• প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৮ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আবারও বেড়েছে ডাকাতির আতঙ্ক! অভিযোগ উঠেছে, গত দুই বছরের মতো এবারও পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ডাকাতচক্র।


স্থানীয়দের দাবি, ডাকাতরা নিয়মিত ডাকাতি করলেও দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করছে। 


অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাতের বেলায় বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি করার সময় কেউ ডাকাতদের চিনে ফেললে তাকে পরবর্তীতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। 


স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মুখ খুললে ডাকাতরা রাতের অন্ধকারে গুলি করে হত্যার হুমকিও দিয়ে যাচ্ছে।


শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়-পরিবারের ছোট শিশুদের নিয়েও দেওয়া হচ্ছে ভয়াবহ হুমকি। অভিযোগ রয়েছে,কোনো বাড়িতে ছোট ছেলে-মেয়ে থাকলে তাদের ক্ষতি করার আশঙ্কা দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি কোনো বাড়িতে যুবতী মেয়ে থাকলে তাদের সঙ্গে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর হুমকি দিচ্ছে ডাকাতরা এমন কথা বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নাম-ঠিকানা ও পূর্বের অপরাধের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ডাকাতচক্রের সদস্যদের নাম-ঠিকানা, পূর্বের ডাকাতির ঘটনা এবং তাদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখা, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং জেলার বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরও অভিযুক্তদের অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘ধরলেও ফিরে আসে, আবারও ডাকাতি করে’-এমন আতঙ্ক। ডাকাতির চক্রই সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য-আরও অনুসন্ধানে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ডাকাতচক্রের কয়েকজন সদস্য ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, এসব বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত রয়েছেন। 'আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থাকলেও আতঙ্ক কাটছে না’,পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও রাতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


তাদের প্রশ্ন-একই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ, তথ্য-প্রমাণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরও যদি তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?


ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে ডাকাতচক্রের তৎপরতা, স্থানীয়দের প্রাণনাশের হুমকি, পূর্বের অপরাধের তথ্য এবং অভিযুক্তদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে ফোনকল করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এ্যান্ড অপারেশন) এর মুঠোফোনে জানার জন্য ফোনকরা হলে তিনিয়ো ফোনকলে রিসিভ করেনি। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়-ডাকাতচক্রের মূল হোতা, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।



সর্বশেষ সব খবর

সাতমাথা এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্মাণাধীন ড্রেন খননকাজ কাজ করার সময় মাটির নিচ থেকে বের হয়ে এসেছে বিপুলসংখ্যক গুলি

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৭ পিএম

বগুড়া মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকা সাতমাথায় নির্মাণাধীন ড্রেনের মাটি খুঁড়তে গিয়ে ৩৩৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সাতমাথার জিলা স্কুলের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকা থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।


সিটি করপোরেশনের চলমান ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজের সময় শ্রমিকেরা মাটির নিচে গুলিগুলো দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে লোকজন জড়ো হন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিগুলো উদ্ধার করে।


একসঙ্গে এতগুলো গুলি কীভাবে এল, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলিগুলো কত বছরের পুরোনো, কোথা থেকে সেখানে এল এবং কোনো ঘটনার সঙ্গে এগুলোর যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও জানা যায়নি।


সাতমাথা বগুড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। নগরীর বিভিন্ন সড়ক এসে এখানে মিলিত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই এলাকায় মানুষের ব্যাপক চলাচল থাকে। এমন একটি ব্যস্ত স্থানের মাটির নিচে বিপুলসংখ্যক গুলি পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাতমাথা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ হয়েছে। তবে নির্মাণাধীন ড্রেনের মাটি খননের সময় একসঙ্গে এতগুলো গুলি পাওয়ার ঘটনা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক।


নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে মোট ৩৩৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী। গুলিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এরপর এগুলোর ধরন, সময়কাল ও উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৭ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনাজপুরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করতে শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাদ মাগরিব দিনাজপুর শহরের জেল রোডস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে একটি সুশৃঙ্খল র‍্যালি আয়োজনের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্য ও শৃঙ্খলার পরিচয় তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তিনি তার সঙ্গে একমত থাকবেন এবং দলীয় কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবেন।


তিনি আরও বলেন, দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়-এই নীতিকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। আগামী ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। 


তিনি বলেন, কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার মন পড়ে থাকবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে। পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচির সার্বিক বিষয়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


এ সময় তিনি দলীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও তিনি দলীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।


বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।


সভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মাহাবুব আহমেদ, মো. হাসানুজ্জামান উজ্জল, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. আনিসুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক মো. বাবু চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান বাদশা, সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হালিমসহ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. রেজা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন মন্ডল বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কাইয়ুম, জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিম, বাস্তহারা দলের দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ্জালাল রোজ, জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. নুরুজ্জামান সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।


সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

মোস্তাফিজুর রহমান মামুন

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২২ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় স্থানীয় রাজনীতির মাঠে আলোচনায় রয়েছেন আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসেবা, তরুণদের সংগঠিত করা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন স্থানীয়দের একটি অংশ।


তরুণ, উদ্যমী ও অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের পাশে থাকা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে ভালুকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর একটি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁর অনুসারীরা।


মোস্তাফিজুর রহমান মামুনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৬ বছর ধরে তিনি ভালুকার মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।


করোনাভাইরাস মহামারির সময় খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ, শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র প্রদান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি অংশ নেন। পাশাপাশি মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতাও করেছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


তাঁর দাবি অনুযায়ী, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ পর্যন্ত ভালুকার শতাধিক মসজিদে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।


ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তাঁর উদ্যোগের কথা তুলে ধরছেন স্থানীয়রা। এ পর্যন্ত ভালুকার শতাধিক মসজিদ, মন্দির ও ঈদগাহ মাঠের মিম্বর উন্নয়নে বরাদ্দ বিতরণ কার্যক্রম চলছে বলে জানা গেছে।


মামুনের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব খাতে প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে।


৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভালুকার বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে একাধিক প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সড়ক, ব্রিজ, শিশু পার্ক, স্কুল-কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ২০ কোটির বেশি টাকার বরাদ্দের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।


এর মধ্যে শিশু পার্কের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজও চলমান। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নতুন কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজও শিগগিরই দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়বে।


উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্যোগ নিয়েছেন মামুন।


ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নে ব্যক্তিগত অর্থায়নে জমি কিনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা কমেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।


তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর রাখতে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তরুণদের সংগঠিত করতেও সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছেন মামুনের অনুসারীরা।


তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে দূরে থাকা অনেক তরুণকে তিনি আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্যম তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।


তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে তরুণদের নিয়ে তাঁর অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে খেলাধুলা। শিক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘ভালুকা স্পোর্টস একাডেমী’।


মামুনের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গড়ে ওঠা এই একাডেমির লক্ষ্য স্থানীয় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা, প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে ভালুকার প্রতিনিধিত্ব করার মতো খেলোয়াড় তৈরি করা।


সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে একাডেমির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে এটি ভালুকার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।


নিজের রাজনৈতিক দর্শন ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান মামুন বলেন, “যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে জানাতে দ্বিধা করবেন না। আমি সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।”


তিনি আরও বলেন, “আপনাদের পাশে একজন কর্মী হয়ে থাকতে চাই, নেতা হয়ে নয়।”


জনসেবা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, তরুণদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মোস্তাফিজুর রহমান মামুনকে নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে।


তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রাখতে পারে।


স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, তিনি যদি বৃহত্তর পরিসরে জনসেবার সুযোগ পান, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ক্রীড়া ও পরিবেশ–এসব খাতে আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীতা, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সমীকরণই নির্ধারণ করবে তাঁর পথচলার পরবর্তী অধ্যায়।


ভালুকার রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের চাহিদা যখন বাড়ছে, তখন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করা মোস্তাফিজুর রহমান মামুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আলোচনা আগামী দিনের স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে–সেদিকেই এখন নজর অনেকের।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিশাত আফিফা (২৮) নামে এক স্কুল শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে বি.এড. পরীক্ষার ভাইভায় অংশ নিতে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে পিরোজপুর যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিশাত আফিফা ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিহারী লাল মিত্র পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক( ইংরেজি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে বি.এড. পরীক্ষার ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ভাণ্ডারিয়া থেকে পিরোজপুরের দিকে রওনা হন নিশাত আফিফা। পথে চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।


দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও তিন বছর বয়সী একটি শিশুসন্তান রেখে গেছেন।


নিশাত আফিফার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্বজনরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কৃষকদের জন্য সারের সঠিক সরবরাহ ও সরকার নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিত করতে সার বিক্রির প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে নজরদারিতে রেখেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম।


কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ করে ঢুকে পড়েন সার বিক্রির পয়েন্টে। সেখানে সারের মূল্য, ক্যাশ মেমোসহ প্রকৃত কৃষক যাচাই করেন তিনি। এতে করে কৃত্রিম সংকটকারীদের জন্য আতঙ্ক এই অফিসার রাকিবুল আলম।


