সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের কট্টরপন্থীরা জোরালো আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এ চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য কামরান গাজানফারি বলেন, ‘তারা (ইরানের শাসকগোষ্ঠী) যে বলছে, আমরা জয়ী হয়েছি এবং যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে—এটা স্পষ্টতই মিথ্যা।’
কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ভগ্নিপতি এবং রাজানিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেইসাম নিলি সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরানিদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান।
সমালোচনার মুখে ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা জবাব দিয়েছেন। আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি এক অডিও বার্তায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।
মেহদি মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামানোর বিষয়টিও আছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন অঙ্গীকার করতে বাধ্য করা হয়নি।
ফলে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ মাত্রায় রূপান্তর করার মতো বিকল্প উপায়ও আছে। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
মোহাম্মাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খসড়া থেকে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনা’ বাক্যাংশটি বাদ দেওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।
মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির সমালোচকদের বক্তব্য তথ্য ও ব্যাখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, সমালোচকেরা পুরোনো খসড়ার ভিত্তিতে মন্তব্য করছেন বলেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে থাকা বিভিন্ন জাহাজ দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছোট মালবাহী জাহাজ বলে মনে হচ্ছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির রূপরেখায় এ বিষয়ে মাত্র একটি বক্তব্য আছে। সেটি হলো—ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কিনবেও না।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এটাই আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি।’
মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। ওই চুক্তি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছিল।
মোহাম্মাদির মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখে।
মোহাম্মাদি বলেন, ‘এবার এমন নয় যে আমরা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেব এবং তারপর তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় বসে থাকব। এমন কোনো অলীক আশাবাদ আমাদের নেই। হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা চাইলে যেকোনো সময়, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে পারি।’
তবে চুক্তির রূপরেখায় বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থের অর্ধেক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।
এ প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, ‘আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোনো অর্থ দেবে না। আরব দেশগুলো এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তারা তা দিতে বাধ্য। কারণ, আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী। তারা এই অঞ্চলে আমাদের ক্ষমতা দেখেছে এবং আমাদের শক্তির জায়গাটা উপলব্ধি করতে পেয়েছে।’
মোহাম্মাদি আরও দাবি করেন, ‘এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, আরব দেশগুলো ইরানের সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে এবং বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।’
ইরানে যাঁরা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সমালোচনা করছেন, তাঁরা মূলত পার্লামেন্টের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি পেদারি ফ্রন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির কট্টরপন্থী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান, প্রভাবশালী ভাষ্যকার ও কায়হান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি।
চুক্তিবিরোধীরা তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভও করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উই উইল নট অ্যাকসেপ্ট’ (আমরা মেনে নেব না) হ্যাশট্যাগ প্রচার শুরু করেছে।
তবে সরকারের সমর্থকেরা বলছেন, পেদারি ফ্রন্ট মূলত যেকোনো ধরনের সমঝোতারই বিরোধী এবং তারা সাধারণ ইরানি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁদের মতে, অধিকাংশ ইরানি বোঝেন যেকোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাধারণত সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না।
এক খোলাচিঠিতে হোসেন শরিয়তমাদারি লিখেছেন: ‘গালিবাফ ও আরাগচির কাছে আমাদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে রমজান যুদ্ধের (১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপুর যুদ্ধ) সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা কি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার ছিল না? প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়ে কি শত্রুর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ রুদ্ধ করে তাকে প্রায় শ্বাসরোধের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়নি? তাহলে কোন যুক্তি এবং কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এ ভদ্রলোকেরা এমন একটি ভাগ্যনির্ধারক হাতিয়ার ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন?’
কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান কার্যত পেদারি ফ্রন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। তিনিও প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।
নাবাভিয়ান প্রশ্ন তোলেন: ‘তাহলে কি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজও অবাধে চলাচল করতে পারবে? এটি তো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেরই প্রস্তাব। এখন থেকে শুধু সামরিক নয়, ইসরায়েলের সব জাহাজ এবং সব শত্রু দেশের জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।’
চুক্তিবিরোধীদের এতটা স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে—যদি সরকার এই গোষ্ঠীকে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়, তাহলে চুক্তির সমর্থকদেরও একই ধরনের স্বাধীনতা দিতে হবে। তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে যে অধিকাংশ ইরানি জনগণ চুক্তি করার ব্যাপারে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করে। আর সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী চিৎকার-চেঁচামেচি করে, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ব্যবহার করে কিংবা সমাবেশের অপব্যবহার করে তাদের ইচ্ছা সরকার ও জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।
কট্টরপন্থীদের এই সমালোচনা পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ, তিনি এই চুক্তিটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তির চেয়ে ভালো বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।
তবে বাস্তবে দুটি চুক্তির সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত আকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। আর এ সমঝোতা স্মারকে মূলত যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একটি ব্যয়বহুল, অস্থিতিশীল এবং কথিতভাবে অবৈধ যুদ্ধের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যা কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা যেত।
ট্রাম্পকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এই চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার করা চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। ট্রাম্প নিজেই ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিরোধ ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ। তবে নিরাপত্তার হুমকি কমে আসায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি বাসিন্দাদের নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহা এবং পার্শ্ববর্তী খামিস মুশাইত এলাকায় প্রচারিত জরুরি সতর্ক বার্তার পর বর্তমানে সেসব স্থানেও বিপদ কেটে গেছে। ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলাদা পোস্টে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
আক্রান্ত স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় জটলা না করা এবং কোনো ধরনের ভিডিও বা ছবি ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ভূগর্ভের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পটি তিব্বতের নাখু শহরের ১৯০ কিলোমিটার পূর্বে আঘাত হানে বলে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এনডিটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এক খবর জানানো হয়েছে।
চীন সেন্ট্রাল টেলিভিশন (সিসিটিভি) স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই ঘটনায় ৪৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ চালাতে অবিলম্বে তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের আঘাত হানার সময় সুপারমার্কেটের শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া এবং আতঙ্কিত মানুষকে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। এর আগে তিব্বতের এই অঞ্চলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক ভূমিকম্পে ১২৬ জন নিহত হয়েছিলেন এবং আগস্টে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় এক হাজার চারশরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
মূল ভূমিকম্পের পর ওই দিনই ভারতের অরুণাচল প্রদেশের পঙ্গিন থেকে উত্তর-উত্তরপশ্চিমে চীন সীমান্তে ৫.২ মাত্রার আরও একটি ভূকম্পন রেকর্ড করেছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
সূত্র: এনডিটিভি
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (সিইএনসি) বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের উত্তরাঞ্চলের নাগচু এলাকার একটি উচ্চ পার্বত্য কাউন্টিতে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
চীনে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে জানিয়েছে সিইএনসি। স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী ছিংহাই প্রদেশের ইউশু এলাকায় ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে তাজরিশ স্কয়ারে মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। ব্যস্ত সড়কের পাশে স্থাপন করা ওই শিল্পকর্মে ট্রাম্পের আদলে এক অভিনেতাকে কারাগারের পেছনে দেখা যায়। বিলবোর্ডের মতো দেখতে শিল্পকর্মটিতে একটি কৃত্রিম কারাগার তৈরি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভূমিকায় অভিনয় করা ওই ব্যক্তি কারাগারের চারপাশে হাঁটেন এবং মাঝেমধ্যে ভেতরে বসেন।
