সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদনের ক্ষেত্রে তিনি নিজ সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। এ নিয়ে তিনি সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারি এই দাবি করেন।
তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করার পর তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তাকে ‘অগ্রসর না হতে’ (not to proceed) নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা ‘নোট ভারবাল’ না পাওয়ায় তার আবেদন প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি।
মুশফিক ফজল আনসারি জানান, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হলে জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মী তাকে আবেদনের বিষয়ে উৎসাহ দেন। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
রাষ্ট্রদূতের দাবি, সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন শুরুতে আবেদন করতে মৌখিক সম্মতি দিলেও আবেদন জমা দেওয়ার পর বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে ‘অগ্রসর না হতে’ নির্দেশ দেন। জবাবে আবেদন জমা হয়ে গেছে জানালে এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন।
ফেসবুক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন। এ ধরনের পদে সদস্যরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে তিনি নিজ দেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে না চাওয়ায় তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ চাননি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়েছিল– মুশফিক ফজল আনসারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। যদিও এ পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না; সদস্যরাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং ও জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের কারণে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছেন না জানিয়ে তিনি এই বিষয়ে একটি বই লেখার কথা উল্লেখ করেন।
পাসপোর্ট
সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় পুনঃইস্যুর আবেদন বেড়েছে। এ পরিস্থিতি এড়াতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে একই ঘটনা দ্বিতীয়বার বা এরপর ঘটলে প্রতিবারই নির্ধারিত ফি’র সঙ্গে অতিরিক্ত ১০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এছাড়া নতুন নিয়মে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি যাওয়ার পর পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। উপসচিব মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর বিভিন্ন ধাপ ও করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে রিপোর্ট ও থানায় জিডি
পরিপত্রে বলা হয়, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টের স্ট্যাটাস হালনাগাদ করবে।
এছাড়া নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া না গেলে জিডির কপি দিয়েই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এরপর অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।
জিডি যাচাইয়ের সময় যদি জানা যায়, ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং সেটি অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে কিংবা দ্রুত ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই, তাহলে আগের পাসপোর্ট রিভোক করে নতুন পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
তথ্য হালনাগাদ করবে স্পেশাল ব্রাঞ্চ
হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার পর স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করবে। প্রয়োজন হলে ইন্টারপোলকেও বিষয়টি জানানো হবে। এরপর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানকালে পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে।
নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার পর এর ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘Previous Passport is Reported to be Lost’ উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ‘Lost’ অথবা ‘Revoked’ হিসেবে হালনাগাদ করতে হবে।
পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনে বিধিনিষেধ
পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, বাবার নাম ও মায়ের নাম পুরোপুরি পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয় আলাদাভাবে বিবেচনা করা যাবে।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে সেটি জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে। কিন্তু পাসপোর্ট পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে এবং পরিচয় শনাক্তের মতো কোনো অংশ দেখানো সম্ভব না হলে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
পাওয়া গেলেও হারানো পাসপোর্ট ব্যবহার করা যাবে না
একবার বাতিল করা পাসপোর্ট পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হলেও তা দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। অবিলম্বে সেটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা থানায় জানাতে হবে।
এছাড়া অনলাইনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানাতে হবে। বিদেশে থাকলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মিশনকেও অবহিত করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাটাবেজ ও ইমিগ্রেশন অ্যালার্ট হালনাগাদ করা হবে।
হারানো, চুরি বা নষ্ট পাসপোর্ট পুনঃইস্যু নিয়ে আগে জারি করা বিভিন্ন পরিপত্র, আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় ও সংশোধন করে নতুন এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এটি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্মানে প্রাতরাশের আয়োজন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও এতে অংশ নেন।
পাঁচ দিনের সফরে গত সোমবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সফর। তার এ সফরকে ঘিরে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বৈশ্বিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনীতি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
তারেক রহমান একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর আগে তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার কর্মসূচির শুরুতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দেওয়া প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন।
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।
আলাপচারিতার একটি ছবি শেয়ার করে পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত কুশল বিনিময়।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া ভাষণের পর সংক্ষিপ্তভাবে এ কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
লঞ্চের ভাড়া বাড়লো
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ভাড়া বাড়ছে গণপরিবহনের। এরই ধারাবাহিকতায় ঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। প্রথম ১০০ কিলোমিটারের প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ২০ পয়সা। এছাড়া, লঞ্চের সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নৌ পথের ভাড়া বৃদ্ধির কথা জানান।
এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানো হয় বাসের ভাড়া। দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।
যদিও বিআরটিএ যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া দূরপাল্লার পথে কিলোমিটারে ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাস মালিকদের সংগঠনগুলো।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের বৈঠক হয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।
স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।
তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চান মালিকরা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন মালিকরা। প্রতি কিলোমিটারে ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থা। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নৌমন্ত্রীর কাছে নতুন বর্ধিত ভাড়া নির্ধারণের এই প্রস্তাব দিয়ে মঙ্গলবার চিঠিটি পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য বিদ্যমান দুই টাকা ৯৫ পয়সার স্থলে চার টাকা ৪৫ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার দুই টাকা ৫২ পয়সার স্থলে চার টাকা দুই পয়সা নির্ধারণ করার কথা বলেছে। তা না হলে জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে নৌমন্ত্রী জানিয়েছেন, লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
চিঠিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থার সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর উল্লেখ করেন, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা বাড়ালে ভাড়া ৫১ শতাংশ এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে একই হারে বাড়ালে ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়বে। একই সঙ্গে যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, সোমবার সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত লঞ্চগুলো ডিজেল ও মবিলচালিত হওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পরিচালন ব্যয়ে পড়বে।
সংগঠনটির দাবি, এরই মধ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বিভিন্ন ফি ও চার্জ বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং (ঘাটে ভেড়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ-কে প্রদত্ত) চার্জ ১১৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নৌযানের রুট পারমিটের আবেদন ফরমের ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এছাড়া নৌযানের বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের জন্য নতুন করে বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি, নৌযানের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন ফি এবং আয়কর ও ভ্যাটের ব্যয়ও বেড়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। লঞ্চের প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও স্পেয়ার পার্টসের দাম এবং ডকিংসহ পরিচালন ব্যয়ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে লঞ্চ মালিকদের সংগঠনের দাবি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বর্তমানে অনেক যাত্রী সড়কপথে যাতায়াত করছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ অবস্থায় লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে যাত্রীভাড়া বাড়ানোর অনুমোদন বা ডিজেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে যাপ। লঞ্চ মালিকদের দাবি মানা হলে ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ডেক শ্রেণির ভাড়া ৪২৯ থেকে বেড়ে ৬৬০ টাকা হবে। কেবিন শ্রেণির যাত্রীর ভাড়া হবে ডেকের চারগুণ।