স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, গাইবান্ধা সদরে সার মনিটরিং খুব ভালো হওয়ায় আমরা সার পাচ্ছি। সারের কোন সংকট নাই। তবে আগে হয়রানি হলেও এখন কোন ডিলার হয়রানি করে না। অনায়াসে বস্তা বা খুচরা সার নিতে পারছি।


লক্ষীপুরের ডিলার পয়েন্ট মেসার্স প্রবীর কুমার সাহা 'র এর ম্যানেজার গোপালের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার দেয়া হয়। এতে করে সারাদিনের কর্ম ব্যস্ততা সেরে কৃষকরা আমাদের পয়েন্ট থেকে সার নিয়ে থাকেন। কৃষকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। 


দক্ষিণ ঘাগোয়া ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম মন্ডল জানান, আমাদের সদর উপজেলার কৃষি অফিসার স্যারের নির্দেশনায় আমি প্রতিমাসে বরাদ্দকৃত সার, ইউরিয়া টি এস পি ,ডি এ পি, এমওপি সঠিকভাবে উত্তোলন করছেন কিনা তা যাচাই-বাছাই করি এবং ডিলার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার কৃষকদের নিকট বিক্রয় করছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত করি। ঘাগোয়া ইউনিয়নে সারের কোন সংকট নেই কৃষকরা সরকারি মূল্যেই সার কিনতে পারছেন।


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,সারের কোন ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কেউ বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সারের নজরদারি নিয়ে কথা হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলমের সাথে তিনি প্রতিবেদককে জানান, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ডিলারদের পয়েন্টে উপ-সহকারী কৃষি অফিসাররা গোপনে গিয়ে কৃষকদের সাথে সারের মূল্য নিয়ে কথা বলেন। যাতে ডিলাররা সারের অতিরিক্ত মূল্য নিতে না পারেন। বস্তার পাশাপাশি যার যতটুকু সার প্রয়োজন তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমরা তৎপর।


সচেতনমহল বলছেন, প্রকৃত কৃষকের মাঝে হয়রানিমুক্ত ভাবে সার দিতে কৃষি বিভাগের লোকজন নিরলসভাবে কাজ করছেন। তাদের কঠোর মনিটরিংয়ের ফলেই আমরা সময়মত সার পাচ্ছি। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকটকারীরা এবার পাত্তাই পাচ্ছেন না।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ৩০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

দখল, দূষণ ও পলি জমে নাব্যতা সংকটে পড়া ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদকে রক্ষা এবং এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবিদ, নদী গবেষক ও পরিবেশকর্মীরা। একই সঙ্গে নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খননের দাবি জানান তারা।


শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট থেকে নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নৌযানে করে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন হয়ে বন্দর উপজেলার সাব্দী এলাকা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন অংশ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পরিবেশবিদ, নদী গবেষক, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


পরিদর্শনকালে নদীর বর্তমান অবস্থা, নাব্যতা, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি নদীর বিভিন্ন সংকট চিহ্নিত করে তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।


নদী পরিদর্শন কর্মসূচির আয়োজক ও সংগঠক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশন, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি। কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিনিধিত্বকারী আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির, নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন। কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাপশ কর্মকার ও শিপন সরকার, সাংবাদিক পনির ভূঁইয়া স্টার নিউজ ও ডেইলি সানের সাংবাদিক এস এম শাহাদাত, মনির হোসেন।


এ ছাড়া পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক ইয়ামিন ভূইয়াসহ ফজলুল হক ভূইয়া, মান্নান ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, বেলাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দীন, খাইরুল কবির লাল ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।


বক্তারা বলেন, নদী দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, কৃষি, নৌ-যোগাযোগ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও পলি জমার কারণে ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের অনেক নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


তারা বলেন, ব্রহ্মপুত্রকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দূষণের উৎস বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বৈজ্ঞানিকভাবে নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। নদীতীরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


বক্তারা আরও বলেন, শুধু নদী দিবস পালন বা আলোচনা সভার মধ্যে নদী রক্ষা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নদীর প্রকৃত অবস্থা জানতে নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশ সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।


নদী পরিদর্শন শেষে আয়োজকরা বলেন, ব্রহ্মপুত্র শুধু একটি জলধারা নয়; নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও ও আশপাশের জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নদীটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই ব্রহ্মপুত্রকে দখল ও দূষণমুক্ত করে এর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।


নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্রসহ নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আরও সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি পরিচালনার ঘোষণা দেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর