ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:৫১ এএম

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এরমধ্যে বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার।


বুধবার (৪ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।


বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে এপিবিএনে, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদকে বগুড়ার পুলিশ সুপার, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকারকে খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে, জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে, এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।





শেখ হাসিনা

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীরে নয়টি গুলি লাগার বানোয়াট দাবি এবং ভুয়া চিকিৎসাপত্র দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। বিস্তারিত তদন্তে মামলার বাদী নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ হওয়া তো দূরের কথা, ঘটনার দিন তিনি কোনোভাবেই আহত হননি বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।


এ প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার মোট ৮৪ জন আসামিকে অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।


গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে এ চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন। সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে ম্যাজিস্ট্রেট নথি পর্যালোচনা করে বাদীর প্রতি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন এবং আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।


মামলার নথিপত্র ও পুলিশ সূত্র জানায়, এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেছিলেন যে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি নির্বিচার হামলার শিকার হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটিসহ মোট নয়টি গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।


পরবর্তীতে আসামিরা তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন তিনি।


জাল চিকিৎসাপত্রে সাজানো নাটক ফাঁস


পুলিশের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাদী নূর হোসেন এজাহারের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসার যে ব্যবস্থাপত্র ও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তা পুরোপুরি জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখা যায়, উল্লিখিত তারিখে নূর হোসেন নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি।


প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা দুটি গুরুতর অসংগতি তুলে ধরেন। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সব সময় হাতে লিখে ব্যবস্থাপত্র দেন, কিন্তু নূর হোসেনের দাখিলকৃত নথিটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসাপত্রে ব্যবহৃত ক্যাশ মেমো নম্বরটি যাচাই করে দেখা যায় সেটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক ভিন্ন রোগীর নামে বরাদ্দ। এছাড়া যে পেশেন্ট আইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল, তা ছিল জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী অন্য এক ব্যক্তির।


এমনকি জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গেজেটেও নূর হোসেনের নামের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতা ও তথ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাদী বাস্তবে আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে আহত হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে এ মামলা করেছেন।


তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর বিভিন্ন সময়ে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আট আসামিকে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। নতুন করে কাউকে এ মামলার এজাহারের ভিত্তিতে সরাসরি আটক করা হয়নি।


তদন্তে অভিযোগের কোনো প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অব্যাহতি পাওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।


মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার দায়ে বাদীর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উক্যমং রাখাইন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। 


পাসের হার ২২ বছরে সর্বনিম্ন

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪২ পিএম

এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পর্যায়ে পা রাখতে যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা উত্তীর্ণের মোট সংখ্যার ৬ দশমিক ২ শতাংশ।


এর আগে ২০২৫ সালে এ পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ; তাদের মধ্যে ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। এই হিসাবে ২০২৬ সালের পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।


এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনও এবারের মতো বাজে ফল আর হয়নি।


আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বরাবরের মতই শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের পাশাপাশি মোবাইলে এসএমএস করেও উচ্চমাধ্যমিকের ফল জানা যাচ্ছে।


চব্বিশের অভ্যুত্থান ঘিরে সার্বিক অস্থিরতা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনের অধীনে খাতা দেখার ধরন বদলে যাওয়ায় গতবার মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিকেও পাসের হারে ধস নামে।


এবার এসএসসিতে পাসের হার আরও কমে হয় ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে ফল এল।


ফলাফলে এমন ধসের পেছনে নির্মোহভাবে খাতা দেখা এবং শিক্ষার্থীদের শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখার কথা বলছে সরকার।


ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন বলেছেন, “আমাদের নির্বাচিত সরকারের আয়োজিত প্রথম এই এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় আমরা নির্মোহ মূল্যায়ন নিশ্চিত করেছি।


“প্রত্যেকের খাতায় যে পরীক্ষা যেভাবে দিয়েছে, তার উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চাইছি এবং এই প্রথমবারের মতন থাকছে পূর্ণাঙ্গ পুনর্নিরীক্ষা।”


অকৃতকার্যদের মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে যারা ফেল করেছে, সম্ভব হলে এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি।


আর শিখনের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ফলাফলে এভাবে নিচের দিকে নেমে আসা কখনও কাম্য নয়।


“ঘাটতি আমাদের শিখন পদ্ধতিতে রয়েছে, অভিভাবকদের রয়েছে, পরিবেশ রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে যে ঘাটতি রয়েছে, সেটাকে আমাদেরকে পুনঃনির্ধারণ করতে হবে এবং এটাকে আমাদের অ্যাড্রেস করতে হবে-এটাই আমাদের দায়িত্ব।”


এ ঘাটতি পূরণের জন্য অভিভাবক এবং শিক্ষকদেরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


খাতা পুরোপুরি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থাকার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “খাতা দেখায় স্বচ্ছতার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি এবং অসঙ্গতি পাওয়া গেলেই সেগুলি নিয়ে আপনাদের ছাত্র-ছাত্রীরা তারা রি-এক্সামিন করতে পারে। তখন আগামী দিনে কী হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারব।”


এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষায় ফলাফলে অনেক পরিবর্তন আসার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য এসেছিল। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে এবং ৫ হাজার জন ফেল থেকে পাস করেছে। আর ৩ হাজার ৭৯ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছিল।


এই পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অনেক রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে, এবার কী অবস্থা হয়। আমাদের শিক্ষকদের, এক্সামিনারদের কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না সেটা আমরা দেখি।


“তো আপাতত আমরা বলতে পারি যে- এই রেজাল্টটি যতটা হয়েছে, যদিও আমরা উদ্বিগ্ন, কিন্তু রেজাল্টে ত্রুটি আছে কি-না, সেই বিষয়ে আমরা এখনো নির্ধারণ করতে পারিনি। রি-এক্সামিন করার পর বোঝা যাবে।”


গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্ধারিত দিন সকালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সারতেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার হাতে ফলের প্রতিবেদন তুলে দিতেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকতেন ওই অনুষ্ঠানে।


সরকারপ্রধান আনুষ্ঠানিকতা সারার পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট ও মোবাইলে ফল জানার সুযোগ মিলত। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের বিস্তারিত ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরতেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফল প্রকাশের সেসব আনুষ্ঠানিকতা রাখা হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।


এবারের ফল


এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়।


তাদের মধ্যে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস করেছে। সার্বিক পাসের হার ৫২.১২%


নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।


মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৬১.০৭%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন।


কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯.৪৩%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৬ জন।


সার্বিকভাবে ছাত্রদের মধ্যে পাসের হার ৪৭.৭৫%, ছাত্রীদের মধ্যে পাস করেছে ৫৬.৩১%


জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী।


ফল মিলবে যেভাবে


বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, বোর্ডগুলোর প্রকাশিত ফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার্থীরা https://eduboardresults.gov.bd ও https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।


প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করে বোর্ড ও প্রতিষ্ঠানের ইআইএন দিয়ে ফল ডাউনলোড করতে পারবে। আর পরীক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।


এছাড়া এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থী। এর জন্য HSC লিখে স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের তিন অক্ষরের নাম, স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আবার স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখতে হবে। এরপর 16140 নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। যেমন- HSC DHA 123456 2026 লিখে 16140 নম্বরে পাঠাতে হবে।


উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন


পুনর্নিরীক্ষণসহ উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করা যাবে অনলাইনে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত।


এর জন্য ওয়েবসাইটে (https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd) গিয়ে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ ও বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। তারপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করলে মোবাইল নম্বর চাইবে, যে নম্বরে পুনঃনিরীক্ষণের ফল এসএমএস করা হবে।


পরবর্তী ধাপে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য বিষয় নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।


প্রতিটি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে ফি গুনতে হবে। দ্বিপত্রের বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।


প্রয়োজনে ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে।


সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে একযোগে সারাদেশে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৫ পিএম

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়েই ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন। ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ এবং আইসিটিতে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন।


আজ শনিবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।


এবারের পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর আর কখনো পাসের হার এত নিচে নামেনি।


আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। একযোগে সারাদেশে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


এদিকে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যতটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাকে শুধু সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। 


পাসের হার বেশি মেয়েদের কিন্তু জিপিএ-৫-এ এগিয়ে ছেলেরা

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার বেশি মেয়েদের। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন। এবার ছেলেদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মেয়েদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। 


অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং মেয়ে ১৯ হাজার ৭২১ জন। অর্থাৎ জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে ৬৪২ জন বেশি। আজ শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছেলের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। 


অন্যদিকে ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন মেয়ের মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। মেয়েদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। সে হিসাবে পাসের হারে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন।


সব মিলিয়ে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।


গত বছর ২০২৫ সালে ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।


পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:২৮ পিএম

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। 


অন্যদিকে, পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ।


আজ শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানানো হয়।


ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। গড় পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী।


বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।


সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাইরে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বোর্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫৪৭ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন। 


অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বোর্ডে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৮৮৯ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৮৬ জন।


সংবাদ সম্মেলনে ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।


আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬১.০৭ শতাংশ

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৭ পিএম

চলতি বছরের আলিম পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। 


আজ শনিবার বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর আলিম পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮৯ হাজার ৩২১ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫৪৭ জন।


পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫০ হাজার ৩৭৪ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২৯ হাজার ২৬৯ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশ। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ২৮ জন।


অন্যদিকে, ৩৮ হাজার ৯৪৭ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ২৭৮ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২২২ জন।


এ বছর দেশের ৪৬০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয়।