পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, তা যে বিজেপিকে খানিকটা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে, এটা স্বীকার করছেন বিজেপির মুসলিম কর্মকর্তারা। উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের অন্যতম সহসভাপতি ইউনুস আলী।
তিনি চাষবাসের পাশাপাশি জমি কেনাবেচার কাজও করেন। ইউনুস আলী ২০১৪ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একজন প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতা।
গতকাল মঙ্গলবার ইউনুস আলী বলেন, গরু কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার নানা কারণ রয়েছে।
তবে বিষয়টি বিজেপিকে কিছুটা সমস্যায় ফেলেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দল পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই পরিস্থিতি সামলে নেবে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে হাতিয়ার করে মাঠে নেমেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসদলীয় সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বলেছেন, গরু কেনাবেচার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সরকার।
৯ মে শপথ নেওয়ার চার দিন পরে (১৩ মে) বিজেপি একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, সরকারি কয়েকটি দপ্তর থেকে গবাদিপশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতার সনদ ছাড়া তা কেনাবেচা করা যাবে না। পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এই নির্দেশিকার কারণে পশ্চিমবঙ্গে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে গরু কেনাবেচা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরুপালকেরা, যাঁদের বড় অংশই হিন্দু কৃষক।
হিন্দুরা পড়েছেন বিপদে
বাংলায় যাকে বলে শাঁখের করাত, অর্থাৎ যে করাতের দুই দিক ধারালো এবং যা টানলে বা ঠেললে দুদিকেই কাটে। গরু নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে সেই রকম অবস্থার মধ্যেই বিজেপি গিয়ে পড়েছে বলে মনে করছে দলেরই একাংশ।
বিজেপি নেতা ইউনুস আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিষয়টা কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তবে আশা করছি, ঈদুল আজহার আগেই দল এটা সামলে নেবে।’
১৩ মের নির্দেশিকা ঠিক কী ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে, তা ব্যাখ্যা করে ইউনুস আলী পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির একটা চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমরা গরু জবাই করেন এবং খান। কিন্তু গরুর ব্যবসাটা করেন হিন্দুরা এবং মূলত গোপালক ঘোষেরা। তাঁরা গরুকে লালন-পালন করেন, বড় করেন। তারপর এর দুধ বিক্রি করেন, যা থেকে রকমারি সন্দেশ, দই, ঘি ইত্যাদি হয়।
এই বিজেপি নেতা আরও বলেন, একটা পর্যায়ের পরে গরুর স্বাস্থ্যগত কারণে এবং নিজেদের অর্থের প্রয়োজনের ভিত্তিতে হিন্দুরা গরুটাকে বিক্রি করে দেন। স্বাভাবিকভাবেই গরু কেনেন মুসলিমরা। কিন্তু সাধারণভাবে তাঁরা গরু পালন করেন না। এইটা বুঝতে একটু ভুল হয়ে গেছে, যে কারণে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ইউনুস আলীর বক্তব্য, এ ঘটনার জেরে হিন্দুরা যদি গরু পালন বন্ধ করে দেন, তবে পশ্চিমবঙ্গে দুধ, ছানা, মিষ্টির মতো দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার বিরাট ধাক্কা খাবে। এতে শিল্পে অনুন্নত পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর বিরাট চাপ পড়বে।
বিজেপিকে আক্রমণ মহুয়া মৈত্রর
এ কথাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল বলেছেন তৃণমূলের এমপি মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তারা গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর সাংঘাতিক এক আঘাত করেছে। গ্রামগঞ্জে যেখানে যত পশুর হাট আছে, সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যবসা প্রায় বন্ধের মুখে।
মহুয়া লিখেছেন, ‘বিজেপি সরকার একটি সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে এ কাজ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুধু একটি সম্প্রদায় নয়...গরিব মানুষ...জাতিধর্ম-নির্বিশেষে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। ঘোষ, দাস যেমন এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তেমনই মুসলিম সম্প্রদায়ও যুক্ত। ফলে আপনারা (বিজেপি) একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত করতে চাইলেও চোট সব গরিব মানুষের গায়েই লাগবে।’
এরপর পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর উদ্ধৃত করে মহুয়া মৈত্র দেখান, ভারত থেকে গরুর মাংস রপ্তানি উত্তরোত্তর বাড়ছে। ২০২৪-২৫ সালে মাংস রপ্তানি করে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশি মুদ্রা আয় করেছে ভারত। পাশাপাশি মহিষের মাংস বিক্রির বড় করপোরেট সংস্থা অ্যালানা গ্রুপ বিজেপির তহবিলে ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।
এ বিষয় উল্লেখ করে মহুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তাহলে গরুর মাংস বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ কোটি টাকা অনুদান বিজেপি নিতে পারে। তাতে কোনো অন্যায় নেই। কিন্তু গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে এই ব্যবসা বন্ধ করে আপনারা কী প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গরু-বিতর্ক ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে। হাজার হাজার হিন্দু গোপালককে দেখা যাচ্ছে ক্যামেরার সামনে এসে বা সাংবাদিকের মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরতে।
বিশেষ করে বাড়ির নারীরা বলছেন, বছরের এই সময়ে গরু বিক্রি করে তাঁরা বেশ কয়েক লাখ টাকা রোজগার করেন, যা দিয়ে তাঁরা সাধারণত তাঁদের কৃষিঋণ ও মাইক্রোক্রেডিট সংস্থা থেকে নেওয়া ধার মেটান। তাঁদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে বলেছেন, বিধিনিষেধ শিথিল করা না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
সমাধান বের করার আশা
বিজেপি নেতা ইউনুস আলী অবশ্য বলেন, বিষয়টি দল খতিয়ে দেখছে।
বিজেপির এই নেতা বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি, ঈদের দিন রাস্তায় গরুর মাংস কাটাকাটি করা যাবে না। গ্রামের একটু ভেতরের দিকে ঢুকে করতে হবে। নেতাদের কথা শুনে বুঝতে পারছি, শেষ পর্যন্ত খুব একটা অসুবিধা হবে না।’
তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে তাঁর বাড়িতে আসছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন, সেটা স্বীকার করে ইউনুস আলী বলেন, ‘এ নিয়ে এলাকায় আমার ওপরে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে।’ এ ঘটনার কারণও ব্যাখ্যা করেন বিজেপির ওই নেতা।
তিনি বলেন, ‘আসলে বিজেপি তো মুসলিমদের ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসেনি। এসেছে হিন্দুদের ভোট পেয়ে। ফলে তাদের কিছু একটা করতে হবে, যাতে হিন্দুরা মনে করে যে তাদের সরকার এসেছে। এখন সেটা করতে গিয়েই সমস্যা হয়েছে। আমি যতটুকু বুঝি, শুভেন্দু অধিকারী এমন মানুষ নন যে তিনি কাউকে বিপদে ফেলতে চাইবেন। ফলে আমি আশা রাখি, একটা সমাধান সূত্র বেরোবে।’
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা