পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি,
এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির জয়ের ফলাফলে, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইস্যুটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়লাভের পর বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ক্ষমতায় যখন বিজেপি এসেছে, তখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা? বাংলাদেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। নির্বাচনের সময়ের ভোটের রাজনীতি একটি রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিকে পরিবর্তন করে না বা প্রভাব ফেলে না বলে তারা মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনা হলেও সেটি পার্শ্ববর্তী দেশকে প্রভাবিত করে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারকে সচেতন থাকতে হবে বলে মনে করেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, এটা ঠিক, যারা রাষ্ট্র গঠন করে সাম্প্রদায়িক ইনসিডেন্টের ক্ষেত্রে তাদের একটা প্রচ্ছন্ন সাপোর্ট বা ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, পররাষ্ট্র নীতি অনেকটাই কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত হয়। আমার মনে হয় না, কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন আসবে।
কোয়ালিটেটিভ পরিবর্তন না আসার কারণ হিসেবে লাইলুফার ইয়াসমিন জানান, শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে যদি আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে, তাহলে ফরেন পলিসির ক্ষেত্রে আমূল কোনো পরিবর্তন আসবে না।
সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করছেন, দুই দেশই সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিলেও এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে ভারতের সরকারের সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দুইপক্ষ থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে সুসম্পর্কের। কিন্তু এটার জন্য দুই দেশের মাঝে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় হলে বুঝতে পারবো সেই অঙ্গীকারটা আছে এবং তারপরে নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অগ্রগতির চিন্তা তখন করা যাবে।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গ
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি, যেটি অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে৷ভারতের নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার এই চুক্তিতে রাজী হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর রাজ্য সরকার রাজী ছিল না বলে বরাবরই সেই রাজ্য সরকারের দোহাই দিয়ে আসছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তবে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের ফলে এখন রাজ্যেও ক্ষমতায় এসেছে দলটি। কেন্দ্রীয় ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার দুই ক্ষেত্রেই ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসছে৷
ফলে এই ক্ষেত্রে দুই দেশের রাজনীতির একটি ইস্যু তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন দুই বিশ্লেষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থন ছাড়া কোনো চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়।
অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, মমতা ব্যানার্জীর ওপর তখন সুযোগ বুঝে দোষা চাপানো হয়। কারণ তিস্তার সাথে শুধু রাজ্য সরকার নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বার্থও কিন্তু এটার সাথে জড়িত। কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কোন চুক্তিই হওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু এটা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত সরকার ছিল না, তাই মমতাকে এটার জন্য দায়ী করা বিজেপির পক্ষে সহজ ছিল। কিন্তু "মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তির ব্যর্থতার জন্য এককভাবে দায়ী নন বরং পুরো স্ট্রাকচার দায়ী" বলে মনে করেন মিজ ইয়াসমিন।
সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ অবশ্য মনে করেন, এখন তিস্তা চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখতে পাওয়া যাবে। আগে বিজেপির সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীর ঘাড়ে দোষারোপ চাপিয়েছিল। "এখনতো কেন্দ্র এবং প্রদেশে একই রকমের সরকার। সুতরাং সমস্যাটা আগের তুলনায় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বরং আমি মনে করি, ইতিবাচক অগ্রগতি আমরা দেখতেও পারি" বলেন তিনি। তবে এই অগ্রগতি মূলত দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে বলেও মনে করেন তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পরে ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।এর প্রভাব পড়েছিল সীমান্তে নিরাপত্তসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে নতুন নির্বাচিত বিএনপি সরকার সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রেই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে ইতিবাচক বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
বিশ্লেষকেরা বলেন, একটি রাজ্যসভার নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ওই রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি নির্ভর করে না। "একটা রাষ্ট্রের ফরেন পলিসি একটা গ্র্যান্ড ডিজাইন। সেই কারনে আমরা দেখি যে, তার ফরেন পলিসির জন্য যদি মনে হয় যে, সীমান্ত সেনসেটাইজ করলে তার সুবিধা হয় তাহলে করবে। সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার তার পক্ষে হলে সেটা সহজ হয়" বলেন অধ্যাপক মিজ ইয়াসমিন।
তবে, ফয়েজ আহমদ মনে করেন, সাময়িকভাবে উত্তেজনা এখন হলেও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরে পরবর্তীতে সীমান্তের এপাশে-ওপাশে বড় রকমের আর কোনো ঝামেলা বা উত্তেজনা হবে না।
বাংলাদেশ ও ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম বর্ডার বা সীমানা ভোগকারী দেশ। অর্থাৎ, একইসাথে সীমানা রয়েছে সবচেয়ে বড় এমন দেশগুলোর মধ্যে পঞ্চম ই দেশ। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত একাধিক রাজ্যেই মুসলিমদের ওপর নিপীড়ণ হতে দেখা গেছে। এমনকি বাংলাদেশও বিভিন্ন সময়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, "এটার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, দুটি দেশ যেহেতু ওয়ার্ল্ডের ফিফথ লার্জেস্ট বর্ডার শেয়ার করে সেহেতু তাদের ভিতরে ডোমেস্টিক অ্যাফেয়ার্স কী হচ্ছে সেটার প্রভাব আরেকটি দেশে পড়ে।" সম্প্রতি জয়লাভের পর একটি মাংসের দোকান বিজেপির সমর্থকরা বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই কারণে মিজ ইয়াসমিন ইতিবাচকভাবে দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, "দ্রুত পদক্ষেপগুলো একটা আশ্বাস দিতে পারে।"
আলোচনায় পুশ-ইন
নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজেপি নেতারা সে দেশের মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বা পুশইন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। আর এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তে সতর্কতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের কথা এসেছে। এরইমধ্যে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুশ-ইন ইস্যুতে সীমান্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বা বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বুধবার ঢাকার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি ওই কথা বলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজেপির জয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক বাড়তে পারে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মি. আহমদ বলেন, "আমরা (সোমবার) গতকালকেই বিজিবিকে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে সীমান্তে তারা একটু সতর্ক থাকে। কারণ সেরকম কোনো সম্ভাবনা দেখি না, যদি হয় যাতে তারা এড্রেস করতে পারে। আমার ধারণা সে রকম কিছু ঘটবে না।"
সাবেক কূটনীতিক ফয়েজ আহমদ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে করা কোন মন্তব্য পরবর্তীতে সে দেশের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধীতা করবে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
বাংলাদেশ সরকারের মনোভাব
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ওই সময়ে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা ও পতাকা পোড়ানো, ভারতের ভিসা বন্ধ হওয়াসহ নানা ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করে। কিন্তু গত ১২ই ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার ভারত সরকার. দুপক্ষই সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের করা বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য এই সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি করে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় নিশ্চিত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার কীভাবে দেখছে, সেটি নিয়েও আলোচনা ওঠে। এরই মধ্যে, সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে যেই থাকুক না কেন অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে। সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবৈধ হিসাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্যের সম্পর্ক সংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি ওই কথা বলেন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
"বিজেপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হোক, আমাদের দিক থেকে আমাদের ওদের সাথে পানির ইস্যু আছে, পুশব্যাকের যে ইস্যুটা বললেন, ওটা আছে। আরও অনেক ইস্যু আছে। সেই ইস্যুগুলোতো আমাদের রয়ে যাচ্ছে। সেগুলো যেই সরকার আসুক না কেন বা থাকুক না কেন, তাদের সাথে আমাদের আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান করতে হবে" বলেন শামা ওবায়েদ।
পরদিন মঙ্গলবার ঢাকায় জেলা প্রশাসক সম্মেলনের আরেকটি অনুষ্ঠানের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' এই ফরেন পলিসি অনুযায়ী বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেবে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রথম বা ফার্স্ট নীতিতে আমাদের ফরেন পলিসি, যেই সরকারই আসুক না কেন সেই ইস্যুতে আমাদের ফরেন পলিসি পরিবর্তন হবে না। আমরা আমাদের ফরেন পলিসি নিয়েই সবার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আগাবো।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়।
কয়েক মাস ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ব্লাড ক্যানসারের কাছে হার মানতে হলো এই সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেসারকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হৃদয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শোকবার্তায় বিসিবি জানায়, তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত। লিউকেমিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে করতেই আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিভাগীয় অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে খেলা হৃদয় ছিলেন একজন সম্ভাবনাময় বাঁহাতি পেস বোলার। তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিসিবি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্ত ও অস্থিমজ্জার দ্রুত বর্ধনশীল ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন হৃদয়। তার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। গত জুলাইয়ে হৃদয়ের চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেয় বিসিবি। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ও।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি বর্তমানে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে। আজ শনিবার এমন পূর্বাভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বঙ্গোপসাগরের এই সুস্পষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানা গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এই সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে, ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামীকাল রোববার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই
পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য আজ শনিবার টানা ৪ ঘণ্টা রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় গ্যাস থাকবে না।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামত কাজের জন্য শনিবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর, বসুন্ধরা, জোহার সাহারা, ভাটারা ও বারিধারা জে ব্লকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
লাউ ও পেঁপে উৎপাদন
এক টাকায় চারটি লাউ। আর এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন টাকায়। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। তাই জমিতে ফলনভরা লাউয়ের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষক। পেঁপে পেকে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। অথচ রাজধানীর বাজারে একটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দর পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই অর্থে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এই কৃষক আরও বলেন, দুই থেকে তিন হাজারটি লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হয় না। লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কৃষক এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দাম না পেলে চাষ করবেন কীভাবে?
একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার-কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও লাউয়ের দাম মিলছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত। একজন শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। এ অবস্থায় বাগানে পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়াকে লোকসান আরও বাড়ানোর শামিল মনে করছেন তিনি।
পেঁপের বাজারেও একই চিত্র। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার ও আবাদ বাড়ায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।
সিংগাইরে জমিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। এ দামে পণ্য বিক্রি করে জমির ভাড়া, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে তুলছেন না। কোথাও পাকা পেঁপে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও গাছ কেটে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।
সিংগাইরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে শ্রমিক ও ভ্যানভাড়া দেওয়াই কঠিন বলে জানান তিনি।
সিংগাইরের আরেক কৃষক তাজুল সিকদার লোকসানের কারণে দুই বিঘা জমির পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে খরচের সামান্য অংশও ফেরত না পাওয়ায় অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।
কৃষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁপে চাষে আগ্রহ কমে যাবে।
এ দিকে ঢাকার পাইকারি বাজারেও এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
গত বছরের বেশি দামের অভিজ্ঞতায় এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফলন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের হিসাব উল্টে গেছে।
কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের তিন কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, এবারও বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি পেঁপে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করেছেন। এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতেই কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ চার টাকার বেশি পড়ে। তিন কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর এর ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে কারওয়ান বাজারে এনেছিলেন অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, জমির ভাড়া, বীজ, সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয় আরও তিন টাকা।
অর্থাৎ ঢাকার বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপেতে খরচ দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ তাঁকে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
কারওয়ান বাজারে ২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানান, পেঁপের দাম এতটা কমে যেতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।
এদিকে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমেনি। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলার দাম ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০-৮০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ থেকে ২২ টাকায় নেমেছে। কিন্তু বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বাজারে শীতের সবজি চলে এসেছে। ফলে মানুষের এখন আগ্রহ আগাম শীতের সবজির দিকে। লাউ এবং পেঁপে সারাবছর পাওয়ার কারণে মানুষ এখন এই দুই সবজির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ ছাড়া পেঁপে ও লাউয়ের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে ও লাউ চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লাউ এবং পেঁপের বাজারের চিত্র কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার একটি বড় সংকট সামনে এনেছে। উৎপাদন বাড়লেও সেই পণ্য লাভজনক দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা নেই কৃষকের। দ্রুত পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করার সুযোগ কৃষকের নেই। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে তাঁকে লোকসান মেনে নিতে হয়। সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দূরের বাজারে পণ্য পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। কম দামে পণ্য পেয়ে ভোক্তার সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎপাদক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে পরের মৌসুমে সেই ফসল চাষে তাঁর আগ্রহ ও সক্ষমতা- দুটিই কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, ভারত ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ নামে একটি স্কিম চালু করেছে, যা কৃষকের নিজের উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া ‘ফসল বীমা কর্মসূচি’ও রয়েছে সেখানে। ভারতে প্রায় ২৩টি পণ্য সরকার কিনে নিয়ে মজুত করে। পরে যখন মৌসুম শেষ হয়, তখন সরকার বাজারে সেই পণ্য ছাড়ে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকে। পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষিমূল্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও করেন এই বিশেষজ্ঞ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।
এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্র, শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটির সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একই সময়ে ছুটি কার্যকর হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।