• প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। এতে অন্তত ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকাতে প্রায় ৬ হাজার বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি প্রায় ১৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) উপকূলীয় শহর সান ক্লেমেন্তে থেকে ‘নর্তে ফায়ার’ নামে পরিচিত দাবানলটির সূত্রপাত হয়। পরে আগুন সান হুয়ান ক্যাপিস্ত্রানো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা নাগাদ আগুনে প্রায় ২৩১ হেক্টর এলাকা পুড়ে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই শহরেই আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।


অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা, কম আর্দ্রতা এবং তীব্র বাতাসের কারণে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘণ্টায় ৫৫ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা সান্তা আনা বাতাস আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শুক্রবার বাতাসের তীব্রতা বেশি থাকলেও শনিবার রাত পর্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।


দাবানলের ঝুঁকি কমাতে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কয়েক হাজার বাসিন্দার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদ্যুতের তার থেকে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে নতুন করে আগুন লাগার আশঙ্কা থেকেই এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীদের পাশাপাশি হেলিকপ্টারও কাজ করছে।


এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মালিবুর কাছে ছড়িয়ে পড়া ‘ব্রাইসন ফায়ার’-এ প্রায় ৫৯ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। আগুনটির প্রায় ১৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।


অন্যদিকে, সান দিয়েগো কাউন্টিতে ‘হেন্ডারসন ফায়ার’-এ প্রায় ৮৪২ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এ আগুনের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


দাবানলের প্রভাব পড়েছে মেরিন কর্পসের ক্যাম্প পেন্ডলটন এলাকাতেও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। আগুনের বিস্তার ঠেকানো এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।




  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ এএম

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি খাতের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাকি কেতাবচি। এর আগে এ দায়িত্বে ছিলেন আজিজ নাসিরজাদেহ, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হন।


রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের পার্লামেন্ট কেতাবচির নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাস ধরে চলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অবসান হলো। নাসিরজাদেহের মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলান মাজিদ ইবন আল-রেজা।


নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেতাবচি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তিনি দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন।


ইরানের প্রতিরক্ষা খাতে মহাকাশ ও উড়োজাহাজ প্রযুক্তি শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ খাতের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র, মহাকাশ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতার উন্নয়ন জড়িত। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে কেতাবচির পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন দায়িত্বের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালনা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহসংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করা। তবে নতুন দায়িত্বে তিনি কোন খাতে অগ্রাধিকার দেবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।


কয়েক মাস ধরে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে চলার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ইরানের প্রতিরক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ তাৎপর্যপূর্ণ।


তবে কেতাবচির নিয়োগের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি, অস্ত্র উৎপাদন কিংবা সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।


এআই চরিত্র জেসিকা অলিভেইরা এবং এডিমার মার্টিন্স। ছবি: এক্স

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৫ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, তারপর প্রেম। সেই প্রেমিকাকে বিয়ে করার আশায় নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, তার স্বপ্নের নারী বাস্তবে কেউ নন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র।


নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী এডিমার মার্টিন্স পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তিনি টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, জেসিকাই তার জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী।


গত ৯ অক্টোবর উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যে নিজের সব ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে বাসভাড়া জোগাড় করেন মার্টিন্স। তার গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি।


কিন্তু কোথাও তার দেখা পাননি মার্টিন্স। একপর্যায়ে স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গেলে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর অস্তিত্ব নেই। পরে অর্থ ফুরিয়ে গেলে তিনি বেলো হরিজন্তে সিটি হলে গিয়ে এক সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতির কথা জানান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা পান তিনি।


মার্টিন্স বলেন, একাকিত্ব থেকে মুক্তি পেতে এবং একটি সম্পর্ক গড়ার আশায় তিনি এত দূর এসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে।


জেসিকা অলিভেইরা নামের ওই অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। সেখানে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই-নির্মিত নারীটি জানিয়েছিলেন, তিনি এমন একজন পুরুষ খুঁজছেন, যাকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন।


তবে পরে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা একটি এআই-তৈরি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো যোগাযোগও হয়নি। তার দাবি, অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছিল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারী ও মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে।


হতাশ হলেও হাল ছাড়তে রাজি নন মার্টিন্স। বর্তমানে এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকা এই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন এবং বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজবেন।


সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট।


মিশরের কায়রোতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ পিএম

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর। রোববার দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ কথা জানিয়েছে।


মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরবের অনুরোধ এলে দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন নিতে পার্লামেন্টের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন। অধিবেশনে এ বিষয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।


সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে।


মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, সম্পদ, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও পবিত্র ইসলামি স্থানগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে মিশর।


এর আগে শনিবার এক বক্তব্যে সিসি বলেন, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে তার দেশ।


মিশর ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদার। ২০১৩ সালে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ মিশরকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা, বিনিয়োগ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত দিয়েছিল।


২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটেও যোগ দিয়েছিল মিশর। তবে ওই অভিযানে দেশটির সরাসরি সামরিক ভূমিকা ছিল সীমিত।


সূত্র: রয়টার্স


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ পিএম

ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের খাবারে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো বাড়তি চিনি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর মাধ্যমে শিশুখাদ্যে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় সংস্থাটি।


ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) জানিয়েছে, শিশুরা যাতে কম বয়সে বাড়তি চিনির সংস্পর্শে না আসে, এটি কমানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কারণ অতিরিক্ত চিনির সঙ্গে শিশুদের স্থূলতার ঝুঁকির সম্পর্ক আছে।


বর্তমান নিয়মে শিশুখাদ্যে শর্করার উৎস হিসেবে ল্যাকটোজ ও গ্লুকোজ পলিমারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজন হলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে সুক্রোজ ও ফ্রুক্টোজ ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। নতুন প্রস্তাবে ছয় মাস পর্যন্ত শিশুদের খাবারে এসব চিনি যোগ করা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নজরদারি জোরদার করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। বিভিন্ন খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালানোর পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবারে সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।


চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৪৫ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।


সূত্র: রয়টার্স


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫২ পিএম

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে বলে সতর্ক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে তিনি বলেছেন, এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি।


রোববার এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে জেলেনস্কি বলেন, আমরা ট্রাম্পকে বিশ্বাস করতে চাই। তার আশা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন। কারণ, এসব সিদ্ধান্ত ইউক্রেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশেরই উপকারে আসবে না।


শুক্রবার কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ছাড় দেন ট্রাম্প। নির্বাহী আদেশে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার মধ্যে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার পর রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ ডিজেল বিশ্ববাজারে ছাড়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।


জেলেনস্কি জানান, কিছু সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ থাকায় রাশিয়ার ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে আগাম তথ্য পায়নি ইউক্রেন। পরে এই সহযোগিতা আবার চালু হয়েছে। তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারশিল্ড ব্যবহারে বিধিনিষেধ এখনো রয়েছে।


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ধারণা, স্টারলিংক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন সরকারের বার্তা ভূমিকা রেখেছে। এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্প ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক দুজনই জড়িত থাকতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানেন না বলেও উল্লেখ করেন।


ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। তার মতে, মুখে হাসি রেখে হত্যাকারীর মতো আচরণ করে—এমন কারও চেয়ে স্পষ্ট ও সরাসরি কথা বলেন, এমন অংশীদার থাকা ভালো।


যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার পক্ষ নিলে ইউক্রেনের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসা মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রস্তাবিত আইনটির বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।



জেলেনস্কি জানান, রোববারের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার কথা রয়েছে তার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার বিষয়েও আশাবাদী তিনি।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ পিএম

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় এবং দেশটি থেকে ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।


শনিবার (১৭ অক্টোবর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে উদ্বেগ বেড়েছে ইউক্রেনে। এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


জ্বালানির উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে আংশিকভাবে দায়ী করছেন ট্রাম্প। এ নিয়ে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনাও করেছেন।জবাবে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় মস্কোর জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি মানবে না কিয়েভ। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এখন রাশিয়ার প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছে।



শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাশিয়ার ওপর আরোপের কথা থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই স্থগিত করেন ট্রাম্প। জেলেনস্কির মতে, এতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখতে উৎসাহ পাবে।


এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাময়িকভাবে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং রুশ ডিজেল আমদানির বিষয়ে সমঝোতার কথা জানান ট্রাম্প।


এদিকে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য বন্ধ বা সীমিত করা হলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শনাক্ত এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ।মার্কিন প্রযুক্তিনির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এসেছে। ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড সেবায় বিঘ্ন ঘটার পর দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। পরে সেবাটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।


তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় কিয়েভ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী তারা।


এদিকে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ফ্রিডের মতে, ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ইউক্রেনের মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জেলেনস্কি ও পুতিন উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখবেন। তার লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো। সূত্র: রয়টার্স