ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। 


নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, আলোচনা দ্রুতগতিতে চলছিল এবং এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল।


সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আলোচনায় যুক্ত ছিল ‘খুব ছোট একটি দল’। তাদের মনোভাব ছিল ‘গম্ভীর ও সতর্ক’, তবে তখনো সংঘর্ষ বন্ধের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল তারা। হাতে সময় ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। 


তবে সূত্রটি নিজে সেই ছোট দলের অংশ ছিলেন না।


মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান


গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, যৌথ সীমান্ত এবং ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের উল্লেখ প্রায়ই করা হয়।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরকে তার ‘পছন্দের ফিল্ড মার্শাল’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি ইরানকে ‘অন্যদের চেয়ে বেশি ভালো বোঝেন’।


অনিশ্চয়তার মধ্যে আলোচনা


চুক্তি হওয়া একেবারেই নিশ্চিত ছিল না। গতকাল মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টের বক্তব্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত আমরা আশাবাদী ছিলাম যে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।’


তবে গত সোমবার ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং ইরানের সৌদি আরবে পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তিনি জানান, পাকিস্তান ‘সম্ভাব্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পরিস্থিতি সামাল দিতে’।


পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, সৌদি আরবে হামলা ‘শান্তিপূর্ণ সমাধানের আন্তরিক প্রচেষ্টাকে নষ্ট করছে’। সংঘাত শুরুর পর ইরানের প্রতি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এটি ছিল সবচেয়ে কড়া বক্তব্যগুলোর একটি।


বিশ্লেষকদের মতে, এতে ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ে। কারণ সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও বারবার হামলার পরও তা এখনো কার্যকর করা হয়নি।


শেষ মুহূর্তের কূটনীতি


পাকিস্তানের সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ‘কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শক্তভাবে এগোচ্ছে’ এবং তা দ্রুত ফল দিতে পারে।


তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দুই সপ্তাহ সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং একই সময়ের জন্য ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।


পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদাম রাত ৩টার দিকে এক পোস্টে জানান, ‘সংবেদনশীল পর্যায় থেকে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে।’


যুদ্ধবিরতি ঘোষণা


ভোর ৫টার কিছু আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন এবং দুই পক্ষকে ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান, যাতে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়।


এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা


তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। পাকিস্তানের ওই সূত্র বিবিসিকে জানায়, ‘পরিস্থিতি এখনো ভঙ্গুর’ এবং দুই পক্ষের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান হয়তো উভয় পক্ষকে এক টেবিলে বসাতে পারবে, কিন্তু তারা একমত হওয়ার পথ খুঁজে পাবে কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই হামলা চালানো হয়ে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করলো।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এক আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।


সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’


এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। তবে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে গোলাগুলি বা আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।


চরম সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ লড়াই


সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-তে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন উভয় পক্ষের মধ্যে এক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত এই প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক লড়াই শুরু হয়ে যায়।


ইরানের দাবি হলো, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে ও তেহরান এর জন্য শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনের অধীনে ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যখন একের পর এক জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান।


ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হওয়া ড্রোন হামলার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেই যৌথ এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কথিত ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে ‘ইরাকি ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা ভাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের রুট বা লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।’


তবে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার সব দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের হুথিরাই চালিয়েছে; যারা নিজেরাই সৌদি তেলের স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।


গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির। 


ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।


তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। 



রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 


সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।


সূত্র: এনডিটিভি।


মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’


সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’


হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার


অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।


অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।


এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।


পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ


অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।


তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।


ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।


ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়


দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।


সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।


তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন। 


অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে দলটি ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।


গতকাল সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।


অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুরের দুটি, ভিম্বরের তিনটি এবং কোটলির চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি ও কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।


পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে দুটি সহিংস ঘটনার কথা জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। অন্যটি ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের এক আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

আরেকটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসের মধ্যেই মঙ্গলবার ফ্রান্স ও স্পেনের দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, দেশ দুটিতে এবারের দাবানলটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা।


ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বোর্দো শহরের কাছে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল থেকে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা অগ্নি মেঘ তৈরি হয়েছে। বিরল এই মেঘের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত হতে পারে।


আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। যা মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে ও বুধবার থেকে স্পেনে অনুভূত হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


ফ্রান্সের বোর্দোতে কাজ করা দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগের রাতে কয়েকটি স্থানে নতুন করে দাবানল তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি আশপাশে ছড়াতে পারেনি। সোমবার বোর্দোর একটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’


গত ছয়দিনে বোর্দোর আশপাশের দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত নতুন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে দলটি।


সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকার আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সৌরভ দাসের ভাষ্য, বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশনার কপি তাদের দেখানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।


সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য সব রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একই ধরনের সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিভিন্ন রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এতে আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’


সিজেপির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।