প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান সংসদের প্রথম বৈঠকের সভাপতি হিসেবে খন্দকার মোশাররফ হোসেনর নাম প্রস্তাব করেন।
দেশে আজ থেকে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রত্যেক সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাই।
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু না করে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকার অকার্যকর করে ফেলেছিল। আমরা এই মহান জাতীয় সংসদকে সকল যুক্তি তর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না, আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে অবশেষে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে জনপ্রতিধিত্বশীল জাতীয় সংসদ। আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন সংসদ শুরুর এই যাত্রা লগ্নে তাদেরকে স্মরণ করছি। এই আন্দোলনে আহত মানুষকে তাদের স্বাচ্ছন্দের জীবন হারাতে হয়েছে। যেসব মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক হয়রানি কিংবা মিথ্যা মামলা শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন তাদের স্মরণ করছি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। সেই গণতন্ত্রকে প্রহসনের রূপ দিয়ে জাতীয় সংসদকে হাস্যরসের খোরাকে পরিণত করা হয়েছিল। দেশের তাবেদারি শাসন শোষণ কায়েম করা হয়েছিল। দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। জীবনে কখনও স্বৈরাচার কিংবা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি। দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠাতা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের সাফল্যে এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আজ তাই এই জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে আপসসীন নেতৃত্ব ব্যক্তিত্ব স্মরণীয় বরণীয় অনুকরণীয় রাজনীতিবিদকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা উল্লেখ করে তাঁর উক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয় তাহলে আমি সেই দলেরই আছি। অর্থাৎ ব্যক্তি কিংবা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচাইতে বড়। এটাই বিএনপির রাজনীতি।’ তিনি বলেন, আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছি। জাতীয় সংসদে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি এই জাতীয় সংসদে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমার রাজনীতি দেশ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবার স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই বিএনপি একটি স্বনির্ভর সমৃদ্ধ নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা চাইছি। এই মহান জাতীয় সংসদে সকল দলের নির্বাচিত প্রতিজন সংসদ সদস্যের সমর্থন এবং সহযোগিতা আশা করছি। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমাদের দল কিংবা মত কিংবা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাবেদার মুক্ত, ফ্যাসিবাদ মুক্ত একটি স্বাধীন সার্বভৌম নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।
নতুন সরকার যাত্রার শুরুতে স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী এবং গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে যে জনরোষ তৈরি হয়েছে বা জনরোষ তৈরি হয়েছিল তাতে এই মহান সংসদের সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কারাগারে, কেউ নিখোঁজ কিংবা কেউ পলাতক। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী এবং তাঁবেদারি শাসন শোষণের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ আমাদের এক বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদের সদস্য মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি
জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে স্ট্যাটাসে এই সাক্ষাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। সেখানে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি জাপানের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে জানান, ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘আইনের শাসন’-এর মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের পথচলাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে একটি ‘গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের’ পর গঠিত এই নতুন সরকারের রাষ্ট্র গঠনের সকল প্রচেষ্টায় জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। স্ট্যাটাসে বলা হয়, মঙ্গলবারের এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশেষ করে ‘মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি)’ রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে ‘বিগ-বি’ (BIG-B) উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন দুই নেতা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশকে একটি ‘শান্তিপূর্ণ জাতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিভিন্ন খাতে জাপান সরকার ও জনগণের দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি বিশাল বাজার হিসেবে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যকার ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ ওপর ভিত্তি করে আজ একটি ‘যৌথ বিবৃতি’ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দিনে উভয় দেশ বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে বাংলাদেশ ও জাপান সম্মিলিতভাবে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ হতে পারে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের অগ্রভাগের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এটি উপকূলটিতে আঘাত হানবে। বাংলাদেশে কেবল দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির প্রভাব থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া এমন তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের আবহাওয়াবিদ উমশঙ্কর দাশ জানিয়েছেন, বর্তমানে ঘণ্টায় ৬ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। অর্থাৎ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে।
দুপুরে অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপাটনাম থেকে ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ১৮০ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপাটনাম থেকে ২৭০ কিলোমিটার পূর্বে, বাপটলা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার পূর্বে ও ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল।
এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, একই সময়ে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১১৩০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল ২৮ অক্টোবর দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা এবং বিশাখাপাটনামের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে বুধবার দুপুরের দিকে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূলে উঠে আসবে। সে সময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার। মূলত ভোরেই এর অগ্রভাগ ১৬০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় করে বৃহস্পতিবার স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরের দিন এটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে।
আন্দামান দ্বীপ, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ঝড়ের সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ, সিকিমে হতে পারে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি।
২৮ অক্টোবর সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সমুদ্রের অবস্থা অতি প্রতিকূল হতে পারে। একই সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের আশপাশের সমুদ্রও বিক্ষুব্ধ থেকে অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৮ অক্টোবর সকালে অতি প্রতিকূল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ইতোমধ্যে জেলেদের অন্ধ্রপ্রদেশ-ওড়িশা উপকূলের আশপাশে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্ণবের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশায় ঝড়ের প্রভাবে কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি এবং খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘর পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে। পাকা বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের খুঁটি বাঁকা বা উপড়ে যেতে পারে। ভেঙে পড়তে পারে গাছের ডাল, উপড়ে যেতে পারে বড় গাছ।
এ ছাড়া ফসল, বাগান ও ফলের বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। রাস্তা, রেলপথ, বিদ্যুৎ ওভারহেড লাইন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। ছোট নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নোঙর করা নৌযানও বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের কিছু অংশ এবং উত্তরাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে কমতে থাকবে ঝড়ের প্রভাব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’
আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’
আগের দিন সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।
তিনি বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।
আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর
অন্যদিকে দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।
সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।
এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি।
মানিক পশারী
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, পিরোজপুরে তাঁর মরদেহ দাফনে জামায়াতের বাধা দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় জীবনবাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং মৃত্যুর পর মর্যাদার সঙ্গে শেষবিদায় নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক, মানবিক ও জাতীয় দায়িত্ব। তাঁর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এতে আরও বলা হয় আমরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় থাকা ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে আগামীকাল বুধবার দুপুরের দিকে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ছয়টার দিকে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল।
আজ সকাল ছয়টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হামিদ মিয়া আজ দুপুরে বলেন, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকায় আগামীকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আগে গতকাল দেশের তাপমাত্রা অনেকটাই বেড়ে যায়। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের আমবাগানে-৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগে বাতাস সমুদ্রগামী হয়। তাতে ঠান্ডা হাওয়া কমে যায়, ভ্যাপসা ভাব চলে আসে। তার ফলেই এত গরম ছিল। তবে বৃষ্টির পর আগামীকাল তাপমাত্রা কমতে পারে।
সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে কোনো মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে না, বরং তিনি আইনের আওতায় পুরোপুরি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনা ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি দেশে ফিরে এলে আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার তা-ই হবে। দেশে তার ফেরা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, “উনি এলে আমরা খুশি, তাহলে আর বেঁধে আনতে হলো না।”
সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের পতনের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, এরশাদ পতনের পরও দেশে ছিলেন, কারাবরণ করেছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা কারও প্রতি সুবিচার না করলেও বর্তমান সরকার তাঁর সঙ্গে পূর্ণ ন্যায়বিচার করবে বলে আশ্বস্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা।