ছবি : সংগৃহীত
গবেষণা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মানবদেহের কিছু অংশ ইসরাইলি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়েছে-এমন অভিযোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ অভিযোগ সামনে আসার পর অনেক দাতার পরিবার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। খবর আল জাজিরার।
নেভাদার বাসিন্দা মরিয়ম ভলপিন প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন এক শিক্ষানবিশ সাংবাদিকের মাধ্যমে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং আরও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দান করা মরদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ইসরাইলি চিকিৎসকরাও অংশ নিয়েছিলেন।
এ তথ্য জানার পর মরিয়মের মনে প্রশ্ন জাগে, তার প্রয়াত মায়ের মরদেহও কি একইভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল? ২০২১ সালে মারা যাওয়ার আগে তার মা জ্যানেট ভলপিন নিজের দেহ চিকিৎসা শিক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেছিলেন।
শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে ইউএসসি অন্তত ৮৯টি মরদেহ একটি যৌথ প্রশিক্ষণ প্রকল্পে সরবরাহ করেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে মার্কিন নৌবাহিনী ও ইসরাইলি চিকিৎসকদের অংশগ্রহণের তথ্যও পাওয়া গেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তৈরির প্রশিক্ষণ
একটি চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন এক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিবরণ পাওয়া যায়, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুতর আঘাতের পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত মরদেহগুলোকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে সেগুলো জীবন্ত মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে পারে। এ জন্য মরদেহে কৃত্রিম তরল সঞ্চালন করা হয় এবং গুলিবিদ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণে আহত হওয়া কিংবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের মতো পরিস্থিতি অনুকরণ করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা এসব অবস্থায় জরুরি অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতির অনুশীলন করেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, এটি বাস্তবধর্মী চিকিৎসা প্রশিক্ষণের অংশ। তবে কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মনে করেন, এমন উন্নত পদ্ধতি সাধারণ চিকিৎসা শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি বিশেষায়িত এবং সীমিত ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়।
মরদেহের উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু ইউএসসি নয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে শতাধিক মরদেহ ইউএসসিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ই সামরিক প্রশিক্ষণের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি চিকিৎসা ও শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, সামরিক কার্যক্রম নয়।
সম্মতির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে দাতাদের সম্মতি নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, দেহদান সংক্রান্ত নথিতে কোথাও উল্লেখ ছিল না যে মরদেহ বিদেশি সামরিক কর্মীদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।
সমালোচকদের মতে, দাতারা যদি আগে থেকেই এমন ব্যবহারের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতেন, তাহলে অনেকেই হয়তো ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন।
ইউএসসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মোহাম্মদ রাদ বলেন, বিষয়টি কেবল মরদেহ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষকে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়ে সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ক্ষুব্ধ পরিবারগুলো
অনেক পরিবারের সদস্য জানিয়েছেন, তাদের স্বজনেরা মানবকল্যাণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্বার্থে দেহদান করেছিলেন। কিন্তু সামরিক সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মসূচিতে সেই দেহ ব্যবহার করা হবে- এমন ধারণা তাদের ছিল না।
জেনিফার গোমেজ নামের এক নারী বলেন, তার নানি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে অবদান রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের অংশ হওয়ার কথা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
এ ঘটনার পর দেহদান কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক সম্ভাব্য দাতাও এখন তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচিতে দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানানো এবং স্পষ্ট সম্মতি নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সাতটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই জলপথে জাহাজ চলাচলে সহায়তা অব্যাহত রাখলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতভর হামলার শিকার হওয়া সাতটি জাহাজের মধ্যে চারটি থেকে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছিল। হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। অন্য তিনটি জাহাজ মাইনে আঘাত হানার পর চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে ইরান। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর কোন দেশের পতাকা ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। তাদের বক্তব্য, ওয়াশিংটন যদি প্রণালির অন্যান্য অংশ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সহায়তা করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংঘাত এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে।’ এটিকে তারা গুরুতর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নতুন সেতু অতিক্রম করে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীনের দানদং শহরে অত্যন্ত গোপনে এক ঝটিকা সফর সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছর আগে নির্মিত ‘নিউ ইয়ালু রিভার ব্রিজ’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এই প্রতীকী সফর অনুষ্ঠিত হলো। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এই একদিনের ঝটিকা সফর শেষে তিনি ইতোমধ্যেই স্বদেশে ফিরে গেছেন।
সফরকালে কিম জং উনের সঙ্গী ছিলেন চীনের চতুর্থ শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে উত্তর কোরীয় নেতার কাছে আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। দুই নেতা একসঙ্গে স্থানীয় একটি অটোমোবাইল কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এসময় কিম জানান, চীনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব রক্ষা এবং ব্যবহারিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে পিয়ংইয়ং।
বিশেষ এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যা ১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরিয় যুদ্ধে চীনের অংশগ্রহণের বর্ষপূর্তির ঠিক আগের দিন। সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দানদং-এর কোরিয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে যান কিম ও ওয়াং। সেখানে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করে প্রাণ উৎসর্গকারী চীনা সৈন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কিম জং উন। সফর শেষে নতুন সেতুর গোড়ায় এসে কিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানান ওয়াং হুনিং।
বিশ্লেষকদের মতে, ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন চার লেনের সেতু চালুর মাধ্যমে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় বাধা দূর হলো। তবে কেবল অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করার কৌশল হিসেবেই কিম জং উনের এই হঠাৎ ও রহস্যময় চীন সফরকে দেখছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র:আল-জাজিরা
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের হামলা বা কড়া অবরোধের চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এতে একটুও দমে না গিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে তারা কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ঘেঁষতে দেবে না।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলি আবদুল্লাহি কড়া ভাষায় ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারস্য উপসাগরে আবার মার্কিন সৈন্য পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরে নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে তারা নাকি ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস করেছে, অথচ নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের সীমানার কাছে পাঠাতে তারা ভয় পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যেকোনো হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
চীনে কিম জং উনের ২৪ ঘন্টার ‘রহস্যজনক’ সফর
এই সংঘাতের আতঙ্কে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেলে ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা চলছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও নতুন করে বেড়ে চলেছে।
সংঘাত থামাতে ইস্তাম্বুলে তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইউরোপীয় দেশগুলো বৈঠক করলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান উপস্থিত ছিল না। তুরস্ক সতর্ক করেছে, ইরানে নতুন হামলা পুরো অঞ্চলে আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে ইরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন হামলা ও অত্যাচার না থামলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না এবং হরমুজ প্রণালিও মুক্ত করবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা
মেগান মার্কেল ও তার বাবা থমাস মার্কেল। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ রাজপরিবারের বধূ ও প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেলের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নিপীড়নের আপত্তিকর ছবি জমানোর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরম ক্ষোভ ও গভীর মানসিক কষ্ট প্রকাশ করেছেন ডাচ অব সাসেক্স মেগান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এমন বিভৎস খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিপর্যস্ত। ঘটনার শিকার হওয়া নিরীহ শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের ‘দ্য সান’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, মেগানের সৎ ভাই থমাস মার্কেল জুনিয়র ফিলিপাইনে তাদের বাবার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেন। তার দাবি, বাবার ড্রয়ার ও কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভে শত শত শিশু নির্যাতনের ছবি ছিল। এরপরই তিনি ফিলিপাইন পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থায় গিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন। ফিলিপাইন প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই বর্তমানে যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। তবে মেগানের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়র তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বর্তমানে ফ্লোরিডায় চিকিৎসাধীন ৮২ বছর বয়সি থমাস জানান, তার ছেলে সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে। মেগানের বোন সামান্থা মার্কলও বাবার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কম্পিউটারগুলো দুই বছর ধরে অন্য মানুষদের হাতে ছিল এবং তার ভাই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। এই ঘটনার পর মেগান মার্কেল তার বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের আসল কারণ স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, আজ থেকে আট বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালেই পুলিশের পক্ষ থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর অভিযোগের বিষয়ে তাকে জানানো হয়েছিল।
মেগান বলেন, এতদিন সংবাদমাধ্যমে নানা কথা ছড়ানো হলেও, মূলত সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি বাবাকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রেখেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার অন্তত মানুষ বুঝতে পারবে যে কেন তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি আশা করেন ভুক্তভোগী শিশুরা যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের জন্য সামনে এক বড় ধরণের ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার ঘটনার পর সেখানে বড় ধরণের সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, ফিলিস্তিনকে কোনোভাবেই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না দেওয়া তাদের নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, হঠাৎ এবং আচমকা পদক্ষেপ নেওয়াই তার বেশি পছন্দ। নেতানিয়াহু আরও জানান, ফিলিস্তিন থেকে আসা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কিছু গোপন কৌশল ব্যবহার করা হবে, যা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে ফিলিস্তিনি প্রশাসনের জন্য খুব শীঘ্রই এক বড় ধাক্কা আসতে চলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের দাবি তুলে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়াই তারা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় আরও কয়েকটি আরব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের চুক্তি বাড়াবেন। অন্তত দুটিরও বেশি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো শর্ত দেবে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ইসরাইল তা কখনোই মেনে নেবে না।
সূত্র: আল-জাজিরা