বিশ্ববাসীর চোখ এখন পাকিস্তানে
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার লক্ষ্যে আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ, প্রত্যাশা এবং একইসঙ্গে শঙ্কা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের বিস্তার ঘটে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে বহু দেশে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে।
এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে। যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরান কার্যত এই প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায় এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। তবে শুরু থেকেই এই যুদ্ধবিরতি ছিল ভঙ্গুর। উভয় পক্ষের শর্ত ব্যাখ্যায় পার্থক্য, পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা, সব মিলিয়ে এই সমঝোতা এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
ইসলামাবাদে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক
শনিবার থেকে ইসলামাবাদে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এই বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানোর পরই এই বৈঠকের পথ প্রশস্ত হয়। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকেই আলোচনা শুরু হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তবে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কোনো প্রতিনিধি আলোচনায় থাকবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে বাড়তি কৌতূহল তৈরি করেছে।
যেভাবে চলবে আলোচনা?
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় ‘শাটল ডিপ্লোমেসি’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা কক্ষে অবস্থান করবেন এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবেন। বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পৃথকভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদ্ধতি সাধারণত তখনই ব্যবহৃত হয় যখন দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি আস্থা অত্যন্ত কম থাকে, যা এই সংঘাতের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট।
উচ্চ নিরাপত্তায় ইসলামাবাদ
পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন জানাচ্ছে, এই বৈঠককে ঘিরে ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ‘রেড জোন’ সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও বিদেশি দূতাবাস অবস্থিত।
১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৈঠকের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল, যা ইতোমধ্যে খালি করে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যমের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিও এই বৈঠকের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে তুলে ধরছে।
আলোচনার মূল এজেন্ডা কী?
এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান খোঁজা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে।
বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, সামরিক হামলা বন্ধ রাখা ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আস্থার সংকট কমানো, এসব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ কোথায়?
যদিও এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ রয়েছে, তবে বড় চ্যালেঞ্জও কম নয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলোচনার মধ্যেই সংঘাত তীব্র হওয়ার নজির রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে, আগের আলোচনার সময়ই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যা তাদের আস্থার ঘাটতি বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের আঞ্চলিক তৎপরতা এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিশ্বের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদে
সব মিলিয়ে এই আলোচনা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো মধ্যপ্রাচ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে।
একটি সফল সমঝোতা যেমন যুদ্ধের তীব্রতা কমাতে পারে, তেমনি ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এই অনিশ্চয়তার মাঝেই বলা হচ্ছে, এ মুহূর্তে সত্যিই ‘সব চোখ পাকিস্তানে’।
ছবি : সংগৃহীত
ফ্রান্সের পর এবার বিক্ষোভ ও সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোম, তুরিন ও বোলোনিয়ায় কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। এদিকে সহিংসতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি।
তুরিনে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও আতশবাজি ছুড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একইভাবে রোমে মিছিল চলাকালে বোতল ছোড়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও ইতালির সংবাদ সংস্থা আনসার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বোলোনিয়ায়ও বিক্ষোভকারীদের বোতল ও পটকা নিক্ষেপের পর পুলিশ তাদের পিছু হটিয়ে দেয়। এ ছাড়া মিলান ও ফ্লোরেন্সে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এসব শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার কয়েকটি অংশে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার তদন্তে ইতালির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মিলান ও পার্শ্ববর্তী মনজা শহরসহ মোট ২২টি শহরে দেড় শতাধিক স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে।
আনসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রতি হুমকি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা, যানবাহন ভাঙচুর এবং ভবনে আগুন দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি জানিয়েছেন, যেসব শহরকে নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে আজ নতুন করে আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় শনিবার জানান রোববার হামলা শুরু হতে পারে। আর নয়ত ইরানের সঙ্গে ‘বড় চুক্তি’ হতে পারে। ইরানে মার্কিনিরা যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে কয়েকদিন ধরেই। এমন সময় ট্রাম্প জানালেন রোববারই এ হামলা শুরু হতে পারে।
সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ইরানে হামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।”
তবে ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে রাজি হয় তাহলে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে বলেও জানান ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?”
ট্রাম্প দাবি করেন তার লক্ষ্য ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরি করতে পারে।
গত বছরের জুনে ইরানে বি-২ বোমারু দিয়ে ইরানিদের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ট্রাম্প বলেছেন, যদি এ বছর তিনি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না দিতেন তাহলে গত বছরের হামলাটি হয়ত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানোতে যথার্থ হতো না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগের মতো তেল আসছে। তবে তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরান যদি চুক্তি না করে তাহলে সামরিকভাবে তাদের এতে বাধ্য করা হবে মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাজটি হয়ত সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়ত তারা হয়ত চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক আমরা জিতব।”
সূত্র: আনাদোলু
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা