ইরানে হামলা নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ব্রিফিংয়ের জন্য ক্যাপিটলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। ২ মার্চ, ২০২৬
ইরানে হামলা চালানো নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ ছিল ইসরায়েল এবং একবার দেশটিতে হামলা হলে নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। সেই চিন্তা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই দেশটিতে হামলা করেছে।
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে বিস্ময়করভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ঢুকে পড়া নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের শুনানিতে ইরানে হামলা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রুদ্ধদ্বার ওই শুনানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন উপস্থিত ছিলেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। ওই প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা শেষ করতে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হতে পারে। অবশ্য প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শুনানির পর ক্যাপিটলে (কংগ্রেস ভবন) উপস্থিত সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘এটা অনেকটা স্পষ্ট ছিল যে ইরানে কেউ হামলা করলে সেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল বা অন্য যে কেউ করুক না কেন, তারা জবাব দিত এবং জবাবটা হতো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানতাম যে সেখানে ইসরায়েল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আমরা জানতাম যে এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীগুলোর ওপর হামলা হবে। আমরা জানতাম যে তারা হামলা চালানোর আগে যদি আমরা তাদের ওপর হামলা না করি তাহলে আমরা বেশি হতাহতের শিকার হতে পারি।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার রাতে ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো এটা নিশ্চিত করা যে ‘ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে’।
ভ্যান্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) ইরানিদের ও পুরো বিশ্বকে স্পষ্ট করে জানাতে চান যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র পেতে না পারে—সেটা নিশ্চিত করার জন্য সব গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিশ্রামে যাবেন না।’
ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে জেডি ভ্যান্সই ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে মার্কো রুবিওর তুলনায় কম কথা বলেছেন তিনি।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে ধারাবাহিকভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আর ইরানের রেড ক্রিসেন্টের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে।
এই যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়ালেও ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করে বলছেন, এটা অপ্রয়োজনীয় সংঘাত, যার লক্ষ্যও স্পষ্ট নয়।
সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার বলেছেন, ‘এটা ট্রাম্পের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর কোনো কৌশল নেই, কীভাবে যুদ্ধ শেষ হবে তারও কোনো পরিকল্পনা নেই।’
শুমার বলেন, ‘শুনানিতে উপস্থিত আইনপ্রণেতারা অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা যে জবাব পেয়েছেন, তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। আসলে অন্তত আমার কাছে মনে হয়েছে, শুনানিতে অনেক বেশি প্রশ্ন ওঠে, যেগুলোর উত্তর দেওয়া হয়নি।’
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন একটি যুদ্ধে টেনে নেওয়ার ফলে যেসব জটিলতা দেখা দেবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
ওয়ার্নার বলেন, ‘ইরানিদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন কোনো হুমকি ছিল না। হুমকি ছিল ইসরায়েলের প্রতি। যদি আমরা ইসরায়েলের প্রতি হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আসন্ন হুমকি হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা একটি অজানা পরিস্থিতিতে পড়ে যাই।’
ইরানে হামলা চালানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েকটি লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা, দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো জায়গায় তাদের ‘প্রক্সি’ বাহিনীকে তেহরানের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও গতকাল মাত্র দুটি লক্ষ্যের কথা বলেছেন। তা হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করা।
গোপন ওই শুনানি শেষে মার্ক ওয়ার্নার বলেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধ কীভাবে শেষ করতে চান, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। ভার্জিনিয়ার এই সিনেটর বলেছেন, ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্টের বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের মুখোমুখি হওয়া দরকার।’
ইরানে হামলা নিয়ে যে চার বা পাঁচটি লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে আসল লক্ষ্য কোনটা, সেটা স্পষ্ট করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা