তনু হত্যার বিচার দেখে মরতে চান মা-বাবা
প্রায় অন্ধকারেই হারিয়ে যাচ্ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলা। অনেকটা ‘খাদের কিনারা থেকে’ মামলার তদন্ত কার্যক্রম আবার আলোর মুখ দেখেছে।
হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর নতুন করে বিচারে ‘আশার আলো’ দেখছে পরিবার।
তনুর পরিবার বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মামলাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা চলেছে। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার আসামি হাফিজুর রহমানসহ সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন; কিন্তু নামগুলো কখনোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে প্রকাশ্যে আসেনি। দীর্ঘ এক দশক পর হলেও তনুর খুনিদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেখতে চান তাঁরা।
কুমিল্লার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ‘অদৃশ্য শক্তি’ মামলাটির তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দিয়ে রেখেছিল। যে কারণে সত্য কখনো সামনে আসেনি। ১০ বছর পর হলেও সত্য আংশিক প্রকাশ্যে এসেছে। এবার অন্তত মামলায় ‘অদৃশ্য বাধা’ দেখতে চান না তাঁরা।
২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুরকে আটক করেন পিবিআইয়ের সদস্যরা। এরপর তাঁকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গত বুধবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে আনা হয়। এ সময় কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে তাঁকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
পরে শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমান ২০২৩ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গেছেন। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন তিনি।
এর আগে ৬ এপ্রিল ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। আদালতের তলবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কুমিল্লায় আসেন। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন হাফিজুর। অন্য দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তাঁরাও বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন।
তবে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, আজ জাহিদ হবে। গত বুধবার কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগেই হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।
২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।
এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।
এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তবে ওই সময়ে তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি। দীর্ঘ ১০ বছরেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন বা জড়িত ব্যক্তিদের নাম সামনে না আসায় এ নিয়ে ক্ষোভ আর হতাশার শেষ ছিল না পরিবার থেকে শুরু করে কুমিল্লার মানুষের।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, সেসব নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না; তবে আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। এরই মধ্যে সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এর বাইরে আপাতত আমরা এসব নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, তদন্তের মাধ্যমে সব বেরিয়ে আসবে।’
মেয়ে হত্যার বিচার দেখার আশায় দিন কাটানো তনুর মা-বাবা মৃত্যুর আগে দোষী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চান। গতকাল বৃহস্পতিবার তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘সবাই কইছে বিচার পাইতাম না। তবে আমি কখনো বিচারের আশা ছাড়ছি না। সব সময় আল্লাহর কাছে কইছি- আল্লাহ যেন মৃত্যুর আগে আমারে বিচারডা দেখায়। যাক অবশেষে একটা খুনি ধরা পড়ল। গতকাল কোর্টে খুনিডারে দেইখ্যা মনে একটু শান্তি পাইছি। বাকি খুনিডি গ্রেপ্তার হইলে আরেকটু শান্তি পাইয়াম। আমার তনুরে অনেক কষ্ট দিয়ে মারছে তারা। আমি তারা ফাঁসি চাই। দেশবাসীও দেখতে চায়, তনুর খুনিরার ফাঁসি হইছে। এই জীবনে আর কিছু চাই না, শুধু মাইয়াডার খুনিডির বিচার দেখতাম চাই।’
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহিদ- এই নামগুলো আমি ঘটনার দিন থেকেই বলে আসছি। আমি তাঁদের নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু আমাকে সে সময় মামলা করতে দেওয়া হয়নি। সে সময়ের ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সিইও মনিরুল ইসলাম আমাকে কারও নাম উল্লেখ করতে দেননি। তিনি নিজেই অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলাটি টাইপ করিয়ে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন। দেশবাসী এখন তনুর খুনিদের ফাঁসি দেখতে চাই। এটাই আমাদের শেষ চাওয়া।’
ইয়ার হোসেন বলেন, ‘১০ বছর ধরে যেখানেই গিয়েছি, মানুষ শুধু বলত, তনু হত্যার বিচার কি হবে না? যাক, অবশেষে বিচার পাব বলে আশায় বুক বেঁধেছি। তবে এই খুনের মূল হোতা সার্জেন্ট জাহিদ। জাহিদ আর তাঁর স্ত্রীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। এ ছাড়া আরও অনেকে এই খুনে প্রত্যক্ষ ও প্ররোক্ষভাবে জড়িত। আমার বয়স হয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে খুনিদের বিচার দেখে যেতে চাই। আমার বিশ্বাস, বর্তমান সরকার তনু হত্যার বিচারের মাধ্যমে “আইন সবার জন্য সমান” কথাটি প্রতিষ্ঠিত করবে।’
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তনু আমার একমাত্র আদরের বোন। একটা সময় মনে হয়েছিল, তাঁর খুনের বিচার হয়তো পাব না। যাক অবশেষে বিচারে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমরা কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের বিচার নয়, অপরাধীর বিচার চাই। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনি জাহিদও গ্রেপ্তার হবেন।’
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে আশাবাদী কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর) কাইমুল হক (রিংকু)। তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালেই সন্দেভাজনদের গ্রেপ্তার ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল; কিন্তু সে সময় সবকিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। “আইন সবার জন্য সমান”- এটা বর্তমান সরকারের সময়ে এসে প্রমাণিত হলো।’
তনু হত্যার বিচারে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উল্লেখ করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা চাই না অতীতের মতো অদৃশ্য কোনো চাপে বা বাধায় আবারও মামলাটি অন্ধকারে হারিয়ে যাক। বিচারহীনতা সমাজে অপরাধ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করে। আমি আশা করব, দ্রুত অপর সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
আসিফ মাহমুদ
দুদকের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আমলের মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হেয় করতেই নিজের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের বিরুদ্ধে দুদকে আনা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে হওয়া বিভিন্ন পদোন্নতি ও বদলির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তার দাবি, এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার কোনো অনিয়মের সম্পর্ক নেই।
মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে তার পরিবারকে হেয় এবং চরিত্রহননের উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই উপদেষ্টা। একই সঙ্গে দুদককে দলীয় কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। দুদক চেয়ারম্যানের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর আগে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল দুদক।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সেগুলোর জবাব দিতে আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন আসিফ মাহমুদ।
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নিতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা স্থাপন, সার কারখানা গড়ে তোলা এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য সুলতানা আহমেদের করা সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে বা মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মতো সময় লেগে যাবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুল পরিমাণ শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে গ্যাসভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে এই গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে একদিকে যেমন ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
ভোলার গ্যাসকে দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে ও জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সেখানে একটি বড় সার (ফার্টিলাইজার) কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি একই স্থানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এই উন্নয়ন পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ, সাধারণ মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হচ্ছে এই সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান।
ভোলার বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদকে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা জানানো হয় সংসদে। ভোলা জেলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
এর পাশাপাশি ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি-তে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো চালু হলে ভোলার গ্যাসের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর অবদান বাড়াতে প্রণীত বিশেষ বিন্যাসে ভোলাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর অধীনে ভোলা জেলা এবং এর আশেপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ জোনের আওতায় জাতীয় রুপালি সম্পদ ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, উপকূলীয় বিস্তৃত চরাঞ্চলের সমন্বিত কৃষি বিকাশ, জলবায়ু সহনশীল সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ভোলার বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাস ক্ষেত্র, উর্বর কৃষি জমি এবং বিপুল উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের কথা বিবেচনায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী দিনে দ্বীপ জেলা ভোলার সার্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনায় ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে সরকার।’ আজ বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্ন ছিলো, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইলেকট্রিক (বুলেট ট্রেন) ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা; থাকলে কবে নাগাদ বাস্তবায়ন করা হবে?
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থায়ন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বৃদ্ধি পাবে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা হতে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব হ্রাস পাবে এবং গড় গতি বৃদ্ধি পাবে। তাই অল্প সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’
সরকার ঢাকা হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপের আওতায় টঙ্গী- আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে। তন্মধ্যে, লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আশা করি এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের পাশাপাশি পুলিশেরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সিইসি এসব কথা বলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটা দলভিত্তিক কোনো নির্বাচন না। আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না তারা বাতিল হবেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নাসির উদ্দীন বলেন, খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করা হয়েছিল।
তিন বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচন যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে সিইসি বলেন, তাদের গাড়ির সঙ্কট রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি নতুন না। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না। পুলিশের ওপর আস্থা আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা সম্পর্কে সিইসি বলেন, নির্বাচনের সময় সিসি ক্যামেরা, বডি-অন ক্যামেরা থেকে শুরু করে নিরাপত্তার সব ব্যবস্থা থাকবে।
অন্যদিকে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকায় পুলিশ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে চাপমুক্ত থাকবে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে দেশে দলীয় সরকার থাকলেও এটি গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
গত ছয় মাসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য শতভাগ।
প্রতীকী ছবি
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯০২ জনের। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ১ হাজার ১১৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এবং ৬৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ঢাকা জেলার বাসিন্দা।
রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হাম যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যেসব মৃত্যু হয়, সেগুলোকে হামের কারণে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদের আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
আজ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ অনুরোধ জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন উপসচিব তানিয়া আফরোজ।
পরিপত্রে বলা হয়, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এতে বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ পাঠানোর ক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির পূর্বে যথাক্রমে মহামান্য ও মাননীয় কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।