প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন ও কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।
গতকাল বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব রকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছি। তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই যাত্রালগ্নে আমি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান তথা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী এই দেশ আমাদের সবার। প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই এ দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।
রমজানের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি, তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটি ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র-মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীর প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা, বিক্রেতা, গ্রহীতা-এই সরকার সবারই সরকার। এই সরকার আপনাদেরই সরকার। আপনারাই ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারাই এই সরকারের শক্তি।
রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতের নির্দেশনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার-তারাবি-সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন প্রত্যেক মুসলমানের ইমানি দায়িত্ব। অফিস-আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদতের অংশ বলেই আমি মনে করি।
তিনি বলেন, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমি সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদের দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এসব সিদ্ধান্ত ‘ন্যায়পরায়নতার’ আদর্শেরই প্রতিফলন।
যানজট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন। হাঁটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জনজীবনের নানা ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা-বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারেন; সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস এবং সমন্বয় করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, সারা দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ, সুলভ এবং নিরাপদ করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।
কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। আমরা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্ববাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদের কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ-যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায়-জ্ঞানে-বিজ্ঞানে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সবরকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
দেশ গড়তে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আমি বলেছিলাম, দেশ এবং জনগণের জন্য ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার ‘প্ল্যান- পরিকল্পনা’র অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সব অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি, ইনশাআল্লাহ। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।
দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দল-মত, ধর্ম-দর্শন যার যার; রাষ্ট্র সবার। এই দেশে এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে আপনার-আমার-আমাদের প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ এবং সুস্থ রাখুন। আল্লাহ আমাদের ইতিবাচক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের তৌফিক দিন।
লাউ ও পেঁপে উৎপাদন
এক টাকায় চারটি লাউ। আর এক কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন টাকায়। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে ফসল তোলার শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচও উঠছে না। তাই জমিতে ফলনভরা লাউয়ের গাছ কেটে ফেলছেন কৃষক। পেঁপে পেকে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। অথচ রাজধানীর বাজারে একটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপেও বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকায়।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এবার লাউয়ের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় দর পড়ে গেছে। কোথাও চারটি লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়, কোথাও প্রতিটি লাউয়ের দাম দুই থেকে পাঁচ টাকা। অথচ স্থানীয় খুচরা বাজারে একটি লাউয়ের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
আটোয়ারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার কৃষক দুলাল ইসলাম ৪০ শতক জমিতে লাউ চাষ করেছিলেন। তাঁর খরচ হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এ পর্যন্ত লাউ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র তিন হাজার টাকা। এই অর্থে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এই কৃষক আরও বলেন, দুই থেকে তিন হাজারটি লাউ বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস কেনার টাকা হয় না। লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত বাগান কেটে ফেলেছেন। কিছু লাউ গরুকে খাওয়াচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, কৃষক এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে দাম না পেলে চাষ করবেন কীভাবে?