শিল্পকর্মটিতে লেখা রয়েছে, ‘এই দৃশ্য না দেখা একটি অপরাধ।’ এর পাশে থাকা অন্যান্য বার্তায় দক্ষিণ ইরানের সিরকি এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরুতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, ওই হামলায় দুই নারী ও দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৬০ জনেরও বেশি মানুষ।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখিয়ে প্রতীকীভাবে তার প্রতি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
আইনের শাসন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের (ডব্লিউজেপি) প্রকাশিত ‘আইনের শাসন সূচক ২০২৬’-এ ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৩তম।
উন্নতি সত্ত্বেও দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার অনেক দেশের চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে দেশটি। সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ০ দশমিক ৩৯, যেখানে বৈশ্বিক গড় ০ দশমিক ৫৫। তবে এ বছর আইনের শাসন সূচকে বিশ্বের ১৫তম শীর্ষ অগ্রগতি অর্জনকারী দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অগ্রগতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে দেশটি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। এ অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে নেপাল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে শুধু পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশও সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঘানা ৬২তম, কেনিয়া ১০০তম, লাইবেরিয়া ১০৩তম, সিয়েরা লিওন ১১০তম, নাইজেরিয়া ১২০তম এবং জিম্বাবুয়ে ১২২তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সূচকের শীর্ষ পাঁচে রয়েছে যথাক্রমে ডেনমার্ক, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও লুক্সেমবার্গ।
সূচকে আটটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে দেশগুলোর আইনের শাসন মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো- সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি-বিধানের প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
আটটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। এগুলো হলো সরকারি ক্ষমতার ওপর সীমাবদ্ধতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি এবং বিধি-বিধানের প্রয়োগ। বাকি পাঁচটি মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে।
মৌলিক অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে দুর্বল। এ খাতে ০ দশমিক ৩১ স্কোর নিয়ে ১৪৩টি দেশ ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে ১৩৩তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আর সবচেয়ে ভালো অবস্থান মুক্ত সরকার মানদণ্ডে। এ খাতে ০ দশমিক ৪২ স্কোর নিয়ে ১২৮তম স্থানে রয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ সাদিক
আফগানিস্তানে বড় পরিবার এবং সন্তানের সংখ্যা অনেক এমন দম্পতির দেখা পাওয়া সাধারণ ঘটনা। তবে উরুজগান প্রদেশের মোহাম্মদ সাদিকের পরিবার সম্ভবত দেশটির অন্যতম বড় একটি পরিবার। মোহাম্মদ সাদিকের চার স্ত্রীর ঘরে ৫৮টি সন্তান রয়েছে এবং তার সর্বকনিষ্ঠ সন্তানের জন্ম হয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। এত বড় পরিবার চালানো তার জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, তার সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিদিন সন্তানদের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিবারের ছোট সন্তানরাও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
এই পরিবারের চার নারীও বছরের পর বছর গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বহন করে আসছেন। মোহাম্মদ সাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় তার চার স্ত্রীর বয়সই খুব অল্প ছিল, ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে ছিলেন তারা।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
উৎসবের' আবহ
মোহাম্মদ সাদিকের মতে, ছোট সন্তানরা যখন তাকে ঘিরে জড়ো হয়, তখন তাদের বাড়ি কোলাহল, হাসি আর ব্যস্ততায় ভরে ওঠে, যেন সেখানে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। তবে এই পরিবারের জীবনে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে গুরুতর আর্থিক সংকট। দারিদ্র্য কখনও কখনও এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে কিছু সন্তানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়।
পরিবারটিতে দিনে মাত্র দুইবার রান্না হয়, সকালে এবং সন্ধ্যায়। পরিবারের দুই জন নারী রান্নার দায়িত্ব পালন করেন।
৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, আরও সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল "নবীর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো"।
তার এক মেয়ের বিয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মজার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "যে মৌলভি সাহেব বিয়ে পড়িয়েছিলেন, তিনি আমাকে আমার মেয়ের নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে ভুলবশত আমার অন্য এক মেয়ের নাম বলে ফেলি। তখন মৌলভি সাহেব হেসে বললেন, আপনি বাড়ি গিয়ে আবার দেখে আসুন, ভুল নাম বলেছেন কি না।"
'নামটাও মনে থাকে না'
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এত বেশি সন্তান থাকার কারণে সবার নাম মনে রাখা তার জন্য প্রায়ই কঠিন হয়ে পড়ে। তাই তিনি অধিকাংশকেই "বাবা" বা "আমার সন্তান" বলে ডাকেন।
মোহাম্মদ সাদিক একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, "এক রাতে আমরা সবাই খাবারের টেবিলের চারপাশে বসেছিলাম। আমি সন্তানদের গোনা শুরু করি এবং দেখি একজন নেই। আমি এটাও জানতাম না যে অনুপস্থিত সন্তানটি ছেলে না মেয়ে। পরে আমি তাদের মায়েদের জিজ্ঞেস করি। তখন একজন জানান, তিনি তার সন্তানকে তার নানির বাড়িতে পাঠিয়েছেন এবং সে রাতটা সেখানে কাটাবে।"
মোহাম্মদ সাদিকের প্রথম বিয়ে হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল ২০ বছর। তরুণীদের বিয়ে করার কারণ সম্পর্কে বিবিসির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি বিয়ের জন্য তাকে কয়েক বছর ধরে কনের পরিবারকে দেওয়া অর্থ জমাতে হয়েছে।
এত বড় পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার স্ত্রীরা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। শৈশব ও কৈশোরেই তারা বিয়ে, গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান এবং সন্তান পালনের বিশাল দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যা তাদের জীবনের স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ সাদিক এবং তার স্ত্রীরা জীবনে আরেকটি বড় ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে তারা ১৪ সন্তান হারিয়েছেন, যা যেকোনো বাবা-মায়ের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।
স্বাস্থ্য সংকট ও আর্থিক অনটন
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প বয়সে বিয়ে এবং গর্ভধারণ মা ও অনাগত শিশু উভয়ের জন্যই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বারবার গর্ভধারণ নারীদের জন্য আরও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ হতে পারে।
আফগানিস্তান এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যেখানে গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় নারীদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে এখনো বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবার সুযোগ সীমিত। অন্যদিকে, দারিদ্র্যও এই পরিবারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাবার খান এবং গ্রীষ্মকালে উঠানে খান, কিন্তু মৌলিক সুবিধাগুলোরও তাদের সীমিত প্রাপ্যতা রয়েছে।
যে জায়গায় তারা গোসল করেন, সেটিই কাপড় এবং বাসন ধোয়ার জন্যও ব্যবহৃত হয়। একই স্থান শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
পরিবারের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মেটাতে শুধু মোহাম্মদ সাদিক নন, তার অনেক সন্তানও কাজ করে। কেউ কেউ কাগজ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ সংগ্রহ করে, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় অথবা বিক্রি করে পরিবারের খরচে অবদান রাখা হয়।
সব কষ্ট সত্ত্বেও এই পরিবার প্রতিদিনের চাহিদা মেটানোর জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি দিনই নতুন একটি চ্যালেঞ্জ, খাবার, আশ্রয় এবং সন্তানদের প্রয়োজন মেটানোর চ্যালেঞ্জ।
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে। জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
মোহাম্মদ সাদিকের দুই ইচ্ছে
শীতের রাতে কখনও কখনও ছয় বা সাতজন মানুষ একটি পাতলা কম্বলের নিচে ঘুমান। সাধারণ গদি ছাড়া এই পরিবারের কোনো বিশেষ শোয়ার ব্যবস্থা নেই। বাড়ির কক্ষগুলোতে জানালা নেই, মজবুত দরজাও নেই। প্রবেশমুখে শুধু পাতলা পর্দা ঝোলানো রয়েছে।
জ্বালানির জন্য পরিবারটি মূলত কাগজ এবং সহজলভ্য অন্যান্য উপকরণ পোড়ায়।
এসব কষ্টের মধ্যেও নিজে পড়াশোনা করতে না পারা মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তিনি তার সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে সীমিত আয়ের কারণে তাদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতি একটি গাড়ি বিক্রির জন্য তিনি মাত্র এক হাজার আফগানি কমিশন পান।
কিন্তু এত বড় পরিবারের চাহিদা তাদের সম্মিলিত আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই মোহাম্মদ সাদিক সরকার, সহায়তা সংস্থা এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান, যাতে তিনি তার সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
নিজের ইচ্ছের কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তার জীবনে মাত্র দুটি বড় ইচ্ছে রয়েছে।
"আমার প্রথম ইচ্ছা, আমার সন্তানরা শিক্ষা লাভ করুক, ধর্ম এবং পৃথিবী সম্পর্কে জানুক। দ্বিতীয়ত, তাদের যেন কখনও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে না হয় এবং তাদের পেট যেন ভরা থাকে।"