ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ এএম

বরাবরের মত এবারও রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়। এছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে হবে ঈদের পাঁচটি জামাত।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক এ জামাতে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।


প্রধান ঈদ জামাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে নিরাপত্তার বন্দোবস্তুও সারা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরাপত্তার আয়োজন পর্য়বেক্ষণ করে আশ্বস্ত করেছেন।


তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো অনিবার্য কারণে ঈদগাহের জামাত না হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হবে।


ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন পাঁচটি জামাত হবে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে।প্রতি বছর দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া মাঠে। এবার সেখানে হবে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত। সকাল ১০টায় এ জামাতে ইমামতি করবেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল খায়ের মো. সাইফুল্লাহ।


ঈদের এই জামাতে যাতায়াতের সুবিধার জন্য বরাবরের মতই শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।


‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস-১’ ভৈরব থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায় এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে বেলা ২টায় ভৈরব পৌঁছাবে।


‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস-২’ ময়মনসিংহ থেকে সকাল পৌনে ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে বেলা ৩টায় ময়মনসিংহ পৌঁছাবে।


সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত আয়োজনে কয়েক বছর ধরে শোলাকিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান।


আয়োজকদের দাবি, প্রায় ২২ একর আয়তনের এ মাঠে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মানুষ সেখানে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এ ময়দানে ঈদের জামাত হবে সকাল ৯টায়। ইমামতি করবেন মাওলানা মাহফুজুর রহমান।


আবহাওয়া অফিস বলেছে, ঈদের দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।


ঢাকা


ঈদের দিন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বরাবরের মতই পাঁচটি জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সকাল ৭টা, সকাল ৮টা, সকাল ৯টা এবং সকাল ১০টায় যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ জামাত হবে। পঞ্চম জামাত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে।


সকাল ৮টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদ জামাত হবে। সংসদ সদস্য ছাড়াও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয়রা সেখানে ঈদের নামাজ পড়বেন।


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবারও আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে। সেখানে জামাত হবে সকাল ৮টায়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামি’আয় দুটি জামাত হবে। প্রথমটি সকাল ৮টায়, দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়।


এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের পূর্ব পাশের খেলার মাঠে সকাল ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাত হবে।


বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সকাল ৮টায় হবে ঈদের জামাত।


চট্টগ্রাম


চট্টগ্রাম নগরীতে ঈদ উল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব হযরতুল সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। সেখানে দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে।


পাশাপাশি নগরীর লালদীঘির পাড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন শাহী জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত হবে।


এছাড়া সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন) ঈদ জামাত হবে।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে ঈদ জামাত হবে।


বরিশাল


বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায়। প্রথমবারে মত এখানে নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


এ ছাড়া জেলায় হাজারের বেশি মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়বে মানুষ। সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ও উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে হবে ঈদ জামাত হবে সকাল ৮টায়।


নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদে সকাল ৮টায় এবং সকাল ১০টায় দুটি ঈদ জামাত হবে। এবায়েদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়, বেলা ১১টায় হবে দ্বিতীয় জামাত।


বরিশাল বায়তুল মোকাররম মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি জামাত হবে। পোর্ট রোডের কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৭টা ও সকাল ৯টায় দুটি জামাত হবে।


পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদে সাড়ে ৭টায় ও সকাল সাড়ে ৮টায় এবং নুরিয়া স্কুল ঈদ গা ময়দানে ৭টায় ও ৮টায় দুটো করে জামাত হবে।আঞ্জুমানে হেমায়েত ইসলাম (গোরস্থান) ঈদগা ময়দানে ঈদ জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।


খুলনা


খুলনায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায় সার্কিট হাউস ময়দানে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম জামাত, ৯টায় দ্বিতীয় এবং ১০টায় তৃতীয় জামাত হবে।


এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় খুলনা আলিয়া মাদরাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে জামাত হবে।


খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত হবে।


সিলেট


সিলেটের শাহী ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। ইমামতি করবেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা কামাল উদ্দিন আহমদ।


একই সময়ে সিলেট নগরীর সরকারী আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের উদ্যোগে ঈদ জামাত হবে। মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী এ জামাতে ইমামতি করবেন। বন্দরবাজারের কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল ৭টা, সকাল ৮টা ও সকাল ৯টায়।


রংপুর


রংপুরে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে সকাল ৮টায় কালেক্টরেট ঈদগাহে। ইমামতি করবেন রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. বায়েজীদ হোসাইন।


আবহাওয়া খারাপ হলে ঈদের প্রধান জামাত হবে রংপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায়। সেখানে সকাল ৯টায় হবে দ্বিতীয় জামাত।


এছাড়া মুন্সিপাড়া ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায়, হযরত মাওলানা কেরামত আলী (র.) মাজার সংলগ্ন কেরামতিয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায়, মন্ডলপাড়া বড় ঈদগাহ ও দামোদরপুর বড় ময়দানে সাড়ে ৯টায়, মিঠাপুকুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ৯টায়, বদরগঞ্জ চান্দামাড়ি কারামতিয়া ঈদগাহে সকাল ১০টায়, পীরগাছা জেএন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কাউনিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, তারাগঞ্জ চৌপথি ঈদগাহ, পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও সদর উপজেলা পরিষদ ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত হবে।


রংপুর মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায়, গঙ্গাচড়ার পাইকান বড় জুম্মা মসজিদ মাঠে সকাল ৯টায়, ধাপ স্টাফ কোয়াটার জামে মসজিদ মাঠে এবং বুড়িরহাট কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত হবে। বুড়িরহাট মাঠ ঈদের জামাত হবে সকাল ৯টায়।


ময়মনসিংহ


ময়মনসিংহে সকাল ৮টায় আঞ্জুমান ঈদগাহ মাঠে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে। একই মাঠে দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৯টায়। জামাত দুটিতে ইমামতি করবেন হাফেজ মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান।


এছাড়া নগরীর বড় মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায়, মাদানী নূর জামে মসজিদ মাঠে সকাল ৭টায়, বলাশপুর ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে সকাল ৯টায়, চরশশা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮ টায় ঈদের জামাত হবে।



সর্বশেষ সব খবর

রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশসহ ২৯টি দেশের নাগরিকদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের জন্য পাচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন। বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তাঁদের অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কেউ নিহত, আহত, বন্দী কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা তদন্ত করে ২৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা জবরদস্তির প্রমাণ পেয়েছে। 



এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে পাচার বাংলাদেশি এক ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর সঙ্গে সেখানে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বিষয়ের বর্ণনা দিয়েছেন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশী এক ভুক্তভোগীর স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত বলা হয়েছে, তাঁর স্বামীর পাসপোর্ট নিয়ে তাঁকে চুক্তির বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল। চুক্তিটি ছিল শুধু রুশ ভাষায়। 


ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামী প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন। তাঁর সামনে কার্যত কোনো বিকল্প ছিল না। বেসামরিক চাকরির প্রলোভনের ফাঁদে রাশিয়ায় নিয়ে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষরে বাধ্য করার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। 


কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনীতে নিয়োগের পর বিদেশি নাগরিকদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয় এবং বিপজ্জনক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁদের অনেকে নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও আর্থিক চাপ। চাকরির আশায় বিদেশে যেতে কেউ কেউ নিয়োগ ফি হিসেবে বিপুল অর্থ দিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা ঋণ করেছেন কিংবা সম্পদ বিক্রি করেছেন। পরে স্বজনের মৃত্যুসংবাদ পেলেও কোনো কোনো পরিবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও অনেক পরিবার নির্ভরযোগ্য তথ্য পায়নি। 


বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতারণা ও জবরদস্তির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের রুশ বাহিনীতে নিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এসব ব্যক্তির অনেককে পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কেউ নিহত, আহত, বন্দি কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও যেসব দেশ থেকে রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাচারের করা হয়েছে তা হলো– ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ফিলিপাইন, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, উজবেকিস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। 



জাতিসংঘের এই সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে চক্রের ফাঁদ ও পাচারের আন্তর্জাতিক ভয়াবহ রূপকেই বিশ্বমঞ্চে নতুন করে তুলে ধরল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতারণা বা জবরদস্তির শিকার ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া মানুষ। তাঁদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাশিয়ায় আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। 


এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে তদন্ত কমিশন রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ব্যবসায়িক ভিসার অনুলিপি সংগ্রহ করা হয়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ভিসায় রাশিয়ার একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশি নাগরিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ভ্রমণের উদ্দেশ্য কাগজপত্রে বেসামরিক হিসেবে দেখানো হলেও কমিশনের সামগ্রিক তদন্তে দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যবস্থার আড়ালে বিদেশি নাগরিকদের রুশ সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী এজেন্ট ও সংস্থাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাশিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিত। 



নিরাপত্তাকর্মী, গাড়িচালক, নির্মাণশ্রমিক, মেকানিক, ইলেকট্রিশিয়ান, কারখানার শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতো। নিয়োগকারী এজেন্টরা নিজেদের বৈধ বা সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিত। চাকরির প্রস্তাব বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখানো হতো। এরপর ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট এবং ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যবস্থা করে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানো হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এজেন্টরা নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাশিয়ায়ও যেত। বাংলাদেশিদের নিয়ে পাওয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্যেও একই ধরনের প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। 


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর অনেক বিদেশি নাগরিককে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। এসব চুক্তি রুশ ভাষায় লেখা হওয়ায় অনেকেই এর শর্ত বুঝতে পারেননি। তাঁদের কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। চলাফেরার স্বাধীনতাও সীমিত করা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা জানতে পারেন, প্রতিশ্রুত বেসামরিক চাকরির পরিবর্তে তাঁদের রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করতে হবে।


পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগকারী এজেন্টরা অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পরিবারের ফোনও ধরত না। এসব ঘটনা ২৯টি দেশের নাগরিকদের নিয়োগের সামগ্রিক চিত্র হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ঘটনা ঘটেছে কি না, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। মানবপাচারের প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান তদন্ত কমিশন বিভিন্ন দেশে সক্রিয় নিয়োগকারী চক্রের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের উচ্চমাত্রার সমন্বয়ের প্রমাণ পেয়েছে। কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণা, আর্থিক ও সামাজিক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া এবং জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানোর মতো কর্মকাণ্ড বিদেশি নাগরিকদের পাচার করে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত। 


সংগৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের মানবপাচার ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। কমিশন রাশিয়াকে এ ধরনের নিয়োগ বন্ধ করা, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সামরিক বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে ভুক্তভোগীদের মুক্ত করতে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ, পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারণামূলক নিয়োগ ঠেকাতে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর সুপারিশও করেছে। আগেই সতর্ক করেছিল ব্র্যাক রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের যুদ্ধে পাঠানোর ঘটনা এর আগেও সামনে এসেছে। 


২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনেও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের পাচারের বিষয় উঠে এসেছিল। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভালো বেতনের চাকরির আশায় বৈধ ভিসায় রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁদের জোর করে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ, ভুক্তভোগীদের উদ্ধার এবং সরকারি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল ব্র্যাক। 


তিন বছরে রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।  নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্দশা, ঋণের বোঝা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। জাতিসংঘের এই অনুসন্ধান বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা করে মানুষকে সশস্ত্র সংঘাতে যুক্ত করার আন্তর্জাতিক মাত্রা তুলে ধরেছে। 



বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রকৃত সংখ্যা, নিয়োগকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং নিখোঁজ বা আটকে পড়া ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ধারণে আরও তদন্ত ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়েছে। 




রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিরা। ছবি-সংগৃহীত


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩১ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের স্বশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার কারণে বন্ধ থাকা রিয়াদ-ঢাকা রুটে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বুধবার চালু হতে পারে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় বলেছে, সব ঠিক থাকলে বুধবার থেকে রিয়াদ-ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালু হতে পারে।


