ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৫ মার্চ, ২০২৬, সময় : ২:৫০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসনে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের আগ্রাসন শুরুর পর ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো তাদের রণকৌশল প্রণয়ন ও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রেখেছে।


১৯৭৯ সালের বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান একটি জটিল ও স্তরভিত্তিক শাসনকাঠামো গড়ে তুলেছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে বরং ধর্মতাত্ত্বিক এই শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই তাদের সব প্রতিষ্ঠান ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।


ইরানের ক্ষতবিক্ষত কিন্তু অবিচল এই ক্ষমতার স্তরে এখন কারা প্রভাব বিস্তার করছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাক।


সর্বোচ্চ নেতাই কি সব নিয়ন্ত্রণ করছেন


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুর দিকের হামলায় ইরানের প্রবীণ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই নেতার প্রতি পুরো ব্যবস্থার নিরঙ্কুশ আনুগত্য ছিল এবং সব বড় সিদ্ধান্তে শেষ কথাটি তিনিই বলতেন।


ইরানের রাষ্ট্রীয় আদর্শ ‘বেলায়াত-ই ফকিহ’ বা ‘ইসলামি আইনবিদের শাসন’ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা হলেন একজন বিজ্ঞ আলেম। তিনি শিয়া ইসলামের নবম শতাব্দীতে অন্তর্হিত হওয়া ‘দ্বাদশ ইমাম’-এর প্রতিনিধি হিসেবে পার্থিব ক্ষমতা পরিচালনা করেন।


সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর ‘বাইত’ নামে পরিচিত। এখানকার বিশাল জনবল ইরান সরকারের প্রতিটি স্তরের ওপর ছায়ার মতো নজর রাখে। এর ফলে সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি আমলাতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পান।


নতুন নেতা হিসেবে মোজতবা আলী খামেনি তাঁর বাবার উত্তরাধিকার ও ব্যাপক আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা লাভ করেছেন। তবে তাঁর বাবার মতো প্রশ্নাতীত কর্তৃত্ব মোজতবার নেই। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পছন্দের ব্যক্তি হওয়ায় তিনি হয়তো এই কট্টরপন্থী সামরিক বাহিনীর কাছে দায়বদ্ধ।


ইসরায়েলি হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে বর্তমান যুদ্ধের একজন ‘জানবাজ’ বা আহত যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইরানিরা এখনো তাঁর কোনো ছবি বা ভিডিও দেখেনি। তিনি কেবল দুটি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


কতটা প্রভাবশালী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী


বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব কয়েক দশক ধরেই বৃদ্ধি পাচ্ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধ এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ায় এই বাহিনী এখন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়েও বেশি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে।


নেতৃত্বের শূন্যতা মোকাবিলায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ একটি ‘মোজাইক’ বা বহুমুখী সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি কমান্ডারের বিকল্প উত্তরসূরি আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকে। ফলে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিটি ইউনিট নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।


গত এক বছরে অনেক শীর্ষ কমান্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হলেও তাঁদের জায়গায় দ্রুত অন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মূলত ১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক যুদ্ধের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পৃক্ততা এই বাহিনীকে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।


রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা কী


ইরানের শাসনব্যবস্থায় ধর্মীয় শাসনের পাশাপাশি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে মিলেই তারা দেশ পরিচালনা করে থাকে।


আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রধান উপদেষ্টা আলী লারিজানির মৃত্যু বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় এক ধাক্কা। বিভিন্ন ক্ষমতার কেন্দ্রের মধ্যে সমন্বয় এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে লারিজানি অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন।


তবে লারিজানির শূন্যস্থানে এখন যিনি আসছেন, তিনি নিহত নেতাদের তুলনায় আরও বেশি কট্টরপন্থী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিক ইরানের শাসনব্যবস্থায় সক্রিয় রয়েছেন।


ইরানের বর্তমান ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা শীর্ষ ব্যক্তিত্ব কারা


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ নেতা ও কমান্ডার নিহত হলেও দেশটির শাসনকাঠামোয় এখনো বেশ কিছু প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—


বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সর্বশেষ প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আহমদ ওয়াহিদি। তাঁর আগের দুজন প্রধান নিহত হওয়ার পর তিনি এ দায়িত্ব পান। কয়েক দশক ধরে প্রভাবশালী এই নেতা ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এর আগে তিনি কুদস ফোর্সের প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনেও তাঁর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।


নাম রয়েছে কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানির। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তিনি কুদস ফোর্সের দায়িত্ব নেন। অন্তরালে থেকে কাজ করা এই কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখেন।


আলোচনায় আছেন বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌপ্রধান আলীরেজা তাংসিরি। ২০১৮ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের যে রণকৌশল, তাতে তাংসিরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ একজন কমান্ডার।


পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের নাম বলতেই হয়। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক এই কমান্ডার ও তেহরানের সাবেক মেয়র বর্তমানে ইরানের জীবিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তিনি ইরানের অবস্থান তুলে ধরতে বেশ সোচ্চার রয়েছেন।


ইসরায়েলি একটি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছেন।


বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ গোলাম হোসেইন মহসেনি-এজেইও এই সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সাবেক এই গোয়েন্দাপ্রধান একজন কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০৯ সালে ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বর্তমান পরিস্থিতিতে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ইরানের শাসনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে গেলেও জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় পেজেশকিয়ান এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তবে চলতি মাসের শুরুতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানি হামলার জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তোপের মুখে পড়েন। পরে তিনি নিজের বক্তব্য আংশিক প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।


সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটির সাবেক প্রধান সাইদ জলিলিও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের এই আহত যোদ্ধা ইরানের রাজনীতির অন্যতম কট্টরপন্থী মুখ। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়া জলিলি এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে আপসহীন আলোচনার জন্য পরিচিত ছিলেন।


গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফির নাম এবার সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আলোচনায় ছিল। এই জ্যেষ্ঠ আলেম গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন প্রভাবশালী সদস্য, যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে থাকেন। খামেনির মৃত্যুর পর গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরেক পরিচিত মুখ ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এখনকার ভূমিকা অসামান্য। প্রবীণ এই কূটনীতিক দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের স্পর্শকাতর আলোচনা চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি রাশিয়া, চীন ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করছেন।





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ইরাকে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক জোটের ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।


ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী আর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইরাকে ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আধাসামরিক ওই জোটের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান দুই দেশই ইরাকের অন্যতম মিত্র। কিন্তু তাদের শত্রুতার কারণে বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও হিমশিম খাচ্ছে।


ইরাকে ইরান সমর্থিত আধাসামরিক জোটটি ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ বা পিএমএফ নামে পরিচিত। এক সময় সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তাদের তেমন তৎপরতা নেই। পিএমএফ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ জন যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন।


পিএমএফ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি যৌথ আগ্রাসন চালিয়ে বাগদাদ, উত্তর ইরাকের নিনেভ এবং দক্ষিণের বসরাসহ ৭টি প্রদেশের ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জোটের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, নিনেভ এবং মধ্য ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের হামলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।


জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরাকে পিএমএফ গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। পরে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ করা হয়। এর মধ্যে ইরান সমর্থিত কিছু ব্রিগেডও আছে। সেগুলো নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালায়।


গত সোমবার সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে উড্ডয়ন করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছিল। এসব ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল পেট্রোলিয়াম স্থাপনা। তখন ইরাকি কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি।


জাপানে ভূমিকম্পে নিহত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাস্থল কুমামোতো শহরের কাছে আংশিক ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের কাছে অবস্থিত একটি শপিং মলের একাংশ ধসে পড়ে। 


কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভবনের ভেতরে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।


বিপণিবিতান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মীর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে চারজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সরকার সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।


ধসে পড়া ভবনে দমকল, পুলিশ ও প্রায় ১৭০ জন সেনাসদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ- এর একটি কারখানায় চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বহু আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো কুমামোতো প্রিফেকচারে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভবন ধস ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ৩৮৬টি জরুরি কল পেয়েছে পুলিশ।


ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াতসুশিরো শহরে বহু বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। একটি সেতুর অংশ কুমাগাওয়া নদীতে ভেঙে পড়েছে।


কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ওই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।


আজ বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উকি শহরের একটি হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আরেকটি হাসপাতাল ৮৬ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন জরুরি রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।


ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি দোকানবিশিষ্ট আয়ন মলের একপাশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে ভেতরের ইস্পাত কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং পার্কিং এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।


ভূমিকম্পের প্রভাবে রেনেসাস ইলেকট্রনিক্স, সনি, টোকিও ইলেকট্রন ও হোন্ডা তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। টয়োটা মোটর জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত কুমামোতো প্রিফেকচারের বাইরের তিনটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। 


উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১০ বছর আগে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। এবারের ভূমিকম্পেও ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গ, কয়েকটি উপাসনালয় এবং সপ্তদশ শতাব্দীর একটি চা-পানের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই হামলা চালানো হয়ে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করলো।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এক আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।


সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’


এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। তবে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে গোলাগুলি বা আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।


চরম সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ লড়াই


সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-তে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন উভয় পক্ষের মধ্যে এক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত এই প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক লড়াই শুরু হয়ে যায়।


ইরানের দাবি হলো, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে ও তেহরান এর জন্য শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনের অধীনে ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যখন একের পর এক জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান।


ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হওয়া ড্রোন হামলার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেই যৌথ এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কথিত ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে ‘ইরাকি ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা ভাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের রুট বা লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।’


তবে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার সব দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের হুথিরাই চালিয়েছে; যারা নিজেরাই সৌদি তেলের স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।


গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির। 


ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।


তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। 



রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 


সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।


সূত্র: এনডিটিভি।


মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’


সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’


হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার


অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।


অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।


এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।


পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ


অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।


তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।


ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।


ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়


দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।


সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।


তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন। 


অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে দলটি ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।


গতকাল সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।


অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুরের দুটি, ভিম্বরের তিনটি এবং কোটলির চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি ও কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।


পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে দুটি সহিংস ঘটনার কথা জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। অন্যটি ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের এক আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।