ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ এএম

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক (ইভি) বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে সার্বজনীন ইভি চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং মনোরেলসহ নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।


সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বৈদ্যুতিক বাস বহর গড়ে তুলতে সরকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।


তিনি জানান, ৫০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০টি বৈদ্যুতিক বাসের কর্মসূচিতে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের কাজ চলছে।


এ ছাড়া, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস কেনার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।


বৈদ্যুতিক বাস ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে সরকার ৪০০ কোটি টাকা করে দু’টি পৃথক ক্রয় প্যাকেজও যুক্ত করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় নারী যাত্রীদের জন্য একটি বিশেষ বাস বহর থাকবে, যেখানে বাসের সংখ্যা প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০টিরও বেশি হবে।


সচিব বলেন, ‘সব মিলিয়ে এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করা সম্ভব হবে।’


তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচিত কিছু রুটে এর দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যাবে বলে সরকার আশা করছে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


এই রূপান্তরকে সফল করতে সরকার একই সঙ্গে সারাদেশে কারিগরি মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি সার্বজনীন চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তুলছে।


সচিব বলেন, চার্জিং স্টেশনগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না, যার ফলে একটি সাধারণ চার্জিং ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি অপারেটররাও এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন (বিআরটিসি) দেশের ৬৪টি জেলায় তাদের নিজস্ব জমিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলে এসব স্টেশন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি অপারেটরদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি বৈদ্যুতিক বাসের জন্য অভিন্ন কারিগরি মানদণ্ড প্রণয়ন করছে। এতে ব্যাটারি ব্যবস্থা, চার্জিং প্রযুক্তি এবং যান্ত্রিক সহায়তার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বিভিন্ন নির্মাতা ও পরিচালকের যানবাহনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।


প্রাথমিকভাবে এসব মানদণ্ড বাসের জন্য প্রযোজ্য হলেও পরবর্তীতে তা বৈদ্যুতিক মিনিবাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা হবে, যা সরকারের বৃহত্তর পরিবহন বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির অংশ। বৈদ্যুতিক বাসের পাশাপাশি যেসব রুটে মেট্রোরেল সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প নয়, সেখানে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও যাচাই করছে সরকার।


সচিব বলেন, সম্ভাব্য মনোরেল রুট এবং এর কারিগরি সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের দায়িত্ব বুয়েট-কে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমন্বিত উপস্থাপনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এ খাতে পর্যাপ্ত দেশীয় দক্ষতা এখনও গড়ে ওঠেনি।


বেসরকারি বাস মালিকদের বৈদ্যুতিক বাসে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর ছাড়সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে, অনেক বেসরকারি পরিবহন অপারেটর বিনিয়োগের আগে বিআরটিসির প্রাথমিক বৈদ্যুতিক বাস বহরের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে চাইছেন।


এছাড়া, বৈদ্যুতিক বাস প্রযুক্তির তুলনামূলক বেশি ব্যয় এবং যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী ভাড়া-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভর্তুকি ব্যবস্থা ও ভাড়ার কাঠামো নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।


ড. জিয়াউল হক বলেন, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়নসহ পরিবহনের অন্যান্য বৃহত্তর সমস্যাগুলো সমাধানের কাজ অব্যাহত রাখবে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বুধবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।


আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।


শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


এর পরের ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।


সায়মা ওয়াজেদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ এএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।


২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।


পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।


এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।


দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।


শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।


সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ পিএম

সাময়িক সংকটকালে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয় সেজন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ (বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ এক প্রশ্নের উত্তরে আমি এ কথা জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আকস্মিক বা সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাত যাতে গ্যাস সংকটের সম্মুখীন না হয় সেজন্য সরকার নিম্নরূপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:


২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন; দেশিয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কি.মি. ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কি.মি. ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা; সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে কাজী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখ আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিড দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ;


স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ Onshore Model PSC 2026 প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যমান ২টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য মহেশখালির কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ডিসেম্বর ২০৩০ সাল নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।


এছাড়া, পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 


ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাস প্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিক-এর মত পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।


আসিফ মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১০ পিএম

দুদকের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করতেই নিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। 


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের বিরুদ্ধে দুদকে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন তিনি।


আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া বিভিন্ন পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো অনিয়মের সম্পর্ক নেই।


মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার পরিবারকে হেয় এবং চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দুদককে দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


এর আগে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল দুদক। 


তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সেগুলোর জবাব দিতে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আসিফ মাহমুদ।


জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২৫ পিএম

ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।


ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।


জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।


ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। 


এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রুপালি সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 


ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 


মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে? 


উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’


তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’


সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’


তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’


জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।