এদিকে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা শুরুর পর ঢাকা থেকে দেশটির বিভিন্ন রুটে এ পর্যন্ত ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল স্থগিত হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী।


এরইমধ্যে হামলার ঘটনায় দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান। আর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই দুই রুটে ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।


ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম মঙ্গলবার বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কারও যদি ভিসা সংক্রান্ত ইস্যু থাকে, কেউ আর্জেন্ট যেতে চায়, তবে জেদ্দা হয়ে যেতে পারবে। ওই রুটে ফ্লাইট চালু রয়েছে।”


একইভাবে বিমানের যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়া এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে বিমানের পক্ষ থেকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।


শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, বাতিল ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের। ভারতীয় এই এয়ারলাইন্সের ৩০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।


এছাড়া ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, সালাম এয়ারের ৭টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে স্ট্যাটাসে এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে জানান, ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘আইনের শাসন’-এর মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের পথচলাকে স্বাগত জানিয়েছেন।


বাংলাদেশে একটি ‘গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের’ পর গঠিত এই নতুন সরকারের রাষ্ট্র গঠনের সকল প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। স্ট্যাটাসে বলা হয়, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


বিশেষ করে ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ‘বিগ-বি’ (BIG-B) উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দুই নেতা।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।


বাংলাদেশকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ জাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিভিন্ন খাতে জাপান সরকার ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।


ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি বিশাল বাজার হিসেবে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।


স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর ভিত্তি করে আজ একটি ‘যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দিনে উভয় দেশ বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে বাংলাদেশ ও জাপান সম্মিলিতভাবে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হতে পারে।


ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ সব খবর

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৩ পিএম

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অগ্রভাগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এটি উপকূলটিতে আঘাত হানবে। বাংলাদেশে কেবল দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির প্রভাব থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া এমন তথ্য জানিয়েছে।


ভারতের আবহাওয়াবিদ উমশঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।


দুপুরে অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপাটনাম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপাটনাম থেকে ২৭০ কিলোমিটার পূর্বে, বাপটলা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পূর্বে ও ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল।


এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, একই সময়ে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।


এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল ২৮ অক্টোবর দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা এবং বিশাখাপাটনামের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে বুধবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূলে উঠে আসবে। সে সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। মূলত ভোরেই এর অগ্রভাগ ১৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় করে বৃহস্পতিবার স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরের দিন এটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।


আন্দামান দ্বীপ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঝড়ের সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, সিকিমে হতে পারে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি।


২৮ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সমুদ্রের অবস্থা অতি প্রতিকূল হতে পারে। একই সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের আশপাশের সমুদ্রও বিক্ষুব্ধ থেকে অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অতি প্রতিকূল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ইতোমধ্যে জেলেদের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের আশপাশে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশায় ঝড়ের প্রভাবে কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি এবং খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে। পাকা বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি বাঁকা বা উপড়ে যেতে পারে। ভেঙে পড়তে পারে গাছের ডাল, উপড়ে যেতে পারে বড় গাছ।


এ ছাড়া ফসল, বাগান ও ফলের বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। রাস্তা, রেলপথ, বিদ্যুৎ ওভারহেড লাইন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ছোট নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নোঙর করা নৌযানও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।


অন্যদিকে অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশ এবং উত্তরাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে ঝড়ের প্রভাব।

সর্বশেষ সব খবর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫০ পিএম

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’ 


আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ 


আগের দিন সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।


তিনি বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।


আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর

অন্যদিকে দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।


সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।


এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।

সর্বশেষ সব খবর

মানিক পশারী

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩২ পিএম

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, পিরোজপুরে তাঁর মরদেহ দাফনে জামায়াতের বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।


বিবৃতিতে বলা হয়, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং মৃত্যুর পর মর্যাদার সঙ্গে শেষবিদায় নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক, মানবিক ও জাতীয় দায়িত্ব। তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।


এতে আরও বলা হয় আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

সর্বশেষ সব খবর