ছবি : সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এনি। এ আবিষ্কার দেশটির জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে এই গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে সেখানে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৩০ কোটি ব্যারেল কনডেনসেট (তরল জ্বালানি) মজুত আছে।
ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, এই আবিষ্কারের ফলে ২০২৮ সালের মধ্যে এনির গ্যাস উৎপাদন তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বর্তমানে যেখানে উৎপাদন ৬০০-৭০০ এমএমএসসিএফডি, তা বেড়ে প্রথমে ২ হাজার এবং পরে ৩ হাজার এমএমএসসিএফডিতে পৌঁছাতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া একে বিশাল আবিষ্কার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হবে, যা পরবর্তী সময়ে আরও বাড়বে। এতে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই আবিষ্কার ইন্দোনেশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি তেল উৎপাদন করলেও এখনো নিট আমদানিকারক এবং জ্বালানিতে ভর্তুকি দিতে হয়।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনর সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি ফ্রান্সে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কাজ করার বিষয়ে একমত হন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।
বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা
মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।
মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা
২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।
ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।
খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’
তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কানাডীয় পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক
অন্টারিওর স্বাধীন মুদি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, মার্কিন পণ্য বিক্রি নিয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তাদের চারটি দোকানে বিক্রি হওয়া সবজির প্রায় ৯০ শতাংশই কানাডায় উৎপাদিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন তারা। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে।
ত্রিমার্কির ভাষায়, আগে ক্রেতাদের কাছে মূল বিষয় ছিল পণ্যের মান ও দাম। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—পণ্যটি কোন দেশের।
পণ্যের উৎস স্পষ্ট করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো
কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে বড় আকারের কানাডীয় পতাকার চিহ্ন আবারও ব্যবহার শুরু করেছে। শুল্কের কারণে প্রভাবিত পণ্য চিহ্নিত করতে তারা ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই কানাডীয় পণ্য শনাক্ত করতে পারছেন।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দেশের উৎস নিয়ে কানাডীয়দের মানসিকতায় স্থায়ী পরিবর্তন আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় সরবরাহকারী
তবে কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের গুরুত্ব এখনো অনেক বেশি। দেশটি মূল্যমানের হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক। আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এখনো আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, এই হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।
ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। জুলাই পর্যন্ত কানাডার অর্ধেকের বেশি ফল আমদানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ২১ আগস্ট দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়।
এর ফলে কানাডীয় ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কিন পণ্য এড়িয়ে স্থানীয় বা অন্য দেশের পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
টরন্টোর ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ডও তাদের একজন। তিনি জানান, সম্ভব হলে তিনি মার্কিন পণ্য না কিনে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসাকে সমর্থন করেন। পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখেন এবং প্রয়োজন হলে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন।
বদলে যেতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেতাদের এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে কানাডার খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় উৎপাদকরা এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মান, দাম এবং পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফলে মার্কিন পণ্য বর্জনের এই প্রবণতা শুধু ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং কানাডার সুপারমার্কেটগুলোর পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনছে।
সূত্র: রয়র্টাস
নিখোঁজ জাহাজ ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বরে) সকালে পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তান প্রদেশের রাজধানী বানজারমাসিনের দিকে যাওয়ার পথে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।
উদ্ধারকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির নাম ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’। মাঝপথে বিরূপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে জাহাজটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
বানজারমাসিনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আরদি নিশ্চিত করেছেন যে, নৌযানটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জাভা সাগরে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাভা সাগরের বানজারমাসিন জেটি থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার (৯২ মাইল) দূরে অবস্থানকালে জাহাজটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নৌযানটি শেষ পর্যন্ত কোনো চরে আটকে পড়েছে নাকি সাগরে ডুবে গেছে, তা নিশ্চিত করতে দ্রুতগতির উদ্ধারকারী ড্রেজার ও তল্লাশকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজই সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে সঠিক তদারকির অভাব ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দেশটির নৌপথে প্রায়শই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই যোদ্ধা জাতি হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হোক—এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে মার্কিন বাহিনী এখন সরাসরি ইরানের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে যা-ই ঘটুক, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, "যদি মার্কিনিরা যোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের বীর সেনাদের মোকাবেলা করুক। কেন তারা আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে? মানুষ হলে কেন সাধারণ মানুষকে খাবার আর ওষুধ থেকে বঞ্চিত করছে?"
তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণকে গুণ্ডামির কাছে নতিস্বীকার করানো যাবে না—ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও, সেই সময় থেকেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ইরানে প্রবেশ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বার্তায় মূলত এই অবরোধেরই কড়া সমালোচনা উঠে এসেছে।
পাল্টা জবাবে ইরানও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত সেই প্রণালি দিয়ে, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি
আর মনে হয়, আয় আয় চাঁদ মামা ছড়া বলা যাবে না। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করেছেন। চাঁদের মালিকানা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চাঁদ তাঁদের দেশের সম্পত্তি। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘চাঁদ আমাদের’। ছবির পাশে তিনি একটি মার্কিন পতাকা যুক্ত করেন। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি স্পেস ফোর্সের নতুন কালো পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এসব পোস্ট স্টার ওয়ার্স সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্টার ওয়ার্স ইম্পেরিয়াল মার্চ বাজানোর কথাও বলেন কেউ কেউ। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের পরে কি তবে সূর্য দখল করা হবে। আরেকজন প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের বাসিন্দাদের কীভাবে সতর্ক করা যাবে।
ছবিতে ট্রাম্পকে ডিসি সুপারহিরো গ্রিন ল্যান্টার্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে একটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাওয়ার রিং বা ক্ষমতা বলয়। পোস্টের সঙ্গে সুপারহিরোর বিখ্যাত শপথ বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উজ্জ্বল দিনে বা অন্ধকার রাতে কোনো মন্দই চোখের আড়ালে থাকবে না। মন্দের উপাসকেরা ক্ষমতার ভয় করবে, কারণ তাদের সামনে রয়েছে গ্রিন ল্যান্টার্নের আলো।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালের মহাশূন্য চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদ দখল করতে পারে না। আমেরিকাসহ ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সার্বভৌমত্ব বা দখলের মাধ্যমে কোনো দেশ মহাশূন্যের কোনো বস্তুও দাবি করতে পারবে না। আর তাই চাঁদের মালিকানা দাবি ও স্পেস ফোর্সের পোস্ট নিয়ে অনলাইনে বেশ উদ্বেগ দেখা গেছে।
সূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। শান্তি স্থাপনে চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে।’ ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত নিয়ে এক মন্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটের দেশগুলোকে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরোধিতা করারও আহ্বান শি জিনপিং।
আজ শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য ব্রিকস-এর অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক চীন। এই যুদ্ধ ওই অঞ্চলজুড়ে জনগণের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পক্ষে না।
তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত সব ধরনের ‘সুরক্ষাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করা। আমাদের উচিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করা এবং সব ধরনের সুরক্ষাবাদ প্রত্যাখ্যান করা। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের বিরোধিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
শি জিনপিং ব্রিকস জোটকে ‘গ্লোবাল সাউথের’ নেতৃত্বস্থানীয় এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই জোটের উচিত উদ্ভাবন-ভিত্তিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন ও জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং জানান যে চীন আগামী বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।
এদিকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে জোটের সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এতে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানোর কথা বলা হয়। সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সামনে রাখার কথাও বলে জোটের সদস্যরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এবারের সম্মেলনের আগে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দিন ধরে যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি ভাষায় ঐকমত্য হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-দুই দেশই মেনে নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চলমান যুদ্ধের কারণে আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধের সময় আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এবার সদস্যদেশগুলোকে একটি অভিন্ন অবস্থানে আনতে পারাকে ভারতের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটের কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।
তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি। এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তাদের অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
খবর- রয়টার্স