ছবি : সংগৃহীত
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটাই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। এ লক্ষ্যে ১৮০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, বৃক্ষরোপণ এবং নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনর্খনন নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।
এই রমজানেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে আট বিভাগের আট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড চালু হবে। তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এবার সংগঠনের দিকেও মনোযোগী হচ্ছে বিএনপি।
নির্বাচনে ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় সংগঠন কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তৃণমূলে সংগঠন গুছিয়ে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী সংগঠন নিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় বিএনপি।
সিদ্ধান্ত না হলেও এর অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর তৃণমূল পুনর্গঠনে হাত দিতে পারে দলটি। তবে নির্বাচনে ধানের শীষ ও জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া নেতাদের ব্যাপারে এখনই ভাবছে না বিএনপি। দলীয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা ধানের শীষ না পেয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিলেন তারা; যদিও বিষয়টি সহজেই উতরে এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।
তবে নির্বাচনে এত সংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নিয়ে চিন্তিত দল। তাই এর ‘প্রকৃত কারণ’ অনুসন্ধানে নামছে বিএনপি। দলটি বুঝতে চায়, ‘ধানের শীষ না পেয়ে দলের নেতারা কি নিজেদের অধিকতর যোগ্য মনে করে পাস করবে’-এই চিন্তা ও বিশ্বাস থেকেই ধানের শীষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিল, নাকি কারও ইন্ধনে প্রার্থী হয়েছিলেন?
বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচনে পাস করার প্রবল সম্ভাবনা ছিল, এ রকম বেশ কয়েকজন প্রার্থীও ফেল করেছেন। এদের মধ্যে খুলনা-২ আসনের নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স অন্যতম। ধানের শীষের এমন প্রার্থীরা কেন ফেল করলেন, এর কারণও জানতে চায় দল। তাই এই দুটি বিষয় নিয়ে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি।
তপশিল ঘোষণার পর প্রথমদিকে ধানের শীষ না পেয়ে ১১৭টি আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রায় ১৯০ জন বিএনপি নেতা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে দলীয় নানান উদ্যোগের পর বেশিরভাগ নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন বিদ্রোহীরা।
বিএনপির দপ্তর বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, এমন অন্তত ৭১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর দলীয় বা দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।
ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ২০টির মতো আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীরা সুবিধা পান। এ ছাড়া ৭টিতে জেতেন বিদ্রোহীরা। সব মিলিয়ে ২৭টির মতো আসনে জয়-পরাজয়ে প্রভাব রাখেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর গত মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে রংপুর বিভাগের আসাদুল হাবিব দুলু, ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের শামা ওবায়েদ, ময়মনসিংহ বিভাগের শরীফুল আলম এবং খুলনা বিভাগের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রী হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, একটি দলকে সাংগঠনিকভাবে গতিশীল রাখতে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন; সংগঠনকে গতিশীল রাখতে তাদের স্থলে যত দ্রুত সম্ভব কর্মঠ, দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, এমন নেতাদের পদায়ন করা প্রয়োজন।
দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপি সবে সরকার গঠন করেছে। জনগণকে দেওয়া নানান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন বিএনপি সরকারের মূল ফোকাস। সুতরাং এই ব্যাপারটি নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি; যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বিএনপির নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে, দলের যারা এমপি-মন্ত্রী হবেন অর্থাৎ যারা সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত থাকবেন, তাদের পরিবর্তে দলের অন্য নেতাদের সংগঠনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রমজানে বিএনপির পক্ষ থেকে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে দু-একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করা হতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তি এবং ভাসানটেক এলাকার ১৪টি এতিমখানা এবং হেফ্জ মাদ্রাসায় প্রত্যেককে পুরো রমজান মাসের জন্য ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি দেওয়া হবে।
এর অংশ হিসেবে প্রথম রোজায় গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজধানীর পশ্চিম ভাসানটেক থানার অন্তর্গত জামিয়া কুরবানিয়া তালিমিয়া দাওরা হাদিস মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, 'রমজানে স্বাভাবিকভাবেই ইফতার পার্টিগুলো হবে। যারা এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এলাকায় ইফতার পার্টি দেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সেখানে অংশগ্রহণ করবেন। এটাও এক ধরনের সাংগঠনিক কার্যকলাপ।'
তিনি বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটা স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। কিছু কমিটির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে; আবার কিছু জায়গায় আহ্বায়ক কমিটি আছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। আমরা কিছুদিন পরে এগুলোতে হাত দেব। সরকারে বিএনপি থাকলেও বিএনপি যেহেতু একটা বৃহৎ সংগঠন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে, এটাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। তাছাড়া সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে হতে থাকবে। সুতরাং দলকে গুছিয়ে সুসংগঠিত রাখতে হবে।
সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সাংগঠনিক সম্পাদক মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। দলে তাদের স্থলে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘এটা দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিষয়। হয়তো দল এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করে দেখবে।’
বিএনপি ও সরকারের সফলতার জন্য উভয়ের মধ্যেই ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সরকার গঠন করলেই দল পুনর্গঠন করতে হয়। কারণ, সরকার গঠনের সঙ্গে নতুন নতুন ডিমান্ড, নতুন নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী দলে বা সরকারের বাইরে থাকাকালীন দল একরকমভাবে পরিচালিত হয়, আবার সরকারে থাকলে দল আরেকরকমভাবে পরিচালিত হয়।
এ জন্য দল পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়। তবে পুনর্গঠন করতে গিয়ে যারা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের এখনই দলে নেওয়া সমীচীন হবে না। কারণ, নির্বাচনে ধানের শীষ ও দল সমর্থিত জোট প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তারা দলকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছিলেন, যদিও দল এ জায়গা থেকে ওভারকাম করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকলে তো সব ধরনের মানুষকেই পাশে রাখা যায়, তাতে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু বিএনপি যেহেতু এখন সরকারে, তাই দল পুনর্গঠনে ত্যাগী-আন্তরিক নেতাদেরই সামনে নিয়ে আসতে হবে। দলের যারা যারা সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন, যারা দলে এখন আর ঠিকমতো রোল প্লে করতে পারবেন না; সংগঠনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে, সংগঠনকে গতিশীল করতে সেখানে অবশ্যই পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে পরের স্তরে যারা আছেন; যারা কর্মঠ, যারা দলকে সময় দিতে পারবেন কিন্তু সরকারে নেই, তাদের দলের কাজে লাগানো দরকার।
তবে এ ক্ষেত্রে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে- যতটা পারা যায় সরকারের প্রক্রিয়া থেকে দলের প্রক্রিয়াটা আলাদা রাখা। যারা দল থেকে সরকারে গেছেন, তাদের সবাইকে যদি দলে রাখা হয়, তাহলে তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে দল এবং সরকার একাকার হয়ে যায়। দল এবং সরকারকে একাকার করে ফেলা যাবে না। আবার দলের যারা সরকারে আছেন, তাদের দল থেকে সম্পূর্ণ বের করেও দেওয়া যাবে না, তাহলে দলের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ-জবাবদিহি থাকে না।’
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘দল এবং সরকারের মধ্যে একটা ভারসাম্য লাগবে। সরকারে যারা আছেন, তারা যেন দলের প্রতি এক ধরনের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আন্তরিকতা অনুভব করেন; অন্যদিকে দলে যারা আছেন, তারা যেন সরকারে থাকাদের এক ধরনের জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারেন। সরকারে বিএনপি এবং দলে বিএনপি- এই দুয়ের মধ্যে কানেকশন চ্যানেলটা থাকতে হবে। এটার ওপরই সরকার এবং দল উভয়ের সাফল্য নির্ভর করবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির যে চেষ্টা চলছে, তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সরকার।
আজ রোববার রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে জরুরি বৈঠক শেষে এ কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এরপরও পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যাহত করা এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে করছে সরকার। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে শ্রমিক অসন্তোষের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণ এবং পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দাবি যেটা ছিল, মজুরি বোর্ড সেটাতো হয়ে গেছে। কাজেই এখন যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, পোশাক খাতে যাতে অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। এটা পরিষ্কার যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকজন ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
সোমবারও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। সরকার তা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ: মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুরসহ গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। দিনভর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
এতে কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পোশাক কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া ও অসন্তোষের কারণ বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং সংসদ সদস্য ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
এক জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ৪ অক্টোবর রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন তার জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা খারিজ করেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ২ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি নিয়ে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন, বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এর আগে রোববার দুপুর ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরও বাতিল করেছেন শ্রমমন্ত্রী।
রোববার সকালে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকার আগেই সংবাদমাধ্যম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়েছিল। এরপরও শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আন্দোলনরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এ সময় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গাজীপুর, ঢাকার সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে ওইসব এলাকার প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার পুনর্ব্যবহাযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যেগে আয়োজিত ‘সাইন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ — শীর্ষক এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, অতীতের নীতির কারণে জ্বালানি খাতে আমাদের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে আমরা জ্বালানির উৎস বহুমুখী করতে চাই। সরকার পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্পও চালু আছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো। এ কারণে নতুন যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোতে বৈদ্যুতিক যানবাহনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি ও খালেদা জিয়ার সিএনজির মতো পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালুর উদ্যেগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে কার্যকর নীতি প্রণয়নে বিএনপির সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্লাস্টিক ও পলিথিন নিষিদ্ধকরণ এবং পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারেও উদ্যোগ নিয়েছিল বিএনপি সরকার।
বিগত বিএনপি সরকারের সময়েও দেশব্যাপী সাপ্তাহিক, মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমরা সেই সংস্কৃতিকে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে ও আরও বিকশিত করতে চাই।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা সবাই এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ধ্বংস করা হবে না; বরং প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করা হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা এমন প্রকল্প ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে চাই, যেখানে পরিবেশ সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ, আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিশুদ্ধ ও নির্মল বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারবে। আর সে জন্য আমাদেরকে বহুমুখী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা জলাধার তৈরি করতে চাই। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ধরে রাখা ও পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এ এস এম আব্দুল আওয়াল ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রমুখ।
শপথগ্রহণ করছেন পিএসসির নবনিযুক্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। আজ রোববার বিকাল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে তিনি পিএসসির সদস্য পদে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন। রোববার (১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৪ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৯২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জনে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৮৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৮৩১ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৫৭ জন, খুলনায় ২৫৯ জন, বরিশালে ২২৯ জন, রাজশাহীতে ১৮৫ জন, ময়মনসিংহে ৯২ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।