ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাঁদের জন্য আয়োজিত বার্ষিক নৈশভোজে গুলির ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন হামলাকারীর রেখেযাওয়া বার্তা তদন্ত করে দেখছেন কর্মকর্তারা।
একজন সম্মানিত শিক্ষক থেকে কীভাবে একজন সম্ভাব্য ঘাতকে পরিণত হলেন এই ব্যক্তি, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তাঁরা। সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম কোল টমাস অ্যালেন। বয়স ৩১। ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্স শহরের এই বাসিন্দা খণ্ডকালীন শিক্ষকতার পাশাপাশি ভিডিও গেম তৈরির কাজও করতেন।
হামলার আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন অ্যালেন। সে বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি যাঁদের বিশ্বাস ভেঙেছি, তাঁদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে শুরু করছি।’
বার্তায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিশানা করার ইচ্ছার কথা এবং রাজনৈতিক ক্ষোভের কথাও লেখা ছিল। সবশেষে অ্যালেন লিখেছেন, ‘আমি ক্ষমা পাওয়ার আশা করি না।’
অ্যালেনের বোন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে বামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তাঁর ভাই উগ্র কথাবার্তা বলার প্রবণতা দেখাতে শুরু করেন। একই সময়ে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন এবং নিয়মিত শুটিং রেঞ্জে অনুশীলন করতে থাকেন।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ট্রেনে চড়ে শিকাগো হয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছান অ্যালেন। সেখানে বার্ষিক ডিনারের আয়োজক হিলটন হোটেলে ওঠেন তিনি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, অ্যালেনের কাছে ছিল একটি ডট থার্টি এইট ক্যালিবার সেমি-অটোমেটিক পিস্তল এবং একটি বারো গেজের শটগান। হামলার আগে পরিবারকে পাঠানো বার্তায় তিনি নিজেকে ‘ফ্রেন্ডলি ফেডারেল অ্যাসাসিন’ বলে পরিচয় দেন এবং ট্রাম্পবিরোধী মনোভাব প্রকাশ করেন। এরপর অ্যালেন স্থানীয় সময় গত শনিবার রাতে নৈশভোজের বাইরে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করার চেষ্টা করেন।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সিএনএনকে বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী কয়েকটি গুলি ছোড়েন এবং এক সিক্রেট সার্ভিস সদস্যকে গুলি করেন। বুলেটপ্রুফ ভেস্ট পরা থাকায় ওই সিক্রেট সার্ভিস সদস্য রক্ষা পান। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালেনকে আটক করা হয়। ট্রাম্পসহ অন্য নেতারা পাশের হলরুমে নিরাপদে আশ্রয় নেন।
যেভাবে বেড়ে উঠেছেন অ্যালেন
লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, অ্যালেন ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়েছেন। সেখানে তিনি খ্রিষ্টান ফেলোশিপ সংগঠন ও নার্ফ ক্লাবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৬ সালে ফেসবুকে পোস্ট করা ছবিতেও তাঁকে খ্রিষ্টান ফেলোশিপের অনুষ্ঠানে দেখা যায়।
শিক্ষার্থী থাকাকালে ২০১৭ সালে হুইলচেয়ারের জন্য একটি জরুরি ব্রেকের প্রোটোটাইপ তৈরি করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন অ্যালেন। একই বছর তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত সমাবর্তন ঘোষণায় তাঁর দুটি ছবি ছিল।
স্নাতক শেষে অ্যালেন সি-টু এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে ‘মাসের সেরা শিক্ষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
শিক্ষকতার পাশাপাশি ভিডিও গেম ডেভেলপার হিসেবেও কাজ করতেন অ্যালেন। স্টিম প্ল্যাটফর্মে দেড় ডলারে বিক্রির জন্য ‘বোহরডম’ নামে একটি ইন্ডি গেম প্রকাশ করেন তিনি। গেমটির বিবরণে লেখা ছিল, এটি ‘একটি দক্ষতাভিত্তিক, অহিংস অ্যাসিমেট্রিক্যাল ফাইটিং গেম’।
লিংকডইনে অ্যালেন লিখেছিলেন, ‘ফার্স্ট ল’ নামে একটি দ্বিতীয় গেম তৈরির কাজ চলছে।
রাজনৈতিক সক্রিয়তা ও অস্ত্র কেনা
অ্যালেনের বোন বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অ্যালেন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। যোগ দেন ‘দ্য ওয়াইড অ্যাওয়েকস’ নামের বামপন্থী সংগঠনে। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ০২৪ সালের অক্টোবরে কমলা হ্যারিসের নির্বাচনী প্রচারে ২৫ ডলার দান করেছিলেন তিনি।
অ্যালকোহল, তামাক, আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দপ্তরের তদন্তকারীরা বলেছেন, ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি দোকান থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি কেনেন অ্যালেন। ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট টরেন্সের একটি দোকান থেকে শটগানটি কেনেন। দুটো ক্রয়ই বৈধভাবে হয়েছিল এবং দুই ক্ষেত্রেই এফবিআইয়ের মাধ্যমে তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হয়েছিল।
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছে অ্যালেন হিলটন হোটেলে উঠেছিলেন। গত শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারকে পাঠানো বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে লিখেছিলেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিশানা করতে চান। বার্তায় তিনি মা-বাবা, সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষভাবে নিশানা করার ইচ্ছা নেই বলে জানান।
বার্তায় অ্যালেন যুক্তি দেন, তাঁর এ পদক্ষেপ খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়। তিনি লেখেন, অন্যের ওপর অত্যাচার চলতে দেখেও চুপ করে থাকাটাই বরং অধর্ম; সেটা অত্যাচারীর সহযোগী হওয়ার নামান্তর।
বার্তার শেষ দিকে তিনি লেখেন, এই প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় এলেই তাঁর ভেতরে আগুন জ্বলে ওঠে।
বার্তা পেয়ে অ্যালেনের ভাই কানেকটিকাটের নিউ লন্ডন পুলিশ বিভাগকে বিষয়টি জানান। পরিবারের অন্য সদস্যরাও পুলিশে যোগাযোগ করেন।
সন্দেহভাজন হামলাকারী বাইরের নিরাপত্তাবলয় ভেদ করে হলরুমের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। গুলিবিদ্ধ সিক্রেট সার্ভিস সদস্যকে হাসপাতালে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অ্যালেনের গতিবিধি ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে। সিক্রেট সার্ভিস সদস্য ও মেরিল্যান্ডের মন্টগোমারি কাউন্টি পুলিশ সদস্যরা রকভিলে তাঁর বোনের সাক্ষাৎকার নেন। টরেন্সে অ্যালেনের বাড়ির বাইরে জড়ো হন এফবিআই সদস্যরা। পুলিশ টেপ দিয়ে রাস্তার একটি অংশ ঘিরে ফেলে। বাড়িটিতে জ্বালানো হয় স্পটলাইট। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন সাংবাদিকেরা, আকাশে চক্কর দিতে থাকে হেলিকপ্টার।
পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিএনএনকে বলেন, অ্যালেন ওই বাড়িতে থাকতেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে কয়েক দিন আগেও তাঁকে দেখেছেন। অ্যালেনের বাবা বন্ধুসুলভ মানুষ। তাঁর সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো।
ডিসি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দুটি এবং বিপজ্জনক অস্ত্র দিয়ে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর আক্রমণের একটি-মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী তদন্তকারীদের কোনো সহযোগিতা করছেন না।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা