ইরানে বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক ছবি
ইরানজুড়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট সংযোগ। দেশটিতে গত কয়েকদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। যা সহিংস আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) অনলাইন পর্যবেক্ষক গ্রুপ নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানের সব জায়গায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে গ্রুপটি। তারা বলেছে, যখন দেশটিতে সংকটময় মুহূর্ত চলছে তখন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকারকে ব্যহত করা হচ্ছে।
ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার জেরে ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা এখন পর্যন্ত চলছে। দিন যত যাচ্ছে বিক্ষোভের মাত্রা তত বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও।
সূত্র: আলজাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
দিল্লিতে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ (পতাকা ওড়াও) মিছিলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কনট প্লেসের কাছে মান্ডি হাউস থেকে পুলিশ আটক করেছে বামপন্থী ছাত্র নেতা নেহা বোরাকে। এর আগে নিজ বাসা থেকে আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে অভিজিৎ দীপকে তার বাসা এবং নেহা বোরাকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কারচুপির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে সিজেপির দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মূলত এই পতাকা মিছিল কর্মসূচি।
১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। এর একদিন আগে ঐতিহাসিক স্থানটিকে প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।পরে তাদের পাঁচ দিনের বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। শুক্রবার দীপকে-কে আটকের আগে দিল্লি পুলিশ তার বাসায় গিয়ে মিছিল না করার বিষয়ে একটি নোটিশ দেয়।
ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএস) ১৬৩ ধারায় জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়, দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কর্নাট প্লেসের আশপাশে নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত তিরঙ্গা যাত্রার জন্য নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) অনুমতি দেয়নি। এ অবস্থায় সিজেপি মিছিল করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
গান্ধীর ছবি সংবলিত সাদা টি-শার্ট ও জিনস পরা ৩১ বছর বয়সী এই নেতাকে পুলিশ জানায়, জাতীয় পতাকা ওড়ানো আইনবিরুদ্ধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা এবং লোকসমাগম ঘটানো নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের শামিল। এক্ষেত্রে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এ ছাড়া জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে পতাকা বিধি মেনে চলার বিধিনিষেধ সম্পর্কেও তাকে জানানো হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং
ভারতে চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘কেউ প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে অনুসরণের কথা বলছেন। কেউ সরকার বদলের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার। তারা অরাজকতা তৈরি করে সরকার বদল করতে চায়। ঠিক যেমন বাংলাদেশে হয়েছে।’সম্প্রতি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরার একটি মন্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম। এতে নেহার উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে হওয়া আন্দোলন তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।
আইসা সভাপতির ওই মন্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শেয়ার করেন বিজেপি নেতারা। সিইসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলনের পেছনে সরকার বদলের উদ্দেশ্য থাকা নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার লখনউয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ভারতে বিশৃঙ্খল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তরুণদেরকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার আদলে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা স্বীকার করছেন। একটি পক্ষ প্রকাশ্যেই সরকার ফেলে দেওয়ার ডাক দিচ্ছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ থেকেই স্পষ্ট, তাদের একমাত্র লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে ফেলে অশান্তি ছড়ানো। এই আন্দোলন নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য নয়। এসআইআর বা জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করেও নয়। বরং দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র চলছে।’
ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধী দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, রাহুল গান্ধী একবার দাবি করেছিলেন, ৭০ বছরের এক মহিলা দ্বৈত ভোটার। আরেক সময়ে তিনি অভিযোগ করেন, ৩৫ বছরের এক মহিলা ১২৪ বছরের ভোটার। কখনও কখনও সাধারণ নাগরিকদের ভুয়া ভোটার বলে চিহ্নিত করে তিনি সম্মানহানির চেষ্টা করেছেন।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও জেন-জি বিক্ষোভকে শুরু থেকেই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রচার করছেন বিজেপি সমর্থকরা। তাদের দাবি, বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতেও সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে ‘ডিপ স্টেট’।
প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের এক মন্তব্যের পর বিজেপি সমর্থকদের বয়ান আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি নেতা বোরা ও সিজেপির অভিজিত দীপকের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমরা কেন্দ্র সরকারে বদল চাই।’
প্রশান্ত ভূষণ বলেন, ‘আমরা সবাই কেন্দ্র সরকারে বদল চাই। এতে কোনো সমস্যা আছে?’ বিজেপিও অতীতে সরকার বদলের লক্ষ্যে একাধিক আন্দোলন করেছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘ওদের মুখে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব মানায় না।’
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কিশোরের গুলিতে তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছে। এ সময় সেখানে থাকা এক ব্যক্তির গুলিতে ওই কিশোরও প্রাণ হারিয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ওরেগনের বেন্ড শহরের ‘সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে’ এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বয়স ৫, ৮ ও ১১ বছর।
গুলিতে সাত বছর বয়সি আরেক শিশু ও ৫৪ বছর বয়সি এক শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারী ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল কি না কিংবা স্কুলটির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বেন্ড পুলিশ জানায়, দুপুর একটার কিছু আগে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করে এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের বাইরে তার গাড়ি লক্ষ্য করে লম্বা বন্দুক দিয়ে গুলি ছুড়ছে একজন।
এর কয়েক মিনিটের মাথায় স্কুলভবন থেকেও একাধিক কল আসতে থাকে। হামলাকারী বন্ধ দরজার লক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছিল। স্কুলের ভেতরে এমন পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা হামলাকারীকে ধাওয়া করে স্কুলের ভেতরে ঢোকেন এবং পাল্টা গুলি চালিয়ে তাকে প্রতিহত ও হত্যা করেন।
খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হামলাকারী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী স্থানীয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তবে তার নাম বা নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত ও আহতদের নাম কিংবা বন্দুকধারীকে গুলি করা সেই বাসিন্দার পরিচয়ও গোপন রাখা হয়েছে।
নির্মম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় স্কুল ডিস্ট্রিক্টের প্রশাসনিক প্রধান স্টিভেন কুক বলেন, “এমন বিবেকহীন এক ট্র্যাজেডিতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তব্ধ। আমাদের কমিউনিটি যে শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সাড়ে চারশ শিক্ষার্থীর এই স্কুলটিতে বিশেষ নিরাপত্তা দরজা লাগানো হয়েছিল, যা মাত্র একটি সুইচের সাহায্যে ক্লাসরুম ভেতর থেকে লক করে দেওয়া যায়।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার বেন্ড শহরের সব বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেইসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুলে গুলির ২৩৫টি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত এমন ঘটনার সংখ্যা অন্তত ১৪০টি।
লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজবধূ মেহরা আল নাহিয়ানকে
কড়া মাত্রার কোকেন সেবনের পর শিশু সন্তানকে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সী ওই রাজবধূ হলেন মেহরা আল নাহিয়ান।
‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর তিনি পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। কাছেই খালি পায়ে খেলা করছিল তার তিন বছরের সন্তান। অল্প দূরে পড়েছিলেন আরেক অচেতন পুরুষ। মেহরা বিয়েসূত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনার পর লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা হয়। গত মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে শিশু অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা।
আদালতে জানানো হয়, রাজবধূ মেহরাকে গত ১৩ জুন রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পান পথচারীরা।
‘দ্য টাইমসের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত পৌঁনে দুইটায় পুলিশ পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত স্থানীয় পথচারীরা শিশুটিকে দেখাশোনা করেন। ৩০ মিনিটের মতো অচেতন ছিলেন মেহরা। চেতনা ফিরলে তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা তো কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন? আপনাদের এত মাথা ব্যথা কিসের?’
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিলে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে বসে রয়েছেন মেহরা। তিনি ব্রিটেনে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান।
মামলার এক কৌঁসুলি আদালতে বলেন, শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখেন পথচারীরা। এক পর্যায়ে সে দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় এবং দুর্ঘটনার ভয়ে পথচারীরা এগিয়ে আসেন।
মেহরা আল নাহিয়ানকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনার পর তাকে একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
মেহরার পক্ষের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানান, যেদিন তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে তার আগে কয়েকদিন কোকেন সেবন করার কারণে অনেক ক্লান্ত ছিলেন।
স্টিফেন যোগ করেন, মেহরা তার ভুলের জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেদিন যে তিনি এক মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, তা এখন বুঝতে পারছেন।
মামলার বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পথচারীরা যদি সময়মতো এগিয়ে না আসতেন, তবে শিশুটির গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারত। শিশুটি হয়তো হারিয়ে যেত, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতি করতে পারত অথবা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারত। তাছাড়া দুজনকে এভাবে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারত।’
মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের ‘কমিউনিটি অর্ডার’ (কমিউনিটি সেবা দেওয়ার আদেশ) এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ও আরব নিউজ
ভূমিকম্প
কেন্দ্রস্থল ভিলিউচিনস্কের ১২৩ কিলোমিটার দূরে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কামচাতকার ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই।
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও দপ্তর আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
সরকারের একটি সূত্র জানায়, হামলায় পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ সময় সরকারের কয়েকজন সদস্য প্রাসাদের ভেতরে ছিলেন।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসেম বুহাইবেহ জানান, নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষী ও বেসামরিক কর্মীরা রয়েছেন।
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিন্দানি ও সরকারের অন্য সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে সরকার।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া কাসিম সারী দাবি করেছেন, এডেনে সৌদি সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
সৌদি সামরিক উপস্থিতি রয়েছে-এমন স্থাপনাও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে জানান তিনি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত শুরু হয়। পরের বছর রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বাহিনী। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে দেশটি কার্যত বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি