গত ৯ মে রাশিয়ার মস্কো শহরের কেন্দ্রে ক্রেমলিন প্রাচীরের পাশে অবস্থিত অজ্ঞাত সৈনিকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: রয়টার্স
ক্ষমতা ও শক্তিকে বশে রাখতে বার্ধক্যের সঙ্গেই যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
বৃদ্ধ হতে চান না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বার্ধক্যকে থামিয়ে দিতে চান একই জায়গায়। বরং বয়সের কাঁটা ঘুরবে বিপরীতে। বার্ধক্যের দোরগোড়ায় আসামাত্রই জীবনের চাকা মুখ ঘুরিয়ে গড়গড়িয়ে পিছন দিকে চলবে। অর্থাৎ, ফিরে যাওয়া যাবে যৌবনে।
বিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের ঘাড়ে বন্দুক ঠেকিয়ে নির্দেশ জারি করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুবক হওয়ার ওষুধ আবিষ্কার করতে হবে। এজন্য মোটা অঙ্কের তহবিল বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি।
গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের এক সামরিক কুচকাওয়াজে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিনের কথোপকথন শোনা গিয়েছিল। যেখানে তিনি বলেছিলেন, একদিন মানুষ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করে অমরত্ব লাভ করতে পারবে। অনেকে এটাকে বয়স্ক দুই নেতার অদ্ভুত খোশগল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু বাস্তবে এই কথোপকথন রাশিয়ায় ক্রেমলিন-সমর্থিত এক বড়সড় দীর্ঘায়ু (লংজেভিটি) এজেন্ডার প্রতিফলন। যা এখন রাশিয়ার বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। সিলিকন ভ্যালির জেফ বেজোস, স্যাম অল্টম্যান ও পিটার থিয়েলের মতো পুতিনও দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য-বিরোধী গবেষণায় আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন।
রাশিয়ায় এটি এখন রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট একটি বড় প্রকল্প বা কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। যেখানে অর্গান প্রিন্টিং তথা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি, মিনি-পিগের মাধ্যমে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন এবং চরম ঠান্ডায় শরীরের এক্সপোজারের মতো বিভিন্ন পদ্ধতিতে বার্ধক্য ধীর করার চেষ্টা চলছে।
গত মাসে রুশ সরকার জানায়, ‘নতুন স্বাস্থ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি’ উদ্যোগের অধীনে বিজ্ঞানীরা কোষীয় বার্ধক্য ধীর করার জন্য জিন থেরাপি তৈরি করছেন। প্রকল্পটি পুতিনের বার্ধক্য ঠেকানোর প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত যেখানে তিনি সম্প্রতি ২৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন।
উপ-বিজ্ঞানমন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি এই প্রকল্পকে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল পন্থাগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন। কর্মকর্তারা ল্যাবে তৈরি অঙ্গ প্রতিস্থাপন নিয়েও গবেষণার কথা উল্লেখ করেছেন— যা পুতিন বেইজিংয়ে উল্লেখ করেছিলেন।
২০২৪ সালে চালু হওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য এই দশকের শেষ নাগাদ ১ লাখ ৭৫ হাজার জীবন বাঁচানো। সমালোচকরা বলছেন, এই সংখ্যাটি ইউক্রেনে রুশ সেনাদের আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে প্রায় মিলে যায়।
প্রকল্পটি বায়োপ্রিন্টিং (জীবন্ত টিস্যু ৩ডি প্রিন্টিং) এবং জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের ওপর জোর দিচ্ছে। এতে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত মিনি-পিগের ভিতরে মানুষের উপযোগী অঙ্গ বড় করা হয়।
গবেষকরা মানুষের কার্টিলেজ ও ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি ছাপানোয় অগ্রগতির দাবি করেছেন। ২০৩০ সাল নাগাদ পুরো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই রকম সময়সীমা পিগ-জাত অঙ্গের ক্ষেত্রেও আলোচনা চলছে। ক্রেমলিন বলছে, একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় সমর্থন রয়েছে এবং এটি একটি সমন্বিত জাতীয় প্রচেষ্টা।
এই উদ্যোগের মূল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন পুতিনের মেয়ে মারিয়া ভোরন্তসোভা (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট এবং জেনেটিক্স কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত) এবং পদার্থবিদ মিখাইল কোভালচুক, যিনি কুর্চাতোভ ইনস্টিটিউটের প্রধান। তাকে এই উদ্যোগের মূল বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি হিসেবে দেখা হয়।
কোভালচুক বলেছেন, ভবিষ্যতের বিজ্ঞান মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রমাগত মেরামত ও প্রতিস্থাপন সম্ভব করে তুলবে। অমরত্বকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন হলেও, মানুষের শরীর মেরামতের ক্ষমতা ক্রমশ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
পশ্চিমা দেশে যেখানে টেক বিলিয়নিয়াররা এ ধরনের গবেষণা অর্থায়ন করেন, সেখানে রাশিয়ার এই কর্মসূচি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে খুব কম পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশ করতে পেরেছে। অনেক বিজ্ঞানী বলছেন, অগ্রগতির দাবিগুলোকে প্রমাণিত ফলাফলের চেয়ে আকাঙ্ক্ষা হিসেবেই দেখা উচিত।
বায়োপ্রিন্টিংয়ে কাজ করা রুশ গবেষক আলেকজান্ডার অস্ট্রোভস্কি বলেন, বিজ্ঞান একা এগোতে পারে না। নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সীমিত হয়ে যাওয়ায় অগ্রগতি ধীর হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থায়ন নিশ্চিত করতে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত আশাবাদী ফলাফল উপস্থাপন করতে পারেন।
কোভালচুক দীর্ঘায়ু গবেষণাকে পশ্চিমের সঙ্গে সভ্যতার সংঘাত হিসেবেও দেখেন। ২০১৫ সালের এক বক্তৃতায় তিনি ভবিষ্যতে ‘দাসসুলভ মানুষ’ তৈরির আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। তিনি কোভিড-১৯ মহামারিকে পশ্চিমের সঙ্গে যুক্ত করেও দাবি করেছেন।
পুতিনও কখনো কখনো এমন বক্তব্য দিয়েছেন। কোভালচুক সোভিয়েত আমলের পশ্চিমা ষড়যন্ত্র নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোকে প্রভাবশালী বলে উল্লেখ করেছেন। পুতিনও বলেছেন, এসব কাজ তাঁকে কেজিবিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে।
আরেকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন ভ্লাদিমির খাভিনসন। তিনি পশুর টিস্যু থেকে তৈরি পেপটাইড-ভিত্তিক বার্ধক্যবিরোধী চিকিৎসার জন্য পরিচিত। পুতিনের কাছ থেকে বড় রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত খাভিনসন একবার বলেছিলেন, নেতাদের আয়ু বাড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব এবং মানুষ ১২০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তিনি ২০২৪ সালে ৭৭ বছর বয়সে মারা যান।
যদিও খাভিনসন ও কোভালচুক যোগ্য বিজ্ঞানী, সমালোচকরা বলছেন রাশিয়ার গবেষণা পরিবেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া ফলাফল খুব কম উৎপাদন করছে। ইউক্রেন আক্রমণের পর দেশ ছাড়া অনেক গবেষক বলছেন, নিষেধাজ্ঞা বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে আরও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং সহযোগিতা কমিয়েছে।
পুতিন প্রায়ই পশু শিকার, হকি ও মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও সক্রিয়তার ছবি তুলে ধরেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা বলেন, এর পেছনে বার্ধক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে— বিশেষ করে কোভিডকালে কঠোর বিচ্ছিন্নতা ও লম্বা টেবিল এই সতর্কতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
পুতিনের চেহারার পরিবর্তন নিয়ে কসমেটিক প্রসিডিউর নিয়েও জল্পনা চলছে। তার ঘনিষ্ঠ অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও সত্তরের দশকে, যা রাশিয়ার রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণির বার্ধক্যকেই প্রতিফলিত করে।
রাশিয়ার এই দীর্ঘায়ু নিয়ে মনোযোগ সোভিয়েত আমলের জীবন বাড়ানোর ব্যর্থ কিছু পরীক্ষার কথাও মনে করিয়ে দেয়। আধুনিক গবেষণা সত্ত্বেও দেশটির গড় আয়ু এখনও পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম, বিশেষ করে পুরুষদের গড় আয়ু ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক নিচে।
শেষ পর্যন্ত ক্রেমলিনের আয়ু বাড়ানোর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ইতিহাসের সব শাসকদের সামনে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, সেই মৃত্যুর সীমাকেই চ্যালেঞ্জ করছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা