কামান ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়ান বাহিনী
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সরে যেতে বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নইলে রাশিয়া বলপ্রয়োগ করে ওই অঞ্চল দখল করবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনাকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন পুতিন।
ইন্ডিয়া টুডে’কে তিনি বলেন, ‘হয় আমরা বলপ্রয়োগ করে এসব অঞ্চল মুক্ত করব, নয়তো ইউক্রেনীয় সেনারা এসব এলাকা ছাড়বে।’ বর্তমানে দনবাসের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অঞ্চলটি ছাড়ার বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। পুতিনের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মস্কোতে মঙ্গলবারের বৈঠকের পর শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া তার প্রতিনিধিদের বিশ্বাস যে রাশিয়ার নেতা ‘যুদ্ধ শেষ করতে চান’।
মস্কো সফরকারী ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের ফ্লোরিডায় ইউক্রেনীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের বৈঠক ‘যথেষ্ট ভালো’ ছিল, তবে ‘এক্ষেত্রে দু’পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজন’। তাই কী ঘটবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রথম খসড়ায় দনবাসের যেসব এলাকা এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেগুলোকে কার্যত পুতিনের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল—তবে উইটকফ দলের সংশোধিত সংস্করণটি মস্কোতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি পরিকল্পনার নতুন সংস্করণটি দেখেননি। পুতিন বলেন, ‘এই কারণেই আমাদের প্রতিটি বিষয় যাচাই করে যেতে হয়েছে, আর সেই কারণেই এত সময় লেগেছে’। তিনি আরও জানান, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কিছু অংশের সঙ্গে একমত নয়। ‘কোনো কোনো সময় আমরা বলেছি যে হ্যাঁ, এ নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে—কিন্তু কিছু বিষয়ে আমরা কোনোভাবেই একমত হতে পারি না’, বলেন তিনি। কোন বিষয়গুলো নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে তা তিনি উল্লেখ করেননি।
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মতো অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়ে গেছে। পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং প্রধান আলোচক ইউরি উশাকভ বৈঠক শেষে সরাসরি বলেছেন, যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনায় ‘কোনো সমঝোতা’ হয়নি।
রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রের সফলতা মস্কোর দর-কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন উশাকভ। মস্কোর বিরুদ্ধে বহুবার যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতিতে আগানোর অভিযোগ তুলে ইউক্রেন বলেছে রাশিয়া আরও ভূখণ্ড দখল করতে চাইছে। ক্রেমলিনের বৈঠক নিয়ে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্ড্রি সিবহিয়া বলেছেন, ‘পুতিন বিশ্বের সময় নষ্ট করছেন’।
শুরু থেকেই যেকোনো চুক্তিতে দৃঢ় নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি করে আসছে ইউক্রেন। বুধবার জেলেনস্কি বলেন, ‘বিশ্ব স্পষ্টভাবে অনুভব করছে যে যুদ্ধ শেষ করার বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে’ কিন্তু আলোচনা অবশ্যই ‘রাশিয়ার ওপর চাপ’ বজায় রেখে চালাতে হবে, যা কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিলম্ব করতে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করছে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, ২৩ নভেম্বর জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময় তার শীর্ষ আলোচকরা মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার মূল খসড়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পেরেছেন—যা শুরুর দিকে রাশিয়ার পক্ষে অত্যন্ত সুবিধাজনক বলে দেখা হচ্ছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনীয় আলোচকরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান যে তারা একটি ‘হালনাগাদ ও পরিশীলিত শান্তি কাঠামো’ প্রণয়ন করেছেন—যদিও আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন পরিকল্পনার প্রথম সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা ইউরোপের শীর্ষ আলোচকরা গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের ওই শহরেই ছিলেন এবং আলাদাভাবে ইউক্রেন ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার জার্মানির ডের স্পিজেল সংবাদমাধ্যম জানায়, তাদের হাতে এমন একটি গোপন বৈঠকের ট্রান্সক্রিপ্ট এসেছে যেখানে ইউরোপীয় নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেখানে ইংরেজি অনুবাদে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এমন সম্ভাবনাও আছে যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি সমাধান না করে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে’। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস সতর্ক করে বলেছেন, জেলেনস্কিকে ‘আগামী কয়েক দিনে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে’। তিনি বারবার বলেছেন, ‘তারা তোমাদের এবং আমাদের সঙ্গে খেলছে’।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবকেও উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমাদের উচিত হবে না ইউক্রেন ও ভলোদিমিরকে ওদের কাছে একা ফেলে রাখা’। ডের স্পিজেল’র প্রশ্নের জবাবে ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট এসব বিষয়ে কথা বলেননি’, তবে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ কী বক্তব্য দিয়েছেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে তারা অস্বীকৃতি জানায়। স্টাব ওই বিষয়ে ডের স্পিজেলের কাছে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, আর মেৎস এখনো কোনো মন্তব্য করেননি।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী (মার্কো) রুবিও, বিশেষ দূত উইটকফ, মিস্টার কুশনার এবং প্রেসিডেন্টের পুরো জাতীয় নিরাপত্তা দল রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হত্যাযজ্ঞ থামাতে নিরলসভাবে কাজ করছে’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্ষম এমন একটি পরিকল্পনার বিষয়ে দুই পক্ষের মতামত সংগ্রহে তারা ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন’।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে তীব্র যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও রুশ সেনারা ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা