কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এখন ঘাটতি বেড়ে চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
কবে ঠিক হবে?
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনে টার্মিনালে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কেবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনাল চালুর তাগিদ দেওয়া হলেও এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ এখনও নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।
সূত্রটির ভাষ্য, আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে পুরো সক্ষমতায় চালু হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, শুধু কারিগরি ত্রুটি মেরামতই নয়; আন্তর্জাতিক কোম্পানি হওয়ায় এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্সসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। এসব শেষ হওয়ার পরই টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করা হবে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শর্টসার্কিটের কারণে কেবল পুড়ে গেছে। বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন। কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রকৌশলীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হতে পারে। দ্রুত চালুর জন্য এক্সিলারেট এনার্জিকে বলা হয়েছে। তবে তারা নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানাতে পারেনি।
ঘরে ঘরে রান্না বন্ধ প্রায়
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। কোথাও সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাপ এতটাই কম থাকছে যে রান্না করাই সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে কেউ কেউ পরদিনের জন্য রান্না সেরে রাখছেন।
মগবাজারের বাসিন্দা রোজিনা পারভীন বলেন, সকাল থেকে গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে কিছুই রান্না করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর গ্যাস এলেও শুধু ভাত রান্না করতেই প্রায় এক ঘণ্টা লেগেছে। আর কিছু রান্না করা সম্ভব হয়নি।
কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা জেসমিন আক্তার বলেন, দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা চুলায় কড়াই বসিয়ে তেলও গরম করা যায়নি। ছোট শিশুর জন্য সময়মতো খাবার তৈরি করতে না পেরে প্রতিদিন বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে।
পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি
সিএনজি স্টেশনগুলোতেও সংকট আরও তীব্র হয়েছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর– সবখানেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক স্টেশন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন খোলা রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।
ময়মনসিংহে গতকাল ভোরে কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সকাল ১০টার পর অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। নরসিংদীতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালকরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসের চাপ কখনও শূন্যে নেমে যাওয়ায় দিনে একাধিকবার সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর সমকালকে বলেন, একটি স্টেশন স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য অন্তত ১৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় এখন ৪ থেকে ৫ পিএসআই, কোথাও আবার ২ পিএসআইরও কম চাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্পে সংকট
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে আনতে হয়েছে। কোথাও কোথাও বিকল্প হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহে জটিলতা দেখা দেবে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান বলেন, তিতাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। টার্মিনালে ত্রুটির আগে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটে।
বাড়তে পারে লোডশেডিং
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিন সারাদেশে বৃষ্টি হওয়ায় এবং শুক্র ও শনিবার ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। তাই গ্যাস সরবরাহ কমলেও বড় ধরনের লোডশেডিং করতে হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাপমাত্রা বাড়লে এবং শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু থাকলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। তখন লোডশেডিংও বাড়তে পারে।
গতকাল বিকেল ৫টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ৮২১ মেগাওয়াট। তখন বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা টার্মিনাল দুর্ঘটনার আগে ছিল গড়ে ৯০ কোটি ঘনফুট। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। আগে এসব কেন্দ্রে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো।
বাংলাদেশে ২০১৮ সালে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি মহেশখালীতে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু করে। ১৫ বছরের চুক্তিতে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার এই টার্মিনাল পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২০২০ সালে সামিট গ্রুপ একই এলাকায় দ্বিতীয় ভাসমান টার্মিনাল চালু করে, যার দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।
তবে দুটি টার্মিনালের একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হচ্ছে। চলতি বছর কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি টার্মিনালের কার্যক্রম অন্তত তিনবার ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প উৎস বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্টরা।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী বছরের জন্য হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, ১৫ বছরের কম বয়ই কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন- হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না। এছাড়া জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবেন না। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যে কোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে হজযাত্রীদের ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।
সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যে কেউ নিজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে। এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে।
সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ এবং পুলিশে জনবল ও যানবাহনের সংকট থাকায় ১৮ জন মন্ত্রীর চলাচলের সময় দেওয়া পুলিশের এসকর্ট বা প্রটোকল প্রত্যাহার করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার নিজের প্রটোকল কমিয়ে এনেছেন। বর্তমানে শুধু ১৪ জন পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছেন। সরকারি ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ইতিমধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য গতকাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের যানবাহনেরও সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিজেরাই তাদের এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন।
মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নিজের প্রটোকল কমিয়েছেন। তার চলাচলের সময় এসকর্ট হিসেবে থাকা চারটির জায়গায় এখন দুটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এরপর প্রধানমন্ত্রী যাদের জন্য এসকর্ট সুবিধা আর প্রয়োজন বলে মনে করেননি, সেই সব মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ডিএমপিকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখন থেকে শুধু যাদের প্রয়োজন, তাদেরই চলাচলের সময় এসকর্ট দেওয়া হবে।
এখন যারা পুলিশ এসকর্ট পাচ্ছেন তাদের মধ্যে সাতজন হলেন জাতীয় সংসদের পদাধিকারী স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা, চিফ হুইপ এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
বাকি সাতজনের মধ্যে আছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ডিএমপি সূত্র জানায়, এসকর্ট প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ঢাকার ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সরকারি সফরে ঢাকার বাইরে গেলে মন্ত্রীরা আগের মতোই গানম্যান, হাউস গার্ড এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তাসুবিধা পাবেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ১৮ মন্ত্রী ঢাকায় পুলিশের মুভমেন্ট এসকর্ট সুবিধা পাচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় আরও ২৪ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারে ২৫ জন প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন।
সাধারণত একজন মন্ত্রীর মুভমেন্ট এসকর্টে একজন উপপরিদর্শক (এসআই), চারজন কনস্টেবল এবং পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান থাকে। এদের বেতন, ভাতা ও জ্বালানি খরচ সরকার বহন করে।
যাদের এসকর্ট প্রত্যাহার হলো
যে ১৮ জন মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে, তারা হলেন—ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ; পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু; মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আজম খান; সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা; বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির; শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী; তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং কৃষি ও মৎস্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এসকর্টও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিসহ (ভিআইপি) ঢাকায় ভিআইপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চলাচলের জন্য পুলিশের ১ হাজার ৬৯১ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বর্তমান প্রটোকল অনুযায়ী, একজন ভিআইপির বাসভবনে শিফট অনুযায়ী চারজন পুলিশ সদস্য পাহারায় থাকেন, একজন তার কার্যালয়ে থাকেন এবং পাঁচজন তার গাড়িবহরের সঙ্গে থাকেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চও (এসবি) একজন গানম্যান দিয়ে থাকে।
ভিআইপিদের তালিকায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অন্যান্য ব্যক্তিকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হতে পারে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকেও ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং তার নিরাপত্তার জন্য পাঁচজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।