একই উপজেলার ঝলঝলি উলারচাপ এলাকার কৃষক আনসারুল ইসলাম ১০ দিন ধরে লাউয়ের বাগানের পরিচর্যা বন্ধ রেখেছেন। সার-কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও লাউয়ের দাম মিলছে সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা পর্যন্ত। একজন শ্রমিককে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিতে হয়। এ অবস্থায় বাগানে পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়াকে লোকসান আরও বাড়ানোর শামিল মনে করছেন তিনি।
পেঁপের বাজারেও একই চিত্র। ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এবার প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুকূল আবহাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার ও আবাদ বাড়ায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পেঁপে আসায় দাম নেমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে।
সিংগাইরে জমিতে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা। এ দামে পণ্য বিক্রি করে জমির ভাড়া, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমের খরচ তোলা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক কৃষক গাছ থেকে পেঁপে তুলছেন না। কোথাও পাকা পেঁপে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও গাছ কেটে বিকল্প ফসল চাষের প্রস্তুতি চলছে।
সিংগাইরের গোপালনগর গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন দুই বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু ক্রেতারা কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকার বেশি দিতে চাইছেন না। এই দামে শ্রমিক ও ভ্যানভাড়া দেওয়াই কঠিন বলে জানান তিনি।
সিংগাইরের আরেক কৃষক তাজুল সিকদার লোকসানের কারণে দুই বিঘা জমির পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছেন। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে খরচের সামান্য অংশও ফেরত না পাওয়ায় অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।
কৃষকদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে পেঁপে চাষে আগ্রহ কমে যাবে।
এ দিকে ঢাকার পাইকারি বাজারেও এক সপ্তাহ ধরে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি চার থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে খুচরা বাজারে পেঁপের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
গত বছরের বেশি দামের অভিজ্ঞতায় এবার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় উৎপাদন এবং আগাম বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ফলন ও সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারের হিসাব উল্টে গেছে।
কারওয়ান বাজারের পেঁপে ব্যবসায়ী মাহফুজুর রহমান গত বছর ভালো দাম পাওয়ার অভিজ্ঞতায় এবার পাঁচ জেলার কৃষকদের তিন কোটি টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, এবারও বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ী জানান, কয়েক দিন ধরে তিনি পেঁপে কেজিপ্রতি ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করেছেন। এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে চার টাকায়। অথচ চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ঢাকায় পেঁপে আনতেই কেজিপ্রতি পরিবহন খরচ চার টাকার বেশি পড়ে। তিন কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর এর ৫০ লাখ টাকাও ফেরত পাবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। ব্যাংক ঋণ ও সুদের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে তিন টন পেঁপে কারওয়ান বাজারে এনেছিলেন অজি উল্যাহ। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, জমির ভাড়া, বীজ, সারসহ উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয় আরও তিন টাকা।
অর্থাৎ ঢাকার বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজি পেঁপেতে খরচ দাঁড়ায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা। অথচ তাঁকে পেঁপে বিক্রি করতে হয়েছে কেজিপ্রতি ছয় থেকে আট টাকায়। প্রতি কেজিতে লোকসান হয়েছে অর্ধেকেরও বেশি।
কারওয়ান বাজারে ২০ বছর ধরে সবজি বিক্রি করছেন আবু বকর। তিনি জানান, পেঁপের দাম এতটা কমে যেতে তিনি আগে কখনও দেখেননি।
এদিকে আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলেও সব পণ্যের দাম একসঙ্গে কমেনি। বগুড়ার মহাস্থান পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোলের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা, করলার দাম ৫৫ থেকে ৪৫ টাকা, ফুলকপির দাম ৭০-৮০ থেকে ৬০ টাকা এবং মুলার দাম ৩৫ থেকে ২২ টাকায় নেমেছে। কিন্তু বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে পটোল ৫০-৬০ টাকা, করলা ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ১৬০ টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বাজারে শীতের সবজি চলে এসেছে। ফলে মানুষের এখন আগ্রহ আগাম শীতের সবজির দিকে। লাউ এবং পেঁপে সারাবছর পাওয়ার কারণে মানুষ এখন এই দুই সবজির দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ ছাড়া পেঁপে ও লাউয়ের আবাদ ও উৎপাদন দুটিই বেড়েছে। অনেক জেলায় উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের পেঁপে ও লাউ চাষের বিস্তার ঘটেছে। বেশি জমিতে আবাদ ও ভালো ফলনের কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, লাউ এবং পেঁপের বাজারের চিত্র কৃষিপণ্যের বিপণনব্যবস্থার একটি বড় সংকট সামনে এনেছে। উৎপাদন বাড়লেও সেই পণ্য লাভজনক দামে বিক্রি করার নিশ্চয়তা নেই কৃষকের। দ্রুত পচনশীল পণ্য দীর্ঘ সময় ধরে রেখে দাম বাড়ার অপেক্ষা করার সুযোগ কৃষকের নেই। বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে দ্রুত বিক্রি করতে গিয়ে তাঁকে লোকসান মেনে নিতে হয়। সংরক্ষণাগার, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং দূরের বাজারে পণ্য পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। কম দামে পণ্য পেয়ে ভোক্তার সাময়িক স্বস্তি মিললেও উৎপাদক যদি উৎপাদন খরচই তুলতে না পারেন, তাহলে পরের মৌসুমে সেই ফসল চাষে তাঁর আগ্রহ ও সক্ষমতা- দুটিই কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, ভারত ‘মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস’ নামে একটি স্কিম চালু করেছে, যা কৃষকের নিজের উৎপাদিত ফসলের নির্দিষ্ট দাম পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া ‘ফসল বীমা কর্মসূচি’ও রয়েছে সেখানে। ভারতে প্রায় ২৩টি পণ্য সরকার কিনে নিয়ে মজুত করে। পরে যখন মৌসুম শেষ হয়, তখন সরকার বাজারে সেই পণ্য ছাড়ে। তাতে বাজার নিয়ন্ত্রিত থাকে। পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষিমূল্য কমিশন’ গঠনের প্রস্তাবও করেন এই বিশেষজ্ঞ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
নভেম্বরের শুরুতেই টানা তিন দিনের ছুটি পেতে পারেন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে এ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সে অনুযায়ী আগামী ৬ থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন এবং ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। পরদিন ৮ নভেম্বর রবিবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।
এর আগের দিন ৬ নভেম্বর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে শুক্র, শনি ও রবিবার মিলিয়ে টানা তিন দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য। একই সঙ্গে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ছুটির সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির তালিকা ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজা উপলক্ষে ছুটির তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত ছুটির তালিকায় শ্যামাপূজার ছুটির উল্লেখ নেই। ফলে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একই সময়ে ছুটি কার্যকর হবে কি না সেটি নিশ্চিত নয়।
ছবি : সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া একটি লঘুচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হতে পারে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তামিলনাড়ু উপকূল। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে এর নাম হতে পারে ‘অর্ণব’।
আগামী সোমবার এটি উপকূলে আঘাত হানতে পারে। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব খুব বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকায় বৃষ্টি হতে পারে মঙ্গলবারের দিকে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ খুব বেশি নাও হতে পারে।
এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণাধীন ৫১টি স্টেশনের কোনো স্টেশনেই শুক্রবার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়নি।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, গত কয়েক দিনে বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বেশি থাকায় বাতাস সাগরমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্থলভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা কমে যায়। দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বাড়ছে। দিনের বেলায় গরম থাকলেও রাত ও ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে আসছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করেছে।
শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে বাংলাদেশকে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে অবহিত করে। বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী দণ্ডিত হয়েছেন।
সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। সৌদি আরবও তাদের বিচারিক কাঠামো অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক নিহত হলে বা দণ্ডিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশ তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ধৈর্য ধরতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে যাদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল ২০২৩ সালে। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, ২০২৩ সালে ঘটনা ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে এবং এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বর্তমান সরকার যখনই এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানতে পারবে, তখনই বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধান করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া সংঘাতের কারণে যারা চাকরি হারাচ্ছেন, তাদের দেশে পুনর্বাসন কিংবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলায় আবারও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এসব হামলায় বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও বেশ কয়েকজন হতাহতের ঘটনাও রয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়। দাম্মামের বাদশা ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দাম্মামের বাদশা ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলা হয়। হামলায় এক ভারতীয় ও একজন সৌদি নাগরিক নিহত হওয়ার খবর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
আহতদের মধ্যে ২ বাংলাদেশি ছাড়াও দুই ভারতীয়, দুই ইয়েমেনি, এক সৌদি ও এক নেপালি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানেরও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হন। এর পরদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়।
ছবি : সংগৃহীত
আসছে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা কমে ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির শুক্রবার বলেন, “উত্তরের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমছে। রংপুর বিভাগের কথা চিন্তা করলে তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরেও তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
“সামনের সপ্তাহে আবহাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাটি কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ সারাদেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।”
এদিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে তথ্য দিয়ে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এটি নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
“এই মুহূর্তে এর কোনো প্রভাব আমাদের ওপর নেই। তবে ২৫ অক্টোবরের পর উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।”
আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশে বৃষ্টিপাতের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। পুরো দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।”